বেশি ছুটি নেওয়ায় গর্ভবতী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন, দেয়নি বাথরুমের বিরতিও
গর্ভবতী কর্মীদের প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রের সুবিধা না দেওয়া এবং বেশি সময় ছুটি নেওয়ার অভিযোগে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা করেছেন চার সাবেক গুদামকর্মী। মামলায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজনের নীতির কারণে হাজারো গর্ভবতী কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।
মামলাটি করা হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন এ বেটার ব্যালান্স এবং একটি নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান চার সাবেক কর্মীর পক্ষে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গর্ভবতী কর্মীদের বসার জন্য চেয়ার, অতিরিক্ত পানি ও বাথরুম ব্যবহারের বিরতি এবং গর্ভকালীন চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার সময় দেওয়ার মতো মৌলিক সুবিধা পেতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গর্ভাবস্থাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় বিরতি বা ছুটি নেওয়ার পর অনেক কর্মীর ছুটির হিসাব থেকে সময় কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ কেউ সতর্কবার্তা পাওয়ার পর চাকরি হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে সাধারণ গর্ভকালীন সুবিধা পাওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
চার বাদীর একজন উইলামিনা বার্কলে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গর্ভাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থায় তাকে অ্যামাজনের রচেস্টার, নিউইয়র্কের গুদাম থেকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালে নিতে হয়। পরদিন তাকে চাকরি হারানোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বার্কলের দাবি, ভারী জিনিস তোলার কারণে তার তীব্র পেটব্যথা হচ্ছিল। হাসপাতাল যাওয়ার সময়কে অ্যামাজন তার বেতনবিহীন ছুটির সীমার মধ্যে হিসাব করে এবং পাঁচ দিন পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব আচরণ ফেডারেল প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট এবং নিউইয়র্কের শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া এই ফেডারেল আইনে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান বা সংশ্লিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় যুক্তিসংগত কর্মক্ষেত্রের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বাথরুম বিরতি, পানি পান, বসার ব্যবস্থা এবং গর্ভকালীন চিকিৎসার জন্য ছুটিও রয়েছে।
অ্যামাজন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেছেন, অ্যামাজন প্রতি বছর হাজারো কর্মীকে গর্ভাবস্থাজনিত সুবিধা দিয়ে থাকে এবং গত এক বছরে এ ধরনের অনুরোধের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি অনুমোদন করা হয়েছে। চার বাদীর বক্তব্যে ভুল তথ্য রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বাদ পড়েছে বলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে গর্ভবতী কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করে। নিউইয়র্কেও ২০২২ সালে একই ধরনের অভিযোগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।
নতুন মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বকেয়া বেতন ও সুবিধা, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অ্যামাজনের কর্মক্ষেত্রের নীতি পরিবর্তনের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে প্রস্তাবিত শ্রেণিভিত্তিক মামলা হিসেবে এগোবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং তেল পরিশোধনে সহযোগিতা জোরদার করতে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরে রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ও তাঁর ছেলে অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আলোচনায় ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি বিশাল তেল শোধনাগার রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা। বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানে অবস্থিত তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ভারত সফরে মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রিলায়েন্সের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ খুঁজছে। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটির বিপুল তেল পরিশোধন সক্ষমতা শুধু ভারতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধের দেশগুলো থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ভারতের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ রয়েছে। এতে ভারতের জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ বাড়তে পারে। রুবিও ভারতের তেল পরিশোধন খাতকে একটি ‘পরিশোধন পরাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, রিলায়েন্স অতীতেও ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করেছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ায় দেশটির আরও বেশি অপরিশোধিত তেল ভারতের শোধনাগারে পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, রিলায়েন্স যাতে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি ও পরিশোধন আরও বাড়ায়। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ অত্যন্ত ভারী প্রকৃতির। এ ধরনের তেল প্রক্রিয়াজাত করতে বিশেষ প্রযুক্তি ও উন্নত শোধনাগার প্রয়োজন হয়। রিলায়েন্সের জামনগর কমপ্লেক্সে সেই সক্ষমতা রয়েছে। ফলে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বাড়লে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বেশি পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হতে পারে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধির পরিমাণ এবং তা বিশ্ববাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন, পরিবহন, বাণিজ্যিক চুক্তি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর। এই সফরের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ভারতের জ্বালানি আমদানিতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানো। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। মার্কিন প্রশাসন ভারতকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনার জন্য উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের তেলকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ভারতের জ্বালানি আমদানির উৎস পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই রাশিয়ার তেলের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহার অবিলম্বে পুরোপুরি কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুবিওর সফর শেষে বুধবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে প্রচলিত ও নতুন জ্বালানি খাতে বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ। মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তবে এই বৈঠকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট তেল সরবরাহ বা বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তেল শোধনাগারের পাশাপাশি রিলায়েন্সের নতুন জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সম্পর্কেও ধারণা নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জামনগরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন এনার্জি গিগাফ্যাক্টরি এবং নির্মাণাধীন ডেটা সেন্টার প্রকল্পের তথ্য তাঁকে জানানো হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং ডেটা সেন্টার পরিচালনায় জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টিও উঠে আসে। রিলায়েন্সের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মধ্যে সমন্বিত বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গেও রিলায়েন্সের নাম যুক্ত হয়েছে। গত ১০ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিল বন্দরে একটি নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এতে রিলায়েন্সের বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পণ্য কেনার চুক্তির কথা জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত শোধনাগারটির দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা থাকার কথা। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় জ্বালানি চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে পুরো ৩০০ বিলিয়ন ডলার একটি তেল শোধনাগার নির্মাণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এমন তথ্য নিশ্চিত নয়। প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ক্রয়-বিক্রয়ের আর্থিক মূল্য আলাদা বিষয়। রয়টার্সের মার্চ মাসের প্রতিবেদনে শোধনাগার নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। রিলায়েন্সও ট্রাম্পের ঘোষিত পুরো ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রস্তাবিত টেক্সাস শোধনাগারটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের জামনগর কমপ্লেক্স বিশেষভাবে ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। ফলে দুটি প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য সরবরাহব্যবস্থা এক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ, জ্বালানি পণ্য কেনা এবং ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই রুবিওর ভারত সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজেল পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ ও পণ্য সরবরাহ খাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। এর দাম বাড়লে ট্রাক পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় জ্বালানির দাম রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ খতিয়ে দেখছে। তবে ভেনেজুয়েলা থেকে বেশি অপরিশোধিত তেল কেনা কিংবা ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা ব্যবহার করলেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য নির্ভর করে উৎপাদন, পরিশোধন, পরিবহন, আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। ভারত সফরে মার্কো রুবিওর আলোচনা দুই দেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। রিলায়েন্সের বৃহৎ তেল পরিশোধন সক্ষমতা এবং ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের সম্ভাব্য সরবরাহকে কাজে লাগাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। তবে সফরের পর নতুন কোনো বড় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা আসেনি। আগামী দিনে রিলায়েন্সের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা, টেক্সাসের প্রস্তাবিত শোধনাগারের অগ্রগতি এবং ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর এই সহযোগিতার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া খুনের দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্তে সহায়তা করল রোবট কুকুর
বাফেলোর বাংলাদেশি সাহী চৌধুরীর জনসেবার অবদান কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তুলে ধরলেন কেনেডি
২ হাজার ডলারের আইফোন ডুও বাজারে আসতেই ডিসপ্লে ফেটে যাওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা ২০২৭ সালের জন্য তাদের কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং হিউমানার প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। আগামী বছর থেকে তাঁদের বর্তমান বিমা পরিকল্পনা আর কার্যকর থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সরকারি মেডিকেয়ার সুবিধা হারাবেন। তাঁদের নতুন বিমা পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে অথবা প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিমা সুবিধা ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে বিমা কার্যক্রম টেকসই রাখার লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হিউমানা জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির অন্য কোনো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই পরিবর্তনের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার বিমার বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় চলছে। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সময়সীমা শেষ হবে ৭ ডিসেম্বর। এ সময় গ্রাহকেরা নিজেদের বর্তমান বিমার সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন। বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাই যাঁদের বিমা পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অধীনে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের খরচ এবং কখনো কখনো দাঁত ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরিকল্পনাভেদে এসব সুবিধা ও খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় গেলে গ্রাহকদের চিকিৎসক বা হাসপাতাল বদলাতে হতে পারে, ওষুধের আওতা পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়তে পারে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পরিবর্তন মূলত পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও চিকিৎসা নেওয়ার তুলনামূলক বেশি সুযোগ দেওয়া পিপিও পরিকল্পনাগুলোকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, হিউমানা কম লাভজনক কিছু পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান সেলেস্তে মেলেট আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, যা তাদের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ গ্রাহকের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রভাবিত গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের অন্য পরিকল্পনায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে। স্বাস্থ্যবিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সংখ্যা কমাচ্ছে, কিছু অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত করছে এবং গ্রাহকদের নিজস্ব খরচের অংশ বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহকের অন্তত একটি মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৬ সালের ১৪ দশমিক ৩৭ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২ ডলারে নেমে আসতে পারে। যাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসক, হাসপাতাল, ওষুধের আওতা, মাসিক প্রিমিয়াম এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দিতে হবে এমন অর্থের পরিমাণ তুলনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ নতুন মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যেতে পারেন, আবার কেউ প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের বিমা নিতে পারেন। কোন বিকল্পটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। সূত্র: নিউজউইক, সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র।
নিউ ইয়র্কে ম্যানহোল দিয়ে নর্দমায় নেমে গয়না খুঁজছিলেন তাঁরা, গ্রেপ্তার ৫
ফ্লোরিডায় বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর, জন্মদিনের চার দিন আগে মৃত্যু
জালিয়াতির আশ্রয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, ১৩ বছর পর বাতিল মার্কিন নাগরিকত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ভবন থেকে ইট পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাসপেথ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটির মাথায় কেটে যাওয়ার ক্ষত তৈরি হয় এবং উরুর হাড় ভেঙে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভাঙা হাড়ের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩৫ মিনিটে মাসপেথ অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৫৯তম স্ট্রিট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির বাবা পাশের একটি ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন। এ সময় মা ও শিশুটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বেড়ার একটি ফাঁক দিয়ে বাবাকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতে থামে। ঠিক সেই সময় একটি গুদামজাতীয় ভবনের বাইরের দেয়ালের ইটের অংশ খুলে নিচে পড়ে শিশুটির গায়ে লাগে। শিশুটির বাবা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ইট পড়ার ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে। তাঁর মেয়ে ফুটপাতে পড়ে চিৎকার করে ওঠে। কীভাবে ইটের অংশটি খুলে পড়ল, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না বলেও জানান। ঘটনার পর শিশুটির মাথায় আঘাতের পাশাপাশি উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভাঙা হাড়ে স্ক্রু বসানোর পরিকল্পনা করেছেন। পরে শিশুটিকে সচেতন অবস্থায় বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। শিশুটির বাবা বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ভালো। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক বা দুই দিনের মধ্যে তাকে বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী হাসান হামিদ জানান, আহত শিশুটিকে একজন কোলে করে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তার অবস্থা পরীক্ষা করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশকেও দেখা যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্মিত হন। আহত হওয়ার পরও শিশুটি কিছুটা পড়াশোনা করেছে, বিশ্রাম নিয়েছে এবং টেলিভিশন দেখেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা। ব্যথা কমাতে তাকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা নিয়মিত তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। আপাতত মেয়ের সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁদের পরিবারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।
প্রতিদিন অন্ধ হরিণকে খাবার খুঁজতে সাহায্য করত ১০ বছরের শিশু, পাশে দাঁড়ালেন প্রতিবেশীরা
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমেছে ব্যাপক হারে, জমে আছে ৭ লাখের বেশি আবেদন