ফ্লোরিডার টাম্পায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, কারা পাবেন এই সুবিধা?
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ। নগর কর্তৃপক্ষের দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা এই সহায়তা পেতে পারেন। কর্মসূচি দুটি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে।
টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচিতে যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে আরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। দুই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যতা অর্জন করলে মোট সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৬ সালের জুনে নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি দুটি কর্মসূচির অর্থ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন।
তবে দুটি কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে হলে আবেদনকারীকে উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
সিআরএ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এলাকার ভেতরে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কোনো ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের মধ্যে বাড়ি হলেই সহায়তা পাওয়া যাবে, এমন নয়। বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট সিআরএ এলাকার সীমানার মধ্যে পড়ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ কর্মসূচিতেও পরিবারের আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত প্রযোজ্য।
পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণও পরিবর্তিত হয়। নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৫০ দশমিক ০১ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে আয় হলে যোগ্য ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পেতে পারেন। আয় ৮০ দশমিক ০১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে হলে সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং ১২০ দশমিক ০১ থেকে ১৪০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে আয়সীমার পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।
এই সহায়তাকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কর্মসূচিগুলোর আওতায় সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাড়িটি নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে রেখে বসবাস করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন বা বসবাসসংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্টের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখলেও শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে সহায়তার অর্থ ও কর্মসূচির তহবিলের প্রাপ্যতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অথবা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ। নগর কর্তৃপক্ষের দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা এই সহায়তা পেতে পারেন। কর্মসূচি দুটি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে। টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচিতে যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে আরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। দুই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যতা অর্জন করলে মোট সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৬ সালের জুনে নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি দুটি কর্মসূচির অর্থ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন। তবে দুটি কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে হলে আবেদনকারীকে উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। সিআরএ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এলাকার ভেতরে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কোনো ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের মধ্যে বাড়ি হলেই সহায়তা পাওয়া যাবে, এমন নয়। বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট সিআরএ এলাকার সীমানার মধ্যে পড়ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ কর্মসূচিতেও পরিবারের আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত প্রযোজ্য। পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণও পরিবর্তিত হয়। নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৫০ দশমিক ০১ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে আয় হলে যোগ্য ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পেতে পারেন। আয় ৮০ দশমিক ০১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে হলে সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং ১২০ দশমিক ০১ থেকে ১৪০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে আয়সীমার পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। এই সহায়তাকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কর্মসূচিগুলোর আওতায় সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাড়িটি নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে রেখে বসবাস করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন বা বসবাসসংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্টের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখলেও শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে সহায়তার অর্থ ও কর্মসূচির তহবিলের প্রাপ্যতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অথবা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
রাস্তার পাশে স্যুটকেসে মিলল দুই নারীর মরদেহ, ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়েন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পেয়েছেন? এরপর কী করবেন, জেনে নিন
শীতের ছুটিতে ভ্রমণের পথে বাধা মূল্যস্ফীতি, দুশ্চিন্তায় ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার এই সময়ে ওষুধের খরচ, মাসিক প্রিমিয়াম এবং নিজস্ব পকেট থেকে দেওয়া অর্থের সীমায় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচির আওতায় ওষুধ কেনা ব্যক্তিদের কারও কারও ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সব গ্রাহকের খরচ বাড়বে না। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়ামে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তাই নিবন্ধনের সময় নিজের ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনার খরচ তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে গ্রাহকেরা প্রচলিত মেডিকেয়ার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের বিমা পরিকল্পনার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এ সময়ে নির্বাচিত নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমান পরিকল্পনায় থাকা ব্যক্তিদেরও পরবর্তী বছরের প্রিমিয়াম, ওষুধের আওতা এবং অন্যান্য খরচ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচিতে ওষুধের জন্য নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ২০২৬ সালের ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ২ হাজার ৪০০ ডলার হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির সাধারণ বাৎসরিক কর্তনযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলার হবে। কর্তনযোগ্য অর্থ হলো সেই পরিমাণ, যা বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহককে নিজের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়। ফলে যাঁদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের জন্য পরিকল্পনার শর্তগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি। ২০২৭ সালে কিছু জনপ্রিয় ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় মাসিক প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এএআরপি ব্র্যান্ডের ইউনাইটেডের পার্ট ডি পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকেরা পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই মাসে অন্তত ৫০ ডলার অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মুখে পড়তে পারেন। এর মধ্যে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক বৃদ্ধি ৭৫ ডলারের বেশি হতে পারে এবং চারটি অঙ্গরাজ্যে তা ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এএআরপি মেডিকেয়ার আরএক্স সেভার পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ ডলার বাড়তে পারে। দুটি পরিকল্পনা মিলিয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তবে কেএফএফ জানিয়েছে, পার্ট ডির অধিকাংশ গ্রাহক প্রিমিয়ামের পরিবর্তনে একই মাত্রায় প্রভাবিত হবেন না এবং অনেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নাও ঘটতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও অনেক গ্রাহক নিবন্ধনের সময় অন্য পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করেন না বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন না। এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা ন্যান্সি লিমন্ড বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় বয়স্ক মার্কিনিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, খরচ ও বিমার আওতা প্রতিবছর বদলানোর কারণে বিকল্পগুলো যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নেওয়া আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন দামে ১৫টি ওষুধ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওজেম্পিক, রাইবেলসাস ও ওয়েগোভির পাশাপাশি ট্রেলেজি এলিপ্টা, এক্সটান্ডি, পোমালিস্ট, আইব্র্যান্স, ওফেভ, লিনজেস, ক্যালকুয়েন্স, অস্টেডো, ব্রিও এলিপ্টা, ট্রাডজেন্টা, জিফ্যাক্সান, ভ্রেলার, জানুমেট ও ওটেজলার মতো ওষুধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যব্যবস্থার ফলে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমতে পারে। প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচে পরিবর্তন আসায় নিবন্ধনের সময় শুধু মাসিক কিস্তি দেখে পরিকল্পনা বেছে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা। কোন ওষুধ বিমার আওতায় রয়েছে, ওষুধের জন্য কত টাকা দিতে হবে, বার্ষিক ব্যয়ের সীমা কত এবং চিকিৎসক বা ফার্মেসি পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা গেলে নতুন সুবিধা বা খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব। নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কেএফএফ ও ফক্সের স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন।
ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল কি আদৌ সম্ভব? যা বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা
যুক্তরাষ্ট্রে হোটেলে কম খরচে থাকার ৫ কৌশল, জানুন বুকিংয়ের স্মার্ট ট্রিকস
পুলিশের ব্যারাকে নারীকে ধ র্ষ ণের অভিযোগ, বোস্টনের স্কুল নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রে প্তা র
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন শরৎ ও শীত মৌসুমে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার ঝুঁকির মানচিত্র বদলে যেতে পারে। এতে দেশটির কিছু অঞ্চলে বাড়তে পারে ভারী বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ের আশঙ্কা। অন্যদিকে কিছু এলাকায় আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি কমতেও পারে। এর প্রভাব বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, বীমা সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে বীমার খরচের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত চক্র। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, চলতি শরৎ ও শীতে এল নিনো ‘খুব শক্তিশালী’ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, সম্ভাব্য এই শক্তিশালী পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘গডজিলা’ এল নিনো বলছেন। এনওএএর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রধান আবহাওয়াবিদ স্কট হ্যান্ডেলের মতে, প্রতিটি এল নিনোর বৈশিষ্ট্য এক রকম হয় না। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর রকি পর্বতমালা ও উত্তর ক্যাসকেডস অঞ্চলে তুষার জমার পরিমাণ কম হতে পারে। পূর্ব উপকূলে উপকূলীয় ঝড়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এল নিনোর একটি পরিচিত প্রভাব হলো আটলান্টিক মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ দুর্বল করে দেওয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে সেই সম্ভাব্য সুবিধা ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিকে পুরোপুরি পুষিয়ে দেবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন মৌসুমে পশ্চিম উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হতে পারে বন্যা। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অংশে ঝোড়ো হাওয়ার পর্বও দেখা দিতে পারে। এসব ঘটনায় বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পানি ঢুকে পড়া, গাছপালা বা অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সম্পত্তির ক্ষতি এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মানেই এসব ঘটনা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, এমন নয়। বাড়ির মালিকদের জন্য উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো বন্যা বীমার সীমাবদ্ধতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তিগুলোর বড় একটি অংশেরই বন্যা বীমা নেই। সাধারণ বাড়ির বীমা পলিসিতে সাধারণত বন্যার কারণে সরাসরি হওয়া ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে বন্যার পানি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিংবা ভবনের ক্ষতি করলে অনেক বাড়ির মালিককে নিজের পকেট থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোটালিটির প্রধান বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড বটসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বেশির ভাগই সাধারণ বাড়ির বীমায় কাভার হয় না। এ ধরনের ক্ষতির জন্য আলাদা বন্যা বীমা বা নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত বীমা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঝড়ের বাতাসে ছাদের ক্ষতি কিংবা শীতকালীন ঝড়ে ছাদ চুইয়ে পানি ঢোকার মতো কিছু ক্ষতি সাধারণ বাড়ির বীমার আওতায় আসতে পারে। এদিকে, বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (ফেমা) মানচিত্রে কোনো এলাকা উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত না থাকলেও সেখানে বন্যা হতে পারে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্যা বীমা দাবি এসেছে এমন স্থাপনা থেকে, যেগুলো তখনকার মানচিত্রে উচ্চ ঝুঁকির এলাকার বাইরে ছিল। তাই শুধু সরকারি মানচিত্রে নিজের বাড়িকে নিরাপদ দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। ফেমার ম্যাপ সার্ভিস সেন্টারে ঠিকানা দিয়ে নিজের এলাকার বন্যার ঝুঁকি যাচাই করা যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমার পাশাপাশি মাটি অতিরিক্ত ভিজে গেলে ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে ভূমিধসের ক্ষতি কোন বীমায় কাভার হবে, তা পলিসির ধরন ও শর্তের ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন শীতের আগে বন্যা বীমা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তির ৮৬ শতাংশের বন্যা বীমা নেই। অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাড়িই সম্ভাব্য ক্ষতির আর্থিক সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগোর স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশেনোগ্রাফির জলবায়ু অর্থনীতিবিদ টম করিংহ্যামের মতে, ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (এনএফআইপি) বীমায় সাধারণত ৩০ দিনের অপেক্ষার সময় থাকে। ফলে বড় ঝড়ের পূর্বাভাস আসার পর বীমা কিনতে গেলে প্রয়োজনের সময় সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বন্যার মৌসুম বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা বাড়ির মালিকদের আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। এনএফআইপির আওতায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া—দুই পক্ষই বন্যা বীমা নিতে পারেন। বাড়ির মালিকেরা ভবনের জন্য সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্রের জন্য এক লাখ ডলার পর্যন্ত সুরক্ষা পেতে পারেন। ভাড়াটিয়ারা ভবনের কাঠামোর পরিবর্তে নিজেদের আসবাব ও ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ ডলারের বীমা নিতে পারেন। তবে বন্যা বীমা থাকলেই সব ধরনের ক্ষতির অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এনএফআইপির পলিসিতে সাধারণত অস্থায়ী বাসস্থানের খরচ বা বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেলে অন্যত্র থাকার অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তাই বীমা কেনার আগে কোন ধরনের ক্ষতি কাভার হবে এবং কোন খরচ নিজের বহন করতে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। এল নিনোর কারণে বাড়ির বীমার খরচ কি সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। করিংহ্যাম জানিয়েছেন, এল নিনোর পূর্বাভাসের কারণে এনএফআইপি সাধারণত প্রতি শীতে নতুন করে বীমার মূল্য নির্ধারণ করে না। ফেমার ‘রিস্ক রেটিং ২.০’ পদ্ধতিতে বীমার খরচ নির্ধারণে সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি, পুনর্নির্মাণের ব্যয় এবং ভবনের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে এল নিনোর উপস্থিতি আলাদাভাবে কোনো পরিবারের বীমার মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি নয়। তবে বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের মডেল, জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য এবং পুনর্বীমার ব্যয় বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারে। কোনো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার প্রভাব পরবর্তী সময়ে বীমার মূল্য নির্ধারণে পড়তে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে বা একবারে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে পলিসি নবায়নের সময় তা কার্যকর হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমার খরচ বাড়ার পেছনে একটি মৌসুমের আবহাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির প্রবণতা ও পুনর্বীমার বাজারের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। এনএফআইপিতে বার্ষিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারণত ১৮ শতাংশের সীমা থাকায় বন্যাজনিত ব্যয় বাড়লেও তা ধাপে ধাপে প্রতিফলিত হতে পারে। সব মিলিয়ে, শক্তিশালী এল নিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তুলনামূলক কমতে পারে, আবার কোথাও বন্যা, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের এলাকার ঝুঁকি যাচাই করা, বীমার শর্ত ভালোভাবে বোঝা এবং প্রয়োজন হলে আগেভাগে বন্যা বীমার ব্যবস্থা করা। কারণ, বীমার প্রিমিয়াম সঙ্গে সঙ্গে না বাড়লেও একটি বড় আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বাড়ির মালিকদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আমেরিকার শীর্ষ ধনীদের দলে থাকতে সম্পদ কত লাগবে, সামনে এলো নতুন হিসাব
আলাস্কায় তুষারধসে মালিকের কাছ থেকে হারিয়ে যায় লুলু, ৫০ ঘণ্টা পর মিলল জীবিত