আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ হাজার মানুষ আক্রান্ত, তবু অজানা ডায়রিয়ার রহস্যময় পরজীবী উৎস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২:৪৭
সাইক্লোস্পোরা
সাইক্লোস্পোরা

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা নামের এক পরজীবীজনিত সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রায় ৭ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেও এখনো সংক্রমণের নির্দিষ্ট উৎস শনাক্ত করতে পারেনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের অনেকেই তীব্র পানির মতো ডায়রিয়া, পেটের মুচড়ে যাওয়া ব্যথা, বমি বমি ভাব ও কখনো বমির মতো কষ্টকর উপসর্গে ভুগছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা নামের এক পরজীবীজনিত সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রায় ৭ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেও এখনো সংক্রমণের নির্দিষ্ট উৎস শনাক্ত করতে পারেনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তদের অনেকেই তীব্র পানির মতো ডায়রিয়া, পেটের মুচড়ে যাওয়া ব্যথা, বমি বমি ভাব ও কখনো বমির মতো কষ্টকর উপসর্গে ভুগছেন।

 

সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামে পরিচিত এই রোগের উৎস খুঁজে বের করা কঠিন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। কারণ, পরজীবীটি শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দিতে কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে কী খাবার খেয়েছিলেন, তা মনে করতে পারেন না।

 

অনেকেই আবার উপসর্গ তুলনামূলক কম থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান না বা পরীক্ষাও করান না। এ কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চালিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত লেটুস বা সালাদজাতীয় শাকসবজিকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সবজি, উৎপাদক বা সরবরাহকারীকে এখনো দায়ী করা হয়নি। মিশিগান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত এক হাজারের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর লেটুস ও সালাদজাতীয় সবুজ শাক বারবার সামনে এসেছে।

 

তদন্তকারীরা আক্রান্তদের খাবারের অভ্যাস, কেনাকাটা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়ার তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। খাদ্য সরবরাহের দীর্ঘ ও জটিল শৃঙ্খলের কারণে সংক্রমণের মূল উৎস শনাক্ত করতে আরও সময় লাগতে পারে।

 

সাইক্লোস্পোরা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রমণের পর ঘন ঘন পানির মতো ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা ও মুচড়ে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং কখনো হালকা জ্বর দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না হলে অসুস্থতা কয়েক দিন থেকে এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে এবং উপসর্গ কমে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসতে পারে।

 

ঘন ঘন ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। মিশিগান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘন ঘন পানির মতো ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং সাইক্লোস্পোরা শনাক্তের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে, কারণ সাধারণ কিছু মল পরীক্ষায় এই পরজীবী ধরা নাও পড়তে পারে।

 

সংক্রমণের উৎস শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কাঁচা ফল ও সবজি ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শক্ত খোসার ফল ও সবজি পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধোয়া, নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলা এবং কাটা, খোসা ছাড়ানো বা রান্না করা খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, শুধু ধুয়ে ফেললেই সব সময় পরজীবী পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। সম্ভব হলে খাবার ভালোভাবে রান্না করা নিরাপদ। ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে সাইক্লোস্পোরা ধ্বংস হয়।

 

মিশিগান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে পুরো মাথার লেটুস কিনে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিয়ে ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার পানিতে ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রান্না করা সম্ভব এমন শাকসবজি রান্না করে খাওয়াকে তুলনামূলক নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামে পরিচিত এই রোগের উৎস খুঁজে বের করা কঠিন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। কারণ, পরজীবীটি শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দিতে কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে কী খাবার খেয়েছিলেন, তা মনে করতে পারেন না।

 

অনেকেই আবার উপসর্গ তুলনামূলক কম থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান না বা পরীক্ষাও করান না। এ কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চালিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত লেটুস বা সালাদজাতীয় শাকসবজিকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সবজি, উৎপাদক বা সরবরাহকারীকে এখনো দায়ী করা হয়নি। মিশিগান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত এক হাজারের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর লেটুস ও সালাদজাতীয় সবুজ শাক বারবার সামনে এসেছে।

 

তদন্তকারীরা আক্রান্তদের খাবারের অভ্যাস, কেনাকাটা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়ার তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। খাদ্য সরবরাহের দীর্ঘ ও জটিল শৃঙ্খলের কারণে সংক্রমণের মূল উৎস শনাক্ত করতে আরও সময় লাগতে পারে।

 

সাইক্লোস্পোরা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রমণের পর ঘন ঘন পানির মতো ডায়রিয়া, পেটের ব্যথা ও মুচড়ে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং কখনো হালকা জ্বর দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না হলে অসুস্থতা কয়েক দিন থেকে এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে এবং উপসর্গ কমে যাওয়ার পর আবার ফিরে আসতে পারে।

 

ঘন ঘন ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। মিশিগান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘন ঘন পানির মতো ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং সাইক্লোস্পোরা শনাক্তের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে, কারণ সাধারণ কিছু মল পরীক্ষায় এই পরজীবী ধরা নাও পড়তে পারে।

 

সংক্রমণের উৎস শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কাঁচা ফল ও সবজি ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শক্ত খোসার ফল ও সবজি পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধোয়া, নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলা এবং কাটা, খোসা ছাড়ানো বা রান্না করা খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, শুধু ধুয়ে ফেললেই সব সময় পরজীবী পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। সম্ভব হলে খাবার ভালোভাবে রান্না করা নিরাপদ। ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে সাইক্লোস্পোরা ধ্বংস হয়।

 

মিশিগান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে পুরো মাথার লেটুস কিনে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিয়ে ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার পানিতে ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রান্না করা সম্ভব এমন শাকসবজি রান্না করে খাওয়াকে তুলনামূলক নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
এআই নিরাপত্তা গবেষক অ্যালেক্স টার্নার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে গোপন এআই চুক্তি, ‘বিবেকের তাড়নায়’ গুগল ডিপমাইন্ড ছাড়লেন গবেষক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে গুগলের গোপন এআই চুক্তির প্রতিবাদে চাকরি ছেড়েছেন গুগল ডিপমাইন্ডের এআই নিরাপত্তা গবেষক অ্যালেক্স টার্নার। দুই বছরের বেশি সময় ধরে গুগলে কাজ করা এই গবেষক জুনে পদত্যাগ করেন। তার দাবি, পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর গুগলে আর কাজ চালিয়ে যাওয়া তার বিবেকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।   টার্নারের পদত্যাগ গুগলের সামরিক এআই সহযোগিতা নিয়ে কোম্পানির ভেতরে চলমান অসন্তোষকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি জানান, পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—এভাবে আর কাজ করা সম্ভব নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ মে মাসের শুরুতে গুগলসহ মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও ওপেনএআইয়ের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের চুক্তির কথা নিশ্চিত করে। চুক্তির আওতায় এআই ব্যবস্থাগুলো ‘আইনসম্মত কার্যক্রমে’ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে গোপন সামরিক কার্যক্রমও রয়েছে।   টার্নার জানান, তিনি আগে থেকেই এ ধরনের চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ফেব্রুয়ারি থেকেই গুগল ছাড়ার কথা ভাবছিলেন তিনি। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সেই দ্বিধা আর থাকেনি।   নিজের এক ব্লগ পোস্টে টার্নার লিখেছেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর তিনি আর কাজ চালিয়ে যেতে পারছিলেন না। তার ভাষায়, তখন তার ভেতর থেকেই যেন স্পষ্ট উত্তর এসেছিল—‘না’।   গুগল ও পেন্টাগনের চুক্তি নিয়ে এর আগেই কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। এপ্রিল মাসে গুগলের প্রায় ৬০০ কর্মী একটি আবেদনে স্বাক্ষর করে কোম্পানিকে গোপন সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের চুক্তি না করার আহ্বান জানান। কর্মীদের উদ্বেগের মূল কারণ ছিল—গোপন সামরিক ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুগলের সরাসরি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ সীমিত হয়ে যেতে পারে।   টার্নার নিজেও সামরিক এআই ব্যবহারের জন্য একটি নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে এআই-নিয়ন্ত্রিত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মতো বিধান রাখার কথা বলা হয়েছিল। তিনি প্রস্তাবটি গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান এবং বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান।   তবে কিছু আলোচনার পর তিনি আর তেমন কোনো সাড়া পাননি। এর কিছুদিন পরই প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে গুগলের চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। টার্নারের ভাষায়, তখন তিনি বুঝতে পারেন, গুগলে থাকা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়।   গুগল অবশ্য বলেছে, টার্নারের প্রস্তাব ও উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে তারা আগ্রহী ছিল। কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, উপযুক্ত মানবিক তদারকি ছাড়া এআইকে অভ্যন্তরীণ গণনজরদারি বা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহারের বিরোধিতা করার নীতিতে তারা এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   তবে গুগলের এআই নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও কর্মীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে কোম্পানি তাদের এআই নীতিমালা সংশোধন করে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি বাদ দেয়, যেখানে অস্ত্র তৈরি বা ব্যাপক গণনজরদারির কাজে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা করা হয়েছিল। এই পরিবর্তন তখনও কর্মীদের একাংশের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়।   টার্নার মনে করেন, গুগলের নেতৃত্বের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং নীতিমালার পরিবর্তনের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নেতৃত্বের বক্তব্যই যদি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য না হয়, তাহলে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ‘যথাযথ তদারকি’ থাকবে—এমন আশ্বাসে আস্থা রাখা কতটা সম্ভব।   গুগলের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে টার্নারের পদত্যাগ অবশ্য প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্ম নিরাপত্তার এক পরিচালকও পেন্টাগনের সঙ্গে এআই চুক্তির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। ফলে সামরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরে নৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।   টার্নার জানান, তিনি এখন স্বাধীনভাবে এআই নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। অন্য কোনো বড় এআই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে আপাতত তিনি বেকার অবস্থায় নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ৩:১৮
সাইক্লোস্পোরা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ হাজার মানুষ আক্রান্ত, তবু অজানা ডায়রিয়ার রহস্যময় পরজীবী উৎস

টেক্সাস আকস্মিক বন্যা ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সতর্কতা,প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে

Representative Hakeem Jerffries ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট

ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগে বাড়তে পারে হৃদ্‌রোগ-স্থূলতার ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) সারা বছর চালুর উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। এখন বিলটি সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায়। সিনেটে পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন।   বিলটি আইনে পরিণত হলে অ্যারিজোনা ও হাওয়াই ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গরাজ্য সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করবে। এর ফলে সন্ধ্যায় সূর্যের আলো কিছুটা বেশি সময় থাকবে, তবে শীতকালে অনেক এলাকায় সকাল ৮টার আগে সূর্যোদয় হবে না।   আইনপ্রণেতাদের দাবি, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের ঝামেলা দূর হবে, সন্ধ্যার অতিরিক্ত আলো অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন।   আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের মুখপাত্র ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. কারিন জনসনের ভাষ্য, ডে-লাইট সেভিং টাইম মানুষের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মানুষ কখনোই পুরোপুরি এ সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না।   তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত আলো থাকলেও মানুষ নতুন করে বেশি ব্যায়াম শুরু করে না। বরং যাঁরা আগে থেকেই ব্যায়াম করতেন, তাঁরা সময় পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও হৃদ্‌রোগের হার বাড়ার মতো উদ্বেগজনক প্রবণতাও কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।   অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক মাইকেল গ্র্যান্ডনার বলেন, এক ঘণ্টার সময় পরিবর্তনের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহে মানুষ মানিয়ে নিতে পারলেও সমস্যা থেকে যায় অন্য জায়গায়। কারণ, ডে-লাইট সেভিং টাইমে মানুষ সূর্যের প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় জৈবিকভাবে ‘দেরিতে’ বসবাস করে। কোটি মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে এই সামান্য ঘুমের ঘাটতিও জনস্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   রাশ ইউনিভার্সিটি সিস্টেম ফর হেলথের চিকিৎসক ডা. জেমস রাউলি বলেন, সকালে প্রাকৃতিক আলো মানুষের শরীরকে জাগিয়ে তুলতে এবং রাতে অন্ধকার ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। এ স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হলে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।   তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসও বদলে যায়। তখন বেশি চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়, যা স্থূলতা ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীরা এ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এমনিতেই পর্যাপ্ত ঘুম পায় না। শীতকালে অন্ধকার সকালে স্কুলে যেতে হলে তাদের ঘুমের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর।   ডা. জনসনের মতে, ঘুমের ঘাটতির কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। কিন্তু চিকিৎসার পর তারা উপলব্ধি করেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন কতটা প্রভাবিত হচ্ছিল।   বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইমের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না। উত্তরাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে, বিশেষ করে একটি টাইম জোনের পশ্চিম প্রান্তে বসবাসকারীরা তুলনামূলক বেশি জৈবিক সময়ের অসামঞ্জস্যের মুখে পড়তে পারেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মার্চের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত ডে-লাইট সেভিং টাইম এবং বাকি সময় স্ট্যান্ডার্ড টাইম কার্যকর থাকে। নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না।   তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, যদি একটি সময়ব্যবস্থা স্থায়ী করতেই হয়, তাহলে ডে-লাইট সেভিং টাইম নয়; বরং স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইমই মানুষের জৈবঘড়ি ও স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী হবে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ীকরণের বিল পাস হওয়ার পর সেই বিকল্প প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১:২২
ইসরায়েল ইস্যুতে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে নীতিগত বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেন শতাধিক ডেমোক্র্যাট

রিওয়ার্ডস কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস কেনায় মূল্যছাড় পাওয়া সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

পাম্পে খরচ কমাতে চান? জেনে নিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসে ছাড় পাওয়ার সহজ উপায়

শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ফেডারেল এজেন্ট টিমোথি গ্রেগ। ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটায় শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে সাবেক ফেডারেল এজেন্টের ৭ বছরের কারাদণ্ড

আইসিইর গুলিতে নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। ছবি: সংগৃহীত
হিউস্টনে আইসিইর গুলিতে নিহত ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন মোড়, ভ্যানে মাদক থাকার দাবি এফবিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই আদালতে দাখিল করা এক অনুসন্ধানী পরোয়ানায় দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি যে ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন, সেখানে অবৈধ মাদক থাকার সম্ভাব্য কারণ পাওয়া গেছে।   ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ওই ওয়ারেন্ট আবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ, উৎপাদন, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ অথবা অবৈধভাবে মাদক রাখার অভিযোগ তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কার ছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো নির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি।   ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ডেভিড ম্যাকনিলি ভ্যানের বাইরে থেকে ড্যাশবোর্ডে ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা স্ফটিকসদৃশ পদার্থ দেখতে পান। তার ভাষ্য, প্যাকেটগুলোর ধরন ও উপস্থাপনা মেথঅ্যামফেটামিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর থেকেই আইসিইর দাবি ছিল, আত্মরক্ষার্থে তাদের এক এজেন্ট গুলি চালিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের কারও শরীরে বডি-ক্যামেরা না থাকায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গুলির ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যানটিতে কোনো তল্লাশি চালায়নি। পরে এফবিআই আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে।   এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বোঝা যায় গুলি চালানোর সময় আইসিই কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য মাদক থাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহোর মৃত্যু হয়েছে শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে। তবে ঘটনার সময় তার শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কি না, সে সম্পর্কিত টক্সিকোলজি রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সংগঠন লুলাক অ্যাডেলান্তে প্যাকের সভাপতি ডোমিঙ্গো গার্সিয়া অভিযোগ করেছেন, নতুন এই ওয়ারেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তের মূল বিষয় থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি একটি 'কলঙ্ক ছড়ানোর প্রচারণা' ও 'ধামাচাপার চেষ্টা' বলে মনে হচ্ছে। টেক্সাসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)ও বলেছে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থার দাবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।   ঘটনার সময় ভ্যানে সালগাদো আরাউহোর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিহতের ভাই ভিক্টর সালগাদোও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই ইউ-ভিসা সনদ পেয়েছেন, যা তদন্তে সহযোগিতাকারী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়।   এদিকে হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানী পরোয়ানা দাখিল বা কার্যকর করেনি। তবে এফবিআইয়ের অনুমতিতে তারা ভ্যানটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।   গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল এবং ভ্যানে পাওয়া সন্দেহভাজন মাদকের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ২২:২০
ফোর্ট ওয়ার্থের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসার সময় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার দন্তচিকিৎসক

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের বুলিংয়ের শিকার ছিলেন ১৩ বছর বয়সী অ্যালেক্সিস। ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটায় সহপাঠীরা গায়ের রং, নাকের আকৃতি ও চেহারা নিয়ে অপমান করায় ১৩ বছরের কিশোরীর আত্মহত্যা

টেক্সাসের জনসন কাউন্টিতে আলোচিত মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে দেহব্যবসার অভিযোগে সাবেক পুলিশ প্রধানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

0 Comments