যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের স্টেট সেনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনের সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান আইনজীবী হাসিব ফাতমী। গত সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে নর্থ ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারকরা হাসিব ফাতমীকে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই পদে মনোনয়ন দেন। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি স্টেট সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সঙ্গে রয়েছে হাসিব ফাতমীর পারিবারিক শিকড়। তার বাবা মোহাম্মদ বদরুল এহসান ফাতমী এবং মা সাইদা ফাতমী স্নিগ্ধা ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাচনি সমাবেশে হাসিব ফাতমী বলেন, সম্প্রতি তিনি ওয়েক ফরেস্ট টাউনের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা তাকে পূর্ণ মেয়াদের জন্যও নির্বাচিত করবেন।
ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনটি শূন্য হয় সাবেক সেনেটর টেরেন্স এভারিটের পদত্যাগের পর। এর আগে থেকেই আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন হাসিব ফাতমী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা আসন্ন নির্বাচনে তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
হাসিব ফাতমীর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির আরেকটি উদাহরণ। বর্তমানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, ভার্জিনিয়ায় সাদ্দাম আজলান সেলিম, কানেকটিকাটে মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যামশায়ারে আবুল খান আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
১৯৮৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন হাসিব ফাতমী। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১২ সালে নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বই বাড়াচ্ছে না, বরং নতুন প্রজন্মকেও জনসেবা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। সেই ধারাবাহিকতায় নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সেনেটে হাসিব ফাতমীর অন্তর্ভুক্তি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন হলেও খরচের কারণে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, ভালো একাডেমিক ফলাফল এবং সময়মতো আবেদন করলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর ও মাস্টার্স—দুই পর্যায়েই ফুল-ফান্ডিং বা বড় ধরনের স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যাচেলর পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাইস্কুলের ফলাফল (GPA) এবং SAT বা ACT-এর মতো মানসম্মত পরীক্ষার স্কোর। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে Merit Scholarship দিয়ে থাকে। আবেদনকারীর পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়ের চেয়ে ভালো হলে টিউশন ফি-এর বড় অংশ, এমনকি পুরো টিউশনও মওকুফ হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Merit-based Full Scholarship দিয়ে থাকে। আবেদনকারীর একাডেমিক প্রোফাইল যদি শীর্ষ পর্যায়ের হয়, তাহলে পুরো টিউশন ফি কভার হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়মতো আবেদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপের আবেদন নভেম্বরের মধ্যে শুরু বা শেষ হয়ে যায়। তাই Early Application করলে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে। অন্যদিকে মাস্টার্স পর্যায়ে স্কলারশিপের প্রধান উৎস হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ। অনেক শিক্ষার্থী Teaching Assistant (TA) বা Research Assistant (RA) হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। এতে শুধু টিউশন ফি মওকুফই নয়, মাসিক স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের একটি বড় অংশ বহন করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Research Assistant হিসেবে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। এ ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই সম্ভাব্য সুপারভাইজার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুযোগ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্টার্সের অর্থায়ন অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেই দেওয়া হয়। তাই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধান বা সম্ভাব্য গবেষণা সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ GPA বজায় রাখা, প্রয়োজন হলে SAT, GRE বা GMAT পরীক্ষায় ভালো স্কোর করা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বেশি অর্থায়ন দেয়, এমন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করা। উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডিং পাওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল, পরীক্ষায় ভালো স্কোর, সময়মতো আবেদন, সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন এবং অধ্যাপকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ—এই বিষয়গুলো একসঙ্গে থাকলেই স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের জন্ নতুন গাড়ির দাম কমাতে এবং ক্রেতাদের পছন্দের স্বাধীনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে "ফ্রিডম মিনস অ্যাফোর্ডেবল কারস" নামে নতুন একটি উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন গাড়ির গড় দাম কমবে, গাড়ি কেনা সহজ হবে এবং দেশীয় অটোমোবাইল শিল্প আরও শক্তিশালী হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাইডেন আমলে নির্ধারিত জ্বালানি-সাশ্রয়ী মানদণ্ড শিথিল করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আগের নিয়মগুলো এতটাই কঠোর ছিল যে নির্মাতারা কার্যত বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দিকে বাধ্য হচ্ছিল, ফলে নতুন গাড়ির দাম বেড়েছে এবং ক্রেতাদের বিকল্প কমে গেছে। শন ডাফির ভাষ্য, নতুন নীতির ফলে গাড়ি নির্মাতারা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বেশি সংখ্যক পেট্রোল, হাইব্রিড বা অন্যান্য ধরনের গাড়ি তৈরি করতে পারবেন। এতে একটি নতুন গাড়ির গড় দাম প্রায় ১ হাজার ডলার পর্যন্ত কমতে পারে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি। একই সঙ্গে তাদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন ভোক্তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০৯ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারেন। এই উদ্যোগের আরেকটি লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কম দামে নতুন গাড়ি কিনতে পারলে মানুষ পুরোনো গাড়ির পরিবর্তে আধুনিক ও নিরাপত্তা-সুবিধাসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহার করবেন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতও কমাতে পারে। ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে ১,৫০০-এর বেশি প্রাণ রক্ষা এবং প্রায় আড়াই লাখ গুরুতর আহতের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জ্বালানি-সাশ্রয়ী মানদণ্ড শিথিল করলে গাড়ির জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ বাড়বে। তাদের মতে, এতে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের জ্বালানির পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে এবং জলবায়ুর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের গাড়ি চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নয়; বরং ক্রেতাদের হাতে পছন্দের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। প্রস্তাবটি এখন আনুষ্ঠানিক মতামত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে টানা দুই বছর কমার পর আবারও বেড়েছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। নতুন এই পরিসংখ্যান শহরের মেয়র ক্যারেন ব্যাসের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আসন্ন পুনর্নির্বাচনে গৃহহীনতা কমানোর প্রতিশ্রুতিকেই তিনি তার অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির চলতি বছরের বার্ষিক গণনা অনুযায়ী, শহরে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রাস্তায়, ফুটপাতে বা নিজস্ব গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা, যা এক বছরে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে প্রায় ৪৫ হাজার ১৯৪ জন গৃহহীন মানুষ রয়েছেন। মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে বলেন, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় সেবার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে তার দাবি, ২০২৩ সালের তুলনায় শহরে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এখনো প্রায় ১১ শতাংশ কম এবং তার প্রশাসন এক হাজারের বেশি গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, শহরের বর্তমান কৌশল স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। মেয়রের বহুল আলোচিত ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির আওতায় হাজারো মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়ে নেওয়া হলেও, LAHSA-এর পৃথক তথ্য অনুযায়ী মে মাসের শেষ নাগাদ তাদের প্রায় ৪১ শতাংশ আবারও গৃহহীন অবস্থায় ফিরে গেছেন। সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথ্যা রামান, যিনি মেয়র নির্বাচনে ক্যারেন ব্যাসের প্রতিদ্বন্দ্বী, বলেছেন এই ফলাফল হতাশাজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। তার অভিযোগ, সিটি হলের বর্তমান নীতিতে মানুষকে স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। গৃহহীনতা মোকাবিলা ছিল ক্যারেন ব্যাসের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। নতুন এই পরিসংখ্যান সেই দাবিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে LAHSA-ও ফেডারেল অর্থায়ন নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ায় গৃহহীনতা মোকাবিলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।