ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে ৪ ঘণ্টা বাসে আটকে ৬ অটিস্টিক শিশু, চরম অবহেলার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ছিল ছয়জন বাক্প্রতিবন্ধী অটিস্টিক শিক্ষার্থী বহনকারী একটি স্কুলবাস। ক্রাউন হাইটস এলাকার পি.এস. ২৮৯ স্কুলের ওই শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ২০ মিনিট থেকে ৯টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, তারা স্কুলে গিয়ে পৌঁছায় দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে।
এই দীর্ঘ সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বাসটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্যই ছিল না। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের স্পেশাল কমিশনার অব ইনভেস্টিগেশনের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন বাসটির নিয়মিত চালকের পরিবর্তে একজন বদলি চালক দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান জানতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাস কোম্পানি ‘কনসলিডেটেড ট্রানজিট’-এর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (ডিওই) এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) বিষয়টি জানানো হয়। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কোম্পানির একজন ডিসপ্যাচার স্কুলকে জানান যে, চালক পথ হারিয়েছেন এবং ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছাবেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, বাসটির লাইভ জিপিএস ট্র্যাকার কাজ করছিল না। তবে স্পেশাল কমিশনার আনাস্তাসিয়া কোলম্যান জানিয়েছেন, তদন্তে ট্র্যাকিং ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ সচল থাকার প্রমাণ মিলেছে।
দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই শিশুদের চরম দুরবস্থার শিকার হতে হয়। তদন্তে জানা যায়, স্কুলে পৌঁছানোর পর এক কন্যাশিশুকে নিজের গায়ে প্রস্রাব করা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং চরম অস্বস্তিতে সে তার ডায়াপার ও লেগিংস খুলে ফেলেছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসে থাকা প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেট্রন পথ হারানোর পর চালকের সঙ্গে যোগাযোগ বা স্কুলকে খবর দেওয়ার ন্যূনতম কোনো চেষ্টাই করেননি। এই ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং তদন্তকারীরা বাস চালক ও মেট্রনকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেছে।
কনসলিডেটেড ট্রানজিটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই দুই কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ডিওই-এর কোনো ভেন্ডরের অধীনে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreশিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার নতুন ছক কষা হচ্ছে বলে তাকে সতর্ক করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গত বছর একজন সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে হত্যার যে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে পান্নুন জানান, এফবিআই এজেন্টরা ওই দিন সকালে তার নিউইয়র্কের বাসভবনে এসে তাকে এই ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত পান্নুন জানিয়েছেন, আগামী ১৮ অক্টোবর কানাডার এডমন্টনে তার সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ একটি প্রতীকী গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশকে স্বাধীন ‘খালিস্তান’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত এই গণভোটে শিখ সম্প্রদায়কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এফবিআই এজেন্টরা পান্নুনকে জানিয়েছেন, কানাডায় তার এই আসন্ন সফরের সঙ্গে নতুন হুমকির সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য না জানালেও পান্নুন এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, তিনি আরও একটি হত্যাচেষ্টা থেকে বাঁচতে পারবেন কি না, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং শিখদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এমন হুমকির মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এর আগে নিখিল গুপ্তা এবং সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিলেন। ভাড়াটে খুনি নিয়োগ ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করা নিখিল গুপ্তার আগামী নভেম্বরে সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে এবং সেখানে পান্নুনের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পান্নুনকে হত্যার ওই একই সময়ে, ২০২৩ সালের জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আরেক বিশিষ্ট শিখ নেতা ও পান্নুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কানাডা সরকার সে সময় দাবি করেছিল, নিজ্জর হত্যার পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের হাত রয়েছে, যা কানাডার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও ভারত সরকার নিজ্জর হত্যা এবং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চলতি বছর মার্কিন বা কানাডিয়ান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে পান্নুনের এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও এফবিআই এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তাকে আলাদাভাবে সতর্ক করেছিল। পান্নুন জানান, গত জুলাই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা ‘বিষ্ণোই’ নামের একটি ভারতীয় অপরাধী চক্রের শীর্ষ নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে নিজ্জর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনার পরই মূলত এই সতর্কবার্তাগুলোর মাত্রা বেড়ে যায়। ২০১৫ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও কারাবন্দী অবস্থাতেই এই বিষ্ণোই বিশ্বজুড়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে বলে মার্কিন ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।
শীতের আগে নিউইয়র্কের প্রবীণ বাড়ির মালিকদের হিটার মেরামতে ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা
অনুমতি ছাড়া রোগীর পায়ের পাতা কাটেন নার্স, মামলায় পরও হয়নি কারাদণ্ড
আমেরিকায় পরিবার নিয়ে থাকতে কত আয় দরকার, জানুন নিউইয়র্ক সহ পাঁচ শহরের হিসাব
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণকারী এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জন্য নতুন সুখবর দিয়েছে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআইয়ের অর্থপ্রদান ৩.৬ শতাংশ বাড়ানো হবে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এ পরিবর্তনের আওতায় প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকানের ভাতায় প্রভাব পড়বে। অবসরভাতা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অর্থপ্রদান গড়ে প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে এই বৃদ্ধি সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সুবিধাভোগীর বর্ধিত ভাতা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই গ্রহণকারী প্রায় ৭৩ লাখ মানুষের বর্ধিত অর্থপ্রদান শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে। কিছু মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পেয়ে থাকেন। তাই দুই কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা যোগ করে মোট ব্যক্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে না। এই বৃদ্ধি নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট—সংক্ষেপে কোলা। এর হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচকের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপর নির্ভর করে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বার্ষিক বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ২.৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের জন্য ঘোষিত ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি সেই তুলনায় বেশি। তবে ভাতা বাড়লেই যে প্রত্যেকের হাতে একই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পৌঁছাবে, তা নয়। ব্যক্তির বর্তমান ভাতার পরিমাণ, অন্যান্য আয়, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য কর্তনের ওপর প্রকৃত অর্থপ্রদান নির্ভর করবে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য চিকিৎসা ও আবাসন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়লেও মেডিকেয়ার প্রিমিয়াম বা অন্য কোনো কর্তন বাড়লে কারও হাতে পাওয়া নিট অর্থের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে। তাই সুবিধাভোগীদের শুধু ঘোষিত বৃদ্ধির হার নয়, নিজেদের প্রকৃত মাসিক অর্থপ্রদানের পরিমাণও যাচাই করা প্রয়োজন। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্টে সুবিধাভোগীরা ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের নতুন ভাতার নোটিশ দেখতে পারবেন। যাঁরা কাগজের নোটিশের পরিবর্তে অনলাইনে নোটিশ পেতে চান, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজবিহীন নোটিশের সুবিধা চালু করতে হবে। যাঁরা অনলাইন নোটিশের জন্য নিবন্ধিত নন, তাঁরা ডিসেম্বরে ডাকযোগে নোটিশ পাবেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের সীমাও ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ ডলার হবে। এটি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর হওয়া আরেকটি বার্ষিক পরিবর্তন।
ব্রুকলিনে পথ হারিয়ে ৪ ঘণ্টা বাসে আটকে ৬ অটিস্টিক শিশু, চরম অবহেলার অভিযোগ
১৯ অক্টোবর থেকে ২২ ফুড প্যান্ট্রিতে কুকুর-বিড়ালের বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ঘোষণা মামদানির
জর্ডানে নি হত মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন মা, সেনাবাহিনীর আচরণে হতাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন এক গ্রাহক। টিকটকে অ্যালেক্স মেনেনডেজ নামের ওই ব্যক্তি তাঁর ‘এইচপিএস হোমস্টেড’–এর ৩৯৬ দশমিক ৭২ ডলারের বিদ্যুৎ বিলের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিল আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও এটি এখনো অনেক বেশি; কর্তৃপক্ষকে সেবার মান আরও যৌক্তিক করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্লোরিডার আরও অনেক বাসিন্দা নিজেদের অস্বাভাবিক বিলের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য গ্রাহকেরাও এইচপিএস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মনগড়া বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। মন্তব্যের ঘরে একজন জানান, তাঁর বিল এসেছে ৫০০ ডলারের বেশি, যা হোমস্টেড এলাকায় কোনো দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি মনে করেন। অন্য একজন জানান, তাঁর ছোট দুই কক্ষের বাসার বিল ২৫০ ডলার এবং এক ডুপ্লেক্স বাড়ির বাসিন্দা তাঁর ৪৩০ ডলার বিল আসার কথা উল্লেখ করেন। অ্যালেক্সের শেয়ার করা বিলের কাগজে দেখা যায়, ২২৬ দশমিক ০৪ ডলারই এনার্জি চার্জ। এর বাইরে স্যানিটেশন বিল প্রায় ১০০ ডলার এবং বাকি অংশ পানি ও করের জন্য ধার্য করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পরিষেবাগুলোর জন্য প্রায় ৪০০ ডলারের বিল যেকোনো সাধারণ পরিবারের জন্যই একটি বিশাল আর্থিক বোঝা। গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ব্যবহার না বাড়লেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের বিল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এক গ্রাহক জানান, গত চার বছর ধরে তিনি ১৯০ থেকে ২২০ ডলার বিল দিয়ে আসলেও, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গত ছয় মাস ধরে তাঁকে ৩২০ থেকে ৩৫০ ডলার গুনতে হচ্ছে। পরিস্থিতির কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় অনেকেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা ক্লাস-অ্যাকশন মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই উচ্চ বিলের হাত থেকে বাঁচতে ফ্লোরিডার অনেক বাসিন্দা বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন। উদাহরণস্বরূপ, ৭০০ ডলার বিল আসা এক বাড়ির মালিক সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহারের পর তাঁর বিল শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছেন। আরেকজন ৮০০ ডলারের বিলের বদলে সোলার ব্যবহার করে উল্টো ৩০০ ডলার ক্রেডিট পেয়েছেন, যা নবায়নযোগ্য শক্তির দারুণ সম্ভাবনাকেই প্রমাণ করে।
২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে