নিউ জার্সির প্যাটারসনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা, মিলবে এনআইডি করার সুযোগ
নিউ জার্সির প্যাটারসনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা আয়োজন করতে যাচ্ছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার নিউ জার্সির প্যাটারসনে এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত প্রচারপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট পুনঃইস্যু, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন এফ কেনেডি হাইস্কুলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের ঠিকানা ৬১–১২৭ প্রিকনেস অ্যাভিনিউ, প্যাটারসন, নিউ জার্সি ০৭৫০২। প্রচারপত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা গ্রহণের সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে যেভাবে নিবন্ধন করবেন
প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে আগ্রহীদের প্রথমে বাসায় বসে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষ হলে নিবন্ধন নম্বরের স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ জন্য যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়েছে +১ (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২। প্রচারপত্রে নিবন্ধনের নম্বর পাঠানোর শেষ সময় হিসেবে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়োজকদের নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত কোনো নথি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নম্বর না পাঠালে ওই ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে প্রচারপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই আগ্রহীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ফি ও সময়সীমা
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার প্রকাশিত প্রচারপত্রে বিভিন্ন সেবার জন্য যে ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ভিসা ছাড়া প্রবেশের সনদ (এনভিআর): ফি ৮৮ ডলার। প্রচারপত্রে একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—সাধারণ: ফি ১১০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ৩৫ কর্মদিবস লাগতে পারে।
৩. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—জরুরি: ফি ২২০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ২০ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—সাধারণ: ফি ৪৪ ডলার। প্রচারপত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি।
৫. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—জরুরি: ফি ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৬. দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (ডিএনসি): ফি ৭৭ ডলার। প্রচারপত্রে প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়নি।
৭. জন্মনিবন্ধন: ফি ২ ডলার। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখিত ফি ও সময়সীমা আয়োজকদের প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ফি বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সময়সীমা কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা
প্রচারপত্রে আরও জানানো হয়েছে, সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ফটোকপি, মানি অর্ডার এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোন সেবার জন্য কোন ধরনের অর্থ পরিশোধ গ্রহণ করা হবে, তা আয়োজকদের কাছ থেকে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
আয়োজক ও যোগাযোগ
এই বিশেষ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রমের আয়োজক হিসেবে রয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। প্রচারপত্রে সার্বিক সহযোগিতায় নিউ জার্সির প্যাটারসনের দ্বিতীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সেবা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রচারপত্রে যোগাযোগের নম্বর হিসেবে (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি বদরুল খান-এর নম্বর (৬৪৬) ৮২৪-৮৮১৪ উল্লেখ রয়েছে।
প্রবাসে বসবাস করেও বাংলাদেশের পরিচয় ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাই নির্ধারিত তারিখে সেবা নিতে আগ্রহীদের আগাম নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreব্যস্ত মহাসড়কের গার্ডরেলের নিচে প্রায় চোখের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ছোট্ট একটি বিড়ালছানা। পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছিল একের পর এক গাড়ি। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারত প্রাণীটি। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বিড়ালছানাটির দুটি ছোট কান চোখে পড়ে উদ্ধারকর্মী টাজের। এরপর আর দেরি করেননি তিনি। চার লেনের ব্যস্ত সড়ক পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যান অসহায় প্রাণীটিকে বাঁচাতে। সেই উদ্ধার অভিযানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ছোট্ট বিড়ালটির জীবনের নতুন অধ্যায়। ঘটনাটি শুধু একটি প্রাণী উদ্ধারের গল্প নয়, বরং বিপদের মুখে থাকা একটি অসহায় প্রাণীর জন্য একজন মানুষের সাহসিকতা, মমতা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ। বিড়ালছানাটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পর জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থাও ছিল বেশ নাজুক। উদ্ধারকর্মী টাজ যখন গার্ডরেলের নিচে বিড়ালছানাটিকে দেখতে পান, তখন প্রাণীটি ছিল ভীতসন্ত্রস্ত। চারপাশে দ্রুতগতির যানবাহন থাকায় তার জন্য বিপদ ছিল আরও বেশি। ছোট্ট প্রাণীটি কখন কোথায় চলে যায়, সেই আশঙ্কাও ছিল। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেন টাজ। চার লেনের যানবাহনপূর্ণ সড়ক পার হয়ে সতর্কতার সঙ্গে গার্ডরেলের নিচে হাত বাড়িয়ে বিড়ালছানাটিকে উদ্ধার করেন তিনি। তবে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার পরও স্বস্তির সুযোগ ছিল না। বিড়ালছানাটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে পানিশূন্যতায় ভুগছিল এবং তার ওজনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। প্রয়োজন ছিল যথাযথ চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত যত্নের। মহাসড়কের তাৎক্ষণিক বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাকে আরও একটি কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতো। বিড়ালছানাটির নাম রাখা হয় সুইপ। এরপর শুরু হয় তার সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই। প্রয়োজনীয় যত্ন, ভালোবাসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উন্নতি করতে থাকে তার শারীরিক অবস্থা। যে ছোট্ট প্রাণীটি একসময় মহাসড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় লুকিয়ে ছিল, সে ধীরে ধীরে ফিরে পেতে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য। বর্তমানে সুইপ বেশ সুস্থ, চঞ্চল এবং প্রাণবন্ত। তার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। সে বেশ ডাকাডাকি করে এবং নিজের উপস্থিতি জানান দিতে ভালোবাসে। বিপজ্জনক সড়কের পাশে অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ে থাকা বিড়ালছানাটির জীবনে এখন অনেকটাই বদল এসেছে। কিন্তু তার জীবনের গল্পের শেষ অধ্যায় এখনো বাকি। সুইপের জন্য প্রয়োজন এমন একটি স্থায়ী পরিবার, যারা তাকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবে এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেবে। উদ্ধার ও সুস্থতার পর এখন তার অপেক্ষা একটি চিরস্থায়ী আশ্রয়ের। একটি সাহসী উদ্ধার অভিযান সুইপের জীবন বদলে দিয়েছে। এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে এমন একটি পরিবার, যেখানে সে আর কখনো একা বা অসহায় বোধ করবে না। মহাসড়কের বিপজ্জনক গার্ডরেলের নিচ থেকে শুরু হওয়া তার নতুন যাত্রা পূর্ণতা পাবে সেই দিন, যেদিন সে খুঁজে পাবে নিজের ভালোবাসার ঘর।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের তথ্য
নিউ জার্সির প্যাটারসনে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা, মিলবে এনআইডি করার সুযোগ
হিউস্টন টেক্সাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার সেবা হিউস্টনে: আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষায় থাকা কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের নির্ধারিত তারিখ এগিয়েছে। বিশেষ করে ইবি-২ ও ইবি-৩ শ্রেণিতে ভারত ও চীন ছাড়া বেশ কয়েকটি দেশের আবেদনকারীরা সুবিধা পেতে পারেন। তবে ভারত ও চীনের আবেদনকারীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি এখনো রয়েছে। ভিসা বুলেটিনে আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়া এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এবং গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত তারিখ এক নয়। তাই কোনো শ্রেণির তারিখ এগিয়েছে দেখেই সব আবেদনকারী এখনই গ্রিন কার্ড পাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ইবি-২ শ্রেণিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য। এই শ্রেণিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন আবেদনকারীরা অন্তর্ভুক্ত। নভেম্বর মাসে ভারত ও চীন ছাড়া অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ তিন মাস এগিয়ে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল করা হয়েছে। তবে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ শ্রেণির তারিখ রয়েছে ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর। চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তারিখটি ২০২১ সালের ১ অক্টোবরেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দেশভেদে অপেক্ষার সময়ের বড় পার্থক্য বজায় আছে। ইবি-৩ শ্রেণিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। এই শ্রেণির আওতায় দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন অন্যান্য কর্মীরা আবেদন করতে পারেন। অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। মেক্সিকোর আবেদনকারীদের জন্যও একই তারিখ প্রযোজ্য। ভারতের ক্ষেত্রে ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি হয়েছে। চীনের আবেদনকারীদের জন্য তারিখ দুই সপ্তাহ এগিয়ে ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের তারিখ ২০২৩ সালের ১৫ আগস্টে অপরিবর্তিত রয়েছে। ইবি-৩-এর ‘আদার ওয়ার্কার্স’ শ্রেণিতেও পরিবর্তন এসেছে। সাধারণত যেসব কাজের জন্য দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেগুলোর কিছু আবেদন এই শ্রেণির আওতায় পড়ে। অধিকাংশ দেশ ও মেক্সিকোর আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ পাঁচ মাস এগিয়ে ২০২২ সালের ১ জুন হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে তারিখ ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইবি-১ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের জন্য ভিসার তারিখ এখনো ‘কারেন্ট’ বা বর্তমান রয়েছে। অর্থাৎ এ শ্রেণিতে নির্ধারিত কাট-অফ তারিখের কারণে আলাদা অপেক্ষা নেই। তবে অন্যান্য যোগ্যতা ও ভিসার প্রাপ্যতার শর্ত প্রযোজ্য। চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য ইবি-১-এর তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে তারিখ ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতেই রয়েছে। ইবি-৪ শ্রেণিতে, যেখানে নির্দিষ্ট ধরনের বিশেষ অভিবাসীরা অন্তর্ভুক্ত, সব তালিকাভুক্ত দেশের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর রয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের ইবি-৫ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের জন্য সাধারণ বা ‘আনরিজার্ভড’ ক্যাটাগরি বর্তমান রয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য তারিখ ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ভারতের জন্য ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বরেই রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বিনিয়োগ, উচ্চ বেকারত্বের এলাকায় বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত ইবি-৫-এর তিনটি শ্রেণি সব তালিকাভুক্ত দেশের জন্য বর্তমান রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকা বা ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ থেকে আলাদা। নভেম্বরের বুলেটিনে ইবি-২ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জমার তারিখ ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ রয়েছে। ভারতের জন্য তা ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং চীনের জন্য ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। ইবি-৩ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের আবেদন জমার তারিখ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট; ভারতের জন্য ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ফিলিপাইনের জন্য ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দিতে ইচ্ছুকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নভেম্বর মাসে কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমার উপযুক্ত তালিকা দেখতে হবে। তাই আবেদনকারীদের নিজেদের শ্রেণি, জন্মদেশ এবং প্রায়োরিটি ডেট মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভিসার তারিখ এগোলেও ভবিষ্যতেও একইভাবে এগোবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা ও ভিসার প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে কোনো মাসে তারিখ পিছিয়েও যেতে পারে। তাই আবেদনকারীদের নিয়মিত ভিসা বুলেটিন দেখা এবং নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
সেপ্টেম্বরের বড় ধাক্কা কাটিয়ে গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগেও ফোনে প র্ণ দেখছিলেন, প্রা ণহানির ঘটনায় বিপাকে ক্যালিফোর্নিয়ার নারী
আটলান্টিকের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, গুগল রাজি হয়নি: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ফেলোস প্রোগ্রামের ২০২৭ সালের ব্যাচে আবেদন গ্রহণ চলছে। দুই বছরের এই গবেষণা ফেলোশিপে নির্বাচিতরা বছরে ৯২ হাজার ডলার বেতন পাবেন। বাংলাদেশিসহ যোগ্য আন্তর্জাতিক গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় বিকেল পাঁচটা। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর দ্য এনভায়রনমেন্টের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ব্যাচে প্রায় পাঁচজনকে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিতরা হার্ভার্ডের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে পরিবেশের জটিল সমস্যা নিয়ে গবেষণা করবেন। প্রচারিত ছবিতে কর্মসূচিটিকে ২০২৬ সালের বলা হলেও বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে ২০২৭ সালের ব্যাচের জন্য। বার্ষিক বেতনের পাশাপাশি ফেলোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা পাবেন। স্থানান্তরের খরচ বাবদ সর্বোচ্চ আড়াই হাজার ডলার ফেরত দেওয়া হবে। ভ্রমণ ও অন্যান্য পেশাগত খরচের জন্য বছরে আরও আড়াই হাজার ডলার বরাদ্দ থাকবে। সহকর্মী গবেষক ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আবেদনকারীদের পিএইচডি বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সমমানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সময়সীমা হতে হবে ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে। যেসব বিষয়ে পিএইচডি প্রচলিত সর্বোচ্চ ডিগ্রি নয়, সেসব ক্ষেত্রের সমমানের ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে এবং ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব শুরুর আগে প্রয়োজনীয় ডিগ্রির শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেই এই পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের যোগ্য হওয়া যাবে না। আবেদনের আগে হার্ভার্ডের উপযুক্ত একজন বা একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে গবেষণার তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় অফিস বা ল্যাবের জায়গা দেওয়ার সম্মতি নিতে হবে। শিক্ষককে আবেদনকারীর গবেষণায় সহায়তার প্রতিশ্রুতিসহ সমর্থনপত্র দিতে হবে। এই সমর্থনপত্র ছাড়া আবেদন পর্যালোচনা করা হবে না বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। প্রস্তাবিত গবেষণাও আবেদনকারীর পিএইচডির কাজের বাইরে স্বতন্ত্র অনুসন্ধানের বিষয় হতে হবে। হার্ভার্ডের অনলাইন আবেদনব্যবস্থায় প্রকাশনার তালিকাসহ সিভি, সর্বোচ্চ পাঁচ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রস্তাব এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রকাশনা বা লেখার নমুনা জমা দিতে হবে। গবেষণা প্রস্তাবের তথ্যসূত্র পাঁচ পৃষ্ঠার সীমার বাইরে রাখা যাবে। পাশাপাশি তিনটি সুপারিশপত্র প্রয়োজন, যার একটি হতে হবে আবেদনকারীর গবেষণা অভিসন্দর্ভের উপদেষ্টার কাছ থেকে। সুপারিশপত্র ও হার্ভার্ডের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের সমর্থনপত্র জমার শেষ সময় ১১ ডিসেম্বর, ইস্টার্ন সময় বিকেল পাঁচটা। নির্বাচিত গবেষকদের দুই বছর ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজ এলাকায় থেকে কাজ করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে নির্বাচনের ফল জানানোর পরিকল্পনা করেছে। বিদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে সহায়তার জন্য হার্ভার্ডের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও কর্মসূচির নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।
ব্যাংক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চায়ে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা, বান্ধবী গ্রেফতার
অভিবাসন জালিয়াতির তদন্তে বাড়িতে তল্লাশি, ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন ইলহান ওমর