রাসায়নিক গ্যাসে আতঙ্কিত ওহাইওর শত শত পরিবার, অবশেষে তুলে নেওয়া হলো বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলিডো শহরে একটি শিল্পকারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক শ মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়। তবে শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও তুলে নেয়। এখন ঘটনাস্থলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন এবং টলিডো শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে শহরের প্রগ্রেস অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত এমসি ট্যাংক টার্মিনালে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ট্যাংকে থাকা রাসায়নিকটির নাম গ্লাইসিডিল মেথাক্রাইলেট। এটি প্লাস্টিক, রং ও বিভিন্ন আবরণ তৈরির শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পদার্থটি চোখ, নাক, গলা ও ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
ঘটনার পর প্রথমে কারখানার এক মাইলের মধ্যে থাকা মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সম্ভাব্য রাসায়নিক ধোঁয়ার বিস্তার বিবেচনায় তিন মাইল এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা এলাকা ছোট করা হয়। ট্যাংকের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়া চলতে থাকায় কর্তৃপক্ষ সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে বিক্রিয়াটি শেষ হতে দেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, ওই অবস্থায় ট্যাংকের কাছে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
টলিডোর মেয়র ওয়েড ক্যাপসুকেভিচ জানান, রাসায়নিক স্থানান্তরের সময় একজন কর্মীর ভুলের কারণে ট্যাংকের ভেতরে তাপমাত্রা-সম্পর্কিত একটি পরিবর্তন ঘটে, যা রাসায়নিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কোম্পানি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে মেয়র জানান। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলছে।
স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগের উপসর্গ ছিল তুলনামূলকভাবে মৃদু। কয়েকজনের আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা নেওয়া সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে টলিডো ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ রাসায়নিক নির্গমন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ তুলে নেয়। পরে অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অধীনে কারখানার মালিকদের কাছে ঘটনাস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা—ইপিএ—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বাতাসের মান পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে।
তবে নির্দেশ তুলে নেওয়া মানেই সব পর্যবেক্ষণ শেষ হয়ে গেছে, এমন নয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকায় বাতাসের নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে। রাসায়নিক ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থাকলে বাসিন্দাদের ঘরের খোলা খাবার ও বাইরে রাখা ফলমূল-সবজি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার খেলার মাঠ পরিষ্কারের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
টলিডোর এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কমিউনিটির জন্য শিল্পকারখানার নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে কারখানা বা রাসায়নিক সংরক্ষণাগারের আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় জরুরি সতর্কতা অনুসরণ করা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যগত উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্যান্টন শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক মা ও তাঁর চার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পরিবারটির বাবা ও আরেক সন্তান বেঁচে গেলেও তাঁদের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চলছে। প্রিয়জনদের হারানোর শোকের মধ্যেই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবেশী, স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটির সদস্যরা। সিবিএস নিউজ টেক্সাসের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোরে ভ্যান জান্ট কাউন্টিতে পরিবারটির বাড়িতে আগুন লাগে। নিহত মায়ের নাম জেসমিন হেনসন। তাঁর চার সন্তানের নাম রবার্ট মিচেল, ট্রয় মিচেল, লেভি মিচেল ও অ্যাভ্রিল মিচেল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় বাড়ি থেকে কয়েকজন বের হতে সক্ষম হন। দমকলকর্মীদের ভেতরে পৌঁছাতে বাড়ির বাইরের একটি দেয়াল ভাঙতে হয়েছিল। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু আগুনে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ায় মা ও চার সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই পরিবারের জন্য ঘটনাটি শুধু একটি বাড়ি হারানোর ঘটনা নয়; মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষগুলোকে হারানোর অসহনীয় বাস্তবতা। পরিবারটির বাবা ও বেঁচে যাওয়া সন্তান এখন শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি গভীর মানসিক আঘাত সামলানোর কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের তাঁরা প্রায়ই বাড়ির আশপাশে খেলতে দেখতেন। তাদের হাসি, ছোটাছুটি ও স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন এখন সেই এলাকার মানুষের স্মৃতিতে বেদনাদায়ক হয়ে থাকবে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এদিকে পরিবারটির চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তা সংগ্রহ করছেন। শনিবার একটি তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন দুর্যোগের পর প্রতিবেশীদের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, বিপদের সময়ে একটি কমিউনিটির মানুষের পাশে দাঁড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পরিবারটির এই মর্মান্তিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পারিবারিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বাড়িতে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র সচল রাখা, আগুন লাগলে বের হওয়ার পথ আগে থেকে নির্ধারণ করা এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি শেখানো জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার নেই, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিল আপিল আদালত
হিউস্টনের স্কুলে বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় তৎপর পুলিশ, আটক এক শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রকডেল কাউন্টিতে সালেম হাইস্কুলের ফুটবল দলকে বহনকারী একটি বাস উল্টে ২২ জন শিক্ষার্থী এবং তিন স্টাফ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার রাতে গুইনেট কাউন্টিতে গ্রেটার আটলান্টা ক্রিশ্চিয়ানের বিপক্ষে খেলা শেষে ফেরার পথে রাত ১০টা ৪৮ মিনিটের দিকে জর্জিয়া হাইওয়ে ১৩৮ এবং ইন্টারস্টেট ২০-এর সংযোগস্থলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। জর্জিয়া স্টেট প্যাট্রোল (জিএসপি) জানিয়েছে, ৭৪ বছর বয়সী বাসচালক হাইওয়ে থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বাসটি হাইওয়ে ১৩৮-এর সমস্ত লেন অতিক্রম করে বিপরীত দিকের লেনে চলে যায় এবং একটি কালো রঙের কিয়া সোল গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় বাসচালক ও প্রাইভেটকার চালক উভয়কেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কয়েকজনকে তাদের অভিভাবকরা নিয়ে যান এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে (লাইফ ফ্লাইট) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জিএসপি এবং রকডেল কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, পুলিশ, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং ন্যাশনাল ইএমএস কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছেন। ঘটনাস্থলের কাছের এক গ্যাস স্টেশনে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রচণ্ড বিকট শব্দ শুনে তিনি পেছনে ফিরে তাকান এবং মুহূর্তেই স্কুল বাসটিকে রাস্তায় উল্টে থাকতে দেখেন।
রাসায়নিক গ্যাসে আতঙ্কিত ওহাইওর শত শত পরিবার, অবশেষে তুলে নেওয়া হলো বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, অনুমোদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা
বাবা-মা আটক, ভেঙে গেল এক পরিবারের স্বপ্ন! ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব ১৮ বছরের তরুণীর কাঁধে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড শহরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় কিছু পরিবার ঘর থেকে বের হওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। বিষয়টি বিশেষ করে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় একটি বেকারির মালিক মারিয়া ওলমেদো জানান, অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাঁর ব্যবসায় ক্রেতা কমে গেছে। তিনি শুধু ব্যবসা সামলাচ্ছেন না; যারা বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য তথ্য ও সহায়তার ব্যবস্থাও করছেন। কিছু মায়ের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে আসতেও সাহায্য করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্বেগ আরও বেড়েছে একটি গাড়ি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর এক আইসিই কর্মকর্তা চালিত গাড়ি উডল্যান্ডের এক বাসিন্দাকে ধাক্কা দেয়। ওই ব্যক্তি গাড়িটির ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে উডল্যান্ড পুলিশ বিভাগ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন দিকের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও পরিবারগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আশ্বস্ত করেছে যে, অভিবাসন-স্থিতি নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। অভিভাবকদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে পরিবারগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য আইনি তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিস্থিতিতে কী অধিকার প্রযোজ্য, তা ব্যক্তির পরিস্থিতি ও আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের বদলে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয়—স্থানীয় স্কুলের বার্তা, শহর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। তবে উডল্যান্ডের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরের পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; অভিবাসন অভিযান ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আমেরিকায় নতুন সাশ্রয়ী বাসস্থান, নিউইয়র্কের শত শত পরিবারের জন্য বড় সুযোগ
বন্যায় ধ্বংস ৯৪ বছরের বৃদ্ধার ৫০ বছরের বাড়ি, শেষ সম্বল বাঁচাতে লড়ছে পরিবার