২০২৮ সালে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট, অনলাইনে আবেদনের সুযোগ ২০২৭ সালেই
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টের নকশায় পরিবর্তন আনছে দেশটির সরকার। নতুন নকশার পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক ঈগলের ছবি এবং দেশটির প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে নতুন নকশাটি উন্মোচন করেন। তবে নতুন পাসপোর্ট পেতে নাগরিকদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে, অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছর থেকেই।
নেক্সস্টার নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পাসপোর্টের পাতায় পাতায় ঈগলের ছবি থাকবে। বর্তমানে পাসপোর্টের প্রচ্ছদে থাকা এই জাতীয় প্রতীকটি নতুন নকশাতেও রাখা হচ্ছে, তবে ভেতরের পাতাগুলোতেও এর উপস্থিতি দেখা যাবে। রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, পাসপোর্টের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে লেক্সিংটনের যুদ্ধ, পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির বিস্তার, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের আকাশে উড্ডয়ন, ইও জিমায় মার্কিন পতাকা উত্তোলন এবং আর্টেমিস মহাকাশ অভিযানের পৃথিবীতে ফিরে আসার দৃশ্য।
পাসপোর্টের প্রচ্ছদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সিলমোহর আরও বড় আকারে থাকবে এবং ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ লেখা থাকবে প্রচ্ছদের ওপরের দিকে। বর্তমান নকশায় সিলমোহর, ‘পাসপোর্ট’ এবং দেশের নাম নির্দিষ্ট বিন্যাসে থাকলেও নতুন নকশায় লেখার অবস্থান ও প্রতীকের আকারে পরিবর্তন আসবে। নকশাটির মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, জাতীয় পরিচয় এবং নাগরিকত্বের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক তুলে ধরতে চায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
নতুন পাসপোর্ট উন্মোচনের অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, পাসপোর্ট দেশের সঙ্গে নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতীক। তাঁর মতে, দেশের সীমান্তের বাইরে গেলেও নাগরিকের সঙ্গে এই সম্পর্ক বজায় থাকে। পাসপোর্টের পাতায় ঈগলের ছবি দেখে বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় যাত্রীরা আগ্রহ নিয়ে সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিশুদের সময় কাটানোর জন্য ভিডিও গেমের বিকল্প হিসেবে ঈগলের ছবি দেখার বিষয়টি মজার ছলে উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নতুন পাসপোর্টের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর থেকে নাগরিকেরা অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তবে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ চালু হওয়া এবং নতুন নকশার পাসপোর্ট হাতে পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। নতুন নকশার পাসপোর্ট ২০২৮ সালের আগে চালু হওয়ার কথা নয়। এতে আবেদনকারীদের জন্য ডিজিটাল সেবা বাড়লেও নতুন পাসপোর্ট পেতে আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ প্রকাশ করেছিল দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই বিশেষ পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছিল। প্রথমে ওয়াশিংটন ডিসির পাসপোর্ট কার্যালয়ে এটি পাওয়া গেলেও পরে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুই ডজন কার্যালয়ে এর প্রাপ্যতা বাড়ানো হয়। নতুন নিয়মিত পাসপোর্টের নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগটি সেই বিশেষ সংস্করণ থেকে আলাদা।
সূত্র: নেক্সস্টার নিউজ, দ্য হিল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে সরকারি নথি চেয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলারের খরচের হিসাব এবং ৫০ বছরের অপেক্ষার সময়সীমা পাওয়ার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক বাবা। কার্ট সাফ্রানেক নামের ওই ব্যক্তি তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের সরকারি চিকিৎসা-সহায়তা কমে যাওয়ার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট নথি চেয়েছিলেন। কিন্তু নেব্রাস্কা স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, নথিগুলো খুঁজে বের করা, পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় অংশ গোপন করে প্রকাশ করতে ব্যয় হবে ৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৬২ ডলার। মামলার তথ্য অনুযায়ী, নথি দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২০৭৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা হয়। ওমাহার বাসিন্দা সাফ্রানেক নেব্রাস্কা প্রতিবন্ধী অধিকার জোটের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে উইলের বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা ও অটিজম রয়েছে। ছেলের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর সিদ্ধান্তটির পেছনের কারণ অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি। এ জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আলভারেজ অ্যান্ড মার্সালের ইমেইল আদান-প্রদানের নথি চেয়ে গত সেপ্টেম্বরে আবেদন করেন। প্রতিষ্ঠানটি রাজ্যের ইন্টাররাই মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর কার্যক্রম পর্যালোচনার দায়িত্ব পেয়েছিল। মামলায় বলা হয়েছে, নথি খুঁজে বের করা ও পর্যালোচনার জন্য একজন আইনজীবীর পেছনে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬০ ডলার, নথি সংগ্রহ ও প্রকাশ-অযোগ্য তথ্য আড়াল করতে একজন প্যারালিগালের জন্য ২ লাখ ৭১ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং নথি স্থানান্তরের কাজে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার জন্য ৬০ হাজার ২৪৭ ডলার ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে বিভাগটি। কাজ শুরু করার আগেই সাফ্রানেকের কাছে ৯৭ হাজার ৬২৬ ডলার অগ্রিম জমা চাওয়া হয়। নথি পেতে এত বিপুল খরচ এবং দীর্ঘ সময়ের হিসাব দেখে বিস্মিত হন তিনি। লিংকন জার্নাল স্টারকে তিনি বলেন, প্রথমে হিসাবটি দেখে ভেবেছিলেন, হয়তো ভুল পড়ছেন। সাফ্রানেক পরে তাঁর আবেদনের পরিধি কমিয়ে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঠানো ইমেইল চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী খরচ কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৮৩ ডলারে। তবে নথি পেতে অপেক্ষার সময়ও ২৫ বছর বলে জানানো হয় এবং কাজ শুরুর জন্য ৪৭ হাজার ৪৩৮ ডলার অগ্রিম চাওয়া হয়। সংশোধিত হিসাবটি আগের হিসাবের প্রায় অর্ধেক হওয়ায় এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাফ্রানেক। তাঁর অভিযোগ, নথি প্রকাশের জন্য দেওয়া হিসাব আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার নেব্রাস্কার স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি নথি সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা থমাস স্কাটের বিরুদ্ধেও মামলা করেন সাফ্রানেক। তিনি আদালতের কাছে নথি সরবরাহের জন্য যুক্তিসংগত ও সঠিক ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছেন। বিকল্প হিসেবে অবিলম্বে নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, বর্তমান হিসাব অনুযায়ী নথি হাতে পাওয়ার সময় সাফ্রানেকের বয়স হবে ১০৫ বছর। তাঁর মতে, পরিবারের সদস্যদের জীবনকে প্রভাবিত করা সরকারি সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেব্রাস্কায় সরকারি নথি সংগ্রহের খরচ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতারা এমন একটি আইন পাস করেন, যাতে প্রকাশ-অযোগ্য তথ্য শনাক্ত করতে নথি পর্যালোচনার জন্য আইনজীবী বা অন্য কর্মীদের বিশেষ সেবা ফি নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে বর্তমান মামলায় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হিসাব ওই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা আদালতে নির্ধারিত হবে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নেব্রাস্কা স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, লিংকন জার্নাল স্টার।
নিউইয়র্ক সিটিতে আইস এজেন্টদের পার্কিং সুবিধা না দেওয়ার আহ্বান মেয়র মামদানির
সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্য দিলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার, নতুন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে
৩ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক শিক্ষার্থীর দিকে কাঁচি ছোড়ার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুয়ানিতা ফোরহ্যান্ড নামের ওই শিক্ষিকা রাদারফোর্ড হাইস্কুলে কর্মরত ছিলেন। বে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে জানা গেছে, কাঁচিটি শিক্ষার্থীর পিঠে আঘাত করে। ঘটনাটি তদন্তের পর গত ১৬ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, গত ১৪ অক্টোবর ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফোরহ্যান্ড কাঁচিটি ছুড়ে মেরেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচিটি শিক্ষার্থীর পিঠে লাগার পর পেছনে মেঝেতে পড়ে যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি কাঁচিটি শিক্ষার্থীর পিঠে আঘাত করতে দেখেছেন। শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, তদন্তে আরও জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফোরহ্যান্ড এর আগেও বিভিন্ন বস্তু ছুড়েছেন অথবা বস্তু দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা আগের কোনো ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের পর ১৬ অক্টোবর ফোরহ্যান্ডকে বে কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। এদিকে, কাঁচির আঘাতে শিক্ষার্থীটি কতটা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। একইভাবে, গ্রেপ্তারের পর ফোরহ্যান্ড এখনো রাদারফোর্ড হাইস্কুলে কর্মরত আছেন কি না কিংবা তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: বে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, ফক্স ১৩ নিউজ।
২০২৮ সালে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট, অনলাইনে আবেদনের সুযোগ ২০২৭ সালেই
যুক্তরাষ্ট্রের ৫ অঙ্গরাজ্যে গেলেই মিলতে পারে হাজারো ডলার, এক জায়গায় ২৩ হাজার ডলারের প্যাকেজ
নিউইয়র্কে শীতের খরচ কমাতে মিলবে ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, আবেদন ২ নভেম্বর
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস থেকে ফিলাডেলফিয়াগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উড়োজাহাজে অস্বাভাবিক গন্ধ, যান্ত্রিক সমস্যার আশঙ্কা এবং হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। পরে উড়োজাহাজটি সেন্ট লুইস বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর। ফ্লাইটটি উড্ডয়নের আগেই ইঞ্জিনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি করেছিল। পরে উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি অনুভব করেন। কয়েকজন যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, অক্সিজেনের মাস্ক নেমে আসে এবং উড়োজাহাজের ভেতরে ধোঁয়া বা কুয়াশার মতো পরিস্থিতি দেখা যায়। ঘটনার সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি ছিল ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওয়াটারলু এলাকার বাসিন্দা মার্ক ও টেসা স্প্রিংগার দম্পতির অভিজ্ঞতা। তাঁরা কাজের প্রয়োজনে পেনসিলভানিয়া যাচ্ছিলেন। মার্ক জানান, উড়োজাহাজের পেছনের দিক থেকে জোরে ঘর্ষণ ও গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল। উড্ডয়নের পর হঠাৎ এমন ঝাঁকুনি হয়, যেন চলন্ত গাড়িতে চালক আচমকা ব্রেক কষেছেন। এরপর উড়োজাহাজটি নিচের দিকে নেমে যায় এবং অক্সিজেনের মাস্কগুলো খুলে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে টেসা তাঁর সন্তানদের কাছে বার্তা পাঠান, ‘আমাদের উড়োজাহাজে সমস্যা হয়েছে, তোমাদের ভালোবাসি।’ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো আর সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পারবেন না। অন্য যাত্রী অলিভিয়া ক্ল্যান্সিও জানান, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায় তিনি বুঝতে পারছিলেন কিছু একটা ঠিক নেই। এদিকে উড়োজাহাজের পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষকে ককপিটে ধোঁয়া বা ক্ষতিকর বাষ্পের উপস্থিতির কথা জানান এবং জরুরি অবতরণের ব্যবস্থা নিতে বলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ে পাইলটকে দ্রুত অবতরণের প্রয়োজনীয়তা জানাতে শোনা যায়। এরপর উড়োজাহাজটি সেন্ট লুইস ল্যামবার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসে। অবতরণের পর যাত্রীদের দ্রুত উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। মার্ক ও টেসা জানান, তাঁরা উড়োজাহাজের ডানা দিয়ে নেমে আসেন এবং অন্য যাত্রীরা একে অপরকে মাটিতে নামতে সাহায্য করেন। অন্য যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কর্মীরা সবাইকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেলে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে, এ ঘটনায় কোনো যাত্রীর আহত হওয়ার খবর জানায়নি বিমান সংস্থাটি। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আমেরিকান ঈগল ফ্লাইট ৫০৮৯ উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজে অস্বাভাবিক গন্ধের খবর পাওয়ায় সেন্ট লুইসে ফিরে আসে। উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং পরীক্ষার জন্য সেটিকে পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যাত্রীদের অভিজ্ঞতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংস্থাটি কর্মীদের পেশাদারত্বের প্রশংসাও করেছে। ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিল পিএসএ এয়ারলাইন্স, যা আমেরিকান এয়ারলাইন্স গোষ্ঠীর অংশ। তবে এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক গন্ধের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ গ্যারি লেফ সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যা হিসেবে ইঞ্জিনের তেল উড়োজাহাজের বায়ু সরবরাহব্যবস্থায় প্রবেশ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এমন ঘটনা ঘটলে দুর্গন্ধ, ধোঁয়া, কম্পন কিংবা যাত্রীদের অসুস্থতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু এটি এই নির্দিষ্ট ঘটনার নিশ্চিত কারণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন হচ্ছে, ঋণের সুদ বেড়ে চাপে সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের নাম বদলাতে চান ট্রাম্প, নতুন নাম ‘নিউ আমেরিকা’!