যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক দোকান বন্ধ করছে বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান, তালিকায় ৪ শীর্ষ ব্র্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। চলতি শরতেই দেশটিতে শত শত রিটেইল স্টোর বা শোরুম বন্ধ হতে চলেছে। মূলত নিজেদের ব্যবসাকে নতুন করে সাজাতেই বড় বড় চেইন শপগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরসাইট রিসার্চ জানিয়েছে, মানুষের কেনাকাটার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ই-কমার্সের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ বছর কয়েক হাজার শোরুম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শরতের এই সময়ে স্থানীয় শপিংমলগুলোতে পরিচিত অনেক ব্র্যান্ডের শাখা আর দেখা যাবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শোরুম বন্ধের এই সাম্প্রতিক প্রবণতা মার্কিন খুচরা বাজারে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেক চেইন শপ এখন আর কেবল শাখার সংখ্যা বাড়িয়ে ব্যবসা প্রসারের কথা ভাবছে না। এর বদলে তারা সবচেয়ে বেশি লাভজনক শাখাগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে এবং ই-কমার্স ও ক্রেতাদের জন্য লয়্যালটি প্রোগ্রামে বেশি বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে সামগ্রিক কর্মসংস্থানের চিত্র ইতিবাচক হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতের দিকেই ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে করপোরেট পেশা এবং ঐতিহ্যবাহী খুচরা বিক্রেতারা ধীর প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছেন।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন তাদের শোরুম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেসিস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আ বোল্ড নিউ চ্যাপ্টার নামের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০টি অলাভজনক শোরুম বন্ধ করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শাখা বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আরও শাখা বন্ধ হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টনি স্প্রিং জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে লাভজনক শাখা ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করছেন এবং অনুৎপাদনশীল শাখাগুলো বন্ধ করে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
ফার্মেসি চেইন ওয়ালগ্রিন্সও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলাভজনক শাখা বন্ধের পরিকল্পনা জানিয়েছে। মালিকানা পরিবর্তনের কারণে শোরুম বন্ধের গতি কিছুটা কমলেও চলতি শরতে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তাদের শাখা বন্ধ হতে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মনমোহন মহাজন জানিয়েছেন, যে শাখাগুলোতে নগদ প্রবাহ নেতিবাচক এবং যেসব স্থানের ইজারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বিশ্বখ্যাত কফি চেইন স্টারবাকস এই মাসেই জানিয়েছে যে, তারা উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২৫০টি অলাভজনক ক্যাফে বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইক গ্রামস কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, তারা উত্তর আমেরিকায় তাদের কফিহাউসগুলোর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছেন। যেসব শাখায় গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেগুলোই বন্ধ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সুপারমার্কেট চেইন ক্রোগারও কৌশলগত পর্যালোচনার পর গত বছর জানিয়েছিল যে, ২০২৬ সালের মধ্যে তারা তাদের বেশ কিছু অলাভজনক গ্রোসারি স্টোর বন্ধ করবে। প্রতিষ্ঠানটি এ বছরের শেষ নাগাদ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ৬০টি স্টোর বন্ধ করবে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি এই শরতেই বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। ক্রোগার জানিয়েছে, এই শোরুমগুলো বন্ধের ফলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শোরুমের কর্মীদের অন্যান্য শাখায় কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
যদিও শোরুম বন্ধের হিড়িক চলছে, তবুও পরিসংখ্যান বলছে ২০২৬ সালটি রিটেইল খাতের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর নয়। কোরসাইট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে শোরুম বন্ধের হার বেশ কমেছে। বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৩ হাজার ৩২১টি শোরুম বন্ধের হিসাব পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কম। মূলত করোনা মহামারির সময় অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ায় অনেক দুর্বল প্রতিষ্ঠান আগেই তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল। তাই বর্তমানের এই শোরুম বন্ধের ঘটনাগুলো কোনো বিশাল ধসের লক্ষণ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।
খুচরা বাজারের সার্বিক চিত্র এখনো মিশ্র। কিছু পুরোনো চেইন স্টোর তাদের শাখা কমালেও অন্যান্য অনেক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান দ্রুত তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। এর মানে হলো, ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সংখ্যা হয়তো কমে যাবে, তবে সামগ্রিকভাবে খুচরা বাজার শক্তিশালীই থাকবে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউজউইক
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি। আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে। আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।
ডিসেম্বরে আটলান্টায় আসছে কনস্যুলার সেবা, সুবিধা পেতে পারেন আশপাশের অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিরা
হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাই গ্রেপ্তার, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক দোকান বন্ধ করছে বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান, তালিকায় ৪ শীর্ষ ব্র্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে বান্ধবীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সাততলা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩৩ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফার রকওয়ের নিলসন স্ট্রিট ও ডিনসমোর অ্যাভিনিউ এলাকার ভবনটিতে পুলিশ পৌঁছালে তাকে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, ছাদে থাকা অবস্থায় ওই যুবকের শরীরে রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাউন্ট সিনাই সাউথ নাসাউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পড়ে যাওয়ার আঘাতের পাশাপাশি তার কবজি, গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা জখম ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর পুলিশ ভবনের ভেতরের ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ৩১ বছর বয়সী ফিওনা প্রেমরাজকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ঘটনার সময় ওই নারী ও অভিযুক্ত একই অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৬৪ বছর বয়সী ওই প্রতিবেশী বলেন, তারা ভবনে ওঠার প্রথম দিকে ভালোই ছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই যুবক প্রেমরাজকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও প্রতিবেশী দাবি করেন। পুলিশও জানিয়েছে, গত তিন বছরে ওই দম্পতির মধ্যে ‘পারিবারিক বিরোধের’ খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে একাধিকবার ফোন পেয়েছিল তারা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় সর্বশেষ তিন বছরে প্রায় ছয়বার কর্মকর্তারা ওই বাসায় গিয়েছিলেন। তবে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রতিবেশী আরও জানান, গত এক বছরে তাদের ঝগড়া আরও বেড়েছিল। তবে বুধবার ঘটনার দিন তিনি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ঝগড়া শুনতে পাননি। তার ভাষ্য, অভিযুক্ত যুবককে সাধারণত ভদ্র বলেই মনে হতো এবং তিনি প্রতিবেশীদের জন্য প্রায়ই লিফটের দরজা ধরে রাখতেন। ফিওনা প্রেমরাজের বাবা এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। হাসপাতালে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর ভবনটির আশপাশে পুলিশ তদন্ত চালায়। কেন এই ঘটনা ঘটল এবং হামলার আগে ওই দম্পতির মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের তথ্য সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ভবনটিতে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পরই ছাদ থেকে পড়ে যান ওই যুবক। একই ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে প্রেমরাজের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
এআই চ্যাটবটের আসক্তিতে ১৩ বছরের কিশোরীর মৃত্যু, আত্মহত্যার পেছনে চ্যাটবটকে দায়ী করলেন মা
কুইন্সে গড়ে উঠছে নিউইয়র্কের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম, আসন থাকবে ২৫ হাজার
টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ঘটেছে এক রোমহর্ষক ঘটনা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073) যখন ৩০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়ছিল, তখন ককপিটের ভেতরেই পাইলটদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সহকারী পাইলটের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের জরুরি সংকেত পাঠানো হলে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরেই ঘটেছিল এই ভয়াবহ তাণ্ডব। বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই বিমানটির গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যমতে, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়, যার মধ্যে ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে এটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এমন ভয়াবহ পতনে যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ এবং পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এতে প্রাথমিকভাবে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হঠাৎ করেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্য দ্রুত ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। সৌভাগ্যবশত, ওই ফ্লাইটে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও কয়েকজন পাইলট যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান। পরে আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়া হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করলেও ফ্লাইদুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সহকারী পাইলটের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ককপিটে ধারালো অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল এবং এর পেছনে বৃহত্তর কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা পাওয়ার বিষয়টিই সবার সামনে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিয়ে বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘কাজটা তো খুবই সহজ হওয়ার কথা ছিল’
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে যৌ ন নির্যাতন, আমৃ ত্যু কারাদণ্ডের মুখে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট