শিকাগোর উপশহরে বাড়ি থেকে অন্তত ৫ জনের মরদেহ সরিয়েছে পুলিশ, বাড়ছে রহস্য ও উৎকন্ঠা
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মান্ডেলিনে একটি বাড়িতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়ি থেকে তদন্তকারীদের অন্তত তিনটি মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এবিসি সেভেন শিকাগো। তবে মৃত্যুর কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
শিকাগোর উত্তরের এই উপশহরের বাড়িটিতে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত দৃশ্যে বাড়ির চারপাশে হলুদ টেপ দিয়ে এলাকা ঘিরে রাখতে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি অবস্থান করতে দেখা গেছে।
মান্ডেলিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই। পুলিশের বক্তব্যের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তদন্তে মান্ডেলিন পুলিশকে সহায়তা করছে লেক কাউন্টি শেরিফস অফিস। আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজে লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইমস টাস্কফোর্সের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন।
কী পরিস্থিতিতে এসব মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তখনো বিস্তারিত জানায়নি। ফলে ঘটনাটিকে হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআমেরিকায় আগামী ট্যাক্স সিজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশি করদাতাদের প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, তাঁরা কোন ট্যাক্স বছরের রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ সালের আয়ের রিটার্ন জমা দেওয়া হবে। আইআরএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৬ হাজার ১০০ ডলার এবং বিবাহিত দম্পতির যৌথ রিটার্নের ক্ষেত্রে ৩২ হাজার ২০০ ডলার। পুরোনো বছরের অঙ্ক ব্যবহার করলে হিসাব ভুল হতে পারে। আমেরিকায় থাকলেই সামান্য আয় থেকে সবার ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক হয় না। আয়, বয়স, ফাইলিং স্ট্যাটাস, অন্যের ডিপেনডেন্ট কি না এবং করের হিসাবে রেসিডেন্ট বা ননরেসিডেন্ট হওয়ার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালে ৬৫ বছরের কম বয়সী, অন্যের ডিপেনডেন্ট নন এমন সিঙ্গেল করদাতার সাধারণ ফাইলিং সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে কম আয়েও রিটার্ন জমা দিতে হয়। বিশেষ করে স্বনিযুক্ত কাজ বা ছোট ব্যবসা থেকে নিট আয় বছরে ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ফলে সাধারণ আয়ের সীমার নিচে থাকলেও ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার আয় উপেক্ষা করা যাবে না। ননরেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আইটিআইএন নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এটি ফেডারেল ট্যাক্সের কাজে ব্যবহৃত শনাক্তকরণ নম্বর। আইটিআইএন পাওয়া মানে আমেরিকায় কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়, এটি অভিবাসন স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করে না। কারও ট্যাক্স ফাইল করার দায়িত্ব এবং বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দুটি পৃথক বিষয়। বাংলাদেশে আয় থাকলেও তা বিবেচনায় নিতে হবে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ও করের হিসাবে রেসিডেন্টদের সাধারণভাবে বিশ্বব্যাপী আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ব্যাংকের সুদ বা বাড়িভাড়া থেকে আয় থাকলে সেটি প্রযোজ্য নিয়মে রিপোর্ট করতে হতে পারে। বিদেশি আয় রিপোর্ট করা এবং বিদেশি অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দেওয়া পৃথক দায়িত্ব। বিদেশি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ফিনসেনের এফবিএআর নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের কোনো সময়ে ১০ হাজার ডলার ছাড়ালে এফবিএআর জমা দিতে হয়। সীমাটি শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য নয়। একাধিক রিপোর্টযোগ্য অ্যাকাউন্টের মোট মূল্য বিবেচনায় নিতে হয়। এটি ফিনসেন ফর্ম ১১৪ দিয়ে আলাদাভাবে জমা দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশে নিজের নামে সরাসরি জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেই সম্পত্তি এফবিএআর কিংবা ফর্ম ৮৯৩৮ এ দেখাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্ট এক বিষয় নয়। সম্পত্তি কোনো বিদেশি কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাখা হলে সেই প্রতিষ্ঠানে মালিকানার অংশের জন্য আলাদা রিপোর্টিংয়ের প্রশ্ন আসতে পারে। ফ্যাটকার আওতায় ফর্ম ৮৯৩৮ এর শর্তও এফবিএআর থেকে আলাদা। নির্দিষ্ট বিদেশি আর্থিক সম্পদের মূল্য, ফাইলিং স্ট্যাটাস ও করদাতা কোথায় বসবাস করেন, তার ওপর এই ফর্ম জমা দেওয়ার সীমা নির্ভর করে। একটি ফর্ম জমা দিলেই অন্যটির দায়িত্ব শেষ হয় না। আবার তথ্য রিপোর্ট করার প্রয়োজন মানেই একই অঙ্কের ওপর নতুন করে ট্যাক্স ধার্য হওয়া নয়। সন্তানসংক্রান্ত ট্যাক্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রেও সঠিক বছরের নিয়ম দেখা জরুরি। আইআরএসের হিসাবে ২০২৫ সালে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ সালের জন্যও সর্বোচ্চ অঙ্ক ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিট মানেই সবাই সমপরিমাণ নগদ রিফান্ড পাবেন না। আয়, শিশুর যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত পূরণ করতে হবে। আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের অঙ্কও সবার জন্য এক নয়। ২০২৬ সালে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্রেডিট ৮ হাজার ২৩১ ডলার। ২০২৫ সালে এই সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, যোগ্য সন্তানের সংখ্যা ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্যতা নির্ধারিত হয়। রিটার্ন তৈরির আগে প্রযোজ্য আয়ের কাগজপত্র এবং ক্রেডিট বা ডিডাকশনের প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মার্কেটপ্লেস থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া থাকলে ফর্ম ১০৯৫ এ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের সঙ্গে আগাম পাওয়া সহায়তার হিসাব মিলিয়ে নিতে হয়। অভিবাসনসংক্রান্ত স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও তিন বছরের ট্যাক্স রিটার্ন সব সময় জমা দিতেই হবে, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। ইউএসসিআইএসের ফর্ম আই ৮৬৪ এর নির্দেশনায় সর্বশেষ ট্যাক্স বছরের রিটার্ন বা ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা বোঝাতে প্রয়োজন অনুযায়ী আগের বছরের তথ্যও দেওয়া যায়। সবশেষে ট্যাক্স প্রিপেয়ারার বাছাইয়ের সময় যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাই করা জরুরি। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে রিটার্নে সই করতে এবং নিজের পিটিআইএন দিতে হয়। ফাঁকা রিটার্নে সই করা যাবে না। জমা দেওয়ার আগে আয়, দাবি করা খরচ, ক্রেডিট ও রিফান্ডের ব্যাংক তথ্য নিজে পড়ে দেখে রিটার্নের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি জটিল হলে সিপিএ বা এনরোলড এজেন্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাসের সব বিল মেটাতে পারছেন না ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক
শিকাগোর উপশহরে বাড়ি থেকে অন্তত ৫ জনের মরদেহ সরিয়েছে পুলিশ, বাড়ছে রহস্য ও উৎকন্ঠা
বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার
নিউইয়র্কের রাজনীতি, নীতিনির্ধারণ ও জনপরিসরে কাজ করা উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন জেমি কাজী। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের ‘২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কুইন্সে বেড়ে ওঠা কাজী বর্তমানে শ্রমিক সংগঠন থার্টি টু বিজে এসইআইইউর স্টেট অ্যান্ড ফেডারেল পলিটিক্যাল কোঅর্ডিনেটর। সংগঠনটির নির্বাচনী প্রার্থী সমর্থন ও রাজনৈতিক কৌশল তদারক করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে সংগঠনটি। সিটি অ্যান্ড স্টেটের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, অভিবাসী কমিউনিটির সংগঠিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির দাবি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেন তিনি। শ্রমিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগে কাজী নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসের প্রথম মেয়াদে এবং স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন ও ক্যাটালিনা ক্রুজের দপ্তরে কাজ করেছেন। ক্রুজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং আইন ও বাজেটবিষয়ক পরিচালক হিসেবে ক্লিন স্লেট অ্যাক্ট ও ওয়েজ থেফট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট এগিয়ে নিতে জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন। কুইন্সের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর ডেমোক্র্যাটিক স্টেট কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী। তাঁর কাজের মূল ভাবনা হলো, কমিউনিটির সম্মিলিত কণ্ঠকে আইন ও নীতির মাধ্যমে মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তনে রূপ দেওয়া। সূত্র: সিটি অ্যান্ড স্টেট
নিউইয়র্কে মঙ্গলবার নিয়োগ মেলা, সরাসরি কথা বলা যাবে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে
টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের গেটে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করল যুক্তরাষ্ট্র, ১৩ বিমানবন্দরে এখনো চালু
নাগরিক নন, এমন অবৈধ ভোটারের সন্দেহে হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস
আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটির রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে সাধারণভাবে ৪০টি কাজের ক্রেডিট প্রয়োজন। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট পাওয়া যায় বলে এই যোগ্যতা অর্জনে অন্তত ১০ বছর লাগে। তবে ক্রেডিট পূরণ হলেই সঙ্গে সঙ্গে মাসিক টাকা পাওয়া শুরু হয় না। বয়স, বেনিফিট নেওয়ার সময় এবং প্রযোজ্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এসএসএর নিয়মে যোগ্যতা অর্জন এবং মাসিক বেনিফিটের অঙ্ক নির্ধারণ দুটি আলাদা বিষয়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির আওতাভুক্ত আয় থেকে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলারে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। অর্থাৎ বছরে ৭ হাজার ৫৬০ ডলার যোগ্য আয় থাকলে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। আয় আরও বেশি হলেও একই বছরে চারটির বেশি ক্রেডিট জমা হয় না। রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের জন্য প্রয়োজনীয় কাজের বছরগুলো একটানা হতে হয় না। তবে শুধু আমেরিকায় বসবাস করা বা যেকোনো ধরনের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়াই ক্রেডিট অর্জনের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আয় সোশ্যাল সিকিউরিটির আওতাভুক্ত হতে হবে এবং ব্যক্তির আয়ের রেকর্ডে যথাযথভাবে যুক্ত হতে হবে। মাসিক বেনিফিট কত হবে, তা শুধু ১০ বছর কাজের হিসাব দিয়ে বলা যায় না। এসএসএ সাধারণভাবে সর্বোচ্চ আয়ের ৩৫ বছরের রেকর্ড এবং বেনিফিট নেওয়া শুরুর বয়স বিবেচনা করে। ৩৫ বছরের কম কাজ করলে হিসাবের বাকি বছরগুলোতে শূন্য আয় ধরা হয়। ফলে মাত্র ১০ বছর কাজ করা সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসিক অঙ্কের নিশ্চয়তা নেই। সাধারণভাবে ৬২ বছর বয়স থেকে কম অঙ্কের রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট নেওয়া যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসালের ওপর নির্ভর করে। ১৯৬০ সাল বা পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই বয়স ৬৭ বছর। তাঁদের কেউ ৬২ বছরেই শুরু করলে পূর্ণ অবসরের বয়সে প্রাপ্য অঙ্কের তুলনায় মাসিক বেনিফিট সাধারণত ৩০ শতাংশ কম হয়। পূর্ণ অবসরের বয়সের পর অপেক্ষা করলে ৭০ বছর পর্যন্ত মাসিক অঙ্ক বাড়তে পারে। ডিসেবিলিটি বেনিফিট বা এসএসডিআইয়ের নিয়ম আলাদা। কম বয়সে অক্ষমতা তৈরি হলে ৪০টির কম ক্রেডিটেও যোগ্যতা হতে পারে। তবে মোট কত দিন কাজ করেছেন, তার পাশাপাশি অক্ষমতা শুরুর আগে সাম্প্রতিক সময়ে কত দিন কাজ করেছেন, সেটিও বিবেচনায় আসে। শুধু অসুস্থ হওয়া বা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকলেই এসএসডিআই পাওয়া যায় না। এসএসএর সংজ্ঞা অনুযায়ী, চিকিৎসাগতভাবে নির্ধারণযোগ্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণে উল্লেখযোগ্য আয়মূলক কাজ করতে অক্ষম হতে হবে। সমস্যাটি অন্তত টানা ১২ মাস স্থায়ী হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে, অথবা তা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। স্বামী বা স্ত্রীর কাজের রেকর্ড থেকেও নির্দিষ্ট শর্তে পারিবারিক বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। ডিভোর্সের পর সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর রেকর্ডে বেনিফিটের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অন্তত ১০ বছর বিবাহিত থাকার শর্ত রয়েছে। তবে বয়স, পুনর্বিবাহ ও নিজের বেনিফিটের মতো বিষয়ও প্রযোজ্য হয়। স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে সারভাইভার বেনিফিটের পৃথক নিয়ম রয়েছে। সব বর্তমান দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেই ১০ বছর বিবাহিত থাকতে হবে, এমন নয়। গ্রিন কার্ড না থাকলে কোনো অবস্থাতেই সোশ্যাল সিকিউরিটি পাওয়া যায় না, এই ধারণাও সঠিক নয়। এসএসএ জানিয়েছে, আমেরিকায় আইনসম্মতভাবে অবস্থানকারী নাগরিক নন এমন ব্যক্তিরাও প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করলে বেনিফিট পেতে পারেন। যোগ্য কাজের ক্রেডিট গণনার জন্য সবাইকে গ্রিন কার্ড পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। তবে শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই সব ধরনের বেনিফিটের যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না। বাংলাদেশে ফিরে গেলে ছয় মাস পর সবার বেনিফিট বন্ধ হয়ে যাবে, এমন দাবিও সঠিক নয়। এসএসএর বিদেশে অর্থপ্রদানের নিয়মে বাংলাদেশ একটি বিশেষ তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকের বেনিফিট যে কর্মীর রেকর্ডের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে, তিনি আমেরিকায় অন্তত ১০ বছর বসবাস করে থাকলে অথবা অন্তত ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট অর্জন করলে ছয় পূর্ণ ক্যালেন্ডার মাসের বেশি বিদেশে থাকার পরও অর্থপ্রদান চলতে পারে। ডিপেনডেন্ট ও সারভাইভার বেনিফিটের ক্ষেত্রে বাড়তি শর্ত রয়েছে। তাই অবসর নেওয়া বা বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় থাকার সিদ্ধান্তের আগে নিজের আয়ের রেকর্ড, জমা হওয়া ক্রেডিট এবং সম্ভাব্য বেনিফিটের হিসাব দেখা প্রয়োজন। এসএসএর ব্যক্তিগত স্টেটমেন্ট ও বিদেশে বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা ব্যবহার করে ব্যক্তিভিত্তিক তথ্য জানা যায়। কোনো পরিচিত ব্যক্তির প্রাপ্ত টাকার অঙ্ককে নিজের ভবিষ্যৎ বেনিফিট ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাস্কের
যুক্তরাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর আসছে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ, জন্মতারিখ অনুযায়ী পাবেন সুবিধাভোগীরা