সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৫, যুদ্ধবিরতির পর বেড়েছে হামলার মাত্রা

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ১০:২৪
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.
Men carry the body of one of several victims who were killed after a police station was was hit by Israeli bombardment in the Jabalia camp.

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। 

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন।

 

এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।

 

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

 

অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা।

 

সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন।

 

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
১৯৫৪ সালে আলাবামার বাড়িতে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে আহত হন অ্যান হজেস। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির ছাদ ভেদ করে ৪ কেজির ওজনের উল্কাপিণ্ড আঘাত করলো ঘুমিয়ে থাকা নারীর শরীরে

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার সিলাকগায়া শহরের একটি সাধারণ দুপুর। ঘরের সোফায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন অ্যান হজেস। হঠাৎ ছাদ ভেদ করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল মহাকাশ থেকে আসা একটি পাথর। সেটি প্রথমে একটি রেডিওতে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি আঘাত হানে হজেসের শরীরে। ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৪ সালের ৩০ নভেম্বর।   মহাকাশ থেকে আসা সেই পাথরটি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ পাউন্ড বা ৩ দশমিক ৮৫ কেজি ওজনের একটি উল্কাপিণ্ড। আঘাতে হজেসের শরীরে বড় ধরনের কালশিটে পড়ে গেলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি পরবর্তীতে ইতিহাসে মানুষের শরীরে সরাসরি উল্কাপিণ্ড আঘাতের প্রথম সুস্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে প্রথমে স্থানীয়দের অনেকে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। বিকট শব্দে ঘর কেঁপে ওঠার পর কেউ কেউ বিমান দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের কথা ভেবেছিলেন। পরে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তুটি পৃথিবীর কোনো সাধারণ পাথর নয়, এটি একটি উল্কাপিণ্ড।   তখন ৩১ বা ৩৪ বছর বয়সী হজেস নিজের ঘরের সোফায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। উল্কাপিণ্ডটি ছাদ ভেদ করে ঘরে ঢুকে একটি বড় রেডিওতে আঘাত করার পর তার নিতম্ব ও উরুর অংশে লাগে। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, আঘাতে তার শরীরে বড় আকারের কালশিটে তৈরি হয়েছিল। তবে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর অবশ্য শারীরিক আঘাতের চেয়ে অন্য এক ধরনের ঝামেলাই হজেসের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছিল। রাতারাতি তিনি সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসেন। সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে তার ছবি প্রকাশিত হয়। এমনকি তাকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আই হ্যাভ গট আ সিক্রেট’-এও অংশ নিতে হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন পছন্দ করা হজেস এই অতিরিক্ত পরিচিতি মোটেও উপভোগ করেননি।   এরপর শুরু হয় উল্কাপিণ্ডটির মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ। হজেসরা যে বাড়িতে থাকতেন, সেটির মালিক ছিলেন বার্ডি গাই। বাড়ির ছাদ ভেদ করে উল্কাপিণ্ডটি ভেতরে পড়ায় বাড়ির মালিক সেটির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আইনি টানাপোড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত ৫০০ ডলারের বিনিময়ে মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এবং উল্কাপিণ্ডটি হজেসদের কাছেই থাকে। উল্কাপিণ্ডটি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা হলেও তা সহজ হয়নি। একপর্যায়ে হজেস পরিবার সেটিকে দরজার ঠেকনা হিসেবেও ব্যবহার করেছিল। পরে ১৯৫৬ সালে অ্যান হজেস সেটি আলাবামা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে দান করে দেন। বর্তমানে উল্কাপিণ্ডটি সেখানেই সংরক্ষিত রয়েছে।   এই ঘটনার সময় একই উল্কাবৃষ্টির আরেকটি অংশও কাছাকাছি এলাকায় পড়েছিল। কৃষক জুলিয়াস কে. ম্যাককিনি পরদিন একটি আলাদা খণ্ড খুঁজে পান। পরে সেটি স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সংগ্রহে যায়। ওই অংশটি বিক্রি করে ম্যাককিনি একটি ছোট খামার ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনার মতো অর্থ পেয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। উল্কাপিণ্ডের পৃথিবীতে পতন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে একটি উল্কাপিণ্ড সরাসরি কোনো মানুষের শরীরে আঘাত করা অত্যন্ত বিরল। ১৯৫৪ সালের সিলাকগায়া ঘটনার কারণেই অ্যান হজেসের নাম এই বিরল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র তাকে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে আহত হওয়া প্রথম নথিবদ্ধ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে।   অ্যান হজেসের ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে কারণ উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর বাইরে কোটি কোটি বছর ধরে থাকা এক মহাজাগতিক বস্তুর অংশ ছিল। গবেষণায় এটিকে ‘সিলাকগায়া’ উল্কাপিণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি এক ধরনের সাধারণ কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। মূল উল্কাপিণ্ডের একটি অংশই হজেসের বাড়ির ছাদ ভেদ করে তার শরীরে আঘাত করেছিল। পরবর্তী জীবনেও ওই ঘটনার প্রভাব থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি হজেস। অতিরিক্ত প্রচার, আইনি বিরোধ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তার ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি করেছিল। ১৯৬৪ সালে তার স্বামী হিউলেট হজেসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ১৯৭২ সালে মারা যান অ্যান হজেস।   আজও তার গল্প বিজ্ঞান ও মহাকাশের ইতিহাসে অন্যতম অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে আলোচিত। যে নারী সেদিন দুপুরে ঘরে একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন, একটি মহাজাগতিক পাথর ছাদ ভেদ করে তার ঘরে ঢুকে তাকে এমন এক ইতিহাসের অংশ করে দেয়, যার নজির আজও অত্যন্ত বিরল।   সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, এনসাইক্লোপিডিয়া অব আলাবামা, মেটিওরিটিক্যাল সোসাইটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২৩:৪৫
নিহত মেডিকেল শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়া। ছবি: সংগৃহীত

গ্যাংস্টারদের টার্গেট ছিল অন্য কেউ, ভুল পরিচয়ে নিজ বাড়িতে খুন হলেন নিরপরাধ মেডিকেল শিক্ষার্থী

গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি

গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি

স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ

ইসরায়েলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে স্কুলে ক্ষোভ, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা অভিভাবকদের

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিনকে নিয়ে জাহাজটি দুটি সহযোগী নৌযানসহ ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে।   মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম নিতে তীরে নামার সুযোগ পাবেন। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফরটির উদ্দেশ্য বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ নেওয়া; এটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া নয়।   মার্কিন সেনা সদস্যদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মেয়রের হিসাবে, প্রত্যেক সদস্য দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বিনোদন ব্যবসায় সাময়িকভাবে বাড়তি আয় হতে পারে।   তবে একই সঙ্গে যৌন পর্যটন ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর আগমন সামনে রেখে পাতায়ার পুলিশ সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত টহলের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত সপ্তাহের অভিযানে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পতিতাবৃত্তি দেশটিতে আইনত নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২৯ আগস্টের একটি অভিযানে পুলিশ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকর্তারা পাতায়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেন।   দীর্ঘ সামুদ্রিক মোতায়েনের কারণে মার্কিন নৌসেনাদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের এই সফর তাই একদিকে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য স্বস্তি, অন্যদিকে পাতায়ার আইনশৃঙ্খলা ও যৌন পর্যটন নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৫:৫০
নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি

একটি সিদ্ধান্ত, ৯০০ জীবন: নেপালে অধ্যক্ষের উপস্থিত বুদ্ধিতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচল শত শত শিশু

জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা

জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বছরে দেখেন শুধু ১ হাজার ক্লায়েন্ট!

প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী

প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী, ৪৬ বছর পর পেটে মিলল ‘পাথরের শিশু’

ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
কলকাতার মুসলিম কলোনিতে মাসজুড়ে পানি বন্ধ, পাশের হিন্দু এলাকায় স্বাভাবিক

ভারতের কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে। স্থানীয়ভাবে ‘মোল্লা পাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামে পরিচিত এলাকাটির অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম। পানির সংকটের কারণে বাসিন্দাদের অনেকে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন কাজের জন্য হুগলি নদীর ঘাটের পানি ব্যবহার করছেন।    বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত ২৭ জুলাই কলকাতা পুরসভার কর্মীরা এলাকায় পানির পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাজ চলার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচটি রাস্তার কল থেকে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।    পানির অভাবে অনেক পরিবারকে দূর থেকে পানি কিনে আনতে হচ্ছে। কেউ কেউ হুগলি নদীর ঘাটে গিয়ে গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর ঘাটে যেতে গিয়ে শিশু ও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। কাদামাটির সিঁড়িতে পিছলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   নদীর পানি ব্যবহারের পর কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবার। তবে এসব অসুস্থতার সঙ্গে নদীর পানি ব্যবহারের সরাসরি চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তাদের এলাকার কলগুলোতে পানি না থাকলেও একই সড়কের আশপাশের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ চালু রয়েছে। এ কারণে পানি বন্ধের পেছনে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন তারা।    এদিকে পানি সরবরাহ বন্ধের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির একটি নির্বাচনী বক্তব্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, নির্বাচনের পর তিওয়ারি মুসলিম ভোটারদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন যে যারা তাকে ভোট দেয়নি, তাদের জন্য আগামী পাঁচ বছর তিনি কাজ করবেন না। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    তিওয়ারি অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জ্যোতিনগরের বাসিন্দাদের ওই এলাকায় বসবাসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জায়গাটি কলকাতা পোর্টের বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকাটি খালি করার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।    কলকাতা পুরসভা অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পানির লাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ১৯ আগস্ট পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই এলাকার পানির মূল লাইন কেটে দেওয়া হয়নি। দুটি কলের কারিগরি সমস্যা বা সংযোগের ত্রুটি থাকতে পারে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।    পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বামপন্থী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি কয়েক দিন পরপর পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সাময়িক ব্যবস্থায় কয়েক হাজার মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।    প্রায় ছয় দশক ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে মানুষ বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পানির সংকটের কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও, এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে পুরসভা ও বাসিন্দাদের বক্তব্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়নি।

কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৪:৮
১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা

১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা

বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে

বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে, গিয়ে দেখলেন নিজেরই বিয়ে!

স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি

স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি

0 Comments