বাফেলোতে রিয়েল এস্টেটে আস্থার নাম নাজমুল হোসেন: ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা
নিউইয়র্কের বাফেলো অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী নাজমুল হোসেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিক সাফল্য এবং সংগঠিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করেছেন তিনি ও তাঁর টিম।
নিউইয়র্কের বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন নাজমুল হোসেন। HUNT Real Estate ERA-এর সঙ্গে যুক্ত এই রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে Nazmul Real Estate Team। বাড়ি কেনা, বিক্রি ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই ক্রেতা, বিক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের পেশাদার সেবা দিয়ে আসছে দলটি।
৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা: পেশাগত যাত্রায় নাজমুল হোসেন ও তাঁর টিম ইতোমধ্যে ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করেছেন। বাফেলোর পাশাপাশি Amherst, Cheektowaga, Williamsville, Depew, Lancaster, West Seneca, Tonawanda, Niagara Fallsসহ পশ্চিম নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে তাঁদের কার্যক্রম।
বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কেনা পরিবার ও অভিবাসী কমিউনিটির কাছে রিয়েল এস্টেটের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সময় জটিল মনে হয়। Mortgage ও financing থেকে শুরু করে down payment, home inspection, negotiation, appraisal এবং closing—প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে। এসব বিষয়ে ক্লায়েন্টদের প্রক্রিয়াটি বুঝতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাকে নিজের পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন নাজমুল।
কমিউনিটির আস্থা ও টিমওয়ার্কই মূল শক্তি: নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা টিমটিতে একাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী কাজ করছেন। প্রত্যেক সদস্যের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আরও কার্যকর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বাফেলো অঞ্চলে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য একটি শক্তিশালী দলভিত্তিক কর্মপরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।
নাজমুলের মতে, রিয়েল এস্টেট কেবল একটি বাড়ি কেনা বা বিক্রির লেনদেন নয়, এটি একটি পরিবারের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই প্রতিটি লেনদেনে অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছতা, সততা এবং ক্লায়েন্টের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর টিমের কাজের মূলনীতি।
প্রবাসে নিজের পেশাগত অবস্থান তৈরির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী টিম গড়ে তোলা এবং ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করার অভিজ্ঞতা নাজমুল হোসেনের রিয়েল এস্টেট যাত্রাকে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহ্যালোউইন উৎসবের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় এক অদ্ভুত ট্রাফিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ অক্টোবর মাউন্ট প্লেসেন্টের রেভেনেল ব্রিজ থেকে নামার সময় কোলম্যান বুলেভার্ডে একটি ১৮ চাকার ট্রাক রাস্তার পাশের গাছের নিচু ডালে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ট্রাকের ভেতর বোঝাই করা বিপুল সংখ্যক কুমড়ো মহাসড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। মাউন্ট প্লেসেন্ট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রাস্তায় কুমড়ো ছড়িয়ে পড়ার কারণে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হ্যালোউইনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ এই কুমড়ো মহাসড়কে এভাবে ছড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি স্থানীয়দের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন করে নিউইয়র্কে আরও ৭ এলাকায় সিটিবাইক, সাইকেল পরিষেবা বাড়াচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ
নিউইয়র্কে শত শত সাশ্রয়ী বাসার নতুন সুযোগ, ব্রুকলিনে খুলছে ৩৮৬টি অ্যাপার্টমেন্ট
ইলহান ওমরের পাশে ওবামা, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বললেন ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা শহরে শিশুদের ফুটবল খেলা চলাকালে মাঠে পিকআপ ট্রাক ঢুকে পড়ে এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন, যাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের স্ট্রাইকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৬ বছর বয়সী এক শিশু এবং ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পিকআপ ট্রাকটির চালক ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাকটি কীভাবে মাঠে ঢুকে পড়েছিল এবং ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে উইচিটা পুলিশ বিভাগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে সেডজউইক কাউন্টির জরুরি যোগাযোগ কেন্দ্রে একাধিক ফোন আসে। ফোনকারীরা জানান, একটি গাড়ি শিশুদের ফুটবল খেলার মাঠের ওপর দিয়ে চলে গেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতদের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়। নিহত দুজনের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা কানসাসের ম্যাকফারসন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের একজন ৬ বছর বয়সী ছেলে এবং অন্যজন ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ। তাঁরা পরস্পরের আত্মীয় ছিলেন না। আহত ১১ জনের বয়স ৫ থেকে ৬৮ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের বিভিন্ন মাত্রার শারীরিক আঘাত ছিল, যার মধ্যে গুরুতর আঘাতও রয়েছে। অন্য একজনকে আঘাতজনিত নয়, এমন একটি শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পিকআপ ট্রাকটির চালক গার্ডেন সিটির বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। ঘটনার সময় ট্রাকটিতে আরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিল। চালকের একটি সন্তানও ওই স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফুটবল খেলছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, তবে শিশুটি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মাঠে খেলছিল না। ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং পরে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত তথ্য জানানো হয়নি। উইচিটা পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা দুর্ঘটনাটি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। ট্রাকটি অসাবধানতাবশত মাঠে ঢুকে পড়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। ঘটনার ভিডিও বা ছবি যাঁদের কাছে রয়েছে, তাঁদের সেগুলো তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেনি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর স্ট্রাইকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমপ্লেক্সের পাশের মাঠে চলা মেয়েদের পতাকা ফুটবল প্রতিযোগিতার খেলাও স্থগিত করা হয়। কানসাস স্টেট হাই স্কুল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। জরুরি উদ্ধারকাজ ও তদন্ত নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। উইচিটার মেয়র লিলি উ ঘটনাটিকে শহরের জন্য হৃদয়বিদারক দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারগুলো শনিবার বিকেলে সন্তানদের ফুটবল খেলা দেখতে এসেছিল। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া পুলিশ, চিকিৎসাকর্মী ও অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। শিশুদের খেলাধুলার মাঠে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা স্থানীয় পরিবার ও ক্রীড়া আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মাঠের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।
বাফেলোতে রিয়েল এস্টেটে আস্থার নাম নাজমুল হোসেন: ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা
বছরে ৫ লাখ ডলারের বেশি আয় করেও আর্থিক চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবার
আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া চিকিৎসা করালে কত খরচ? জেনে নিন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে ২০২২ সালে বিনা প্ররোচনায় এক উন্মত্ত হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (FDNY) ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিসের (EMS) ক্যাপ্টেন অ্যালিসন রুসো। ৬১ বছর বয়সী এই অকুতোভয় ক্যাপ্টেন ছিলেন ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় প্রথম সাড়াদানকারীদের (ফার্স্ট রেসপন্ডার) একজন। প্রিয় এই সহকর্মীর প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাকে চিরকাল মনে রাখার উদ্দেশ্যে গত শনিবার বিকেলে একটি বিশেষ ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ২০ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ফায়ার স্টেশন ৪৯-এর ঠিক উল্টোদিকে ম্যুরালটি উন্মোচন করা হয়। আবেগঘন এই অনুষ্ঠানে নিহত রুসোর শোকাহত পরিবারের সদস্যসহ ফায়ার সার্ভিস এবং ইএমএসের ৪০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেনি গুয়েরা এবং ফার্নান্দো গার্সিয়া নামের দুই শিল্পীর নিপুণ তুলিতে ফুটে ওঠা রুসোর এলইডি-আলোকিত ম্যুরালটি উন্মোচনের সময় উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে সম্মান জানান। ম্যুরালের নিচে ব্যানারে লেখা রয়েছে, "নেভার ফরগটেন, ফরেভার আ হিরো" অর্থাৎ 'কখনোই বিস্মৃত হবেন না, চিরকাল একজন বীর'। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের খাবারের বিরতির সময় পিটার জিসোপোলোস নামের এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান রুসো। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ওই হামলাকারীকে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ম্যুরাল উন্মোচন শেষে রুসোর ভাই ক্রেগ ফুওকো সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের এমন সমর্থন সত্যি অসাধারণ। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও তার বোনকে কেউ কখনো ভুলবে না। ম্যুরালটি যে ভবনে আঁকা হয়েছে, তার মালিক উইলিয়াম জ্যাকারির মন্তব্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, ঠিক এই ভবনের সামনেই রুসোকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ঘাতক জিসোপোলোস এই ভবনেরই ওপরতলায় থাকত। ওই বিভীষিকাময় স্মৃতিকে শ্রদ্ধার প্রতীকে রূপ দিতেই স্থানটিকে একটি স্মৃতিসৌধ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। জ্যাকারির ভাষায়, ম্যুরালটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে এর মুখ ফায়ার স্টেশনের দিকে থাকে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ইএমএস কর্মীরা যখন স্টেশনে ঢুকবেন বা বের হবেন, তখন তারা দেখতে পাবেন রুসো তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছেন।
নিউইয়র্কের স্কুলশিক্ষিকার মেসিকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে তোলপাড়
জেসমিনকে আইসিই নিয়ে গেছে বলে দাবি স্বামীর, অবশেষে হত্যা মামলায় তাকেই আটক করল পুলিশ