যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটির মানুষের নাগালে নেই ক্যান্সারের রেডিয়েশন থেরাপি সেবা
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা রেডিয়েশন থেরাপি ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ৫ কোটির বেশি মানুষ এখন এমন সব কাউন্টিতে বসবাস করেন, যেখানে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ক্যান্সার চিকিৎসায় বৈষম্য আরও গভীর হবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গ্রামীণ এলাকার রোগীরা।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রেডিয়েশন অনকোলজি, বায়োলজি অ্যান্ড ফিজিক্স-এ। এটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই আইকান স্কুল অব মেডিসিন-এর গবেষকেরা।
গবেষণায় ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কাউন্টিতে রেডিয়েশন থেরাপি সেবাদানকারী কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে। এর ফলে লাখো মানুষকে চিকিৎসার জন্য নিজ এলাকার বাইরে যেতে হচ্ছে। অনেক কাউন্টিতে বর্তমানে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার কোনো কেন্দ্রই নেই।
গবেষকদের মতে, শহরাঞ্চলে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ হলেও রোগীরা তুলনামূলকভাবে অন্য কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় একটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে রেডিয়েশন থেরাপির সুযোগ হারাতে পারেন। এতে চিকিৎসা শুরু ও নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সারের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসার কোনো না কোনো পর্যায়ে এই থেরাপির প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ রোগীকেই কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে চিকিৎসাকেন্দ্র দূরে হলে যাতায়াতের অতিরিক্ত ব্যয়, সময় এবং শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায়। এর প্রভাব চিকিৎসা শুরু, নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ করার ওপরও পড়তে পারে।
গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ড. কুনাল কে. সিন্ধু বলেন, গ্রামীণ এলাকার স্বাধীন রেডিয়েশন থেরাপি কেন্দ্রগুলো আর্থিক সংকটের কারণে বড় হাসপাতালভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর তুলনায় দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব কেন্দ্রের আর্থিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব কাউন্টিতে রেডিয়েশন থেরাপির সুযোগ কমে গেছে, সেসব এলাকায় সাধারণত মানুষের গড় আয় কম, স্বাস্থ্যবিমাহীন বাসিন্দার সংখ্যা বেশি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী চিকিৎসকের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যদিও এই গবেষণায় সরাসরি রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়নি, তবে গবেষকেরা আগের বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ করতে হলে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া, চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ২০২৬ সালে মেডিকেয়ারের অর্থ পরিশোধ নীতিতে পরিবর্তনের ফলে রেডিয়েশন থেরাপি কেন্দ্রগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। যেহেতু বর্তমান গবেষণায় এই সময়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই বাস্তব পরিস্থিতি গবেষণায় উঠে আসা চিত্রের চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক হতে পারে।
গবেষকদের মতে, ক্যান্সার চিকিৎসায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে রেডিয়েশন থেরাপি কেন্দ্রগুলো টিকিয়ে রাখতে স্থিতিশীল অর্থায়ন, কার্যকর সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যনীতি গ্রহণ জরুরি। অন্যথায়, বিশেষ করে গ্রামীণ যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সার চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য আরও বাড়বে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানোর আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিকাগোর এক অভিবাসী। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় নিজের আগের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। গত ৭ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় মার্কিন সরকার দাবি করেছে, আকিনকুনমি আইনসম্মতভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। মামলার নথি অনুযায়ী, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। কিন্তু তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে সরকারের অভিযোগ আরও পুরোনো। মামলায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ভিন্ন একটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। সেই পরিচয় ছিল ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো। সরকারের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে ওই পরিচয়ে তিনি নিজের গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে মার্কিন অভিবাসন আপিল বোর্ডও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর পর আকিনকুনমি নতুন পরিচয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্য কোনো নাম ব্যবহার করেননি এবং এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২০০০ সালে তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি নাকি আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্যও তিনি অস্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, আকিনকুনমি কখনোই আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেননি। বরং প্রতারণা অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি অভিবাসন সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ ৪০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ভুয়া বিয়ে, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পরিচয় গোপনের মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা ২০টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। অতীতে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বছরে গড়ে প্রায় ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা শুরু করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা বেড়ে বছরে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছেন। ২০১৭ সালের মাসলেনিয়াক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনে কোনো ভুল বা বেআইনি আচরণ পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না; নাগরিকত্ব অর্জনে সেই আচরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকিনকুনমির মামলাতেও অভিযোগের সত্যতা, তথ্য গোপনের গুরুত্ব এবং নাগরিকত্ব অর্জনের সঙ্গে সেসব তথ্যের সম্পর্ক আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল না। মামলায় মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেলেন নিউইয়র্কের ৯০ বছরের বৃদ্ধ
১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও
মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় ৩০ বছর বয়সী নারীর
যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার জন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। শিকাগো শহরের গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত তিনটি সশস্ত্র ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার পর বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অপরাধীরা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিত হওয়ার অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করার ব্যবস্থা করে সেখানে পৌঁছানোর পর অস্ত্রের মুখে তাঁদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শিকাগো পুলিশের ষষ্ঠ ডিস্ট্রিক্টের জারি করা সতর্কবার্তায় গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকার তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, ওয়েস্ট ৭৬তম স্ট্রিটের ৪০০ ব্লকের কাছে। একই সড়কের ওই অংশে ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে। এরপর ৭ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে সাউথ এগলস্টন অ্যাভিনিউয়ের ৭৫০০ ব্লকের কাছে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের সতর্কবার্তায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ ও এক নারীর কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য জানা আছে, এমন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কোনো ঘটনা দেখে থাকলে বা প্রাসঙ্গিক তথ্য কিংবা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলে তা পুলিশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা করা অনেকের কাছে সহজ ও প্রচলিত পদ্ধতি। ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত আসবাব, মোবাইল ফোন, পোশাক, সাইকেলসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। কিন্তু বিক্রেতা বা ক্রেতার পরিচয় অনলাইনে যাচাই করা সব সময় সহজ নয়। অপরাধীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতা সেজে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে পারে। শিকাগোর ঘটনাগুলোতে অনলাইনে যোগাযোগের পর নির্ধারিত স্থানে ডেকে নিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও উদ্বেগ রয়েছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড পুলিশ ২০২৬ সালের জুনে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বৈদ্যুতিক সাইকেল বিক্রির একটি লেনদেনের সময় সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুন সাইকেলটি বিক্রির জন্য ঠিক করা সাক্ষাতে দুই কিশোর সেটি অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তের মাধ্যমে দুজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পোর্টল্যান্ড পুলিশের গুরুতর অপরাধ তদন্ত ইউনিট জানায়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে অনলাইন বাজারে লেনদেনের সূত্রে ছিনতাই বা অন্য অপরাধে গড়ানো অন্তত ১০টি ঘটনা তারা তদন্ত করেছে। কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরায় অনলাইনে গয়না বিক্রির একটি ঘটনাও ছিনতাইয়ের মামলায় গড়ায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে ক্রেতা সেজে আসা দুই ব্যক্তি এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রায় ২০ হাজার ডলার মূল্যের গয়না নিয়ে যায়। ওই সময় নারীর সন্তানদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় এক আসামি একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে জুতা বিক্রির জন্য ঠিক করা সাক্ষাতের সময় অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় টোবিয়াস ডব্লিউ টেলর নামের এক ব্যক্তিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি গুরুতর ছিনতাইয়ের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। মিসিসিপির জ্যাকসন পুলিশ বিভাগও অনলাইন বাজারে কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতারণা ও সশস্ত্র ছিনতাই নিয়ে সতর্ক করেছে। এসব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার সুবিধার পাশাপাশি সরাসরি সাক্ষাতের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তবে বিভিন্ন শহরের ঘটনাগুলো একই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষ জানায়নি। পুলিশের পরামর্শ, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার জন্য দেখা করতে হলে জনসমাগম আছে, এমন আলোকিত ও প্রকাশ্য স্থান বেছে নিতে হবে। সম্ভব হলে পুলিশ স্টেশনের নির্ধারিত নিরাপদ লেনদেন এলাকায় সাক্ষাৎ করার কথা বলা হয়েছে। শিকাগো পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট স্টেশনগুলোর লবিতে এ ধরনের লেনদেনের জন্য নিরাপদ স্থান রয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষাতের সময় বন্ধু বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে নেওয়া এবং কোথায় যাচ্ছেন, তা আগে থেকে অন্য কাউকে জানিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা বা বিক্রেতার অনলাইন পরিচয় যাচাই করা, পণ্যের বিবরণ আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া এবং সম্ভব হলে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করাও ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। কেউ যদি শেষ মুহূর্তে সাক্ষাতের স্থান বদলাতে বলেন, অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করেন কিংবা কোনো আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে লেনদেন বাতিল করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের মুখোমুখি হলে অপরাধীকে ধাওয়া করা বা নিজে আটকানোর চেষ্টা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত। শিকাগো পুলিশের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে তথ্য থাকলে ক্যালুমেট এলাকার গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে ৩১২-৭৪৭-৮২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ অথবা সিপিডিটিপি ডটকমে পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইন বাজারে লেনদেন বন্ধ করার বদলে নিরাপদ স্থানে সাক্ষাৎ, পরিচয় যাচাই এবং সতর্কতার সঙ্গে কেনাবেচা করার ওপর জোর দিচ্ছে পুলিশ। সূত্র: শিকাগো পুলিশ বিভাগ, নিউজউইক ও পোর্টল্যান্ড পুলিশ ব্যুরো।
সংখ্যালঘু রোগীদের চিকিৎসায় বৈষম্য কমাতে এআই নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির ইরানি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক
যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার করার উদ্যোগ, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে হেনস্তার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ওয়েন্সবোরো শহরে ওয়ালমার্টের একটি দোকানে দীর্ঘ ৪৪ বছর কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে গেইল নামের এক কর্মীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবন উদ্যাপন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবিও প্রকাশ করেছিল দোকানটি। তবে সেই ছবিই পরে অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মতে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চার দশকেরও বেশি সময় কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে শুধু ফুলের তোড়া তুলে ধরা যথেষ্ট নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেইল ওয়ালমার্টের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের ওয়েন্সবোরো শহরের ফ্রেডেরিকা স্ট্রিট শাখায় কর্মরত ছিলেন। দোকানটির ফেসবুক পোস্টে তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়। তবে কর্মজীবনের এই মাইলফলক উদ্যাপনের ছবিতে ফুলের তোড়া সামনে আসায় স্বীকৃতির ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে প্রশ্ন তোলেন, এত দীর্ঘ সময় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর একজন কর্মী আরও উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য কি না। তাঁদের মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা একজন কর্মীর অবদানকে শুধু আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও ফুল দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ আর্থিক পুরস্কার, অবসরকালীন সহায়তা কিংবা দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও অর্থবহ উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁদের আলোচনায় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবদান এবং তাঁদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে ফুলের তোড়া দেওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমালোচনার মধ্যেও একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত ছবিটি বা দোকানের অভিনন্দনবার্তায় গেইলকে দেওয়া ফুলই তাঁর একমাত্র পুরস্কার ছিল, এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, দীর্ঘ ৪৪ বছরের চাকরির পর তিনি অবসরে যাচ্ছেন কি না, কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কী ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পেয়েছেন, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। ফলে ছবির ভিত্তিতে তাঁর সম্পূর্ণ কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক প্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ওয়ালমার্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মতো বড় ব্যবসায়িক সংস্থায় দীর্ঘদিন কর্মরত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি কীভাবে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবনকে প্রকাশ্যে সম্মান জানানোর উদ্যোগ রয়েছে, অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এমন অর্জনের স্বীকৃতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় দোকানের পক্ষ থেকে দেওয়া ফুলের তোড়ার আয়োজন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মী-সুবিধা বা অবসরকালীন ব্যবস্থার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। এ ঘটনায় ওয়ালমার্টের করপোরেট কর্তৃপক্ষ বা গেইলের পক্ষ থেকে ভাইরাল আলোচনা নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গেইল নিজে এই স্বীকৃতিকে কীভাবে দেখেছেন, তা জানা যায়নি। আপাতত তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে ঘিরে প্রকাশিত একটি ছবি কর্মীদের অবদান, দীর্ঘদিনের চাকরির স্বীকৃতি এবং বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মানিওয়াইজ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দশম বার্ষিক সম্মাননা, পুরস্কার পেলেন ১০ ব্যক্তি
কুইনসে বাড়িতে ঢুকে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে মৃতের অভিনয় করলেন ব্যক্তি