যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের স্টেট সেনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনের সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান আইনজীবী হাসিব ফাতমী। গত সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে নর্থ ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারকরা হাসিব ফাতমীকে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই পদে মনোনয়ন দেন। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি স্টেট সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সঙ্গে রয়েছে হাসিব ফাতমীর পারিবারিক শিকড়। তার বাবা মোহাম্মদ বদরুল এহসান ফাতমী এবং মা সাইদা ফাতমী স্নিগ্ধা ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাচনি সমাবেশে হাসিব ফাতমী বলেন, সম্প্রতি তিনি ওয়েক ফরেস্ট টাউনের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা তাকে পূর্ণ মেয়াদের জন্যও নির্বাচিত করবেন।
ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনটি শূন্য হয় সাবেক সেনেটর টেরেন্স এভারিটের পদত্যাগের পর। এর আগে থেকেই আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন হাসিব ফাতমী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা আসন্ন নির্বাচনে তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
হাসিব ফাতমীর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির আরেকটি উদাহরণ। বর্তমানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, ভার্জিনিয়ায় সাদ্দাম আজলান সেলিম, কানেকটিকাটে মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যামশায়ারে আবুল খান আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
১৯৮৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন হাসিব ফাতমী। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১২ সালে নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বই বাড়াচ্ছে না, বরং নতুন প্রজন্মকেও জনসেবা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। সেই ধারাবাহিকতায় নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সেনেটে হাসিব ফাতমীর অন্তর্ভুক্তি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মেটা সহ সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের স্বার্থেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'মাগা' রাজনীতিকে আপন করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিক ক্লেগ। মেটার সাবেক গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই দাবি করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা অনেক প্রযুক্তি নির্বাহী এখন ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছেন। নিক ক্লেগ প্রায় সাত বছর মেটাতে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, মেটার পণ্যগুলোর চরিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। এগুলো মানুষের কেন্দ্রিক থাকার চেয়ে এখন কৃত্রিম বা সিন্থেটিক কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছে, যা মূলত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে সুপারিশ করা হয়। একই সাথে ক্লেগ মার্কিন স্পাই-টেক প্রতিষ্ঠান প্যালানটিরের সাথে যুক্তরাজ্যের চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাদের ওপর যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই সময়ে প্যালানটিরের বিকল্প তৈরি হওয়া সম্ভব। প্যালানটিরের সাথে যুক্তরাজ্যের এই চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সংসদীয় কমিটিও প্যালানটিরের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে। তবে প্যালানটিরের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে তাদের ইতিবাচক অবদানের কথা তুলে ধরে এই অতি-নির্ভরশীলতার দাবিটি অস্বীকার করা হয়েছে। নিক ক্লেগ ২০১৮ সালে মেটাতে যোগ দিয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট মডারেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তদারকি করেছিলেন। সম্প্রতি মেটার সাবেক পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর সারাহ উইন-উইলিয়ামস তাঁর একটি বইয়ে মেটা নির্বাহীদের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরলে প্রতিষ্ঠানটি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তার করা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চাওয়াকে কেন্দ্র করে এনবিসি নিউজের জনপ্রিয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এর সাক্ষাৎকার চলাকালে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং একপর্যায়ে সাক্ষাৎকার মাঝপথে শেষ করে চলে যান। শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিন সফরের সময় ধারণ করা সাক্ষাৎকারটি রোববার সম্প্রচারিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মুখোমুখি ছিলেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকার। আলোচনার শুরুতে ইরান সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর হয়। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচন প্রসঙ্গে। আলোচনার একপর্যায়ে ওয়েলকার উল্লেখ করেন যে ভোট গণনার দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু বছর ধরেই প্রচলিত এবং আইনগতভাবে অনুমোদিত। এর জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপি হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা নির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেননি। ওয়েলকার বারবার জানতে চান, এই অভিযোগের পক্ষে তার কাছে কী প্রমাণ রয়েছে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এসব শুনেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। সাক্ষাৎকারের এই অংশে দুজনের মধ্যে কথোপকথন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তিনি এনবিসি নিউজ, ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠান এবং সঞ্চালক ওয়েলকারের সমালোচনা করে বলেন, তার প্রতি অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়েলকার তার প্রশ্নকে সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্বের অংশ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এক পর্যায়ে ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক ক্যালিফোর্নিয়া প্রাইমারি নির্বাচন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পুনরায় উত্থাপন করেন। তবে ওয়েলকার একইভাবে তার কাছে তথ্যভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। আলোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠলে ট্রাম্প সঞ্চালকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি সাক্ষাৎকার শেষ করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, তিনি যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং আলোচনার এখানেই ইতি টানতে চান। এরপর তিনি নিজের মাইক্রোফোন খুলে ফেলার প্রস্তুতি নেন এবং আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। ওয়েলকার তাকে সাক্ষাৎকার চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ট্রাম্প এবিসি, সিবিএস এবং সিএনএনসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাও করেন। তবে ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছেন ক্রিস্টেন ওয়েলকার। অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর তার সঙ্গে ট্রাম্পের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরেকটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি সম্মতি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের সত্যতা যাচাই নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন সাংবাদিকের তথ্য-প্রমাণভিত্তিক প্রশ্নের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহল, গণমাধ্যম বিশ্লেষক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এনবিসি নিউজ ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের পর বিষয়টি দ্রুত জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড নিহত হয়েছেন। স্প্রিংফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে নামার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয় সময় চলতি সপ্তাহের শুরুতে উইলার্ড এলাকার পশ্চিম জেমস রিভার এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, লিয়া হাইড তার ২০১৫ মডেলের সুবারু ফরেস্টার গাড়ি নিয়ে পশ্চিমমুখী লেনে চলার সময় একটি সড়ক বিভাজকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন। দুর্ঘটনার পর তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত লিয়া হাইড পেশায় একজন থেরাপিস্ট ছিলেন। তিনি একটি কন্যাসন্তানের মা হতে চলেছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও পরিচিতরা জানান, লিয়া হাইড অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল একজন থেরাপিস্ট ছিলেন, যিনি রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন। পারিবারিক বন্ধু ভ্যালেরি উইলিস বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই লিয়াকে চিনতেন এবং মানুষের প্রতি তার যত্নশীল আচরণ তাকে আলাদা করে তুলেছিল। আরেক পারিবারিক বন্ধু বার্নাডেট শিভলি জানান, লিয়া হাইড তার পরিবারের চিকিৎসা সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সবার সঙ্গে গভীর আন্তরিকতায় সম্পর্ক রাখতেন। লিয়া হাইড সম্প্রতি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জশ স্নডগ্রাসকে বিয়ে করেন। দম্পতি তাদের অনাগত কন্যাসন্তানের নাম ঠিক করেছিলেন লার্ক এলিজাবেথ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ডলার। স্থানীয়রা বলছেন, এই সহায়তা লিয়া হাইড ও তার পরিবারের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।