ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত মানুষের থাকার ব্যবস্থা করতে ট্রাকে বহনযোগ্য ছোট আকারের প্রস্তুত ঘর তৈরি করেছে টেক্সাসের অস্টিনভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’। এসব ঘরে থাকার জায়গার পাশাপাশি রান্না, গোসল ও শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘরগুলো কারখানায় তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ট্রাকে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী করে বসানো যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নির্মাণকাজ এবং স্বল্পমেয়াদি আবাসনের প্রয়োজন হলে দ্রুত থাকার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে বন্যা, ঝড়, দাবানল কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের আগ পর্যন্ত এসব ছোট ঘর অস্থায়ী আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই ঘর প্রয়োজন শেষে অন্য স্থানেও সরিয়ে নেওয়া যাবে।
২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মার্কিন আবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রিয়েল্টর ডটকম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জরুরি আবাসনের এই প্রকল্প চালু করে আপলিফট। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ পেয়েছে। এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিৎস’।
আপলিফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি নিটশেলম আগে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ট্রেভর ও'লিয়ার মিলে নতুন এই উদ্যোগ শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের লক্ষ্য এমন ছোট ঘর তৈরি করা, যা দ্রুত তৈরি করা যাবে, সহজে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
এই ঘরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার সুবিধা। একটি সমতল পাটাতনযুক্ত বড় ট্রাকে একসঙ্গে দুই থেকে তিনটি ঘর বহন করা সম্ভব বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবহনের সময় ঘরগুলোকে ট্রাকের সঙ্গে নিরাপদে আটকে রাখার জন্য বিশেষ বাঁধন ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এক জায়গায় প্রয়োজন শেষ হলে একই ঘর অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।
ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিচে এমন বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা অসম জমিতেও ঘরটিকে সমতল ও স্থির রাখতে সহায়তা করে। প্রচলিত বাড়ির মতো সব সময় বড় ধরনের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করেও যেন এগুলো ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নকশা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষুদ্র ঘরের আয়তন প্রায় ৬০ বর্গফুট। এত ছোট জায়গার মধ্যেই মানুষের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর জায়গা, রান্নার ব্যবস্থা, গোসলের জায়গা এবং শৌচাগার। অল্প জায়গায় প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো একত্রে রাখাই এই নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জরুরি আবাসনের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার পর স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত থাকার জায়গা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
আপলিফটের পরিকল্পনা হলো, স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষকে দ্রুত ছোট কিন্তু ব্যবহারযোগ্য একটি ঘরে থাকার সুযোগ দেওয়া। কারখানায় আগে থেকেই ঘর তৈরি করে রাখা গেলে দুর্যোগের পর প্রয়োজনীয় এলাকায় দ্রুত সেগুলো পাঠানো সম্ভব হতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত, ভিত্তি তৈরি, কাঠামো নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ-পানির সংযোগসহ বিভিন্ন ধাপের পরিবর্তে প্রস্তুত ঘর সরাসরি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা শুধু দুর্যোগের পর আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত মানুষের অস্থায়ী আবাসন, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের জরুরি আবাসনের প্রয়োজনেও এসব বহনযোগ্য ঘর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬ সালের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় ‘আপলিফট মাইক্রোহোম’ প্রথম স্থান অর্জন করে। ওই প্রতিযোগিতায় ৭৫টির বেশি দল আবেদন করেছিল। শেষ পর্যায়ে সাতটি দল প্রতিযোগিতা করে এবং আপলিফট এক লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার পায়।
প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বর মাসে। রিয়েল্টর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেই আপলিফট তাদের প্রথম ঘর একজন অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারেও প্রবেশ করেছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজিত জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতেও আপলিফটের ঘর প্রদর্শন করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় উদ্যান এলাকায় আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে নতুন ধরনের আবাসন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের প্রদর্শনীর মূল বিষয় ছিল ‘আমেরিকায় তৈরি’।
প্রদর্শনীতে নতুন আবাসন প্রযুক্তির পাশাপাশি কারখানায় তৈরি ঘর, খণ্ডাংশভিত্তিক ঘর এবং ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তিতে তৈরি ঘরও প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আবাসন শিল্পের প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
তবে আপলিফটের প্রযুক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে উৎপাদন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্মাণবিধি, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে আরও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে।
জরুরি আবাসন হিসেবে এসব ঘর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জমির অনুমোদন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। সীমিতসংখ্যক ঘর তৈরির পর্যায় থেকে বড় পরিসরে উৎপাদনে যাওয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করাই বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তারপরও বহনযোগ্য এই ছোট ঘর যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি ও অস্থায়ী আবাসনের ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারণা সামনে এনেছে। একটি জায়গায় স্থায়ীভাবে বাড়ি নির্মাণের পরিবর্তে কারখানায় প্রস্তুত ঘর তৈরি করে ট্রাকে প্রয়োজনীয় এলাকায় পাঠানো গেলে দুর্যোগের পর দ্রুত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই ঘর পরে অন্য এলাকায় নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা গেলে এর ব্যবহারের পরিধিও বাড়তে পারে।
৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার এবং জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপলিফটের উদ্যোগটি নতুন আবাসন প্রযুক্তির আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘর কতটা কম খরচে বড় পরিসরে তৈরি করা যাবে, কত দ্রুত প্রয়োজনীয় এলাকায় পৌঁছানো যাবে এবং দীর্ঘ সময় বাস্তবে কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই হবে উদ্যোগটির পরবর্তী বড় পরীক্ষা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটিতে এবারের হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসব উপলক্ষে পাঁচ বরোর রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা গাড়িমুক্ত রাখা হবে। অক্টোবরজুড়ে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় এসব স্থানে শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, খেলাধুলা, সরাসরি বিনোদন এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজন থাকবে। শহরের পরিবহন বিভাগ শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনাও করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগের কমিশনার মাইক ফ্লিন ৩০ সেপ্টেম্বর এবারের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডজুড়ে অক্টোবর মাসে এসব আয়োজন হবে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ১৬০টি স্থান ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক, প্লাজা ও অন্যান্য স্থান সাময়িকভাবে পথচারীবান্ধব উৎসবস্থলে পরিণত হবে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, কমিউনিটি গ্রুপ ও বিদ্যালয়গুলোও আয়োজনে যুক্ত থাকবে। স্থানভেদে মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে ছবি আঁকা, সরাসরি বিনোদন, খেলাধুলা এবং শিশু ও পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে। এবারের আয়োজনে নতুন কিছু কার্যক্রমও যুক্ত হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল আর্ট সোসাইটি অব নিউইয়র্কের সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে গাইডসহ হাঁটা ভ্রমণের আয়োজন করা হবে। এসব ভ্রমণে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হবে। এ ছাড়া স্ট্রিট ল্যাবের সহযোগিতায় নিউইয়র্কের নির্বাচিত সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে হ্যালোউইনকেন্দ্রিক খেলাধুলা, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও কুইন্সের একাধিক বিদ্যালয় এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। পাঁচ বরোতে বড় পাঁচটি বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়সূচিও প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ। ব্রুকলিনের হিলেল প্লাজায় ২২ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ওয়াটার স্ট্রিটে ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজন চলবে। কুইন্সের অস্টিন স্ট্রিটে ২৫ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ক্যানাল ওপেন স্ট্রিট ও ডিভিশন প্লাজায় ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আয়োজন থাকবে। হ্যালোউইনের দিন ৩১ অক্টোবর ব্রঙ্কসের জেমস বাল্ডউইন প্লাজায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে। নিউইয়র্ক সিটি পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির মাধ্যমে হ্যালোউইনের আগে এবং হ্যালোউইনের দিনে পথচারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়। হ্যালোউইন শহরের সড়কগুলোর অন্যতম ব্যস্ত সময় হওয়ায় নির্দিষ্ট সড়ক ও প্লাজাকে গাড়িমুক্ত রেখে শিশু ও পরিবারকে উৎসবের জন্য জায়গা দেওয়াই কর্মসূচিটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের কর্মসূচি গত বছরের তুলনায় আরও বড় হয়েছে। ২০২৫ সালে ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটিতে ১৪৮টি গাড়িমুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১৬০টি সড়ক ও প্লাজায় পৌঁছেছে। মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, এবারের কর্মসূচিতে শহরের ১৬০টি সড়ক ও প্লাজা মিষ্টি সংগ্রহ, খেলাধুলা, সংগীত ও অন্যান্য আনন্দের আয়োজনে ব্যবহৃত হবে। পরিবহন কমিশনার মাইক ফ্লিনও শিশুদের জন্য ১৬০টি গাড়িমুক্ত স্থান এবং প্রায় ৭৫ হাজার পিস মিষ্টি বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে প্রতিটি এলাকার আয়োজনের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কোথাও সরাসরি বিনোদন ও খেলাধুলা থাকবে, আবার কোথাও শিশুদের সৃজনশীল কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। সব মিলিয়ে অক্টোবরজুড়ে পাঁচ বরোর বিভিন্ন এলাকায় হ্যালোউইন ও শরৎকালীন উৎসবের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬০টি গাড়িমুক্ত সড়ক ও প্লাজাকে কেন্দ্র করে এবারের ‘ট্রিক অর স্ট্রিটস’ হবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচিটির সবচেয়ে বড় আয়োজন। শিশু ও পরিবারের জন্য মিষ্টি, খেলাধুলা, মুখে ছবি আঁকা, বিনোদন ও অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন হাঁটা ভ্রমণ এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক আয়োজনও যুক্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক
বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত
ট্রাকে বহনযোগ্য ঘরেই মিলবে বিছানা-বাথরুম-রান্নাঘর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন শিক্ষার্থী পত্রিকা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের সাংবাদিক সেরিস কুসবা ও প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসের। গত সেপ্টেম্বরে অভিযোগকারী সাবেক শিক্ষার্থী দেওয়ানি মামলা করার পর পত্রিকাটির প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। মামলায় নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ‘জেন ডো’ নাম ব্যবহার করেছেন ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই ফ্র্যাটারনিটি হাউসে তাঁকে মাদক গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্র্যাটারনিটির সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সাতজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। কর্নেল ডেইলি সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সে সময় চি ফাইয়ের কর্নেল শাখাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তির পরও অনুসন্ধান চালিয়ে যান কুসবা। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং ফৌজদারি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। অভিযোগকারী নারী ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করেন। এই প্রস্তুতির কারণে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর দ্রুত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে পত্রিকাটি। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কুসবার প্রতিবেদন জাতীয় পর্যায়ে ঘটনাটির প্রতি মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরব হন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সম্পাদকীয় পর্ষদ কর্নেলের ভূমিকার সমালোচনা করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। পরে কর্নেল কমিউনিটির সদস্যদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি। সোফিয়া কর্নেলে কম্পিউটার সায়েন্স ও দর্শন নিয়ে পড়ছেন। নিজের একটি কলামে তিনি মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল সম্পাদক হিসেবে সংবাদ প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাব চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া। কর্নেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা কয়েক মাস ধরে টাইটেল নাইন তদন্ত চালিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন ও বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যক্তিগত শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত ফেডারেল আইনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু প্রবন্ধ লিখিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। এদিকে ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় চালুর পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। ১ অক্টোবর গভর্নর ক্যাথি হোকুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযুক্তদের কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেওয়ানি মামলার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণ পৃথক বিষয়। সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি; মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।
চার সন্তানের ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিজের লিভার দান করলেন এক অপরিচিত নারী, হতবাক পরিবার
নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলির আঘাতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, কিশোর সহ ৫ গ্রেফতার
বস্টনগামী বিমান ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ, সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি
নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ হালনাগাদ করা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিট, ম্যানহাটন অ্যান্ড ব্রঙ্কস সারফেস ট্রানজিট অপারেটিং অথরিটি বা ম্যাবস্টোয়া এবং এমটিএ বাস কোম্পানির পদগুলো শূন্যপদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। আবেদনকারীদের কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল, অথবা সংশ্লিষ্ট লার্নার পারমিট থাকতে হবে। বর্তমান তালিকায় ম্যাবস্টোয়ার বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬১২১ এবং এমটিএ বাস কোম্পানির নম্বর ৬৩২১। নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের অস্থায়ী বা প্রভিশনাল বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬০১২। ফলে আগের বিজ্ঞপ্তির ৫১০১ বা ৫৩০১ নম্বর দিয়ে বর্তমান নিয়োগের তথ্য খোঁজার পরিবর্তে হালনাগাদ পদের নম্বর অনুসরণ করতে হবে। বেতনের ক্ষেত্রেও সংস্থা ও বিজ্ঞপ্তিভেদে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এমটিএর নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের ৬৬০৯ নম্বর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের জন্য প্রারম্ভিক বেতন ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭৬ ডলার এবং চাকরির ষষ্ঠ বছরে ৪১ দশমিক ০৯ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার আবেদনপর্ব ২০২৫ সালের নভেম্বরেই শেষ হয়েছে। তাই সেই বেতনহারকে বর্তমানে খোলা সব পদের নিশ্চিত বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। একই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধার মধ্যে রয়েছে রাত ও সপ্তাহান্তে কাজের বাড়তি ভাতা, পেইড হলিডে, ভ্যাকেশন, সিক লিভ, মেডিকেল ও পেনশন প্ল্যান। বর্তমানে খোলা পদের জন্য এসব শর্ত সংশ্লিষ্ট চাকরির বিবরণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগের আগে পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে হয়। এই শর্তকে শুধু নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলা ঠিক নয়। এমটিএর বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজিতে বুঝতে ও যোগাযোগ করতে পারা এবং বাস অপারেটর ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করার শর্তও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চাকরির ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। ম্যাবস্টোয়া ও এমটিএ বাস কোম্পানির বাস অপারেটররা সুবিধা ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব পেলেও পদ দুটি সিভিল সার্ভিস পদ নয়। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের প্রভিশনাল পদে স্থায়ী হতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করে নির্বাচিত তালিকা থেকে নিয়োগ পেতে হবে। আগ্রহীরা এমটিএর ক্যারিয়ার বিভাগের বর্তমান পরীক্ষার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাস অপারেটর পদ বেছে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদের বেতন, লাইসেন্সের শর্ত, পরীক্ষার ধরন ও প্রযোজ্য ফি পড়তে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হবে না; সংশ্লিষ্ট বাছাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই নার্সকে ডিপোর্ট করল আইসিই
আমেরিকায় উবারের বিকল্প ডেলিভারি জব, আয় হয় দ্বিগুণ! জানুন বিস্তারিত