যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে বড় হতাশা, আট মাসে অনুমোদন কমেছে ৭২ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে আট লাখের বেশি হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া বহু অভিবাসীর নাগরিকত্ব গ্রহণের পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ১৩ মাসে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের সময় পেতে দেরি হচ্ছে, আবার কারও নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বা নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান বাতিল কিংবা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আরও কঠোর হয়েছে। নাগরিকত্বপ্রার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা, নাগরিকত্ববিষয়ক জ্ঞান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ব্যক্তিগত আচরণ ও অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত কিছু নাগরিকত্বের আবেদনও পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত পেতে দেরি হওয়ায় আবেদনকারীদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে। কাজ, বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের আশায় নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ সময়মতো প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে কিছু আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্দেশ চাচ্ছেন। তবে এ ধরনের মামলা করতে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত আইনি খরচ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল আবেদনকারীদের জন্য এই পথও সহজ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন বা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের বর্তমান আবেদন-অবস্থা ও সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা উচিত। তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে সব বাংলাদেশির আবেদন একই হারে কম অনুমোদিত হচ্ছে; প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা অনুমোদনের হার দেওয়া হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভার লাইসেন্স হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে রিপ্লেসমেন্টের আবেদন করা যায়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য অনলাইনেও এই সুবিধা রয়েছে। তবে আবেদন করার শর্ত, ফি ও কার্ড পাওয়ার সময় রাজ্যভেদে আলাদা। অনলাইনে আবেদন করা গেলেও নতুন কার্ড হাতে পেতে সময় লাগে। তাই ‘৩০ মিনিটেই সমাধান’ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। লাইসেন্সের কার্ড হারানো এবং গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল হওয়া এক বিষয় নয়। তবে কার্ড সঙ্গে না থাকলেই নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানো যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। নিউইয়র্কের আইনে পুলিশের অনুরোধে বৈধ লাইসেন্স দেখাতে না পারলে চালক যথাযথভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন বলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে গাড়ি চালানোর আগে গ্রহণযোগ্য লাইসেন্স বা অস্থায়ী নথি সঙ্গে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। নিউইয়র্কে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের একই ধরন বজায় রেখেও অনলাইনে রিপ্লেসমেন্ট চাওয়া যায়। শুধু রিয়েল আইডি নেই বলে ডিএমভি অফিসে যেতেই হবে, এমন নিয়ম নেই। ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে আবেদন করতে ডিএমভি আইডি নম্বর, জন্মতারিখ, জিপ কোড, ইমেইল এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা লাগে। প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলে ডাকযোগে অথবা অফিসে আবেদন করতে হয়। নিউইয়র্কে রিপ্লেসমেন্ট ফি ১৭ ডলার ৫০ সেন্ট। চুরি বা অপরাধের কারণে লাইসেন্স হারালে বিনা ফিতে রিপ্লেসমেন্ট পাওয়ার জন্য পুলিশ সংস্থা থেকে এমভি ৭৮বি ফর্ম নিতে হয়। সাধারণভাবে কার্ড হারিয়ে যাওয়া মাত্রই এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। নতুন কার্ড ডিএমভির রেকর্ডে থাকা ঠিকানায় পাঠানো হয়, তাই আবেদন করার আগে ঠিকানা ঠিক আছে কি না দেখে নেওয়া দরকার। ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণ ক্লাস সি ড্রাইভার লাইসেন্স হারানো বা চুরি হলে রিপ্লেসমেন্ট ফি ৩৭ ডলার। অনলাইনে আবেদন করতে মাইডিএমভি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হয়। তবে সাধারণ লাইসেন্সের এই অনলাইন আবেদনব্যবস্থা কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা আইডি কার্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। সেগুলোর রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করতে ডিএমভি অফিসে যেতে হয়। টেক্সাসে রিপ্লেসমেন্ট ড্রাইভার লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি ১১ ডলার। কার্ডের সামনের তথ্য অপরিবর্তিত রেখে অনলাইনে আবেদন করতে লাইসেন্স নম্বর, জন্মতারিখ, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা এবং সর্বশেষ কার্ডের অডিট নম্বর লাগে। এসব তথ্য না থাকলে স্থানীয় ড্রাইভার লাইসেন্স অফিসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। টেক্সাসের ডিপিএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন ব্যক্তিরাও অনলাইন কার্ড রিপ্লেসমেন্টের যোগ্য হতে পারেন। অস্থায়ী লাইসেন্স পাওয়ার ব্যবস্থাও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে। নিউইয়র্কের সরকারি নির্দেশনায় অনলাইন রিনিউয়াল বা রিপ্লেসমেন্ট শেষে অস্থায়ী নথি প্রিন্ট করার সুবিধার কথা রয়েছে। তবে সব রাজ্যে আবেদন করামাত্র একই ধরনের কাগজ পাওয়া যায়, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। আবেদন শেষে দেওয়া নির্দেশনা পড়ে অস্থায়ী নথির মেয়াদ ও ব্যবহারের শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। লাইসেন্স চুরি হয়ে প্রতারণায় ব্যবহৃত হলে পুলিশ রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সাসের ডিপিএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে রিপোর্টের কপি নিয়ে অফিসে গেলে পরিচয় সুরক্ষার জন্য নতুন লাইসেন্স নম্বর দেওয়া প্রয়োজন কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। রিপ্লেসমেন্টের আবেদন করার সময় নিজের রাজ্যের সরকারি সংস্থার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে বড় হতাশা, আট মাসে অনুমোদন কমেছে ৭২ শতাংশ
৭৫ বছরে কর্মী ছাঁটাই করেনি আমেরিকার এই কোম্পানি, কর্মীদের যত্ন নিয়েই ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল
নিউইয়র্কে সস্তায় থাকার ঠিকানা: ম্যানহাটনে ৫টি ভেরিফাইড বাজেট হোটেল
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে বাড়ির ঋণসংক্রান্ত কিছু খরচ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং বন্ধকি ঋণের সুদের চাপ যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত গৃহঋণের ক্ষেত্রে বীমা প্রিমিয়াম ও পুনঃঅর্থায়নের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি করা। আদেশে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সিকে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে বাড়ির সম্পত্তিতে ঋণগ্রহীতার মালিকানার অংশ বা ইকুইটি প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে বন্ধকি ঋণের বীমা প্রিমিয়াম বাতিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এতে রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের ফলে সব ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা, কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের শর্তের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা প্রথমবার বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন অথবা ইতিমধ্যে বন্ধকি ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনেছেন, তাঁদের ঋণের শর্ত ও সম্ভাব্য সাশ্রয়ের বিষয়টি বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। বাড়ি কেনার আগে শুধু মাসিক কিস্তি নয়, বাড়ির বীমা, সম্পত্তি কর, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য নিয়মিত ব্যয়ও হিসাব করা জরুরি। নতুন সরকারি উদ্যোগ কার্যকর হলে যোগ্য কিছু বাড়ির মালিক উপকৃত হতে পারেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
শেষ বিদায়ের সময়েও ছেলেকে শ্বাস নিতে দেখেন মা, মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গে জীবিত শিশু
চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়ক পেরিয়ে বিড়ালছানাকে উদ্ধার, এরপর সামনে এল হৃদয়ছোঁয়া গল্প
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের তথ্য
নিউ জার্সির প্যাটারসনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা আয়োজন করতে যাচ্ছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার নিউ জার্সির প্যাটারসনে এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত প্রচারপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট পুনঃইস্যু, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন এফ কেনেডি হাইস্কুলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের ঠিকানা ৬১–১২৭ প্রিকনেস অ্যাভিনিউ, প্যাটারসন, নিউ জার্সি ০৭৫০২। প্রচারপত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা গ্রহণের সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে যেভাবে নিবন্ধন করবেন প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে আগ্রহীদের প্রথমে বাসায় বসে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষ হলে নিবন্ধন নম্বরের স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ জন্য যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়েছে +১ (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২। প্রচারপত্রে নিবন্ধনের নম্বর পাঠানোর শেষ সময় হিসেবে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত কোনো নথি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নম্বর না পাঠালে ওই ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে প্রচারপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই আগ্রহীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ফি ও সময়সীমা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার প্রকাশিত প্রচারপত্রে বিভিন্ন সেবার জন্য যে ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো। ১. ভিসা ছাড়া প্রবেশের সনদ (এনভিআর): ফি ৮৮ ডলার। প্রচারপত্রে একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—সাধারণ: ফি ১১০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ৩৫ কর্মদিবস লাগতে পারে। ৩. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—জরুরি: ফি ২২০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ২০ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—সাধারণ: ফি ৪৪ ডলার। প্রচারপত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৫. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—জরুরি: ফি ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৬. দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (ডিএনসি): ফি ৭৭ ডলার। প্রচারপত্রে প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৭. জন্মনিবন্ধন: ফি ২ ডলার। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত ফি ও সময়সীমা আয়োজকদের প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ফি বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সময়সীমা কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রচারপত্রে আরও জানানো হয়েছে, সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ফটোকপি, মানি অর্ডার এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোন সেবার জন্য কোন ধরনের অর্থ পরিশোধ গ্রহণ করা হবে, তা আয়োজকদের কাছ থেকে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। আয়োজক ও যোগাযোগ এই বিশেষ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রমের আয়োজক হিসেবে রয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। প্রচারপত্রে সার্বিক সহযোগিতায় নিউ জার্সির প্যাটারসনের দ্বিতীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেবা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রচারপত্রে যোগাযোগের নম্বর হিসেবে (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি বদরুল খান-এর নম্বর (৬৪৬) ৮২৪-৮৮১৪ উল্লেখ রয়েছে। প্রবাসে বসবাস করেও বাংলাদেশের পরিচয় ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাই নির্ধারিত তারিখে সেবা নিতে আগ্রহীদের আগাম নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হিউস্টন টেক্সাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার সেবা হিউস্টনে: আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য
গ্রিন কার্ডের আবেদনে কিছুটা স্বস্তি, কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নির্ধারিত তারিখ