নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দুই অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা। রাজ্য আইনসভায় একই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উদ্যোগের সমর্থকেরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের চেষ্টা করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে সরাসরি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভোটের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন উদ্যোগ।
কলোরাডো ও ওয়াশিংটন, উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণের প্রশ্নে সেখানে মতবিরোধ তীব্র। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা বলছেন, নারী ক্রীড়াবিদদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিরোধীদের মতে, এ পদক্ষেপ ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোরদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করবে এবং খেলাধুলায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন রয়েছে।
দুই অঙ্গরাজ্যের প্রস্তাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কলোরাডোর প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের ক্রীড়া দলগুলোতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে জৈবিক লিঙ্গকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের জৈবিক লিঙ্গের প্রমাণ দিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গসংস্থান, জিনগত বৈশিষ্ট্য অথবা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ভিত্তিতে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবের সমর্থকেরা মনে করেন, চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জটিল কিছু নয়। ওয়াশিংটনের উদ্যোগের মুখপাত্র হ্যালি হার্জবার্গের ভাষ্য, চিকিৎসকের কাছে থাকা রোগীর আগের তথ্য বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি ব্যবহার করেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তবে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের বিধান কার্যকর করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক লিবি লফটের মতে, অল্পসংখ্যক ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ যাচাইয়ের জন্য সব মেয়ের ওপর অতিরিক্ত চিকিৎসা পরীক্ষার চাপ তৈরি করা অযৌক্তিক হতে পারে।
বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়েছে। এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যালট ইনিশিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস মেলোডি ফিল্ডস ফিগুয়েরেডো বলেছেন, ২০২৬ সালের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমন নীতির বিস্তার কীভাবে ঘটতে পারে, তার একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কথা বলছেন। ওয়াশিংটনের এক স্কুলছাত্রী আনালেই উইলসন দাবি করেছেন, অতীতে দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদের কাছে দ্বিতীয় স্থান পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর এ বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া দলে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সমর্থকেরা জরিপের ফলকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে দেখালেও বিরোধীরা বলছেন, নীতির প্রভাব শুধু ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা অন্য মেয়েদেরও খেলাধুলা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এই ভোটের ফল শুধু দুই অঙ্গরাজ্যের ক্রীড়ানীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এর আগে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ট্রান্সজেন্ডার মেয়েদের স্কুলের নারী ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন বহাল রেখেছে। তবে কলোরাডো ও ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এসব বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রাচীন চীনে নারীর সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার একটি বিশেষ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতো ছোট পা। এই ধারণা থেকেই কয়েক শতাব্দী ধরে প্রচলিত ছিল ‘ফুট বাইন্ডিং’ বা পা বেঁধে রাখার প্রথা। এতে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের পায়ের আঙুলগুলো, বুড়ো আঙুল ছাড়া, পায়ের তলার দিকে ভাঁজ করে কাপড়ের ফিতা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হতো। সময়ের সঙ্গে বাঁধন আরও শক্ত করা হতো, যাতে পায়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং আকৃতি ছোট থাকে। কখনো পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৭ সেন্টিমিটার বা তিন ইঞ্চিতে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হতো। এমন পাকে বলা হতো ‘গোল্ডেন লোটাস’ বা ‘সোনালি পদ্মপা’। ইতিহাসবিদদের মতে, এই প্রথার প্রচলন শুরু হয় প্রায় এক হাজার বছর আগে। এর শুরুর সময় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও, চীনের সং রাজবংশের আমলে, বিশেষ করে দশম থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে, এর বিস্তার ঘটে। প্রথম দিকে রাজদরবারের নৃত্যশিল্পী ও অভিজাত পরিবারের নারীদের মধ্যে ছোট পায়ের প্রবণতা দেখা যায়। পরে তা ধীরে ধীরে সমাজের অন্যান্য শ্রেণিতেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছোট পা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল না, বরং পরিবারের সামাজিক অবস্থান এবং মেয়ের বিয়ের সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়। অনেক পরিবার মনে করত, ছোট পা মেয়েকে বিয়ের ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ এনে দিতে পারে। এই প্রথা অনুসরণ করা মেয়েদের জন্য প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক। সাধারণত শৈশবেই পা বাঁধা শুরু হতো। পায়ের ছোট আঙুলগুলো ভেতরের দিকে ভাঁজ করে কাপড় দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে রাখা হতো, ফলে পায়ের হাড় ও স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসত। পায়ের মাঝের অংশে অস্বাভাবিক বাঁক তৈরি হতো এবং আঙুলগুলো স্থায়ীভাবে ভাঁজ হয়ে থাকতে পারত। এতে হাঁটাচলায় অসুবিধা, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতো। ছোট আকারের পা ঢেকে রাখতে নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি জুতা ব্যবহার করা হতো, যেগুলো অনেক সময় সূক্ষ্ম নকশা ও সূচিকর্মে সাজানো থাকত। ছোট পাকে ঘিরে সৌন্দর্যের ধারণার পেছনে সামাজিক প্রত্যাশা ও নারীর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বাঁধা পা অনেক ক্ষেত্রে এমন একটি সামাজিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, যা বোঝাত ওই নারীকে কঠোর শারীরিক শ্রম করতে হয় না। কিছু পরিবারের কাছে এটি মেয়ের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর উপায় হিসেবেও বিবেচিত হতো। তবে এর ফলে নারীদের চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়ত এবং শরীরের স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতো। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব জাদুঘর এবং যুক্তরাষ্ট্রের চীনা জাদুঘরের ঐতিহাসিক বিবরণে বলা হয়েছে, এই প্রথা একসময় বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীদের জীবনযাপনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে চীনে পা বাঁধার প্রথার বিরুদ্ধে সংস্কার আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। বিশ শতকের শুরুতে সামাজিক পরিবর্তন এবং নারীদের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনার কারণে প্রথাটি ক্রমে কমতে শুরু করে। ১৯১২ সালে চীনের জাতীয়তাবাদী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পা বাঁধা নিষিদ্ধ করে। তবে নিষেধাজ্ঞার পরও কিছু গ্রামীণ এলাকায় বহু বছর ধরে এ রীতি চালু ছিল। ১৯৪৯ সালের পর এটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ আইন করে নিষিদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথাটি শেষ হয়ে যায়নি; সামাজিক অভ্যাস বদলাতে আরও সময় লেগেছিল। পা বাঁধার ইতিহাসের শেষ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯৯৯ সালে। চীনের হারবিন শহরের ঝিচিয়াং জুতা কারখানা সে বছর পা বাঁধা নারীদের জন্য বিশেষ জুতা তৈরির নিয়মিত উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। কারখানাটি আগে হাতে তৈরি ছোট জুতা উৎপাদন করত, যা ব্যবহার করতেন শৈশব থেকে পা বাঁধা থাকা বয়স্ক নারীরা। কারখানাটি বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে দীর্ঘদিনের এই প্রথার সামাজিক অবসানের একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে জাদুঘরে সংরক্ষিত ছোট জুতা ও ঐতিহাসিক ছবি সেই সময়ের নারীদের জীবন, সৌন্দর্যবোধ এবং সামাজিক প্রত্যাশার ইতিহাস তুলে ধরে। সূত্র: মিউজিয়াম অব চাইনিজ ইন আমেরিকা, মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব জাদুঘর এবং স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন।
২৫ বছর পর খুলল নিউ ইয়র্কের প্রবীণ সেবাকেন্দ্র, উদ্বোধন করলেন মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বার্ষিক খরচ ছাড়াল ১৬ হাজার ডলার
৯০ শিক্ষার্থীর অনুমোদন, পড়ছে ৩১৩ জন, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন চায় নিউ জার্সিয়ার ইসলামি স্কুল
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দুই অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা। রাজ্য আইনসভায় একই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উদ্যোগের সমর্থকেরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের চেষ্টা করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে সরাসরি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভোটের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন উদ্যোগ। কলোরাডো ও ওয়াশিংটন, উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণের প্রশ্নে সেখানে মতবিরোধ তীব্র। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা বলছেন, নারী ক্রীড়াবিদদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিরোধীদের মতে, এ পদক্ষেপ ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোরদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করবে এবং খেলাধুলায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন রয়েছে। দুই অঙ্গরাজ্যের প্রস্তাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কলোরাডোর প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের ক্রীড়া দলগুলোতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে জৈবিক লিঙ্গকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের জৈবিক লিঙ্গের প্রমাণ দিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গসংস্থান, জিনগত বৈশিষ্ট্য অথবা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ভিত্তিতে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকেরা মনে করেন, চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জটিল কিছু নয়। ওয়াশিংটনের উদ্যোগের মুখপাত্র হ্যালি হার্জবার্গের ভাষ্য, চিকিৎসকের কাছে থাকা রোগীর আগের তথ্য বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি ব্যবহার করেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তবে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের বিধান কার্যকর করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক লিবি লফটের মতে, অল্পসংখ্যক ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ যাচাইয়ের জন্য সব মেয়ের ওপর অতিরিক্ত চিকিৎসা পরীক্ষার চাপ তৈরি করা অযৌক্তিক হতে পারে। বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়েছে। এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যালট ইনিশিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস মেলোডি ফিল্ডস ফিগুয়েরেডো বলেছেন, ২০২৬ সালের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমন নীতির বিস্তার কীভাবে ঘটতে পারে, তার একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কথা বলছেন। ওয়াশিংটনের এক স্কুলছাত্রী আনালেই উইলসন দাবি করেছেন, অতীতে দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদের কাছে দ্বিতীয় স্থান পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর এ বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া দলে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সমর্থকেরা জরিপের ফলকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে দেখালেও বিরোধীরা বলছেন, নীতির প্রভাব শুধু ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা অন্য মেয়েদেরও খেলাধুলা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। এই ভোটের ফল শুধু দুই অঙ্গরাজ্যের ক্রীড়ানীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এর আগে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ট্রান্সজেন্ডার মেয়েদের স্কুলের নারী ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন বহাল রেখেছে। তবে কলোরাডো ও ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এসব বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে হ্যালোইন ক্যান্ডি বিক্রি, পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ
যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি সাংবিধানিক অধিকার নয়, আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে তুলনামূলক কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপার ম্যানহাটনের ইনউড এলাকায় অবস্থিত ইনউড গার্ডেন্স আবাসন প্রকল্পে এক থেকে তিন শয়নকক্ষের সমবায় অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে। যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ফ্ল্যাটের প্রাথমিক ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে এটি মাসিক ভাড়া নয়, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার প্রাথমিক মূল্য। এর পাশাপাশি ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচের জন্য প্রতি মাসে আলাদা অর্থ দিতে হবে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্যাচের ১৩ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনউড গার্ডেন্স একটি ২৩ তলাবিশিষ্ট আবাসন প্রকল্প। এটি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি মিচেল-লামার আওতাভুক্ত একটি সমবায় আবাসন। প্রকল্পটি ম্যানহাটনের ৪৫ ফেয়ারভিউ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় শয়নকক্ষের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি সময়সীমার পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। অ্যাপার্টমেন্টের আকার অনুযায়ী ক্রয়মূল্য ও মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচে পার্থক্য রয়েছে। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ ডলার এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭.১৫ থেকে ৯৩৯.৭১ ডলার। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার, যার মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৯২২.০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪.৫২ ডলার। তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১ হাজার ১৯২.৫৭ থেকে ১ হাজার ৪৩৫.২৩ ডলার। আবেদনের ক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয় ও সদস্যসংখ্যার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এক থেকে দুই সদস্যের পরিবারের আয় হতে হবে ২৮ হাজার ৬৮৬ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে। দুই শয়নকক্ষের জন্য দুই থেকে চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার ৮৮১.৬০ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলারের মধ্যে হতে হবে। আর তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবারের আয় হতে হবে ৪৭ হাজার ৭০২.৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের মধ্যে। আবেদন করার আগে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সংশ্লিষ্ট শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ইনউড গার্ডেন্সে বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিগত খোলা বারান্দা, গাড়ি রাখার জায়গা, কমিউনিটি কক্ষ, কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা এবং ভবন পরিচালনার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচের মধ্যে গরমের ব্যবস্থা, গরম পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্যাচ জানিয়েছে। ভবনটি থেকে হাডসন ও হারলেম নদীর দৃশ্য দেখা যায়। আশপাশে স্কুল এবং গণপরিবহনের সুবিধাও রয়েছে, যা কর্মজীবী পরিবারগুলোর যাতায়াতে সহায়ক হতে পারে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল বিভাগের সরকারি আবাসন অনুসন্ধান ওয়েবসাইটে গিয়ে ইনউড গার্ডেন্স বা তালিকা নম্বর HCR000211 খুঁজে আবেদন করতে পারবেন। কাগজে আবেদনপত্র পেতে প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে (২১২) ৯৪২-৫২৪০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। একই পরিবারের পক্ষ থেকে অনলাইনে ও কাগজে দুবার আবেদন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কারণ একাধিক আবেদন জমা দিলে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের আকার এবং অন্যান্য শর্তের সর্বশেষ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়া উচিত। মিচেল-লামা কর্মসূচি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মধ্যম ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে চালু করা হয়। এ ধরনের সমবায় আবাসনে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত হয় না। লটারির মাধ্যমে অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান নির্ধারণ করা হয় এবং উপযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলে তালিকার ক্রম ও যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সূত্র: প্যাচ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল বিভাগ। সরকারি আবেদন ওয়েবসাইট: https://housingsearch.hcr.ny.gov/housing/s/waitlist/a0Ycs00001nyK10EAE/hcr000211
পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিশুকে রক্ষা করলেন যুবক
বিল গেটসের শতকোটি ডলারের সম্পদ থেকে সন্তানেরা পাবেন মাত্র ১ শতাংশ, কেন এমন সিদ্ধান্ত