মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ।
২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন।
মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন।
এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে।
২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো।
সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান।
কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন। মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন। এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে। ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম। তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো। সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা ও সিআইএর স্থাপনাগুলো যেভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মহলে। মার্কিন কর্মকর্তারা এখন তদন্ত করছেন, এসব হামলায় রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণে তথ্য বা উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল কি না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট চারজন সূত্র জানিয়েছেন, হামলার অস্বাভাবিক নির্ভুলতা এবং ইরানকে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহায়তা এই সন্দেহের অন্যতম কারণ। তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগেও স্বীকার করেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযানে রাশিয়া কিছু ধরনের সহায়তা দিয়েছে। তবে সিআইএর নির্দিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলার ক্ষেত্রে সেই সহায়তার মাত্রা কতটা ছিল, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে যে, রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও কোনো না কোনোভাবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতে জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত ও আহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা মালকম-জামাল ওয়ার্নারের মৃত্যুর এক বছর পর তাঁর স্ত্রী তেনিশা ওয়ার্নার অভিনেতার মা পামেলা ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দাবি করে মামলা করেছেন। বিয়ের আগে করা চুক্তি (প্রিনাপচুয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। ‘দ্য কসবি শো’-এর জনপ্রিয় অভিনেতা মালকম-জামাল ওয়ার্নার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কোস্টারিকায় অবকাশযাপনের সময় দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৪ বছর। অভিনেতার মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর জর্জিয়ার ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে এই মামলা করেন তাঁর স্ত্রী তেনিশা। মামলার নথিতে তেনিশা দাবি করেছেন, ২০২২ সালে বিয়ের আগে করা চুক্তিতে মালকম-জামাল তাঁর জন্য একটি ১০ লাখ ডলারের জীবনবীমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁকে একমাত্র সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়ারি) হিসেবে রাখা হওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, ওই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী আরও কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে রয়েছে বার্ষিক অর্থ প্রদান, চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে কাজের পারিশ্রমিক চান। এসব মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দাবি করেছেন তিনি। তেনিশার মামলায় মালকম-জামালের মা পামেলা ওয়ার্নারকে বিবাদী করা হয়েছে। পামেলা বর্তমানে ওয়ার্নার ফ্যামিলি ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তেনিশার দাবি, তাঁর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে এই আর্থিক দায় পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় ট্রাস্টের অর্থ থেকে তা পরিশোধ করা উচিত। মালকম-জামাল ওয়ার্নার ১৯৮০-এর দশকের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য কসবি শো’-তে থিও হাক্সটেবল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজেও যুক্ত ছিলেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন তিনি বরাবরই অনেকটা ব্যক্তিগত রেখেছিলেন। মালকম-জামাল ও তেনিশা ২০২২ সালের মে মাসে বিয়ে করেন এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তেনিশা জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন তাঁদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা। এদিকে মামলার বিষয়ে পামেলা ওয়ার্নারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই নির্ধারিত হবে, তেনিশার দাবি আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং ট্রাস্ট থেকে কোনো অর্থ পাওয়ার অধিকার তিনি রাখেন কি না।