ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যে নিল নেদারল্যান্ডস
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (ডিএনবি) যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের সোনার মজুতের ৮৬ টন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট দেখা দিলে যাতে দ্রুত সোনা ব্যবহার বা বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ডিএনবির ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা প্রায় ৩১৩ টন সোনার মধ্যে প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভৌত সোনার বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে সংরক্ষিত সোনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মান পূরণ করে এবং তুলনামূলকভাবে সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে কোনো সংকট পরিস্থিতিতে এই সোনা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
ডিএনবির গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেন, সোনার মজুত কখনো ব্যবহার করতে হবে না বলেই তারা আশা করেন। তবে দেশের স্থিতিস্থাপকতা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থা সোনার মজুতকে আরও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করেছে বলেও জানান তিনি।
নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ ৬১২ দশমিক ৪ টন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এর মূল্য ছিল প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি কমাতে দেশটির সোনা বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করা হয়ে আসছে।
নতুন স্থানান্তরের আগে ডিএনবির মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার অটোয়ায়। লন্ডনে ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানান্তরের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া, দুই জায়গাতেই ডাচ সোনার অংশ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে থাকা সোনার অংশ ৩০ দশমিক ৮ শতাংশই রয়েছে।
তবে পুরো ৮৬ টন সোনা শারীরিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়নি। ডিএনবি জানিয়েছে, প্রায় ৫৯ টন সোনা নিউইয়র্কে বিক্রি করে লন্ডনে আন্তর্জাতিক বাজারের মানসম্পন্ন সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা শারীরিকভাবে নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। একই পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে পুরোনো সোনার বার গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
ব্যাংকটির মতে, সোনা কেনাবেচা এবং সীমিত পরিমাণ শারীরিক স্থানান্তর একসঙ্গে করার ফলে বিপুল পরিমাণ সোনা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিও কমানো গেছে। ভবিষ্যতে কোনো সংকটের সময় সোনা সরানোর প্রয়োজন হলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও জানিয়েছে ডিএনবি।
ডিএনবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সোনা সংরক্ষণের বিষয় নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। ডিএনবি নিজেও ২০২৬ সালে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার হামলা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরাঁ শোয়ার্টজ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সোনার মজুত পুনর্বিন্যাস করছে। তার মতে, লন্ডনের সোনার বাজার গভীর ও বেশি তারল্যপূর্ণ হওয়ায় সংকটের সময় সেখানে রাখা সোনা তুলনামূলক দ্রুত ব্যবহার করা যায়।
অন্যদিকে সিটি জেসশন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার মনে করেন, ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো সংকট দেখা দিলে সোনাকে আরও দ্রুত কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও যদি একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাতে শুরু করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে জার্মানিতেও নিউইয়র্কে সংরক্ষিত দেশটির সোনার নিরাপত্তা নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে আলোচনা হয়েছিল। তবে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তাদের সোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল হিসেবে এখনও বহাল রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সোনা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংকটের সময় এর মূল্য ও বাজারজাত করার সক্ষমতা থাকায় অনেক দেশই ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে নিজেদের সোনা একাধিক দেশে সংরক্ষণ করে। নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশলকেই আরও জোরদার করেছে বলে ডিএনবির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
সূত্র: ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (DNB), দ্য গার্ডিয়ান
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ না হলেও তাঁর ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ হয়েছে। আহত হয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং এক অটোরিকশাচালক। ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে গভীর রাতে অভিনেতার বাসায় গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের কাছে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সে সময় অভিনেতা ফুটবল খেলা শেষে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গাড়ির দিকে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। গুলিবর্ষণের ঘটনায় টাইগার শ্রফের গাড়িচালক ফিরদৌসের বাম হাতে গুলি লাগে। আহত অটোরিকশাচালককেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিনেতার ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ রয়েছে বলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানান একনাথ শিন্ডে। তবে তিনি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হননি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পর টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করে একনাথ শিন্ডে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার এবং মুম্বাই পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শিন্ডে জানান, মুম্বাইয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। টাইগার শ্রফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারও সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ নেই। ফলে কেন অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকারের দাবি সামনে এলেও সেটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস।
মাদরাসায় না গিয়েই মাত্র ১ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করল আলজেরিয়ার ৩ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান ফারিহ
গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে মাথায় বিশাল ক্রুশ ভেঙে পড়ে যাজকের মৃত্যু
বিমার ১৩ লাখ ডলার পেতে পা বরফে জমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, শেষ পর্যন্ত দুই পা-ই হারালেন
শরীরের চেহারা আমূল বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার হাতকে নখরের মতো রূপ দিতে আরও আঙুল অপসারণের কথা জানিয়েছেন। ‘দিয়াবাও’ নামে পরিচিত ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর দুই হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল আর নেই। ফলে প্রতিটি হাতে এখন শুধু বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমা রয়েছে। শরীরের এই পরিবর্তনকে তিনি ‘দ্য ক্লজ’ বা ‘নখর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রাদ্দোর শরীর পরিবর্তনের এই যাত্রা নতুন নয়। ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার আঙুলের অংশ অপসারণ করে হাতের আকৃতি বদলানোর উদ্যোগ নেন। সেই প্রকল্পের নাম দেন ‘লাস গারাস’, যার অর্থ নখর। সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য নিজের অনুপ্রেরণা ও শরীর পরিবর্তনের শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তবে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর প্রাইয়া গ্রান্দের বাসিন্দা প্রাদ্দো দীর্ঘদিন ধরেই শরীরের নানা ধরনের পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। তাঁর নিজের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনি ৬০টির বেশি অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশজুড়ে রয়েছে উল্কি। দাঁতের আকৃতি পরিবর্তন এবং কানের অংশ অপসারণসহ আরও নানা পরিবর্তন করেছেন তিনি। মাথায় শিংয়ের মতো ত্বকের নিচে স্থাপন করা বিশেষ ইমপ্ল্যান্টের সংখ্যার জন্য তাঁর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর মাথায় এ ধরনের ৩৩টি ইমপ্ল্যান্ট থাকার রেকর্ড যাচাই করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাদ্দোর অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি। তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। কেউ তাঁর নতুন রূপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ আঙুল ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারও মতে, নিজের শরীর নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে; অন্যরা এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও তাঁর শরীর পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। প্রাদ্দোর এই ঘটনা শরীর পরিবর্তনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং এমন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনাকে সামনে এনেছে। হাতের আঙুল দৈনন্দিন কাজ, সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও বিভিন্ন জিনিস ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের স্থায়ী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাদ্দোর সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর দৈনন্দিন কাজে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সূত্র: ইউপিএসওসিএল, নিড টু নো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
১২ সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি, রাশিয়ার মুসলিম নারীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিলেন পুতিন
সব সম্পদ বিক্রি করে স্বপ্নের নারীর খোঁজে ছুটে গিয়েছিলেন, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা আসলে এআই
এআই চালিত সুপার স্পিড টর্পেডোর সফল পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার
চীনে পড়াশোনায় আগ্রহ হারানো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে জীবনের বাস্তবতা বোঝাতে খাবার বিক্রির কাজে যুক্ত করেছিলেন তার মা। উদ্দেশ্য ছিল, কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনের অভিজ্ঞতা থেকে ছেলে পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝতে পারবে। কিন্তু ঘটল উল্টোটা। মাত্র ১০ দিনে ১০ হাজার ইউয়ান, অর্থাৎ তৎকালীন হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের বিক্রি করার পর কিশোরটি পড়াশোনা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। শেন নামের ওই কিশোর চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রন্ধনশিল্প বিষয়ে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ফলাফল খারাপ হতে থাকে। এ নিয়ে মা ডেংয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সে জানায়, পড়াশোনা তার কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে এবং সে আর স্কুলে যেতে চায় না। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে রাস্তার পাশে ভাজা মুরগি বিক্রি করছিলেন ডেং। ছেলেকে কাজের বাস্তবতা বোঝাতে তিনি তাকে খাবার বিক্রির অভিজ্ঞতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে ডেং বলেন, ছেলে পড়াশোনার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইছিল না। তাই তিনি চেয়েছিলেন, সে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুক এবং বুঝতে পারুক অর্থ উপার্জন সহজ নয়। মায়ের সহায়তায় শেন একটি বৈদ্যুতিক সাইকেল পরিবর্তন করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান তৈরি করে। এরপর দ্রুতই কাজে নেমে পড়ে সে। মায়ের ধারণা ছিল, দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে ছেলে হয়তো পড়াশোনায় ফিরে আসার কথা ভাববে। শেনের প্রতিদিনের কর্মসূচি ছিল বেশ পরিশ্রমের। সকাল ৯টা থেকেই খাবার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করত সে। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিক্রির জায়গায় পৌঁছে রাতভর খাবার বিক্রি করত। অনেক দিন রাত ৩টার দিকে বাড়ি ফিরত সে। এই পরিশ্রমের মধ্যেই মাত্র ১০ দিনে তার বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের সমান। ডেং ছেলের এই সাফল্যের পেছনে তার পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতাদের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এই অঙ্কটি বিক্রির পরিমাণ, নিট মুনাফা নয়। এত দ্রুত সাফল্য পাওয়ার পর শেনের লক্ষ্য এখন ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত অর্থ জমিয়ে একটি বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান কেনা। ডেং বলেন, ছেলে অত্যন্ত পরিশ্রমী। কাজের প্রতি তার এতটা আগ্রহ তৈরি হবে, তা তিনি আগে ভাবেননি। তবে ছেলের এই সাফল্যই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে তোলে। ডেং বারবার তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেং জানান, ১৭ বছর বয়সী একজন কিশোরের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থাকে। অভিভাবক হিসেবে তাঁরা কেবল তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। তাঁর কাছে ছেলের সুস্থতা ও সুখী জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে যেন নিজের পছন্দের জীবন গড়তে পারে, সেই সুযোগ দিতে চান তিনি। তবে তাকে বেআইনি কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে পথনির্দেশনা দেওয়াও নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন ডেং। ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র পথ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়; পড়াশোনায় আগ্রহ কম থাকলে কোনো দক্ষতা অর্জন করে জীবিকা গড়াও একটি বিকল্প হতে পারে। অন্যরা ডেংয়ের ছেলের মতামতকে সম্মান করার প্রশংসা করেন। চীনে পড়াশোনায় ভালো ফলের জন্য সন্তানদের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগকারী অভিভাবকদের বোঝাতে ‘টাইগার মাদার’ ও ‘উলফ ফাদার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ডেংয়ের অবস্থানও আলোচনায় আসে। তবে অল্প সময়ে ব্যবসায় ভালো বিক্রি হওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে পড়াশোনা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন পরস্পরের বিকল্প না হয়ে একে অন্যের পরিপূরকও হতে পারে। শেনের ঘটনা একদিকে কিশোরটির ব্যবসায়িক আগ্রহ তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পড়াশোনা, পেশাগত দক্ষতা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের ভূমিকা সম্পর্কেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য স্টার।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন ৪০ বছর বয়সী পেশাদার বডিবিল্ডার মা
যুক্তরাজ্যে ৫ বছরের অপেক্ষা ছাড়াই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এক শ্রেণির প্রবাসীদের সন্তানরা