‘বাড়ি খালি, তবু গৃহহীন!’ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্রদের আবাসনে ভয়াবহ বৈষম্য
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের তীব্র সংকট তৈরি হলেও দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত আবাসন ইউনিট খালি পড়ে আছে। অস্টিন, ডেনভার ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহরে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত কিছু বাড়ি ভাড়াটে পাচ্ছে না। কারণ, এসব আবাসনের ভাড়া অনেক দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে একদিকে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিট খালি থাকছে।
টেক্সাসের অস্টিনে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ম্যাথিউ ডেভিস নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট চান। কিন্তু রক্তের প্লাজমা দান করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা ডেভিসের জন্য মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট ঘরের ভাড়াও বহন করা কঠিন। ওই ছোট ঘরটিতে পানির সরবরাহ নেই এবং বাথরুমও যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইউনিট খালি পড়ে আছে, যা মোট ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ।
এই বৈষম্যের বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন পাওয়া নিম্নআয়ের আবাসনের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের আয় তার চেয়ে অনেক কম। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাড়ি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে সেগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী নয়। কিছু শহরে এসব ইউনিটের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে আসায় খালি থাকার হারও বেড়েছে।
ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কম আয়ের ১ কোটি ১০ লাখ ভাড়াটে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও খালি থাকা ভাড়ার আবাসনের ঘাটতি ৭২ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটে পরিবারের বিপরীতে এমন আবাসন রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই শ্রেণির মানুষের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা তাদের এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেটি বেশি।
এই পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় করে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাদের হাতে খুব কম অর্থ থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন কম বেতনের চাকরিজীবী, প্রবীণ এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও। সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও বড় মহানগর এলাকাতেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিতে ব্যবহৃত ফেডারেল নিম্নআয়ের আবাসন কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে অর্থায়ন পাওয়া ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ছিল। অধিকাংশ ইউনিট এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। অস্টিনে উদাহরণ হিসেবে, একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যায়ের আয় প্রায় ৪৭ হাজার ডলার, যেখানে অত্যন্ত কম আয়ের একজনের আয় ২৮ হাজার ডলারের নিচে।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বর্তমান ব্যবস্থা জটিল এবং ভাড়া ভাউচারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে কিছু আবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, কর সুবিধার মাধ্যমে তৈরি আবাসন ও ভাড়া ভাউচার একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ভাড়া ভাউচারের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যোগ্য পরিবারগুলোর মাত্র চারটির মধ্যে একটি পরিবার ভাড়া ভাউচার পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হয় বছরের পর বছর।
অস্টিনে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য তৈরি সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কিছু মানুষ সামান্য বেশি ভাড়া দিয়ে বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত। বিপরীতে সাশ্রয়ী আবাসনের আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাব, বেতন, বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য যাচাই করা হয়।
ডেনভারে ফেডারেল কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে খালি থাকার হার ১৩ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে ২১ শতাংশ। পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট খালি রয়েছে। সেখানে এসব ইউনিটের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য নির্ধারিত, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
অস্টিনে ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। বিপরীতে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ১৫ হাজার ইউনিটই নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের আবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের জন্য আরও আবাসন তৈরির প্রয়োজন তারা স্বীকার করছে এবং ৩০ শতাংশ মধ্যম আয় পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিটসহ প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। গাড়িতে এক বছর বসবাস করার পর অস্টিনের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাওয়া ডেভিস এমন একটি জায়গা চান, যেখানে রাতে দরজা বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া ও আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি আবাসিক এলাকায় অন্ধ এক হরিণকে খাবার খুঁজে পেতে প্রতিদিন সাহায্য করত ১০ বছরের এক শিশু। সকালে হরিণটিকে ঘাসে ঢাকা জায়গাগুলোর কাছে নিয়ে যেত সে, যাতে প্রাণীটি সহজে খাবার খুঁজে পায়। কয়েক দিন ধরে শিশুটির এমন মমতাপূর্ণ আচরণ দেখে মুগ্ধ হন এলাকার এক দম্পতি। পরে তাঁদের তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি মানুষের নজরে আসে। রেশেয়ারওয়ার্দি নামের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দম্পতি কয়েক দিন ধরে শিশুটিকে হরিণটির পাশে দেখছিলেন। প্রাণীটি চোখে দেখতে না পাওয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। বিশেষ করে সড়কে যানবাহনের মধ্যে হরিণটির দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে দম্পতির স্ত্রী কাছাকাছি এলাকার একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছবিটি রেডিটে প্রকাশ করা ব্যক্তি জানান, উদ্ধারকারী দল হরিণটিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। দলটির সঙ্গে একজন পশুচিকিৎসক রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ থেকে অনুমোদিত একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন দল হরিণটিকে উদ্ধার করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, হরিণটিকে বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে গিয়ে দেখাশোনা করা, যাতে সেটি সড়কের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারে। হরিণটিকে উদ্ধার করার সময় আশপাশের অনেক বাসিন্দা সেখানে উপস্থিত হন। শিশুটিও তার মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। ওই ব্যক্তি জানান, হরিণটির সঙ্গে শিশুটির আচরণ ছিল বেশ পরিণত। কয়েক দিন ধরে প্রাণীটিকে সাহায্য করলেও সে হরিণটিকে পোষা প্রাণী হিসেবে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা করেনি। বরং প্রাণীটি যেন নিরাপদে থাকে, সেটিই ছিল তার মূল চিন্তা। ওই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি হরিণটিকে ঘরে আশ্রয় দেয়নি বা বাইরে খাবার রেখে তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেনি। হরিণটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল এগিয়ে আসায় শিশুটি স্বস্তি পেয়েছিল। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তাঁরা জানতে পারেন, শিশুটি এগিয়ে আসার আগে থেকেই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হরিণটিকে খাবার দিচ্ছিলেন এবং সড়কের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে সাহায্য করছিলেন। শিশুটির এই উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে ওই দম্পতি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে পুরস্কৃত করার একটি উপায় খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করেন। তাঁরা শিশুটির পরিবারের জন্য ছবিটি বাঁধাই করে উপহার দিতে চান। পাশাপাশি শিশুটি চাইলে তাকে স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়ার কথা জানান। ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর মমতার উদাহরণ নয়, বিপদে পড়া বন্যপ্রাণীর পাশে দাঁড়াতে একটি এলাকার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেরও চিত্র তুলে ধরে। তবে হরিণটির পরবর্তী শারীরিক অবস্থা বা পুনর্বাসন শেষে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে মূল প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমেছে ব্যাপক হারে, জমে আছে ৭ লাখের বেশি আবেদন
নিউ ইয়র্কে ভোটের দুই দিন আগে স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস
মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক বাণিজ্যিক মানের উৎপাদন শুরু করেছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রিমন্ট কারখানায় এসব রোবট তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এটিই টেসলার প্রথম উৎপাদনমানের অপটিমাস রোবট তৈরির উদ্যোগ। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রোবটগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইলন মাস্ক অপটিমাসের উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। মাস্ক বলেন, ফ্রিমন্ট কারখানায় বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য তৈরি লাইনে প্রাথমিকভাবে রোবট বানানো শুরু হয়েছে। উৎপাদিত রোবটগুলোকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রিমন্ট কারখানার একটি অংশকে রোবট উৎপাদনের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আগে সেখানে মডেল এস ও মডেল এক্স বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কার্যক্রম চলত। এখন সেই জায়গায় অপটিমাসের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদনব্যবস্থার বড় অংশ স্থাপন করা হলেও এখনো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রোবটের নকশা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ফলে শুরুতে উৎপাদনের গতি ধীর থাকবে। ইলন মাস্কের লক্ষ্য আগামী এক বছর বা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার অপটিমাস রোবট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১০ লাখ রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রিমন্ট কারখানায়। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বর্তমানে উৎপাদিত রোবটের সংখ্যা নয়। টেসলা এখন পর্যন্ত মোট কতটি উৎপাদনমানের অপটিমাস তৈরি করেছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি। মাস্ক নিজেও স্বীকার করেছেন, এত জটিল প্রযুক্তির রোবট ব্যাপক হারে তৈরি করতে সময় লাগবে। অপটিমাস মূলত দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম একটি মানুষের আকৃতির রোবট। টেসলার লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের জন্য পুনরাবৃত্তিমূলক, শারীরিকভাবে কঠিন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারবে। ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঘরোয়া কাজেও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে বর্তমানে অপটিমাস কত ধরনের কাজ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করতে পারে, তার বিস্তারিত স্বাধীন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি। উৎপাদন শুরু হলেও অপটিমাসের সামনে কয়েকটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের হাতের মতো সূক্ষ্মভাবে কোনো বস্তু ধরা, স্থানান্তর করা এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে হাত ব্যবহার করার সক্ষমতা উন্নত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, একটি রোবট কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস ব্যবহারের পর অচল হয়ে গেলে তা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হবে না। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোও জরুরি। এসব সমস্যা সমাধানে টেসলা ‘অপটিমাস একাডেমি’ নামে একটি প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সেখানে রোবটগুলোকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়ির স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তির তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বাস্তব কাজের তথ্য সংগ্রহ করা। ফলে বিপুলসংখ্যক রোবট তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলোকে দক্ষ করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অপটিমাসে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এআই৫ চিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের এপ্রিলের দিকে এই চিপ রোবটে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তাঁর দাবি, নতুন চিপ রোবটের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। তবে পরিকল্পিত এই সময়সূচি ও সক্ষমতা এখনো বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি। টেসলা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অপটিমাসের আরও উন্নত কাজের একটি প্রদর্শনী প্রকাশের কথাও জানিয়েছে। এদিকে অপটিমাসের বাজারজাতকরণের সময়সূচি নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ টেসলার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য গ্রাহক হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য রোবটটি কবে বাজারে আসবে, কত দাম হবে কিংবা কোন দেশে প্রথম বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের সময়সূচিকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিক্রি শুরুর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না। বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। টেসলার পাশাপাশি বোস্টন ডায়নামিকস, ফিগার এআই এবং অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও মানুষের কাজের উপযোগী রোবট তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বিশেষ করে শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় রোবটের ব্যবহার বাড়ানো। তবে বাস্তব কর্মপরিবেশে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখনো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাজারে সফলতা অর্জনের জন্য আরও পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন। অপটিমাসের মতো রোবট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের পাশাপাশি রোবট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি কত কর্মসংস্থান তৈরি করবে অথবা কত কাজের ধরন পরিবর্তন করবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ, নিরাপত্তা, দক্ষতা ও বাস্তব ব্যবহারের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে। টেসলার অপটিমাস উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাইরেও রোবটিকস প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিস্তারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারা হবে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কাজ সফল হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে পারে অপটিমাস।
নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি, আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছর বয়সীরাও
নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন নাদিয়া হামিদ
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাধ্য ট্রাম্প
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্রেনে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম ড্যারেল রদ্রিগেজ। গত ১৭ অক্টোবর ম্যানহাটনের মিডটাউনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে তাঁকে গুলি করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ট্রেনে গাঁজা সেবনের প্রতিবাদ করায় দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে ম্যানহাটনের সেভেনথ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৫৩তম স্ট্রিটের কাছে অবস্থিত সাবওয়ে স্টেশনে। ওই সময় উত্তরমুখী ই ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরে বাগ্বিতণ্ডা ট্রেনের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং আবার প্ল্যাটফর্মে গড়ায়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রদ্রিগেজকে উদ্ধার করে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত কিশোর ট্রেনে গাঁজা সেবন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় রদ্রিগেজ তাঁর আচরণের প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। তদন্তকারীদের মতে, সেই বিরোধ থেকেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এবিসি৭ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কিশোরের নাম জেভিয়ান কলিন্স বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তদন্তের অংশ হিসেবে সাবওয়ে স্টেশন ও ট্রেনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজে লাল রঙের পোশাক ও কালো ভেস্ট পরা এক ব্যক্তিকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির একটি খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালান তদন্তকারীরা। ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত কিশোর তাঁর আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ম্যানহাটনের মিডটাউন নর্থ পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে অভিযুক্ত কিশোরের গ্রেপ্তারের কোনো রেকর্ড ছিল না। আদালতে হাজির করার পর তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। ঘটনার সময় সাবওয়ে স্টেশনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে যাত্রীরা মেঝেতে শুয়ে পড়েন। অনেকে দ্রুত ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক যাত্রী জানান, প্রথমে একটি গুলির শব্দ শোনার পর আরও কয়েকটি শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। নিরাপত্তার কারণে কিছু সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ট্রেন চলাচলেও পরিবর্তন আনা হয়। নিহত ড্যারেল রদ্রিগেজ নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানো লিবার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রদ্রিগেজ কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় তিনি এনওয়াইপিডির তদন্তকারীদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে। এই হত্যাকাণ্ডের পর নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবস্থায় সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল চারটি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। তবে নিউইয়র্ক শহরের সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একই সময়ে কমেছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়। ফলে সাবওয়ের অপরাধ পরিস্থিতি এবং শহরের সামগ্রিক অপরাধের প্রবণতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, শহরের প্রতিটি বাসিন্দার ট্রেন ও সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে নিরাপদে চলাচলের অধিকার রয়েছে। সাবওয়ের নিরাপত্তায় অগ্রগতি হলেও এ ধরনের ঘটনা বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সাবওয়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অস্ত্র বহন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও এই পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন। ব্যস্ত সময়ে একটি বিরোধ থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলবে।
অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট, প্রতারণার জেরে মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন অভিবাসী নারী
সন্তানের হাতে উচ্চগতির ইলেকট্রিক বাইক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১২ অভিভাবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ