নিউইয়র্কে মর্মান্তিক ঘটনা, ৯১১ এ কল করে পাঁচ বছরের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার মায়ের
নিউইয়র্কের কুইন্সে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৯১১ নম্বরে ফোন করে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করার মতো বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাউথ রিচমন্ড হিল এলাকার একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে অচেতন ও নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের এক প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়নি।
পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে ১১০ স্ট্রিট ও ৯৫ অ্যাভিনিউয়ের কাছের বাড়িটিতে পৌঁছান। এর আগে শিশুটির মা জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে বাড়িতে হামলার ঘটনা জানান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফোনে ওই নারী বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে হত্যা করেছি।’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা শিশুটিকে বাড়ির ওপরের তলার একটি কক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে তাকে দ্রুত জামাইকা হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুটির নাম প্রথমে প্রকাশ করা হয়নি। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ নিউইয়র্ক জানায়, স্বজনদের বরাতে শিশুটির নাম ফাবিয়ানা কাবেলো বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে ‘ফাবি’ নামে ডাকতেন। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় ময়নাতদন্ত করবে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, শিশুটির মা ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী একজন নারী। অতীতে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে পুলিশের নথি ছিল এবং এর আগে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাঁর মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
শিশুটির বাবা কুলদীপ সিং নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে জানান, তিনি মেয়ের মায়ের সাবেক প্রেমিক এবং মেয়ের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন না। পেশায় উবারচালক সিং মেয়ের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন রাতে ফোনে কথা বলতেন। দুই সপ্তাহ আগে মেয়ের সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন শিশুটি তাঁর সঙ্গে খেলছিল, হাসিখুশি ছিল এবং তাঁকে বারবার চুমু দিয়েছিল। মেয়ের পাঠানো একটি কণ্ঠবার্তাও তিনি সংবাদমাধ্যমকে শোনান, যেখানে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, ‘হাই বাবা, তুমি কেমন আছ।’
সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাবি সম্প্রতি কিন্ডারগার্টেনে যাওয়া শুরু করেছিল। মেয়ের জন্য তিনি নতুন পোশাক ও স্কুলের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছিলেন। তিনি জানান, শিশুটির মা মাঝেমধ্যে মেয়েকে দেখাশোনার জন্য তাঁর সাহায্য চাইতেন। কিন্তু উবার চালানোর ব্যস্ততার কারণে সব সময় মেয়ের কাছে যেতে পারতেন না। গত ৭ অক্টোবর ফোনে তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। ওই দিন শিশুটির মা দুই-তিন দিনের জন্য মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে সিং তখন সময় চেয়েছিলেন। এখন সেই কথোপকথনের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেশীরাও শিশুটিকে হাসিখুশি ও বন্ধুবৎসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ৬০ বছর বয়সী প্রতিবেশী লুইস সালোমন পেরেজ জানান, তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ফাবির প্রায়ই খেলাধুলা হতো। তাঁর ভাষায়, মেয়েটি ছিল ভদ্র, সদয় ও প্রাণবন্ত। তবে গত প্রায় ছয় মাসে শিশুটির মায়ের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। আগে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতে বা বাইরে বের হতে দেখা গেলেও পরে তাঁকে খুব কমই বাড়ির বাইরে দেখা যেত। পেরেজের ধারণা ছিল, ওই নারী বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি তাঁর বোনের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন।
পেরেজের পরিবারের সদস্য মেলিসা জানান, গত বছর ফাবি ও তার মা কয়েক মাস তাঁদের বাড়ির একটি ভাড়া করা কক্ষে ছিলেন। পরে তাঁরা কাছাকাছি একটি বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মেলিসার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি আশপাশের অন্য শিশু ও কুকুরের সঙ্গে খেলতে পছন্দ করত। তবে তার মা মেয়েকে অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে দিতে চাইতেন না বলে তাঁর মনে হয়েছিল। যদিও মেলিসা শিশুটির ওপর কোনো নির্যাতন নিজের চোখে দেখেননি বলে জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য তদন্তকারীদের কাছে পারিবারিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে এগুলো নিজেরাই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ নয়।
ঘটনার পর বাড়িটির আশপাশে পুলিশি তদন্ত চলতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা কম্বল দিয়ে মোড়ানো অচেতন শিশুটিকে দ্রুত গাড়িতে তোলেন। পরে হাতকড়া পরা এক নারীকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও ধারণ করা হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং শিশুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে। এবিসি৭ নিউইয়র্কের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পুলিশ তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি এবং তদন্ত চলছিল। ফলে ৯১১ নম্বরে মায়ের কথিত বক্তব্য এবং পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বর্ণনা প্রকাশিত হলেও শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল এবং চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, এবিসি৭ নিউইয়র্ক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে মুদি পণ্য, গাড়ির জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে পরিবারের ব্যয় আরও বাড়ছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচের তথ্য ও উপাত্তবিষয়ক দল এ পরিস্থিতিতে একটি ইন্টার্যাকটিভ অনলাইন টুল তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মুদি পণ্য, গাড়ির জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিশুদের দিবাযত্নকেন্দ্র বা প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার খরচ এবং পোষা প্রাণীর খাবার, এই পাঁচটি খাতে তাঁদের মাসিক ব্যয় কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তা হিসাব করে দেখতে পারবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব খাতের মূল্য পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে এটি ব্যক্তিগত কেনাকাটার রসিদভিত্তিক হিসাব নয়, বরং ভোক্তা মূল্যসূচকের ওপর নির্ভরশীল একটি আনুমানিক হিসাব। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের গাড়ির জ্বালানির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজেটের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও দাম বৃদ্ধির চিত্র একরকম নয়। ডব্লিউইএসএইচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে কিছু পণ্যের দাম সামগ্রিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে কাঁচা গরুর কিমার মূল্যসূচক ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে সব পণ্যের মূল্য পরিবর্তন বোঝা যায় না। কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে, আবার অন্য কিছু পণ্যের দাম কমতেও পারে। বিএলএসের সরকারি তথ্যেও জ্বালানির দামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পেট্রোলের মূল্যসূচক এক মাসে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক মাসিক হিসাবে বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে আগস্টে বৃদ্ধি ছিল ০ দশমিক ৪ শতাংশ। গত ১২ মাসে জ্বালানি খাতের মূল্যসূচক বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। ঘরে ব্যবহারের জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক সামান্য কমলেও রেস্তোরাঁয় খাবারের ব্যয় বেড়েছে। ডব্লিউইএসএইচের তৈরি অনলাইন টুলটি মূলত ভোক্তা মূল্যসূচকের পরিবর্তনকে ব্যক্তিগত মাসিক বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট খাতে তাঁদের মাসিক ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে আগের সময়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিবর্তন দেখতে পারেন। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কেনাকাটার ধরন, বসবাসের এলাকা এবং বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। তাই টুলে পাওয়া হিসাবকে প্রত্যেক পরিবারের প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির চূড়ান্ত পরিমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আগের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে এখন তুলনামূলক কম পণ্য বা সেবা কেনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের তুলনায় খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও শিশুদের দেখাশোনার খরচের অংশ বেশি, তাদের বাজেটে চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও প্রতিটি পরিবারের ব্যয় একই হারে বাড়বে, এমন নয়। কোন খাতে কতটা ব্যয় হয়, তার ওপরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পার্থক্য নির্ভর করে। সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলাগুলি, তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত
নিউইয়র্কে মর্মান্তিক ঘটনা, ৯১১ এ কল করে পাঁচ বছরের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের মিডলসেক্স এলাকায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে প্রায় ২৩ একর জমির একটি সম্পত্তি। এতে রয়েছে র্যাপাহ্যানক নদীর তীরে বালুকাময় সৈকত, ১৮০০ সালের একটি খামারবাড়ি এবং নিজস্ব প্রায় এক একরের প্রাইভেট আইল্যান্ড। রিয়েল এস্টেটবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্পত্তিটিকে সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাড়ির তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে। সম্পত্তিটির মূল আকর্ষণ ‘অয়েস্টার হাউস’ নামের প্রাইভেট আইল্যান্ড। নদীর মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপটিতে রয়েছে একটি দোতলা বাড়ি। ওপরের তলায় দুটি শোবার ঘর, একটি রান্নাঘর, বসার ঘর ও একটি বাথরুম রয়েছে। নিচের তলাটিও আংশিকভাবে নির্মিত, সেখানে বাথরুম তৈরির প্রাথমিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্পত্তিতে ছোট নৌকা নামানোর জন্য একটি বোট র্যাম্পও রয়েছে। মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত ১৮০০ সালের খামারবাড়িটির সঙ্গে রয়েছে পুরোনো পোস্ট অফিস ও দোকানঘর। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট নদীতীরজুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিতে বালুকাময় সৈকত ছাড়াও রয়েছে ব্যক্তিগত পুকুরে যাওয়ার পথ। নদীর তীরবর্তী অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সম্পত্তিটি সাধারণ আবাসিক বাড়ির তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করছে। তবে সম্পত্তিটি কেনার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। দ্বীপে যাওয়ার সংযোগপথটি আগে গাড়ি চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে সেটি মেরামত করা প্রয়োজন। ভাটার সময় পথটি ব্যবহার করে দ্বীপে যাওয়া সম্ভব বলে বিক্রির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল খামারবাড়িটি থেকে আগের ভাড়াটিয়ার জিনিসপত্র সরানোর কাজ চলায় সেটি পরিদর্শনের জন্য সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকতে পারে। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটি আগে ভাড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ভবিষ্যতে ভাড়ার মাধ্যমে আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের আয় নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান অবস্থা, সংস্কার ব্যয়, দ্বীপে যাতায়াতের সুবিধা এবং সম্পত্তি ব্যবহারের প্রযোজ্য বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ২৯৭৭ বুটিলো রোডের এই সম্পত্তিটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলার দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রাইভেট আইল্যান্ড, ঐতিহাসিক খামারবাড়ি এবং নদীতীরবর্তী বিস্তৃত জমির সমন্বয়ে তৈরি এই সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনবাজারে ব্যতিক্রমী একটি বিক্রয়প্রস্তাব হিসেবে নজর কেড়েছে।
পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইউএসটি
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে গু লি ব র্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে খাবার নিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সারি, কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নতুন বাসা খোঁজা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সিটিজুড়ে ভাড়ার বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া ভাড়া ছিল মাসে ৪ হাজার ১৫০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ভাড়াটিয়ারা সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কোনো বাসা খালি থাকলে মর্টগেজ, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়িওয়ালাকে বহন করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া উদাহরণে গত পাঁচ বছরে ভাড়ার পরিবর্তন স্পষ্ট। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে পাওয়া যেত, সেটির জন্য এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার চাওয়া হচ্ছে। দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। একটি রুমের জন্য আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার দিতে হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার লাগছে। এগুলো বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার উদাহরণ; এলাকা ও বাসার ধরনভেদে ভাড়া আলাদা। ভাড়াটিয়াদের জন্য শুধু মাসিক ভাড়াই সমস্যা নয়। বাসা বদলাতে গেলে নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং সম্ভাব্য বাড়তি ভাড়াও হিসাবে রাখতে হচ্ছে। কারও কারও অভিজ্ঞতায় পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে মাসে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার গুনতে হতে পারে। ফলে বর্তমান বাসার ভাড়া কষ্টকর হলেও অনেকে সেখানেই থেকে যাচ্ছেন। বাড়িওয়ালাদের চাপের ধরন ভিন্ন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়, কিন্তু মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের খরচ থেমে থাকে না। এ কারণে কেউ কেউ বেশি ভাড়ার অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে নিয়মিত ভাড়া দেবেন এমন ভাড়াটিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের পক্ষ থেকে মেরামত, পানি ও হিটিংয়ের ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের কথাও উঠে আসছে। রুম ভাড়া ও রুমমেট খোঁজার ক্ষেত্রেও বাজেটের সঙ্গে উপলব্ধ বাসস্থানের মিল পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের বর্ণনায় এসেছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের পুরো ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেকে খরচ ভাগাভাগি করেন। রুম খালি থাকলে সেই খরচ আবার একজনের ওপরই পড়ে। তবে কিছু বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়া পেতে দেরি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে পুরো সিটিতে ভাড়ার চাহিদা কমেছে বলা যায় না। স্ট্রিটইজির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত বাসার সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল। সিটির সর্বশেষ সরকারি আবাসন জরিপেও, যা ২০২৩ সালে করা হয়েছিল, ভাড়ার জন্য খালি বাসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাসা বা রুম খালি থাকার সমস্যা থাকলেও সিটিজুড়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকট রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টেই প্রায় বছরের আয়
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত