সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সেপ্টেম্বরের বড় ধাক্কা কাটিয়ে গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৭:৫
আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত ইকেলন ইনসাইটসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গ্রামীণ ভোটারদের ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৪৯ শতাংশ তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, এই ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার এখন এক পয়েন্ট ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
 

সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর নতুন জরিপে এই পরিবর্তন দেখা গেল। তবে এক মাসের ব্যবধানে সমর্থন বাড়লেও গ্রামীণ ভোটারদের মনোভাব স্থায়ীভাবে বদলে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।


ইকেলন ইনসাইটসের জরিপে দেখা গেছে, জুনে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৫১ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৪৮ শতাংশ। জুলাইয়ে চিত্র বদলে যায়—সমর্থন নেমে আসে ৪৭ শতাংশে, আর অসন্তোষ বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে। আগস্টে ব্যবধান কিছুটা কমে সমর্থন ও অসন্তোষের হার হয় যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ শতাংশ।


সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ওই মাসে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান মাত্র ৪০ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার, আর ৫৯ শতাংশ তাঁর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অক্টোবরের নতুন জরিপে সমর্থন ৫০ শতাংশে ওঠায় এক মাসের ব্যবধানে তাঁর নিট অনুমোদনের হার ২০ পয়েন্ট উন্নত হয়েছে। তবে গ্রামীণ ভোটারদের এই উপগোষ্ঠী নিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলাফলে স্বাভাবিক ওঠানামার প্রভাব থাকতে পারে।


গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়লেও সামগ্রিক মার্কিন ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো নেতিবাচক। একই জরিপে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোটার, আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬০ শতাংশ। কংগ্রেসের নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৫ শতাংশ। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবরের এই জরিপে সম্ভাব্য ১ হাজার ১০ জন ভোটার অংশ নেন। পুরো জরিপের নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট।
 

এই ফলাফল এমন সময়ে এসেছে, যখন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আইওয়া, কানসাস ও আলাস্কার মতো রাজ্যে সিনেট নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রাজ্যে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, কৃষি উৎপাদনের খরচ এবং পরিবারের আর্থিক চাপ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আইওয়ার সিউক্স সিটিতে রিপাবলিকান সমর্থকদের এক সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট টানতে তাঁর এই সফর ছিল দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ। বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে যেন ব্যালটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ভাষায়, “ভাবুন, আমি যেন ব্যালটে আছি। কারণ আপনারা যদি ভোট দিতে বের হন, আমরা বড় ব্যবধানে জিতব।”
 

আইওয়ার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি। ইমারসন কলেজ পোলিংয়ের ৫ ও ৬ অক্টোবরের জরিপে হিনসনের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, আর টুরেকের ৪৫ শতাংশ। লিবার্টারিয়ান প্রার্থী থমাস লেন পেয়েছেন ২ শতাংশ সমর্থন; ৭ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। জরিপটির নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মারিস্টের সেপ্টেম্বরের জরিপে টুরেক ৫০ শতাংশ এবং হিনসন ৪২ শতাংশ সমর্থন পান। দুটি জরিপের ফলের পার্থক্য দেখায়, ভোটারদের মনোভাব ও জরিপের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র বদলাতে পারে।


হিনসন ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং গরুর মাংসের ওপর শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি কেনা কিংবা দোকানে বাজার করার বাড়তি খরচের বোঝা আইওয়ার বাসিন্দাদের বহন করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন কৃষক ও পশুপালকেরা উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মুখে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির প্রশ্নে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।


কানসাসেও রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছেন। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম। ইমারসন কলেজ পোলিং ও নেক্সস্টারের সেপ্টেম্বরের জরিপে হ্যামিলটন ৪৫ শতাংশ এবং মার্শাল ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। একই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৫৩ শতাংশ। ভোটারদের ৪৮ শতাংশ অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।


আলাস্কায়ও রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর পরিচালিত ডেটা ফর প্রগ্রেসের জরিপে পেলটোলা ৫১ শতাংশ এবং সুলিভান ৪৯ শতাংশ সমর্থন পান। তবে নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ৪ শতাংশ পয়েন্ট হওয়ায় এই ব্যবধানকে নিশ্চিত অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায় না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় ১৩ দশমিক ১ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।


নেব্রাস্কাতেও রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পূর্বাভাসে এখনো রিকেটস এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে লড়াই আগের ধারণার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখা যাচ্ছে।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে করছাড়, ওষুধের খরচ কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান এবং অবসরকালীন হিসাবের উন্নতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।


তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কতটা কাজে আসবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কোনো ভোটার প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানালেও তাঁর দলের স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কৃষি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থাকলে ভোটাররা দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচন তাই দেখাবে, গ্রামীণ এলাকায় ট্রাম্পের সমর্থনের সাম্প্রতিক উন্নতি রিপাবলিকানদের জন্য বাস্তব ভোটে কতটা রূপ নেয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্যাটারসনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার সেবা
নিউ জার্সির প্যাটারসনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা, মিলবে এনআইডি করার সুযোগ

নিউ জার্সির প্যাটারসনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা আয়োজন করতে যাচ্ছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার নিউ জার্সির প্যাটারসনে এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত প্রচারপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট পুনঃইস্যু, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে।   আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন এফ কেনেডি হাইস্কুলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের ঠিকানা ৬১–১২৭ প্রিকনেস অ্যাভিনিউ, প্যাটারসন, নিউ জার্সি ০৭৫০২। প্রচারপত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা গ্রহণের সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে যেভাবে নিবন্ধন করবেন প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে আগ্রহীদের প্রথমে বাসায় বসে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষ হলে নিবন্ধন নম্বরের স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ জন্য যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়েছে +১ (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২। প্রচারপত্রে নিবন্ধনের নম্বর পাঠানোর শেষ সময় হিসেবে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত কোনো নথি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নম্বর না পাঠালে ওই ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে প্রচারপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই আগ্রহীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ফি ও সময়সীমা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার প্রকাশিত প্রচারপত্রে বিভিন্ন সেবার জন্য যে ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো। ১. ভিসা ছাড়া প্রবেশের সনদ (এনভিআর): ফি ৮৮ ডলার। প্রচারপত্রে একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—সাধারণ: ফি ১১০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ৩৫ কর্মদিবস লাগতে পারে। ৩. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—জরুরি: ফি ২২০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ২০ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—সাধারণ: ফি ৪৪ ডলার। প্রচারপত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৫. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—জরুরি: ফি ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৬. দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (ডিএনসি): ফি ৭৭ ডলার। প্রচারপত্রে প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৭. জন্মনিবন্ধন: ফি ২ ডলার। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত ফি ও সময়সীমা আয়োজকদের প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ফি বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সময়সীমা কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রচারপত্রে আরও জানানো হয়েছে, সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ফটোকপি, মানি অর্ডার এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোন সেবার জন্য কোন ধরনের অর্থ পরিশোধ গ্রহণ করা হবে, তা আয়োজকদের কাছ থেকে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। আয়োজক ও যোগাযোগ এই বিশেষ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রমের আয়োজক হিসেবে রয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। প্রচারপত্রে সার্বিক সহযোগিতায় নিউ জার্সির প্যাটারসনের দ্বিতীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেবা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রচারপত্রে যোগাযোগের নম্বর হিসেবে (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি বদরুল খান-এর নম্বর (৬৪৬) ৮২৪-৮৮১৪ উল্লেখ রয়েছে। প্রবাসে বসবাস করেও বাংলাদেশের পরিচয় ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাই নির্ধারিত তারিখে সেবা নিতে আগ্রহীদের আগাম নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৮:৬
টেক্সাসে প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার সেবা

হিউস্টন টেক্সাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার সেবা হিউস্টনে: আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড ও ভিসা বুলেটিন

গ্রিন কার্ডের আবেদনে কিছুটা স্বস্তি, কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নির্ধারিত তারিখ

আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

সেপ্টেম্বরের বড় ধাক্কা কাটিয়ে গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

উটাহের মহাসড়কে তিন গাড়ির সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ
দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগেও ফোনে প র্ণ দেখছিলেন, প্রা ণহানির ঘটনায় বিপাকে ক্যালিফোর্নিয়ার নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী উটাহ অঙ্গরাজ্যে তিন গাড়ির সংঘর্ষে একজনের মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের মুখে পড়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার দুই মিনিটেরও কম সময় আগে তাঁর মুঠোফোন থেকে প র্ণ ভিডিও দেখার একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হয়েছিল। নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার সময় তাঁর চালানো গাড়িটি সামনে থাকা একটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি গাড়িই সড়কের বাইরে চলে যায় এবং একজন যাত্রী প্রা ণ হারান।   অভিযুক্ত নারীর নাম ক্রিস্টিন চাও। ৪৪ বছর বয়সী চাও ক্যালিফোর্নিয়ার রোজমিড শহরের বাসিন্দা। গত ২০ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহারসংক্রান্ত কারণে প্রা ণহানির অভিযোগ আনা হয়। উটাহ অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় শ্রেণির গুরুতর অপরাধ। দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন, উটাহের জুয়াব কাউন্টিতে লেভান এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ১৫ মহাসড়কের উত্তরমুখী লেনে। ওই সময় সড়কে নির্মাণকাজ চলছিল। ফলে যানবাহনগুলোকে গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছিল। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চাও একটি নীল রঙের এসইউভি চালাচ্ছিলেন। সামনে থাকা গাড়িগুলোর গতি কমে এলে তাঁর গাড়িটি একটি সাদা সেডানের পেছনে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার কারণে সেডানটি সামনে থাকা একটি কালো এসইউভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি গাড়িই মহাসড়কের বাইরে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি সেবাকর্মী ও হাইওয়ে টহল পুলিশ। সেডান গাড়িতে থাকা ৬৬ বছর বয়সী স্কট লিচফিল্ড মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। তিনি উটাহের ফিলমোর শহরের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের কাছে চাও দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের আগে তিনি গাড়ির গতি কমানোর চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ সড়কে ব্রেক করার কোনো চিহ্ন দেখতে পায়নি। তদন্তকারীদের মতে, এমন চিহ্ন থাকলে সংঘর্ষের আগে গাড়ি থামানোর চেষ্টা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত। এরপর তদন্তের অংশ হিসেবে চাওয়ের মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ফোনের তথ্য পরীক্ষা করতে আদালতের অনুমতিও নেওয়া হয়। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, দুর্ঘটনার দুই মিনিটেরও কম সময় আগে ফোনটি থেকে প র্ণ ভিডিও দেখার জন্য পরিচিত একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হয়েছিল। তদন্তে ফোনের এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ওয়েবসাইটে প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেলেও সংঘর্ষের ঠিক মুহূর্তে চাও কী করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। ফোনে ওয়েবসাইট ব্যবহারের সময় এবং দুর্ঘটনার মধ্যকার সম্পর্ক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, অভিযোগের সব বিষয় আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনো বাকি। চাওকে দুর্ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে গ্রে প্তার করা হয়নি। তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। আগামী ১৭ নভেম্বর উটাহে তাঁর প্রথম আদালত উপস্থিতির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার চালকের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে নির্মাণকাজের এলাকায় যানবাহনের গতি হঠাৎ কমে গেলে সামনের গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মামলায় ফোন ব্যবহারের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক কতটা ছিল, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হবে।   চাওয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করার আইনি নীতি প্রযোজ্য থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৫:৯
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব গুগলকে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিকের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, গুগল রাজি হয়নি: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ফেলোস প্রোগ্রামের ২০২৭ সালের ব্যাচে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হার্ভার্ডে এনভায়রনমেন্ট গবেষণায় ফেলোশিপ, বছরে বেতন ৯২ হাজার ডলার

পরিচিত নারীর চায়ে বেঞ্জোডায়াজেপিন মেশানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ৫২ বছর বয়সী রোহওয়েনিভেন বাকানি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চায়ে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা, বান্ধবী গ্রেফতার

ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তার বাড়িতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়। তবে ওমর কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তটিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তল্লাশির বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন ওমর। তিনি জানান, ভোরে প্রায় ছয়টার দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতিপত্র নিয়ে তার দরজায় হাজির হন। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোবাইল ফোন, নোটবুক, সোমালি ভাষায় লেখা শিশুদের একটি বই এবং একটি পুরোনো ক্যামেরাসহ মোট ১৭টি সামগ্রী নিয়ে যান তদন্তকারীরা।   ওমরের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়টি গত ১২ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আদালতের অনুমোদন নিয়ে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান একটি ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তটি ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমনও পাঠানো হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন।   সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে কোনো অনিয়ম করেননি বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ কীভাবে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। তার মতে, এমন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির একজন পরিচিত সমালোচক। তার বিরুদ্ধে তদন্তের সময় নিয়েও ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এমন তল্লাশি চালানোকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাধারণত নির্বাচনের ঠিক আগে প্রার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি অনুসরণ করে, যদিও এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা সর্বক্ষেত্রে এক নয়।   তল্লাশির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওমর বলেন, তদন্তকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তল্লাশিতে নেওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন এবং অন্য জিনিসপত্র আগের জায়গায় রেখে যান। তিনি তাদের আচরণকে অনধিকারচর্চামূলক হলেও ভদ্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই ঘটনা তার বাড়িতে নিরাপদ বোধ করার অনুভূতিকে নষ্ট করেছে বলে জানান তিনি।   ওমরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের অভিযোগগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা জানাননি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ২৩:৫১
হাসপাতালে মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর মর্গে শ্বাস নিতে দেখা যায় শিশু ভিনসেন্ট ফিওরদিলিনোকে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ঘোষণার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালের মর্গে শ্বাস নিচ্ছিল শিশু, চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন পরিবারের

কানসাস সিটির একটি গির্জা থেকে ঐতিহ্যবাহী ক্রুশসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী চুরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির গির্জা থেকে ক্রুশ, রুপার পানপাত্র ও যিশুর মূর্তি চুরি

আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে গুগল সিইও সুন্দর পিচাইয়ের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প

0 Comments