সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যু, শোকের মাঝেই শূন্য আসন নিয়ে রিপাবলিকানদের তোড়জোড়, তদন্তে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই তাঁর শূন্য হওয়া সিনেট আসনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। একই সময়ে গ্রাহামের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এফবিআই জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহায়তা করছে।
গ্রাহামের দপ্তর জানায়, ৭১ বছর বয়সী এই সিনেটর শনিবার রাতে স্বল্প সময়ের অসুস্থতার পর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবরে ওয়াশিংটন ও নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর আগে তিনি এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
সাউথ ক্যারোলাইনার আইন অনুযায়ী, গ্রাহামের শূন্য আসনে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য দ্রুত বিশেষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ১১ আগস্ট রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ২৫ আগস্ট রান-অফ নির্বাচন হবে। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুরু হবে ২১ জুলাই।
এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাউথ ক্যারোলাইনার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পামেলা ইভেট, কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস, রাসেল ফ্রাই এবং রালফ নরম্যান। এছাড়া ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকেও নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি। তবে তিনি আপাতত ট্রেজারি সেক্রেটারির দায়িত্বেই থাকতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ চাইছেন, প্রতিনিধি পরিষদের কোনো সদস্যকে সিনেটে না পাঠাতে। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্তমানে খুবই অল্প ব্যবধানে রয়েছে। কোনো সদস্য সিনেটে চলে গেলে সেই ব্যবধান আরও কমে যেতে পারে।
গ্রাহামের মৃত্যু সিনেটেও বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ইউক্রেন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
এই সফরের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশে তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জরুরি চিকিৎসা সেবার অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বুকে ব্যথার অভিযোগে তাঁর ক্যাপিটল হিলের বাসভবনে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ফোন করা হয়েছিল।
রাশিয়াবিষয়ক কর্মী বিল ব্রাউডার প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা উচিত। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়নি।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল রোববার জানান, গ্রাহামের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে এফবিআই তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রেখেছে। তবে তদন্তের প্রকৃতি বা কোনো নির্দিষ্ট অনুসন্ধান চলছে কি না—সে বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
লিন্ডসি গ্রাহাম সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে টানা পঞ্চম মেয়াদের জন্য সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু সাউথ ক্যারোলাইনায় নয়, ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর সংক্রমণে দুই পা, ডান হাত এবং ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়েছেন ছয় সন্তানের মা ত্রিশা স্টিভেনস। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও সংক্রমণ শনাক্ত করতে দেরি করার অভিযোগে তিন চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন ৪৬ বছর বয়সী এই নারী। মামলায় তাঁর শারীরিক ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সক্ষমতা হারানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ওরেগনের বোরিং এলাকার বাসিন্দা ত্রিশার অস্ত্রোপচার হয়েছিল ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর। তাঁর জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর পরীক্ষার ফলাফলে প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সার্জন ডা. অ্যালভিন নাকামুরা তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি। ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত ও চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে দেরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। অস্ত্রোপচারের পরের দিনগুলোতে তাঁর পেটের ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছেলের ফুটবল খেলার সময় গ্যালারির সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পেটের ভেতরে হঠাৎ কিছু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এরপরও তাঁর শারীরিক সমস্যা চলতে থাকে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর ত্রিশা অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে অতিরিক্ত র ক্তপাত, জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটে মোচড় দেওয়ার মতো ব্যথার কথা জানান। এ সময় তাঁর শরীর থেকে বেসবলের আকারের একটি র ক্তের জমাট অংশ বের হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনে একজন নার্স তাঁকে বিশ্রাম নিতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। চিকিৎসক নাকামুরাও নার্সকে র ক্তপাত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে বলেন এবং আরেকটি বড় জমাট র ক্ত বের হলে হাসপাতালে আসতে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর, রাত ১১টা ১০ মিনিটে, ত্রিশার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লিগ্যাসি মাউন্ট হুড হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাঁর হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত ছিল, র ক্তচাপ কমে গিয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন প্রতি ঘণ্টায় তিনটি করে স্যানিটারি প্যাড র ক্তে ভিজে যাচ্ছিল। পরীক্ষায় তাঁর পেরিটোনাইটিস বা পেটের ভেতরের আবরণে প্রদাহ, র ক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াজনিত ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস এবং কিডনির আকস্মিক ক্ষতি শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর র ক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পান। তাঁর শরীরে সেপটিক শকের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, যা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট একটি প্রাণঘাতী জটিলতা। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জরুরি দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. গ্রেগরি আইলার্স অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরীক্ষা করে সেটির কিনারা আলাদা হয়ে যাওয়া এবং কাঁচা ও সংক্রমিত দেখানোর বিষয়টি শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু তখনই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া বা পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেক চিকিৎসক ডা. রবার্ট আজার তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেন। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু এর মধ্যেই সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ত্রিশার অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচার করে সংক্রমণের উৎস পরিষ্কার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সংক্রমণের ভয়াবহ পরিণতিতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তাঁর দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। পরে ডান হাত, বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল এবং বাঁ হাতের কয়েকটি আঙুলের অংশও বাদ দিতে হয়। সংক্রমণের কারণে টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁর ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়ে যায়। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ক্ষতির কারণে কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত ত্রিশা ছিলেন ছয় সন্তানের সক্রিয় মা। তাঁর সন্তানদের বয়স তখন সাত থেকে ২১ বছরের মধ্যে। পরিবারের দৈনন্দিন কাজ সামলানো, সন্তানদের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়ে যাওয়া, গাড়ি চালানো, রান্না ও ঘর পরিষ্কার করার মতো কাজ তিনি নিজেই করতেন। এখন দৈনন্দিন অনেক কাজের জন্য তাঁকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। ত্রিশার আইনজীবী রেট ফ্রেজার জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল এখন নিজে নিজে খেতেও পারেন না এবং কিছু শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েন। ক্ষতস্থানের নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সহায়তা নিতে হচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রিশা বলেন, প্রায় মৃ ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা আর জেগে উঠে জীবনের হারিয়ে যাওয়া সবকিছু উপলব্ধি করা—কোনটি বেশি কঠিন, তা অনেক দিন বুঝতে পারেন না তিনি। তাঁর স্বামী ব্রায়ান একজন দমকলকর্মী। কঠিন এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মামলায় ডা. নাকামুরা, ডা. আইলার্স ও ডা. আজারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এখন ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে করা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। ত্রিশার ঘটনাটি অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মূল্যায়ন ও চিকিৎসার গুরুত্বও সামনে এনেছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিনা খরচে অটিজম থেরাপির সুযোগ হারানোর শঙ্কায় টেক্সাসের শত শত পরিবার
মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে ফের ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি, তবে আছে শর্ত!
‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে চাই ৫৩ লাখ ডলার! আপনার আয় কি সেই পথে হাঁটছে?
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিশেষায়িত পেশায় কাজ করে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী চাবেলি রদ্রিগেজ। চিকিৎসক হওয়ার জন্য মেডিকেল স্কুলে পড়তে হয়নি তাঁকে। অ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে তিনি এখন হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়া সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সঠিকভাবে পেশা নির্বাচন, শিক্ষাঋণ পরিশোধ এবং নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলেছেন তিনি। ২০২৪ সালে নিজের কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন রদ্রিগেজ। আগে তিনি নির্দিষ্ট বেতনে কাজ করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কাজ শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ অ্যানেসথেশিয়া সহকারী হিসেবে কাজ করায় তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বছরে তাঁর আয় ৩ লাখ ডলারের বেশি। এর আগে নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করার সময়ও বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করতেন তিনি। তবে সেই আয় ধরে রাখতে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো। কখনো কখনো পূর্ণকালীন কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত শিফট এবং টানা ২৪ ঘণ্টার দায়িত্বও পালন করতেন। ছোটবেলা থেকেই অর্থ নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ও সতর্কতা তাঁর মধ্যে কাজ করত। ভবিষ্যতে কোনো আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সব সময় বাড়তি অর্থ জমিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি। রদ্রিগেজের ভাষায়, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও তিনি প্রস্তুত থাকতে চাইতেন। এ কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় কাজ করেও হাতে অতিরিক্ত অর্থ রাখার চেষ্টা করতেন। তবে এখন তাঁর কাজের ধরন বদলেছে। সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। কর্মস্থলে অতিরিক্ত লোকের প্রয়োজন হলে মাঝেমধ্যে বাড়তি শিফট নেন। আগের মতো অতিরিক্ত সময় কাজ করলে বছরে তাঁর আয় প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারত। কিন্তু শুধু বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি বিসর্জন দিতে চান না তিনি। রদ্রিগেজের কথায়, তিনি আরও বেশি অর্থ আয় করতে চান, তবে সেই পথে নিজেকে পুরোপুরি ক্লান্ত করে ফেলতে চান না। বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করতে পারায় তিনি এখন সন্তুষ্ট। তাঁর কাছে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের সুস্থতা ও জীবনযাপনের ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাড়ি কেনার স্বপ্ন থেকে বদলে গেছে লক্ষ্য কর্মজীবনের শুরুতে ফ্লোরিডায় থাকতেন রদ্রিগেজ। তখন তাঁর পরিকল্পনা ছিল একদিন সেখানে নিজের বাড়ি কেনার। কিন্তু ২০২৪ সালে জর্জিয়ায় চলে যাওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে। সেখানে ছয় মাসের একটি চুক্তিভিত্তিক কাজ শুরু করেন তিনি। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন, এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে বেশি আয় করার সুযোগও দেখতে পান। ফলে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ সঞ্চয়ের চেয়ে নিজের পছন্দমতো জীবনযাপনের স্বাধীনতা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জর্জিয়ায় কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন। ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। বরং বছরের কিছু সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। আয় বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে বিনিয়োগ রদ্রিগেজ শুধু বেশি আয় করেই থেমে থাকেননি। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়ের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করছেন। কর কাটার আগের আয়ের ৪০ শতাংশ ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট এবং অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারে পৌঁছায়। নিয়মিত বিনিয়োগের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে শিক্ষাঋণ দ্রুত পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত। ২০২৩ সালে তিনি প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারের শিক্ষাঋণ পরিশোধ করেন। ঋণের বোঝা কমে যাওয়ার পর সেই অর্থ বিনিয়োগের দিকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর মতে, দ্রুত ঋণ পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য অর্থ গড়ে তোলার পথ সহজ করেছে। নিজের আর্থিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি। এর ফলে নিজেকে আরও সুখী, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। আগে অর্থ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা কাজ করত, তা অনেকটাই কমেছে। এখন লক্ষ্য অর্থের পাশাপাশি জীবন উপভোগ আগে রদ্রিগেজের লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আগেভাগে অবসর নেওয়া। কিন্তু এখন নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের পেছনে ছুটতে চান না তিনি। বরং এমনভাবে অর্থ গড়ে তুলতে চান, যাতে ৫০ বছর বয়সের দিকে প্রয়োজন হলে কাজের চাপ কমিয়ে আনতে পারেন। জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও এখনো হিসাব করে চলেন তিনি। সঙ্গীর সঙ্গে বাসাভাড়া ভাগাভাগি করেন এবং সাধারণ টয়োটা করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে ভ্রমণের জন্য অর্থ খরচ করতে দ্বিধা করেন না। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পাশাপাশি ব্যাকপ্যাকিং ও ক্যাম্পিংয়ের মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেন। আগে প্রতিটি অতিরিক্ত শিফট নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেও এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা কিংবা নিজের ও সঙ্গীর জন্য পছন্দের কিছু কেনার ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। রদ্রিগেজের উপলব্ধি, কোনো কিছু কেনার জন্য নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে কাজ করার প্রয়োজন নেই। তিনি এখন বুঝতে শিখেছেন, পর্যাপ্ত আয় থাকলে প্রতিটি সুযোগে আরও বেশি অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটতে হয় না। তাঁর বর্তমান লক্ষ্য তাই শুধু সম্পদ বাড়ানো নয়; বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমান জীবনও উপভোগ করা। আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বস্তি ও কাজের ভারসাম্য বজায় রাখার এই পরিবর্তনই তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে বড় অর্জন।
নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনেও তথ্য গোপনের অভিযোগ, ১৫ বছর পর আইনি চ্যালেঞ্জে মার্কিন নাগরিকত্ব
দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেলেন নিউইয়র্কের ৯০ বছরের বৃদ্ধ
১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালভিত্তিক পেশায় বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী চাবেলি রদ্রিগেজ। তিনি সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালে স্থায়ী বেতনের চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে কাজ শুরু করার পর তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কাজ করেই এ আয় করছেন, যদিও অতিরিক্ত পালা নিলে তাঁর বার্ষিক আয় আরও বাড়তে পারে। রদ্রিগেজের পেশা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট চিকিৎসকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দুটি পদ এক নয়। অস্ত্রোপচার বা কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির সময় রোগীকে অচেতন রাখা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারীরা চিকিৎসক অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের তত্ত্বাবধানে অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করেন। এ পেশায় প্রবেশের জন্য তাঁকে মেডিকেল স্কুলে চিকিৎসক হওয়ার প্রচলিত দীর্ঘ পথ অনুসরণ করতে হয়নি; বরং অ্যানেস্থেসিওলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদ নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফ্লোরিডায় স্থায়ী বেতনের চাকরি করতেন রদ্রিগেজ। তখনও তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি ছিল। তবে সেই আয় ধরে রাখতে তাঁকে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো, কখনো কখনো টানা ২৪ ঘণ্টার পালাও নিতে হতো। ছোটবেলা থেকেই অর্থ সঞ্চয় নিয়ে তাঁর মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভয় কাজ করত বলে তিনি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করে বাড়তি অর্থ জমিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি। ২০২৪ সালে তিনি বেতনভিত্তিক চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। প্রথমে জর্জিয়ায় ছয় মাসের একটি চুক্তিতে কাজ করেন। পরে বুঝতে পারেন, এভাবে কাজ করলে একদিকে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ ও জীবনযাপনের সময়ও বের করা সম্ভব। জর্জিয়ার চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন। চুক্তিভিত্তিক কাজে যাওয়ার পর তাঁর আয় বছরে ৩ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে অতীতের মতো দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত কাজ করলে আয় প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তা সত্ত্বেও তিনি এখন প্রতিটি অতিরিক্ত পালা নেওয়ার জন্য চাপ অনুভব করেন না। তাঁর ভাষ্য, আরও বেশি আয় করার ইচ্ছা থাকলেও কাজের চাপে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলতে চান না। বর্তমান আয়েই তিনি সন্তুষ্ট এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান। রদ্রিগেজের আর্থিক পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৩ সালে তিনি শিক্ষাজীবনের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারের ঋণ পরিশোধ করেন। ঋণ শোধের পর বিনিয়োগে বেশি অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর লক্ষ্য হলো কর কাটার আগের আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগ ও অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবে রাখা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারে পৌঁছায় বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগে রদ্রিগেজের লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আগেভাগে অবসর নেওয়া। এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর পরিকল্পনা, চাইলে যেন ৫০ বছর বয়সের দিকে কাজের চাপ কমিয়ে দিতে পারেন। সে জন্য শুধু আয় বাড়ানো নয়, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপনকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আয়ের পরিমাণ বাড়লেও রদ্রিগেজ জীবনযাপনে অতিরিক্ত ব্যয় করার পথে হাঁটেননি। সঙ্গীর সঙ্গে বাসাভাড়া ভাগ করে নেন এবং সাধারণ টয়োটা করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে ভ্রমণের জন্য অর্থ ব্যয় করতে তিনি আগ্রহী। কখনো বিদেশ ভ্রমণ করেন, আবার কখনো ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঘোরেন বা ক্যাম্পিংয়ে যান। তাঁর কাছে আর্থিক নিরাপত্তার অর্থ এখন শুধু সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং প্রয়োজনের সময় নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও। রদ্রিগেজ বলেছেন, আগে তিনি প্রতিটি বাড়তি পালা নেওয়ার জন্য নিজেকে চাপ দিতেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি নিজের আয় ও অর্জনকে স্বীকার করতে শিখেছেন এবং প্রয়োজনের বাইরে কাজ না করেও জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেখছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে আরও নিরাপদ বোধ করার কারণে এখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা, সঙ্গীকে উপহার দেওয়া কিংবা নিজের জন্য কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সুস্থ থাকা এবং কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে না পড়াও এখন তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। রদ্রিগেজের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক হওয়ার বিকল্প পেশাপথের একটি উদাহরণ। তবে তাঁর আয়কে এ পেশার সবার সাধারণ আয় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক কাজ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পেশাগত সনদ এবং বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই তিনি এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। অর্থাৎ মেডিকেল স্কুলে না পড়লেও এ পেশায় প্রবেশের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন প্রয়োজন। সূত্র: সিএনবিসি মেক ইট।
ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার নামে ছিনতাই, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশের সতর্কতা জারি
সংখ্যালঘু রোগীদের চিকিৎসায় বৈষম্য কমাতে এআই নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির ইরানি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক