নিউইয়র্কে ৩ নভেম্বর ভোট, নতুন ভোটারদের নিবন্ধন করতে হবে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক নতুন যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোটার নিবন্ধনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন নাগরিকেরা। তাই ভোটারদের দ্রুত নিজেদের নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি নাগরিকদের সুবিধার্থে বেশ সহজ ও বহুমুখী করা হয়েছে। আগ্রহীরা চাইলে অনলাইনে, সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের ভোটার নিবন্ধন পোর্টাল বা ডিএমভি (DMV) ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।
এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একটি 'এনওয়াই.গভ' (NY.Gov) আইডির প্রয়োজন হবে। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটি দিয়ে, অন্যথায় নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। যারা সরাসরি নিবন্ধন করতে চান, তারা নিজ কাউন্টির বোর্ড অব ইলেকশনস অফিস, অনুমোদিত সরকারি সংস্থার নিবন্ধন কেন্দ্র বা ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের (DMV) মাধ্যমে এই কাজ করতে পারবেন।
অন্যদিকে ডাকযোগে আবেদনের ক্ষেত্রে ফর্মটি পূরণ করে, স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টির নির্বাচন অফিসে পাঠাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাকযোগে পাঠানো আবেদনও অবশ্যই ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য বেশ কিছু যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে এবং নির্বাচনের দিন তার বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ৩০ দিন বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা আগাম নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে নিউইয়র্কের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নন-ড্রাইভার আইডি নম্বর, অথবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের (SSN) শেষ চারটি সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে। বাংলাভাষী প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইটে বাংলা ভাষায় ভোটার নিবন্ধন ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রিন্ট করে সহজেই পূরণ করে জমা দেওয়া সম্ভব। স্প্যানিশ, চীনা ও উর্দুর পাশাপাশি এটি অভিবাসীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।
নিবন্ধনের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে নিউইয়র্কে সাধারণত কোনো দলের প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে নির্দিষ্ট দলের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে হয়। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ দিন ১৯ অক্টোবর।
ভোটার নিবন্ধন ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইট (elections.ny.gov/register-vote) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (vote.gov) পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগ্য নাগরিকদের নিজেদের তথ্য যাচাই করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসন্তানকে নিয়ে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেক পরিবারের কাছেই আনন্দের। সঙ্গে একটি তোয়ালে, সানগ্লাস আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিলেই চলে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উইল রিজো ও তাঁর স্ত্রী ইয়েনির কাছে ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া মানে গাড়িভর্তি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী গুছিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ, তাঁদের ছোট্ট ছেলে ইজাইয়া জন্ম থেকেই লড়ছে এক দুর্লভ ও জটিল স্নায়বিক রোগের সঙ্গে। ইজাইয়া আক্রান্ত ‘ডব্লিউওআরইই’ (WOREE) সিনড্রোমে। ডব্লিউডব্লিউওএক্স (WWOX) জিনের ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিরল রোগ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ইজাইয়ার ক্ষেত্রে এর কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র খিঁচুনি, শারীরিক বিকাশের জটিলতা এবং নানা ধরনের চিকিৎসাগত চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের জীবন সামলাতে তাকে নির্ভর করতে হয় বিশেষ যত্ন ও চিকিৎসাসহায়তার ওপর। ইজাইয়ার চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার প্রয়োজন। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় রয়েছে বিশেষ রেসপিরেটরি সাপোর্ট। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় সাকশন ডিভাইস, খাওয়ানোর সরঞ্জাম এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর। ফলে বাড়ির বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে তার বাবা-মাকে নিশ্চিত করতে হয়, প্রয়োজনীয় সবকিছু সঙ্গে রয়েছে কি না। সাধারণ একটি ভ্রমণও তাঁদের জন্য হয়ে ওঠে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাড়তি দায়িত্বের সমন্বয়। তবে ছেলের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তার পুরো জীবন নির্ধারণ করতে দিতে চান না উইল ও ইয়েনি। তাঁদের বিশ্বাস, চিকিৎসা ও বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন থাকলেও ইজাইয়ার আনন্দ উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। অন্য শিশুদের মতো তারও প্রকৃতি দেখা, নতুন জায়গায় যাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় স্মৃতি তৈরি করার সুযোগ থাকা উচিত। এই ভাবনা থেকেই তাঁরা শুরু করেছেন ‘ফাউন্ড নোমডস’ (Found Nomads) নামের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তাঁরা ইজাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করছেন। কখনো সমুদ্রসৈকতে, কখনো সবুজ পাহাড়ে ঘেরা জাতীয় উদ্যানে—ছেলেকে নিয়ে নতুন নতুন জায়গা দেখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অবশ্য এসব ভ্রমণ সহজ নয়। ইজাইয়ার শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রার প্রস্তুতি নিতে হয়, সঙ্গে রাখতে হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং তার পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। প্রতিটি ভ্রমণে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে ছেলের প্রয়োজনের সমন্বয় করতে হয়। তারপরও থেমে থাকতে চান না এই বাবা-মা। তাঁরা দেখাতে চান, বিশেষ চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন শিশুর পরিবারও নানা বাধা পেরিয়ে ভ্রমণ করতে পারে এবং একসঙ্গে সুন্দর স্মৃতি তৈরি করতে পারে। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু নিজেদের পরিবারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্য পরিবারগুলোর জন্যও উৎসাহের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। ইজাইয়াকে নিয়ে উইল ও ইয়েনির এই যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর স্বপ্ন পূরণে অনেক সময় বাড়তি প্রস্তুতি ও পরিশ্রম প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নতুন জায়গা দেখা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং স্মৃতি তৈরি করার চেষ্টা থেমে থাকতে হয় না।
নিউইয়র্কে ৩ নভেম্বর ভোট, নতুন ভোটারদের নিবন্ধন করতে হবে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে বিরল এক জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছে ছয় বছরের শিশু লিও ইয়ংডাল। তার এই আবিষ্কার ঘিরে বিস্মিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অঙ্গরাজ্যটিতে এ ধরনের জীবাশ্মের সর্বশেষ নথিভুক্ত সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। অর্থাৎ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর নতুন করে এমন একটি নমুনার খোঁজ মিলল। চলতি বছরের গ্রীষ্মে নেব্রাস্কার শাম পার্ক স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়ায় জীবাশ্মটি খুঁজে পায় লিও। ছোটবেলা থেকেই পাথর সংগ্রহের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রকৃতিতে ঘুরতে গিয়ে সে পাথর কুড়িয়ে বালতিতে জমা করত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাথর, রত্ন ও জীবাশ্ম চেনার আগ্রহও তৈরি হয় তার মধ্যে। জীবাশ্মটি খুঁজে পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিও বলে, ‘আমি একটা জীবাশ্ম পেয়েছি!’ তার কাছে এটি ছিল দারুণ এক আবিষ্কার। এর আগেও সে বেশ কয়েকটি জীবাশ্ম পেয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল ব্র্যাকিওপড এবং বিভিন্ন ধরনের খোলসের জীবাশ্ম। তবে এবারের নমুনাটি ছিল একেবারেই আলাদা। লিও যে জায়গা থেকে জীবাশ্মটি খুঁজে পেয়েছিল, সেটি দেখিয়ে সে জানায়, ওই এলাকার কাছাকাছিই নমুনাটি পেয়েছে। প্রথমে তার মনে হয়েছিল, বস্তুটি যেন উল্টো করে রাখা সাপের খোলস। কিন্তু পার্কের শিক্ষাবিদ কেলি একুয়ে নমুনাটি দেখার পর বুঝতে পারেন, এটি পরিচিত জীবাশ্মগুলোর মতো নয়। একুয়ে জানান, পার্কের ওই এলাকায় সাধারণত ছয় ধরনের জীবাশ্ম দেখা যায়। কিন্তু লিওর খুঁজে পাওয়া বস্তুটি সেগুলোর কোনোটির সঙ্গে মেলেনি। প্রথম দেখায় তাঁর কাছে সেটিকে মাছের মতো মনে হয়েছিল। তবে ওই এলাকার জীবাশ্মস্তরে মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম সাধারণত পাওয়া যায় না। এ কারণেই নমুনাটি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। পরে স্থানীয় ভূতত্ত্ববিদেরা জীবাশ্মটি পরীক্ষা করে শনাক্ত করেন। তাঁদের মতে, এটি কনুলারিয়িড নামের এক ধরনের প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম। প্রাণীটি জেলিফিশের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি বছর আগে নেব্রাস্কার যে অংশে বর্তমানে স্থলভূমি রয়েছে, তার কিছু এলাকা পানির নিচে ছিল। সেই সময়ের সামুদ্রিক পরিবেশে কনুলারিয়িডের মতো প্রাণী বাস করত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে তাদের দেহের চিহ্ন পাথরে সংরক্ষিত থাকায় এখন সেগুলো জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়। এ ধরনের জীবাশ্ম বিরল হওয়ার একটি কারণ হলো, প্রাণীগুলোর দেহ ছিল নরম। নরম দেহের প্রাণীর অবশেষ সাধারণত সহজে জীবাশ্মে পরিণত হয় না। উপযুক্ত পরিবেশ ও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে তাদের দেহের চিহ্ন দীর্ঘকাল ধরে পাথরে সংরক্ষিত থাকা কঠিন। তাই লিওর খুঁজে পাওয়া নমুনাটি শুধু অস্বাভাবিক নয়, নেব্রাস্কার প্রাকৃতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। পার্কের শিক্ষাবিদ একুয়ে বলেন, নেব্রাস্কার ইতিহাসের জন্য এ ধরনের জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের জীবাশ্মের সর্বশেষ নথিভুক্ত সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নমুনা আবিষ্কারের ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শাম পার্ক স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়াটি নেব্রাস্কার ওমাহা শহর থেকে প্রায় ২৮ মাইল দূরে অবস্থিত। লিওর আবিষ্কৃত জীবাশ্মটি বর্তমানে পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এটি শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে তারা পৃথিবীর অতীত, প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণী এবং জীবাশ্ম কীভাবে তৈরি হয়, সে সম্পর্কে জানতে পারে। লিওর নিজেরও জীবাশ্ম নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সে অতীতে পৃথিবীতে বসবাস করা প্রাণীদের সম্পর্কে আরও জানতে চায়। তার কথায়, জীবাশ্ম দারুণ আকর্ষণীয়। তবে অতীতে কী কী প্রাণী ছিল এবং সেগুলোর নাম কী, তা এখনো পুরোপুরি জানা হয়নি তার। তাই নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়ে সে আবারও প্রকৃতিতে অনুসন্ধান চালাতে চায়। জীবাশ্ম খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি পরামর্শও দিয়েছে লিও। তার মতে, যেসব পাথরে অনেক খাঁজ ও ছোট ছোট গর্ত রয়েছে, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার ধারণা, এমন পাথরের মধ্যে আরও বেশি জীবাশ্ম পাওয়া যেতে পারে। ছয় বছরের একটি শিশুর কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া এই আবিষ্কার এখন পার্কের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ। যে বস্তুটিকে প্রথমে সাপের খোলসের মতো মনে হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটিই হয়ে উঠেছে নেব্রাস্কার বিরল প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এমন নমুনা খুঁজে পাওয়ার ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির মধ্যে ছোট্ট একটি অনুসন্ধানও অতীতের অজানা ইতিহাস সামনে আনতে পারে।
বিচারকের নির্দেশে ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি চালুর পথে ট্রাম্প প্রশাসন, সুযোগ ফিরছে আবেদনকারীদের
তুরুপের তাস এবার তরুণ ভোটাররা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ
আমেরিকায় বিনামূল্যে খাবার দরকার? কাছের ফুড প্যান্ট্রি খুঁজবেন যেভাবে, জেনে নিন
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে ব্রঙ্কসের একটি আবাসন ভবনে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সের এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২০ নভেম্বর। নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা এক বা দুই সদস্যের পরিবার এ আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবে। অ্যাপার্টমেন্টগুলো ব্রঙ্কসের ট্রেমন্ট এলাকায় ৪১১ ইস্ট ১৭৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্স ভবনে। ভবনটির পরিচালনায় রয়েছে অলাভজনক আবাসন সংস্থা ব্রেকিং গ্রাউন্ড। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৫ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২৬ হাজার ৯২ ডলার থেকে ৭১ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। তবে শুধু আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাসিন্দা নির্বাচন করা হবে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার, নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রেকিং গ্রাউন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সে মোট ১৭০টি ছোট আকারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ৮০টি ইউনিট ব্রঙ্কসের স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। ভবনটি ২০১৮ সালে চালু হয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনপত্র পেতে (৬৪৬) ৮৭০-৮৩৪০ নম্বরে ফোন করা অথবা intake@breakingground.org ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। আবেদন করার আগে আয়সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদন নিউইয়র্ক স্টেটের আবাসন আবেদন পোর্টাল আবেদন করুন সূত্র: পিক্স১১, ব্রেকিং গ্রাউন্ড।
ওয়ালমার্টের কর্মীরা বিনা খরচে পাবেন ২৫০টির বেশি ওষুধ, থাকছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ও নতুন শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস