আয় কম, খরচ বেশি, অর্থনৈতিক চাপে লস অ্যাঞ্জেলেসে আবার বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, চাপে মেয়র
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে টানা দুই বছর কমার পর আবারও বেড়েছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। নতুন এই পরিসংখ্যান শহরের মেয়র ক্যারেন ব্যাসের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আসন্ন পুনর্নির্বাচনে গৃহহীনতা কমানোর প্রতিশ্রুতিকেই তিনি তার অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির চলতি বছরের বার্ষিক গণনা অনুযায়ী, শহরে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রাস্তায়, ফুটপাতে বা নিজস্ব গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা, যা এক বছরে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে প্রায় ৪৫ হাজার ১৯৪ জন গৃহহীন মানুষ রয়েছেন।
মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে বলেন, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় সেবার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে তার দাবি, ২০২৩ সালের তুলনায় শহরে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এখনো প্রায় ১১ শতাংশ কম এবং তার প্রশাসন এক হাজারের বেশি গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, শহরের বর্তমান কৌশল স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। মেয়রের বহুল আলোচিত ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির আওতায় হাজারো মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়ে নেওয়া হলেও, LAHSA-এর পৃথক তথ্য অনুযায়ী মে মাসের শেষ নাগাদ তাদের প্রায় ৪১ শতাংশ আবারও গৃহহীন অবস্থায় ফিরে গেছেন।
সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথ্যা রামান, যিনি মেয়র নির্বাচনে ক্যারেন ব্যাসের প্রতিদ্বন্দ্বী, বলেছেন এই ফলাফল হতাশাজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। তার অভিযোগ, সিটি হলের বর্তমান নীতিতে মানুষকে স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি।
গৃহহীনতা মোকাবিলা ছিল ক্যারেন ব্যাসের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। নতুন এই পরিসংখ্যান সেই দাবিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে LAHSA-ও ফেডারেল অর্থায়ন নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ায় গৃহহীনতা মোকাবিলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ভারতীয় দম্পতি তরুণদের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের দাবি, যে সুযোগ ও উন্নত জীবনের আশায় একসময় তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেসব সুযোগের অনেকটাই এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। দম্পতিটি বিদেশে বসবাসের আর্থিক ও পেশাগত সুযোগের পাশাপাশি এর মানসিক দিক নিয়েও কথা বলেছেন। তাদের মতে, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের ছেড়ে দীর্ঘদিন অন্য দেশে বসবাস করা সহজ নয়। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিচিত জীবন থেকে দূরে থাকার বিষয়গুলো অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে শুধু ক্যারিয়ার বা আয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করলেই হবে না। নিজের পরিবার, সামাজিক বন্ধন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে থাকা সুযোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। দম্পতির মতে, ভারতের তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। তাদের বক্তব্য, বিদেশে যাওয়াই ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ নয়। দেশে থেকেই পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের একটি অংশ যেমন নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বক্তব্যটির মিল খুঁজে পাচ্ছেন, তেমনি অন্যরা মনে করছেন, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তির পেশা, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা ভারতীয় তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। উচ্চশিক্ষা, চাকরি, আয় ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে যান। তবে প্রবাসজীবনের সুযোগের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো বাস্তবতাও অনেকের অভিজ্ঞতার অংশ। এই দম্পতির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সুযোগের পাশাপাশি এর ব্যক্তিগত ও মানসিক মূল্যও বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশি এআই গবেষক ইরফানের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের আপত্তি, এটি আত্মহত্যা নয়, দাহ করতে আপত্তি
টেক্সাসে নতুন ইবি-৩ কর্মসংস্থানভিত্তিক সুযোগ! আয় খাতে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৬.৩৫ ডলার
ট্রাম্পের আমলে ২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী রিপোর্ট করেছে আইসিই
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের জন্য চিকিৎসা পেশাজীবী নিয়োগ দিচ্ছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বর্তমানে নিবন্ধিত নার্স এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বিদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামোর পরিবেশে কাজ করতে হবে এসব পদে। নিবন্ধিত নার্স পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সেবার চিকিৎসা দলের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মস্থলে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেবেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন, আঘাতজনিত রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও টিকা দেওয়া, হাসপাতালে রোগী দেখানো, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করাও তাঁদের দায়িত্বের অংশ। এসব নার্সকে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা জরুরি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই পদের বার্ষিক বেতন ৮২ হাজার ৪৫০ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৮০ ডলার। এটি পূর্ণকালীন ও সীমিত মেয়াদের বৈদেশিক সেবা নিয়োগ। প্রাথমিক নিয়োগের মেয়াদ ১৮ মাস হলেও কর্মদক্ষতা ও দপ্তরের প্রয়োজন অনুযায়ী তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে ইরাক, পাকিস্তান ও হাইতিসহ উচ্চঝুঁকির কিছু কর্মস্থলে এসব নার্স নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধিত নার্স পদে আবেদনকারীর অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি স্বীকৃত নার্সিং শিক্ষাক্রম থেকে কমপক্ষে দুই বছরের ডিগ্রি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলাম্বিয়া জেলায় বৈধ নিবন্ধিত নার্স লাইসেন্স এবং বর্তমান মৌলিক জীবন রক্ষা প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে। গত ছয় বছরের মধ্যে অন্তত পাঁচ বছর নিবন্ধিত নার্স হিসেবে সরাসরি রোগীসেবার অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন। অন্যদিকে, চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদটি আরও বিশেষায়িত। এই পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সুরক্ষা দলের অংশ হিসেবে কাজ করবেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা হামলার পর জরুরি চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথে রোগী সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। এই চাকরিতে সাধারণ হাসপাতালের কাজের তুলনায় ঝুঁকি বেশি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামো, চরম আবহাওয়া কিংবা দুর্গম এলাকায় কাজ করতে হতে পারে। দায়িত্ব পালনের সময় অস্ত্র বহন করতে হবে এবং উচ্চঝুঁকির পরিবেশে বিশেষ কৌশলগত প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৩ থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪২৭ ডলার। এটিও সীমিত মেয়াদের বৈদেশিক সেবা নিয়োগ। প্রাথমিক মেয়াদ ১৮ মাস হলেও তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, বৈধ ইউএস ড্রাইভার লাইসেন্স থাকা এবং সর্বোচ্চ গোপনীয়তার বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ নিবন্ধন সংস্থার প্যারামেডিক সনদ, মৌলিক জীবন রক্ষা এবং উন্নত হৃদ্যন্ত্র জীবন রক্ষা প্রশিক্ষণের সনদ প্রয়োজন। জরুরি বা সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় কমপক্ষে দুই বছরের প্যারামেডিক অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নিয়োগ মূলত দেশটির নাগরিকদের জন্য। বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী এবং কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন পেশাজীবীদের জন্য এটি বৈদেশিক সেবায় কাজের সুযোগ তৈরি করছে। এসব পদে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, ফেডারেল অবসর সুবিধা এবং বেতনসহ ছুটির মতো বিভিন্ন সুযোগও রয়েছে।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেস জিতলে ট্রাম্পের নতুন ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক ঘোষণা, কারা পাবেন জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোতে মালিক সেজে অন্যের বাড়ি বিক্রি, ১০ লাখ ডলারের প্রতারণায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে এলজিবিটিকিউ+ শিশুদের সুরক্ষা নীতি বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ব্যয়বহুল শহরগুলোতে তরুণদের বাড়ি কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্সোনাল ফাইন্যান্স ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের নতুন একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শহরে ৩৫ বছরের কম বয়সী ক্রেতার হার সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার চারটি শহর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সান ডিয়েগোতে মর্টগেজ বা ঋণধারী তরুণদের হার ৮৪ শতাংশ। প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সান জোসেতে এই হার ৮২ শতাংশ, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭৮ শতাংশ এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ৭৩ শতাংশ। তবে পশ্চিম উপকূলের অন্যান্য শহর যেমন সিয়াটলে ৮৭ শতাংশ এবং পোর্টল্যান্ডে ৮৬ শতাংশ তরুণ বাড়ি কিনেছেন। জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহর, যেখানে ৩৫ বছরের কম বয়সী বাড়ির মালিকের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ। এর ঠিক পরেই ৮৮ শতাংশ নিয়ে বাল্টিমোর এবং ৮৬ শতাংশ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসি অবস্থান করছে। অন্যদিকে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম কঠিন শহর নিউইয়র্কে তরুণ মর্টগেজধারীর হার মাত্র ৬৬ শতাংশ এবং সবচেয়ে তলানিতে থাকা মিশিগানের ডেট্রয়েটে এই হার মাত্র ৪৫ শতাংশ। ওয়ালেটহাবের এই উৎসাহব্যঞ্জক তথ্যের বিপরীতে পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার আগস্ট মাসের একটি গবেষণায় কিছুটা ভিন্ন ও উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার অর্ধেক তরুণই প্রথম বাড়ি কেনার জন্য গড়ে ৪৭ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় বয়স মাত্র ৩৭ বছর। গত ১৫ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিকের চেয়ে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে নিজস্ব বাড়ির মালিকানা হার মাত্র ৫৬ শতাংশ, যা জাতীয় হার ৬৬ শতাংশের চেয়ে অনেক কম। কেবল নিউইয়র্কেই মালিকানার হার এর চেয়ে কম (৫৪%)। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ ও এশিয়ানরা কৃষ্ণাঙ্গ ও ল্যাটিনোদের তুলনায় অনেক কম বয়সে বাড়ি কেনেন। বিশেষ করে আমেরিকান বংশোদ্ভূত এশিয়ানরা সবচেয়ে কম বয়সে (গড়ে ৩৯ বছর) বাড়ির মালিক হচ্ছেন। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সেরা জায়গা হলো পোর্টারভিল, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার।
মিসৌরিতে কান্নারত নবজাতক কন্যাকে উল্টো ঝুলিয়ে ঝাঁকাতেন বাবা, নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বৈধ ৮ পথ, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত