অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তার বাড়িতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়। তবে ওমর কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তটিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তল্লাশির বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন ওমর। তিনি জানান, ভোরে প্রায় ছয়টার দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতিপত্র নিয়ে তার দরজায় হাজির হন। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোবাইল ফোন, নোটবুক, সোমালি ভাষায় লেখা শিশুদের একটি বই এবং একটি পুরোনো ক্যামেরাসহ মোট ১৭টি সামগ্রী নিয়ে যান তদন্তকারীরা।
ওমরের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়টি গত ১২ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আদালতের অনুমোদন নিয়ে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান একটি ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তটি ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমনও পাঠানো হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে কোনো অনিয়ম করেননি বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ কীভাবে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। তার মতে, এমন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির একজন পরিচিত সমালোচক। তার বিরুদ্ধে তদন্তের সময় নিয়েও ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এমন তল্লাশি চালানোকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাধারণত নির্বাচনের ঠিক আগে প্রার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি অনুসরণ করে, যদিও এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা সর্বক্ষেত্রে এক নয়।
তল্লাশির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওমর বলেন, তদন্তকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তল্লাশিতে নেওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন এবং অন্য জিনিসপত্র আগের জায়গায় রেখে যান। তিনি তাদের আচরণকে অনধিকারচর্চামূলক হলেও ভদ্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই ঘটনা তার বাড়িতে নিরাপদ বোধ করার অনুভূতিকে নষ্ট করেছে বলে জানান তিনি।
ওমরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের অভিযোগগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা জানাননি।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে পরিচিত এক নারীর চায়ে বেঞ্জোডায়াজেপিন মেশানোর অভিযোগে ৫২ বছর বয়সী রোহওয়েনিভেন বাকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর ফোর্ট লির একটি রেস্তোরাঁয় ওই চা পান করার পর নারীটি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। কয়েক সপ্তাহের তদন্ত শেষে হ্যাকেনস্যাকের বাসিন্দা বাকানির বিরুদ্ধে থার্ড ডিগ্রি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। বার্গেন কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের আর্থিক হিসাবে অনুমতি ছাড়া কিছু লেনদেনের বিষয়টি শনাক্ত করেছিলেন ভুক্তভোগী নারী। ওই হিসাবগুলোতে বাকানিরও প্রবেশাধিকার ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দুজন ফোর্ট লির রেস্তোরাঁয় দেখা করতে রাজি হন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী রেস্তোরাঁয় পৌঁছে দেখেন, বাকানি আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর জন্য এক কাপ চা রাখা আছে। কিছুটা চা পান করার পর অস্বাভাবিক স্বাদ টের পেয়ে তিনি আর পান করেননি। পরে রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর কীভাবে সেখানে পৌঁছেছেন, তা মনে করতে পারেননি ওই নারী। চিকিৎসার জন্য তাঁকে কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। পরে তিনি তদন্তকারীদের জানান, তাঁর সন্দেহ, বাকানি পানীয়তে কিছু মিশিয়েছিলেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য বিষক্রিয়ার বিষয়টি জানতে পারে লিওনিয়া পুলিশ। এরপর বার্গেন কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের সংশ্লিষ্ট তদন্ত ইউনিটগুলো যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভুক্তভোগীর চায়ে বেঞ্জোডায়াজেপিন মেশানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বাকানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরদিন হ্যাকেনস্যাকে নিজ বাড়ির বাইরে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। প্রথম কোর্ট হিয়ারিংয়ের অপেক্ষায় তাঁকে বার্গেন কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটরস অফিসের ১৬ অক্টোবরের ঘোষণায় জানানো হয়, ভুক্তভোগী তখনো সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। বাকানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ঘোষণার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালের মর্গে শ্বাস নিচ্ছিল শিশু, চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির গির্জা থেকে ক্রুশ, রুপার পানপাত্র ও যিশুর মূর্তি চুরি
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম বা ‘আমেরিকা’ যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, পিচাই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে ২১ অক্টোবর এ ঘটনা বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করা অন্য ভৌগোলিক স্থানের নাম বদলের চেয়ে জটিল, কারণ তা বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো উপসাগর ও লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুগল সহযোগিতা করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর আটলান্টিক মহাসাগরের নাম বদলের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি গুগলের সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পিচাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আটলান্টিকের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গুগল সামলাতে পারবে কি না। জবাবে পিচাই নাকি জানান, এবার তিনি এতে রাজি নন। তবে কথোপকথনের বিষয়ে গুগলের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ট্রাম্প আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো একটির নাম ‘ট্রাম্প ওশান’ অথবা ‘ওশান অব দ্য আমেরিকাস’ রাখার ধারণা প্রকাশ করেছিলেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সমাবেশে তিনি বলেন, আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরই তাঁর পছন্দের দুটি মহাসাগর। আটলান্টিকের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আপাতত এগোবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। একই বক্তব্যে প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘আমেরিকান ওশান’ রাখার কথাও রসিকতার সুরে উল্লেখ করেন। ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের পদক্ষেপগুলোও এ ঘটনার পটভূমি তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেক্সিকো উপসাগরের নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। পরে ২০২৬ সালের আগস্টে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশও দেন তিনি। এসব পরিবর্তনের পর গুগল ম্যাপসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নাম দেখানো শুরু হয়। তবে অন্য দেশে ব্যবহারকারীরা ভিন্ন নাম দেখতে পারেন, কারণ ভৌগোলিক নামের ক্ষেত্রে দেশভেদে সরকারি স্বীকৃতি ও প্রচলিত নাম আলাদা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার নিজস্ব সরকারি নথি ও মানচিত্রে ভৌগোলিক নাম পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে একই নাম গ্রহণে বাধ্য করে না। গুগল জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের মানচিত্রে দেশটির সরকারি ভৌগোলিক নামের তথ্য অনুসরণ করে। এ কারণে একই স্থানের নাম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অন্যান্য দেশে আলাদাভাবে প্রদর্শিত হতে পারে। আটলান্টিক মহাসাগর একাধিক মহাদেশের উপকূলজুড়ে বিস্তৃত এবং বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে এর নাম পরিবর্তন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে নাম বদলের মতো বিষয় নয়; আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নাম ও স্বীকৃতির প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, পিচাই এই বিষয়টিই তুলে ধরে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথোপকথনের বিবরণ নিশ্চিত না করায় ঘটনাটি আপাতত ট্রাম্পের নিজের বর্ণনার ভিত্তিতেই জানা যাচ্ছে। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার
নতুন বাসিন্দা আকৃষ্ট করতে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের টোপেকা শহর
প্যাটারসন রেন্ট লেভেলিং বোর্ডের নতুন কমিশনার হিসেবে শপথ নিলেন শাহরিয়ার সারওয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি করদাতাকে দত্তক নেওয়া সন্তানের জন্য আগে পাওয়া কর সুবিধার অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দিচ্ছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)। নতুন ব্যাখ্যার আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন। এ জন্য অধিকাংশ যোগ্য করদাতাকে নতুন করে আবেদন করতে হবে না বা আগের কর বিবরণী সংশোধন করে জমা দিতে হবে না। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আইআরএস জানায়, ইতোমধ্যে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ অধিকাংশ যোগ্য করদাতার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর সুবিধার হিসাব পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। মূলত যেসব পরিবার সন্তান দত্তক নেওয়ার যোগ্য ব্যয়ের বিপরীতে কর ছাড় পেয়েছিল, কিন্তু করের পরিমাণ কম থাকায় সেই সুবিধার পুরোটা ব্যবহার করতে পারেনি, তারাই এই উদ্যোগের আওতায় আসতে পারেন। আগে অব্যবহৃত কর সুবিধার অর্থ পরবর্তী বছরগুলোতে বহন করা গেলেও তা সাধারণত কেবল বকেয়া কর কমানোর কাজে ব্যবহার করা যেত। ফলে যেসব পরিবারের করের দায় কম ছিল, তাদের কিছু অর্থ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে যেতে পারত। আইআরএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের করবর্ষের জন্য বিশেষভাবে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জমে থাকা দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত অব্যবহৃত কর সুবিধা ২০২৫ সালের ফেরতযোগ্য কর ছাড়ের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। তবে প্রতি যোগ্য সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য সুবিধা পাওয়া যাবে। সবার ক্ষেত্রে পুরো ৫ হাজার ডলার পাওয়া নিশ্চিত নয়; প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির করের হিসাব ও অন্যান্য শর্তের ওপর। এই সুবিধা পেতে সাধারণত ২০২৫ সালের কর বিবরণী জমা দেওয়া থাকতে হবে এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের কোনো বছরের অব্যবহৃত দত্তক কর সুবিধা ২০২৫ সালের জন্য বহনযোগ্য থাকতে হবে। যাঁরা ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের আগে কর বিবরণী জমা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আইআরএস সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব সমন্বয় করবে। তবে যাঁরা সময় বাড়িয়ে কর বিবরণী জমা দিয়েছেন অথবা যাঁদের হিসাবে পরিচয় জালিয়াতি, হিসাব স্থগিত কিংবা নির্ভরশীল ব্যক্তির তথ্য নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তাঁদের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করা হতে পারে। অর্থ ফেরত বা হিসাব সমন্বয়ের পর আইআরএস সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে নোটিশ পাঠাবে। সেখানে কত টাকা সমন্বয় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ সরাসরি ফেরত দেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কোনো কর বা করবহির্ভূত বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে, তা জানানো হবে। নোটিশ পাওয়ার পর সেটি ভালোভাবে যাচাই করে নিজের করসংক্রান্ত নথির সঙ্গে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা ২০২৫ সালের করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য। তাই শুধু সন্তান দত্তক নিয়েছেন বলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত পাবেন না। যোগ্যতা, আগের কর সুবিধার অব্যবহৃত অংশ এবং সংশ্লিষ্ট কর হিসাবের তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কে কত টাকা পাবেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস), ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিট।
নিউ মেক্সিকোয় স্কুলের বাইরে শিক্ষককে গুলি, অভিযুক্ত ১৩ বছরের কিশোর
স্টুডেন্ট লোন মওকুফে নতুন বিধিনিষেধের আপিল প্রত্যাহার করল ট্রাম্প প্রশাসন