মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ১২ বছর, অবশেষে মিলল ৬ ক্যারেটের বিশাল হীরা!
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই—একদিন খুঁজে পাবেন বড় একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়ারাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় হীরা। হীরাটি পাওয়ার মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ তখন টিকটকে লাইভ করছিলেন পিয়ারাডিন। মাটি খুঁড়ে পাথরটি হাতে উঠতেই বিস্ময়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!’ এরপর আনন্দে বলেন, ‘বড় একটা পেয়ে গেছি!’
পিয়ারাডিন এই হীরাটির নাম দিয়েছেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন হলুদ হীরা।
মিসৌরির বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য পিয়ারাডিন ২০১৩ সালে ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে হীরা খোঁজা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি এখানে ৩০০টিরও বেশি রত্ন খুঁজে পেয়েছেন। হীরা খোঁজার নেশা এতটাই গভীর হয় যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মারফ্রিসবরো শহরেও চলে যান।
সর্বশেষ হীরাটি খুঁজে পাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন উইসকনসিনের আরেক রত্ন-সন্ধানী মাইকেল শুমাখার। যে নুড়ি ও মাটির স্তূপ থেকে হীরাটি পাওয়া যায়, সেটি খুঁড়তে শুমাখারও সাহায্য করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি হলে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের একটি ক্রিস্টাল খনি খোলার পরিকল্পনাও করছেন।
ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। এটি একসময় উন্মুক্ত হীরা খনি ছিল। ১৯৭২ সালে জায়গাটি স্টেট পার্কে পরিণত হয়। বর্তমানে মাত্র ১৫ ডলার প্রবেশমূল্য দিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে পাঁচ গ্যালনের একটি বালতি ভর্তি পাথর নিয়ে হীরা খুঁজতে পারেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কেউ হীরা বা অন্য কোনো মূল্যবান রত্ন খুঁজে পেলে সেটি নিজের কাছে রাখতে পারেন।
পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে এখানে ৩৭ হাজারেরও বেশি হীরা পাওয়া গেছে। প্রতি বছর গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা খুঁজে পান দর্শনার্থীরা। তবে সেগুলোর বেশিরভাগের ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেট।
এর আগে ২০২০ সালে এই পার্কে আরকানসাসের এক ব্যাংক ব্যবস্থাপক ৯ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিকও এখানে ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান।
আর এই পার্কেই ১৯২৪ সালে পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হীরা—৪০.২৩ ক্যারেটের ‘আঙ্কল স্যাম’। পরে সেটি কেটে ও পালিশ করে ১২.৪২ ক্যারেটের একটি হীরায় পরিণত করা হয়। বর্তমানে এটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ‘গ্রেট আমেরিকান ডায়মন্ডস’ প্রদর্শনীতে রাখা আছে।
রত্ন মূল্যায়নকারী লরা স্ট্যানলির মতে, পার্কে পাওয়া গড়ে ০.১৭ ক্যারেটের একটি হীরার দাম প্রায় ৭০০ ডলার হতে পারে। তবে পিয়ারাডিনের পাওয়া ৬ ক্যারেটের উন্নত মানের হলুদ হীরাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। পিয়ারাডিন অবশ্য জানিয়েছেন, কয়েকজন সংগ্রাহক তাকে বলেছেন, হীরাটির দাম ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত খনি রয়েছে—আরকানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস এবং কলোরাডোর কেলসি লেক। তবে কেলসি লেক ব্যক্তিমালিকানাধীন।
বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই সাধারণ মানুষকে নিজে হীরা খোঁজার এবং পাওয়া হীরা নিজের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই বিরল জায়গাগুলোর একটি ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক। আর সেই পার্কেই ১২ বছরের অপেক্ষার পর পিয়ারাডিনের হাতে উঠে এলো তার ‘আমেরিকান ড্রিম’।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreস্কুল থেকে ফোন এসেছিল—ছেলেকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হচ্ছে। সেই ফোনকলের কথা আজও ভুলতে পারেননি শন ও হেইডি ক্রাইপ। তাদের ১৬ বছরের ছেলে ডেভিস ক্রাইপ স্কুলে একটি এনার্জি ড্রিংক দ্রুত পান করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হৃ ৎ যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং তার মৃ ত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায়। ডেভিসের বাবা শন ক্রাইপ জানান, কিশোরটি মূলত বন্ধুদের মধ্যে নিজেকে কুল দেখানোর চেষ্টা করেই এনার্জি ড্রিংকটি দ্রুত পান করেছিল। ‘সে একটা এনার্জি ড্রিংক একবারে দ্রুত পান করেছিল—শুধু কুল দেখানোর চেষ্টা করছিল,’ ছেলের সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন শন। ডেভিসের মৃ ত্যুর পর তার পরিবার এখন অন্য বাবা-মা ও কিশোরদের এনার্জি ড্রিংকের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইছে। চিকিৎসকরাও বহু বছর ধরে বলে আসছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন শিশু ও কিশোরদের জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের পানীয় অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে হৃ ৎ স্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, হৃ ৎ স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, পানিশূন্যতা, অস্থিরতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং খিঁ চু নি র মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি চিকিৎসা পেশাজীবীদের একটি নতুন জোট এই ঝুঁকিগুলো নিয়ে আবারও সতর্ক করেছে। কারণ, মন্সটার এনার্জি ও বিগ ১২ কলেজ অ্যাথলেটিক কনফারেন্সের মধ্যে একটি স্পনসরশিপ চুক্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের ওই দল চুক্তিটি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং তরুণদের কাছে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাতের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে এনসিএএকে অনুরোধ করেছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগ শুধু মন্সটার এনার্জিকে ঘিরে নয়। তাদের মতে, একই ধরনের ঝুঁকি সব এনার্জি ড্রিংক এবং এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আইডাহোর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ম্যাথিউ নেলসন বলেন, কলেজের বিশ্ববিদ্যালয় ও খেলোয়াড়দের মাধ্যমে এনার্জি ড্রিংকের প্রচার হলে শিশুরা এগুলোকে স্পোর্টস ড্রিংক হিসেবে ভাবতে পারে। অথচ এনার্জি ড্রিংক আর স্পোর্টস ড্রিংক এক জিনিস নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সংগঠন শিশু ও কিশোরদের এনার্জি ড্রিংক পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক কিশোর নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ করছে। ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ‘মনিটরিং দ্য ফিউচার’ জরিপের সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, প্রতিদিন এনার্জি ড্রিংক পান করার কথা জানিয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ২৩ শতাংশ, দশম শ্রেণির ২০ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। পণ্যের ধরন অনুযায়ী একটি এনার্জি ড্রিংকে ৮০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। তুলনায়, সাধারণ ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। কিছু কোমল পানীয়তে থাকে ৫০ মিলিগ্রাম বা তারও কম। শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন গ্রহণের সীমা নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সুপারিশ অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের দিনে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের মধ্যে থাকা উচিত। আরও কম বয়সী শিশুদের ক্যাফেইন না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ানার শিশু বিশেষজ্ঞ ও একাডেমিটির পুষ্টি কমিটির চেয়ার ডা. তামারা হ্যানন বলেন, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান হৃ ৎ স্পন্দন বাড়ানোর পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করতে পারে। ডেভিসের ঘটনাটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তার আগে কোনো হৃ ৎ যন্ত্রের সমস্যা ছিল না। ঘটনার দিন সে একটি ম্যাকডোনাল্ডসের লাতে এবং একটি মাউন্টেন ডিউ পান করেছিল। এরপর এনার্জি ড্রিংক পান করার পর তার হৃ ৎ স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ডেভিস নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক পান করত না। তারপরও তার মৃ ত্যুর ঘটনা পরিবারকে নাড়া দেয়। ‘আমরা তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং জানিয়েছিলাম যে এগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি যে এগুলো প্রাণঘা তী হতে পারে,’ বলেন শন ক্রাইপ। অবশ্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি থাকলেও ক্যাফেইন মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়—এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। বিশেষ করে আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকা শিশুদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তবে সুস্থ শিশুরাও অতিরিক্ত উত্তেজক উপাদান গ্রহণ করলে গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারে। তরুণ অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এনার্জি ড্রিংক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মন্সটার এনার্জি জানিয়েছে, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয়তেই পাওয়া যায়। কোম্পানিটির দাবি, বিশ্বজুড়ে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ১০০ বিলিয়নের বেশি এনার্জি ড্রিংক বিক্রি ও গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো পণ্যের লেবেলে ক্যাফেইনের পরিমাণ প্রকাশ করে এবং শিশু, গ র্ভ ব তী নারী ও ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবার্তাও থাকে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা কে-১২ স্কুলে এনার্জি ড্রিংক বিক্রি বা বাজারজাত করে না। এদিকে বিগ ১২ ও মন্সটার এনার্জির চুক্তির আওতায় ফুটবল ও বাস্কেটবল জার্সি, মাঠ, কোর্ট এবং ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ লোগো ব্যবহারের কথা রয়েছে। বিগ ১২ জানিয়েছে, কলেজ ক্রীড়ায় এনার্জি ড্রিংক খাত নতুন কোনো বিষয় নয় এবং পানীয় কোম্পানিগুলো নিয়মিত ক্রীড়া দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ খোঁজে। চিকিৎসকদের জোটের পক্ষ থেকে শিশু ও কিশোরদের জন্য এনার্জি ড্রিংকের ঝুঁকি নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রও শিক্ষক ও কোচদের ক্যাফেইনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এনার্জি ড্রিংক ও স্পোর্টস ড্রিংকের পার্থক্য সম্পর্কে শিশুদের বোঝানোর পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পোর্টস ড্রিংকের মূল উদ্দেশ্য হলো শারীরিক পরিশ্রমের পর ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি ও ইলেকট্রোলাইট পূরণে সহায়তা করা। অন্যদিকে এনার্জি ড্রিংকে থাকে ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান। অভিভাবকদেরও সন্তানরা কী কী পানীয় গ্রহণ করছে, তা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছেলের মৃ ত্যুর বছরগুলো পরেও শন ক্রাইপ অন্য পরিবারগুলোকে সতর্ক করতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে চলেছেন। তার আশা, তাদের পরিবারের কষ্ট ও অভিজ্ঞতা অন্য বাবা-মাকে সচেতন করবে এবং কোনো পরিবারকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ১২ বছর, অবশেষে মিলল ৬ ক্যারেটের বিশাল হীরা!
আমেরিকায় কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে নতুন ক্যারিয়ারে আয় ৪০০০ ডলার! বাংলাদেশীদের জন্য ৫ কোর্স
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৪ সালে ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৩ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে এই সংখ্যা আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা দণ্ডিত ব্যক্তির হিসাব নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হিসাবে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে সবচেয়ে বেশি, ১৪৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে ৯৬টি এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৬৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর প্রকাশিত ব্যাখ্যায় এই সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে ১১০টি এসেছে একজন শিক্ষার্থীর একই সম্পর্কের মধ্যে বারবার যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ থেকে। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী ঘটনাগুলো জানান। ফলে ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনা মানে ১৪৬ জন পৃথক অভিযোগকারী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিযোগকারীর জানানো প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্লেরি অ্যাক্টের আওতায় উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে রিপোর্ট হওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হয়। ফেডারেল শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে সর্বশেষ তিন বছরের তথ্য রাখার নিয়ম রয়েছে। এতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন অপরাধ, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত অপরাধের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই পরিসংখ্যান বোঝার ক্ষেত্রে অভিযোগ, তদন্ত ও আদালতের রায়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের অপরাধের তথ্য নির্দিষ্ট বছরে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশকে জানানো অভিযোগের হিসাব। এটি অপরাধের বিচার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা নির্দেশ করে না। আবার অনেক ঘটনা রিপোর্ট না হওয়ায় নথিভুক্ত পরিসংখ্যানও সংঘটিত সব ঘটনার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। নিউইয়র্কের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের ক্ষেত্রেও অপরাধের শ্রেণি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের ‘ইনাফ ইজ ইনাফ’ প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ডেটিং ভায়োলেন্স, পারিবারিক সহিংসতা ও স্টকিংয়ের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাই এই বিস্তৃত হিসাবকে শুধু ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। ফেডারেল ধর্ষণের পরিসংখ্যান এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার সম্মিলিত সংখ্যা সরাসরি এক করে তুলনা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তথ্যের বছরও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও জাতীয় তুলনাটি ২০২৪ সালের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ ২০২৫ সালের অপরাধসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ২০২৪ সালের তালিকাকে বর্তমান বছরের অপরাধের তালিকা হিসেবে দেখানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে অপরাধের তথ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তানীতি, প্রতিরোধ কর্মসূচি ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার সার্ভার পাঠানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর গ্রেগ লুই নামের ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় বিচার বিভাগ। তিনি ইউ কং লুই নামেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী লুই ‘আর্থমেড কম্পিউটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগগুলো হলো রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লুই ও তাঁর সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসরযুক্ত সার্ভার কেনেন। এসব প্রযুক্তি চীনে পাঠাতে মার্কিন সরকারের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মার্কিন সরবরাহকারীদের দেওয়া নথিতে সার্ভারগুলোর শেষ গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেখিয়ে সেগুলো প্রথমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পরে সেখান থেকে সার্ভারগুলো চীনে পুনরায় রপ্তানি করা হয়। বিচার বিভাগ একটি নির্দিষ্ট চালানের বিবরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লুই প্রায় ৭৬ লাখ ডলারে ২৭টি সার্ভার কেনার অর্ডার দেন এবং সেগুলো লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাঠানো হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে এক সহযোগীর ইমেইলে ওই সার্ভারগুলো চীনের একজন ক্রেতার কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল। বিচার বিভাগের দাবি, এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে লুইয়ের প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াভিত্তিক দুটি চালান প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছে। এই অর্থপ্রাপ্তির হিসাব এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ৩০ কোটি ডলারের বেশি সার্ভারের মূল্য এক বিষয় নয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এসব প্রসেসর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এ ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ রয়েছে। মামলাটি এফবিআই, বাণিজ্য বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা দেখছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ১ অক্টোবর ২০২৬ সালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; রয়টার্স।
আমট্রাকে শরৎকালীন ভ্রমণ: আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক হোটেলসহ ৬ দিনের প্যাকেজ ৭৪৯ ডলার থেকে
ওয়াশিংটনে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে সোয়া লাখ মানুষ