যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এই কর্মসূচি চালু করতে হবে। তবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন এখনো শুরু হয়নি। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ করতে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও রয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলাটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দেয়, সরকার নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে বাদীপক্ষের যুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেন।
বিচারক ওহতা তাঁর আদেশে বলেন, পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই নিবন্ধন শুরু না করায় সরকারের পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন চালু করলে কর্মসূচির সময়সীমা-সংক্রান্ত বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণের অজুহাতে নিবন্ধন বন্ধ রাখলে ২০২৭ অর্থবছরের লটারি আয়োজনই সম্ভব হবে না। এ কারণে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আদালত নজরদারি বজায় রাখবেন।
পরবর্তী সময়ে আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালু করতে হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা হবে অন্তত ৩০ দিন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। তবে নিবন্ধন শুরুর সুনির্দিষ্ট সময়, আবেদন করার ওয়েবসাইট ও যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশ জারি হওয়া মানেই নিবন্ধন ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, এমন নয়।
১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে চালু হওয়া ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচিতে বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হলেই অবশ্য গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্ত সম্পন্ন করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে ভিসা প্রক্রিয়ায় মার্কিন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলমান বা বিচারাধীন মামলা নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থায় কঠোরতা এনেছে।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লটারি চালুর আদালতের নির্দেশকে এখনই আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। নিবন্ধনের তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। ভুয়া ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিতভাবে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি।
সূত্র: নিউজউইক, কোর্টহাউস নিউজ সার্ভিস, মার্কিন আদালতের সংশোধিত সময়সূচিসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা বাড়াতে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষরিত এ আদেশের মাধ্যমে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এনআইএইচ) অধীনে নারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি পৃথক বিভাগ গঠন এবং হোয়াইট হাউসে বিশেষ টাস্কফোর্স প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সমর্থনে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে গবেষণা বাড়ানো, রোগ শনাক্তকরণে উন্নতি আনা এবং চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা। নতুন বিভাগের আওতায় মাতৃস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, বন্ধ্যত্ব, এন্ডোমেট্রিওসিস, জরায়ুর ফাইব্রয়েড এবং মেনোপজের মতো বিষয়গুলোতে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি হৃদ্রোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, আলঝেইমার, অস্টিওপোরোসিস ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যাও গবেষণার আওতায় আসবে। এসব রোগের অনেক ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত গবেষণা ও তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার ফল দ্রুত চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানো এবং নারীদের জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাও উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এনআইএইচের অধীনে নতুন বিভাগটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান নারীদের স্বাস্থ্য গবেষণাবিষয়ক কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের নতুন টাস্কফোর্সের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে এই টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগের প্রজন্মগুলো লড়াই করেছে, আর বর্তমান প্রজন্মের লক্ষ্য হবে এমন চিকিৎসা আবিষ্কার করা, যা নারীদের সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করবে। ট্রাম্পও বলেন, নারীদের যেসব রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি, সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন গবেষণা ও রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গবেষণার গতি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে নির্বাহী আদেশে নতুন উদ্যোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অর্থ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়নি। নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ১৯৯০ সালে এনআইএইচের অধীনে নারীদের স্বাস্থ্য গবেষণাবিষয়ক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনও নারীদের স্বাস্থ্য গবেষণায় অর্থায়ন ও সরকারি কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। বাইডেন প্রশাসনের বিদায়ের আগে ওই কর্মসূচিতে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সরকারি অর্থায়ন আকৃষ্ট হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে বাইডেনের ২০২৩ সালের স্মারকলিপি এবং ২০২৪ সালের নির্বাহী আদেশ বাতিল করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, নতুন কর্মসূচিতে শুধু গবেষণা নয়, গবেষণার ফল বাস্তব চিকিৎসাসেবায় প্রয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হবে। তবে নতুন উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা অনুদান কমিয়েছে। নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি গবেষণা কর্মসূচি উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ আগেভাগে বন্ধ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল, যদিও প্রতিবাদের পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। ফলে নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কত অর্থ ব্যয় হবে এবং গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নির্বাহী আদেশে অবশ্য নারীদের স্বাস্থ্য গবেষণায় অর্থায়ন ও গবেষণার ফল চিকিৎসায় প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্যও এই উদ্যোগ ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাঁর নীতিগত কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি পালক পরিচর্যা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষায় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের পুনর্মিলনের বিষয়ে কাজ করেছেন। এবার নারীদের স্বাস্থ্য গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর উদ্যোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ ২০ শহরের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে আলাস্কার জুনো
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জানাজা চলাকালীন মসজিদের পাশে গোলাগুলি, নিহত এক
নিউইয়র্কের জেএফকে বা লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দরের চিরচেনা ভিড় ও যানজট থেকে মুক্তি পেতে চান? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। ইউএসএ টুডে-এর ২০২৬ সালের জরিপে আমেরিকার সেরা ছোট বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে নিউইয়র্কের রনকনকোমায় অবস্থিত লং আইল্যান্ড ম্যাকআর্থার এয়ারপোর্ট (আইএসপি)। গত বছর এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, এবার সবাইকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে বিমানবন্দরটি। ম্যানহাটন থেকে মাত্র ৫০ মাইল বা এক ঘণ্টার ড্রাইভের দূরত্বে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি যাত্রীদের দিচ্ছে ঝামেলাবিহীন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা। লং আইল্যান্ড রেল রোডের (এলআইআরআর) বা রাইডশেয়ারের মাধ্যমেও এখানে সহজেই পৌঁছানো যায়। লং আইল্যান্ডের প্রায় ২৮ লাখ বাসিন্দার সবচেয়ে কাছের এই বিমানবন্দরটি বিখ্যাত হ্যাম্পটনস, ওয়াইন কান্ট্রি, ফায়ার আইল্যান্ড এবং গ্যাটসবি-যুগের ম্যানশনের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যাতায়াত সহজ করে তুলেছে। যাত্রীরা এখানে বড় বিমানবন্দরের মতো দীর্ঘ পথ হাঁটা বা বিশাল লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। গাড়ি থেকে নেমে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই বোর্ডিং গেটে পৌঁছানো সম্ভব। এখানে রয়েছে আরামদায়ক বসার জায়গা, ফ্রি ওয়াই-ফাই, ডানকিন বা পয়েন্ট/ব্লু পাব-এর মতো ডাইনিং সুবিধা এবং আধুনিক গ্রাউন্ড ট্রান্সপোর্টেশন সেন্টার। এছাড়াও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য এডিএ-কমপ্লায়েন্ট সুবিধা এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও সহজ করেছে। বিমানবন্দরটির সেবার মান আরও বাড়াতে ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি ডলারের একটি বিশাল সম্প্রসারণ প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। গত জুন মাসে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এর উত্তর দিকে একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ডেভেলপারদের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ফ্লাইটের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং রনকনকোমা এলআইআরআর স্টেশনের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। এর ফলে যাত্রীরা আরও সহজে ও দ্রুত ট্রেনে করে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। এই আধুনিকায়ন প্রকল্পটি ম্যাকআর্থার এয়ারপোর্টকে দেশের অন্যতম প্রধান একটি যোগাযোগ কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর থেকে সাউথওয়েস্ট, ফ্রন্টিয়ার, জেটব্লু, আভেলো, ব্রিজ এবং কেপ এয়ারের মতো এয়ারলাইন্সগুলো নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এখান থেকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, টাম্পা, ফোর্ট মায়ার্সসহ ইস্ট কোস্টের বাল্টিমোর, বোস্টন, চার্লসটন এবং রিচমন্ডের মতো গন্তব্যগুলোতে সরাসরি ভ্রমণ করা যায়। ছুটির দিনে ভ্রমণের জন্য নিউইয়র্কবাসীদের কাছে দিন দিন এই বিমানবন্দরটি একটি আকর্ষণীয় ও স্বস্তিদায়ক বিকল্প হয়ে উঠছে।
মাত্র ২২ হাজার ডলারে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ নিউইয়র্কে, চলছে আবাসন লটারি
নিউইয়র্কে ৬২ বছর বয়সীদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী আবাসন, আয় না থাকলে ভাড়া শূন্য ডলার
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার দায়ে কাভান বিষ্ণুভাই প্যাটেল (৩২) নামের এক কনভেনিয়েন্স স্টোর মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ই-বাইকে থাকা হান্টার রাসে নামের ওই কিশোরকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়ার পর সে মারাত্মক আহত অবস্থায় কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল। গত শনিবার রাতে পরিবারের সিদ্ধান্তে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হলে অভিযুক্ত প্যাটেলের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনে রবিবার সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাউথ উইকহ্যাম রোডের 'কর্নার স্টোর' নামের একটি দোকানে চুরির অ্যালার্ম বেজে ওঠে। দোকান মালিক প্যাটেল পুলিশকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে তিনি হালকা রঙের হুডি পরা এক ব্যক্তিকে দোকানের ভাঙা দরজা দিয়ে বেরিয়ে ই-বাইকে করে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। এরপর ড্রোন ও কে-৯ ইউনিটসহ পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি শুরু করলে রাস্তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের অভিযোগ, প্যাটেল নিজের গাড়ি নিয়ে ওই কিশোরের পিছু নেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় প্রায় এক ঘণ্টা পড়ে থাকার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে নিহত কিশোরই সেই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। প্যাটেল ঘটনা ঘটিয়ে দোকানে ফিরে এলেও পুলিশের জেরার আগ পর্যন্ত তিনি কিশোরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত এবং আহত ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কিশোরের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় ব্রেভার্ড কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক পরিণতির পরও নিহত কিশোরের পরিবার অন্যদের জীবন বাঁচাতে তার অঙ্গদানের মতো এক মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ