টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের গেটে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করল যুক্তরাষ্ট্র, ১৩ বিমানবন্দরে এখনো চালু
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিকিট বা বোর্ডিং পাস ছাড়াই নিরাপত্তা পরীক্ষা পার হয়ে গেট পর্যন্ত যাওয়ার বিশেষ সুযোগ সীমিত করেছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। ‘গেটসাইড বাই টিএসএ প্রিচেক’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত ব্যক্তিরা বিমানে ভ্রমণ না করেও পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানাতে কিংবা বিমান থেকে নামা স্বজনদের স্বাগত জানাতে পারেন। দেশজুড়ে প্রায় ৩০০টি বিমানবন্দরে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন তা আবার প্রাথমিক ১৩টি বিমানবন্দরে সীমিত করা হয়েছে।
ফক্স বিজনেস ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩টি বিমানবন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচি অক্টোবরের শুরুতে আরও অনেক বিমানবন্দরে সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে টিএসএ। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কর্মসূচির আওতা আবার ১৩টি বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়। কেন এই সম্প্রসারণ স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।
কোন ১৩টি বিমানবন্দরে এখনো চালু রয়েছে সুবিধাটি?
বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় রয়েছে অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে বিমানবন্দর, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন ওয়েইন কাউন্টি বিমানবন্দর, কানসাসের উইচিটা ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতীয় বিমানবন্দর, ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নেভাডার লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরকানসাসের বিল অ্যান্ড হিলারি ক্লিনটন জাতীয় বিমানবন্দর, ওকলাহোমার উইল রজার্স ওয়ার্ল্ড বিমানবন্দর, নেব্রাস্কার ওমাহার এপলি এয়ারফিল্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইউটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
কী এই গেটসাইড কর্মসূচি?
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার পর গেট এলাকায় প্রবেশ করতে বৈধ বোর্ডিং পাস প্রয়োজন হয়। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য বা বন্ধু বিমানে যাত্রা করলে তাঁকে সাধারণত নিরাপত্তা পরীক্ষার আগেই বিদায় জানাতে হয়। একইভাবে, বিমান থেকে নামার পর স্বজনকে স্বাগত জানাতে আসা ব্যক্তিরাও সাধারণত গেটের কাছে যেতে পারেন না।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়। এর ফলে বিমানে ভ্রমণ করছেন না, এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পরের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিদের আবার সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
টিএসএ প্রিচেকের অনুমোদিত সদস্যরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্য কিছু অনুমোদিত ভ্রমণকারী কর্মসূচির সদস্যদের কাছেও পরিচিত ভ্রমণকারী নম্বর থাকলে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আবেদন করতে হয় অনলাইনে, সাধারণত বিমানবন্দরে যাওয়ার এক থেকে তিন দিন আগে। অনুমোদন পাওয়ার পর গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেট এলাকায় প্রবেশ করা যায়।
এই সুবিধার জন্য আলাদা কোনো ফি নেওয়া হয় না। তবে আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে কর্মসূচিটি চালু থাকতে হবে এবং টিএসএর অনুমোদন পেতে হবে। শুধু প্রিচেক সদস্যপদ থাকলেই টিকিট ছাড়া গেট এলাকায় প্রবেশের অধিকার তৈরি হয় না।
আটলান্টার যাত্রীদের জন্য কী অর্থ দাঁড়াচ্ছে?
জর্জিয়ার আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে এই ১৩টি বিমানবন্দরের তালিকায় নেই। ফলে আটলান্টার বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় টিকিট ছাড়া গেট পর্যন্ত যেতে পারবেন বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পরিবারের সদস্যকে বিদায় জানানো কিংবা বিমান থেকে নামা স্বজনকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
তবে টিএসএর এই কর্মসূচি সীমিত করার অর্থ এই নয় যে বিমানবন্দরের অন্য সব ধরনের গেট পাস বা বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বিমান সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজস্ব নিয়মে গেট পাস দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে শর্ত জেনে নিতে হবে।
কবে আবার সম্প্রসারণ করা হবে?
কর্মসূচিটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে, এমন ঘোষণা আসেনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিএসএ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাত্রা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে। তবে কবে আবার আরও বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
আপাতত যাত্রীদের স্বজনদের বিমানবন্দরের গেট পর্যন্ত যাওয়ার এই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে সীমিত রয়েছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের তালিকা ও প্রবেশের নিয়ম যাচাই করে নেওয়া উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মান্ডেলিনে একটি বাড়িতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়ি থেকে তদন্তকারীদের অন্তত তিনটি মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এবিসি সেভেন শিকাগো। তবে মৃত্যুর কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। শিকাগোর উত্তরের এই উপশহরের বাড়িটিতে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত দৃশ্যে বাড়ির চারপাশে হলুদ টেপ দিয়ে এলাকা ঘিরে রাখতে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে। মান্ডেলিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই। পুলিশের বক্তব্যের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্তে মান্ডেলিন পুলিশকে সহায়তা করছে লেক কাউন্টি শেরিফস অফিস। আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজে লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইমস টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। কী পরিস্থিতিতে এসব মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তখনো বিস্তারিত জানায়নি। ফলে ঘটনাটিকে হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার
নিউইয়র্কের সিটি অ্যান্ড স্টেটের ২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় বাংলাদেশি জেমি কাজী
নিউইয়র্কে মঙ্গলবার নিয়োগ মেলা, সরাসরি কথা বলা যাবে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিকিট বা বোর্ডিং পাস ছাড়াই নিরাপত্তা পরীক্ষা পার হয়ে গেট পর্যন্ত যাওয়ার বিশেষ সুযোগ সীমিত করেছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। ‘গেটসাইড বাই টিএসএ প্রিচেক’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত ব্যক্তিরা বিমানে ভ্রমণ না করেও পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানাতে কিংবা বিমান থেকে নামা স্বজনদের স্বাগত জানাতে পারেন। দেশজুড়ে প্রায় ৩০০টি বিমানবন্দরে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন তা আবার প্রাথমিক ১৩টি বিমানবন্দরে সীমিত করা হয়েছে। ফক্স বিজনেস ও অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩টি বিমানবন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচি অক্টোবরের শুরুতে আরও অনেক বিমানবন্দরে সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে টিএসএ। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কর্মসূচির আওতা আবার ১৩টি বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়। কেন এই সম্প্রসারণ স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। কোন ১৩টি বিমানবন্দরে এখনো চালু রয়েছে সুবিধাটি? বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় রয়েছে অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে বিমানবন্দর, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন ওয়েইন কাউন্টি বিমানবন্দর, কানসাসের উইচিটা ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতীয় বিমানবন্দর, ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নেভাডার লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরকানসাসের বিল অ্যান্ড হিলারি ক্লিনটন জাতীয় বিমানবন্দর, ওকলাহোমার উইল রজার্স ওয়ার্ল্ড বিমানবন্দর, নেব্রাস্কার ওমাহার এপলি এয়ারফিল্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইউটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কী এই গেটসাইড কর্মসূচি? সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার পর গেট এলাকায় প্রবেশ করতে বৈধ বোর্ডিং পাস প্রয়োজন হয়। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য বা বন্ধু বিমানে যাত্রা করলে তাঁকে সাধারণত নিরাপত্তা পরীক্ষার আগেই বিদায় জানাতে হয়। একইভাবে, বিমান থেকে নামার পর স্বজনকে স্বাগত জানাতে আসা ব্যক্তিরাও সাধারণত গেটের কাছে যেতে পারেন না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়। এর ফলে বিমানে ভ্রমণ করছেন না, এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পরের এলাকায় প্রবেশের সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিদের আবার সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কারা এই সুবিধা পাবেন? টিএসএ প্রিচেকের অনুমোদিত সদস্যরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্য কিছু অনুমোদিত ভ্রমণকারী কর্মসূচির সদস্যদের কাছেও পরিচিত ভ্রমণকারী নম্বর থাকলে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। আবেদন করতে হয় অনলাইনে, সাধারণত বিমানবন্দরে যাওয়ার এক থেকে তিন দিন আগে। অনুমোদন পাওয়ার পর গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেট এলাকায় প্রবেশ করা যায়। এই সুবিধার জন্য আলাদা কোনো ফি নেওয়া হয় না। তবে আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে কর্মসূচিটি চালু থাকতে হবে এবং টিএসএর অনুমোদন পেতে হবে। শুধু প্রিচেক সদস্যপদ থাকলেই টিকিট ছাড়া গেট এলাকায় প্রবেশের অধিকার তৈরি হয় না। আটলান্টার যাত্রীদের জন্য কী অর্থ দাঁড়াচ্ছে? জর্জিয়ার আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে এই ১৩টি বিমানবন্দরের তালিকায় নেই। ফলে আটলান্টার বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় টিকিট ছাড়া গেট পর্যন্ত যেতে পারবেন বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পরিবারের সদস্যকে বিদায় জানানো কিংবা বিমান থেকে নামা স্বজনকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। তবে টিএসএর এই কর্মসূচি সীমিত করার অর্থ এই নয় যে বিমানবন্দরের অন্য সব ধরনের গেট পাস বা বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বিমান সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজস্ব নিয়মে গেট পাস দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে শর্ত জেনে নিতে হবে। কবে আবার সম্প্রসারণ করা হবে? কর্মসূচিটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে, এমন ঘোষণা আসেনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিএসএ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাত্রা এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করছে। তবে কবে আবার আরও বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। আপাতত যাত্রীদের স্বজনদের বিমানবন্দরের গেট পর্যন্ত যাওয়ার এই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে সীমিত রয়েছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের তালিকা ও প্রবেশের নিয়ম যাচাই করে নেওয়া উচিত।
নাগরিক নন, এমন অবৈধ ভোটারের সন্দেহে হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস
আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি পেতে ১০ বছর কাজই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কিছু বিশেষ যোগ্যতা, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাস্কের
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে অক্টোবর মাসের নিয়মিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অর্থ পেতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার, ২১ অক্টোবর, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মমাসের তারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে ২৮ অক্টোবরও। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী কিছু অবসরপ্রাপ্তের মাসিক সুবিধার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সবাই এই পরিমাণ পাবেন না; কর্মজীবনের আয়, অবসর নেওয়ার বয়স এবং কখন থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন, তার ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) সাধারণত সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বুধবারে অর্থ পাঠায়। এই নিয়ম মূলত তাদের জন্য, যারা ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের পর সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং একই সঙ্গে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পান না। চলতি মাসের সময়সূচি অনুযায়ী, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ ১৪ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্মদিন ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা ২১ অক্টোবর অর্থ পাবেন। আর যাদের জন্মদিন ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ পাঠানোর নির্ধারিত দিন ২৮ অক্টোবর। তবে সব সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউটির অর্থ পাচ্ছেন, তাদের সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাদের সাধারণত এসএসআইয়ের অর্থ মাসের ১ তারিখে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ তারিখে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে অর্থ না পৌঁছালে এসএসএ যোগাযোগ করার আগে আরও তিনটি ডাক-যোগাযোগের দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। মাসে সর্বোচ্চ কত ডলার পাওয়া যেতে পারে সোশ্যাল সিকিউটির অবসরভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। একজন কর্মী কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কোন বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং কখন থেকে সুবিধা দাবি করেছেন—এসব বিষয় মাসিক অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে, ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় করা কোনো কর্মী ৭০ বছর বয়সে অবসর নিলে মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পেতে পারেন। একই ধরনের আয় থাকলে পূর্ণ অবসরের বয়সে অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪ হাজার ১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে অবসর নিলে সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৬৯ ডলার। অর্থাৎ, আগে অবসর নিয়ে সুবিধা দাবি করলে সাধারণত মাসিক অর্থের পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পর ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়তে পারে। তবে ৭০ বছরের পর অপেক্ষা করলেও এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সুবিধা বাড়ে না। অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য অধিকাংশ কর্মীর ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত প্রায় ১০ বছর কাজ করার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার যোগ্য আয়ের বিপরীতে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। তবে কত ক্রেডিট রয়েছে, তা মূলত সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে কাজে লাগে; মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে কর্মজীবনের আয় ও অবসরের বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে বাড়ছে সুবিধার অর্থ অক্টোবরের ২১ তারিখে যেসব অর্থ পাঠানো হবে, সেগুলো ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (COLA) অনুযায়ী নির্ধারিত। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সমন্বয়ের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিকের সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর বর্ধিত অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে প্রায় ৭৩ লাখ এসএসআই গ্রহীতার বর্ধিত অর্থ দেওয়া শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কেউ কেউ দুই ধরনের সুবিধাই পান বলে এই সংখ্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যেতে পারে। এসএসএর হিসাব অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। তবে প্রত্যেকের প্রকৃত বৃদ্ধি এক হবে না; ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে কত অর্থ পাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নতুন পরিমাণ নির্ভর করবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা যাতে অতিরিক্ত কমে না যায়, তা কিছুটা সুরক্ষিত রাখা। এ বৃদ্ধির হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি পেশাজীবীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউয়ের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করে। নতুন সুবিধার তথ্য কখন জানা যাবে যারা ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তারা নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের ২০২৭ সালের কোলা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে দেখতে পারবেন। যাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট নেই বা যারা কাগজে বিজ্ঞপ্তি পেতে চান, তাদের কাছে ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগে নতুন সুবিধার তথ্য পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২১ অক্টোবরের অর্থপ্রাপ্তির তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মতারিখ ও সুবিধা পাওয়ার শ্রেণির ওপর। আর ৫ হাজার ১৮১ ডলারের সর্বোচ্চ মাসিক অঙ্কটি কেবল নির্দিষ্ট আয় ও অবসরের শর্ত পূরণকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই প্রত্যেকের নিজস্ব সুবিধার পরিমাণ ও পরবর্তী অর্থপ্রাপ্তির তারিখ জানতে ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি হিসাবের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, চাপে রিপাবলিকানরা
বাসা বদলালেই সাত জায়গায় ঠিকানা আপডেট করুন, নয়তো গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হারানোর ঝুঁকি