পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’, প্রতিরোধ জোরদার কিম জং উনের
উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘ক্যাং কন’। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুদ্ধজাহাজটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তুলবে।
রোববার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান বন্দরে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন যুদ্ধজাহাজটি পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সল-জু ও মেয়ে কিম জু-এ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, জাহাজটি দেশটির পূর্ব সাগর বহরে যুক্ত করা হয়েছে।
কিম বলেন, নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ারকে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যাং কন ডেস্ট্রয়ারে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, কেসিএনএ যুদ্ধজাহাজটি পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হবে বললেও এতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি।
ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাং কন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার। এর আগে একই শ্রেণির ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। গত জুলাইয়ে ক্যাং কন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও চালানো হয়েছিল বলে উত্তর কোরিয়ার দাবি।
যুদ্ধজাহাজটির নির্মাণেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের মে মাসে প্রথমবার পানিতে নামানোর সময় এটি উল্টে যায়। পরে মেরামতের পর প্রায় এক মাসের মধ্যে আবার জাহাজটি পানিতে নামানো হয়।
উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনী আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। দেশটি পশ্চিম ও পূর্ব উভয় উপকূলে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন শ্রেণির আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
এদিকে নতুন যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার খবর এমন সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবিশ্বের মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণের এই বিশাল বোঝার সঙ্গে বাড়ছে সুদ পরিশোধের খরচও। সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার—সব পর্যায়েই ঋণের পরিমাণ বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। বিশেষ করে যেসব দেশের সরকারি ঋণ বেশি, সেসব দেশের জন্য বাড়তি সুদ পরিশোধ এখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। জুনের শেষ নাগাদ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির মোট উৎপাদনের তুলনায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১১ শতাংশ। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সুদের হারও অনেক দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগে কম সুদে নেওয়া ঋণের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে ঋণ নিতে বা পুরোনো ঋণ নবায়ন করতে সরকারগুলোকে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এতে বাজেটের বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। ইউরোপের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এই চাপের সামাজিক দিকটিও সামনে এনেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু জায়গায় পরিস্থিতি সংঘর্ষ, দোকানপাটে লু ট পা ট ও অগ্নিসংযোগ পর্যন্ত গড়ালেও অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। ফ্রান্সে পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক সংকটও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ফ্রান্সের ঋণসংক্রান্ত পরিস্থিতি বোঝা জরুরি, কারণ দেশটির ঋণ নেওয়ার খরচ দ্রুত বেড়েছে। ২১ অক্টোবর দেশটির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিনিয়োগকারীরা যখন কোনো দেশের বন্ড কিনে সরকারকে ঋণ দেন, তখন তাঁরা নির্দিষ্ট সুদ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সরকারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি সুদ দাবি করেন। ফলে নতুন ঋণ নেওয়া সরকারের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সরকারি বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি এবং আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকারি আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান কমাতে দেশটির সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে জনসেবায় ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সরব। এই দুই বিপরীত চাপ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার কীভাবে ঋণ নেয় সরকার সাধারণত সরকারি বন্ড বিক্রি করে অর্থ ধার নেয়। বিনিয়োগকারীরা এসব বন্ড কিনে সরকারকে অর্থ দেন। বিনিময়ে সরকার নির্ধারিত হারে সুদ দেয় এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিনিয়োগকারী ১০ বছর মেয়াদি একটি সরকারি বন্ডের জন্য ১০০ ইউরো দিলে সরকার তাঁকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ দেবে। সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ হলে বছরে ২ ইউরো ৫০ সেন্ট করে, ১০ বছরে মোট ২৫ ইউরো সুদ পাওয়া যাবে। কিন্তু সুদের হার ৫ শতাংশ হলে বছরে সুদ দাঁড়াবে ৫ ইউরো, আর ১০ বছরে মোট ৫০ ইউরো। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী মূল ১০০ ইউরোও ফেরত পাবেন। অর্থাৎ, সুদের হার দ্বিগুণ হলে একই পরিমাণ ঋণের বিপরীতে সুদের ব্যয়ও দ্বিগুণ হতে পারে। সরকারের বিপুল ঋণ থাকলে এই পার্থক্য বাজেটে বড় প্রভাব ফেলে। পুরোনো ঋণ কম সুদে নেওয়া হলেও নতুন করে ঋণ নিতে গেলে বেশি সুদ দিতে হতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে সরকারের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক বাড়তে থাকে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হারকে বিনিয়োগকারীরা বিশেষ গুরুত্ব দেন। এটি একটি দেশের ঋণ নেওয়ার খরচ এবং তার আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রতি বাজারের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে বন্ডের সুদের হার শুধু ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলে। বিশ্বের মোট ঋণ বাড়লেও সব দেশের ঝুঁকি এক রকম নয়। কোনো দেশ উৎপাদন ও আয় বাড়িয়ে ঋণ সামলাতে পারে, আবার কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঋণের সুদ পরিশোধই বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। ঋণের মেয়াদ, সুদের ধরন, সরকারের রাজস্ব আয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় উদ্বেগ হলো, সরকারগুলোকে একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধ, বাজেটের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের জনসেবার চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। সুদের ব্যয় বেড়ে গেলে নতুন স্কুল নির্মাণ, হাসপাতালের সেবা উন্নয়ন, পেনশন দেওয়া কিংবা শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য হাতে থাকা অর্থ কমে যেতে পারে। এতে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামাজিক অসন্তোষও বাড়তে পারে। বিশ্বের ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ তাই শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যয়ের সক্ষমতা, পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার খরচ এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। ঋণ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং বাড়তি সুদের চাপ সামলে জনসেবায় অর্থের জোগান কীভাবে বজায় রাখা হবে, আগামী দিনে সেটিই বহু দেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা
নিউজিল্যান্ডে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সন্তানের জন্ম দিলেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির অবস্থান আবারও জানালেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বুধবার, ২১ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে তিনি ওমানিদের সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন। রাজা চার্লস বলেন, মহানবী (সা.) ওমানের মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ওমানের মানুষের কাছে গেলে তারা কাউকে গালিগালাজ বা শারীরিকভাবে আঘাত করত না। ওমানের সুলতানের যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রানি ক্যামিলা এবং দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। রাজা চার্লসের উদ্ধৃত হাদিসটি সহিহ মুসলিমের সাহাবিদের মর্যাদাসংক্রান্ত অধ্যায়ে ওমানের মানুষের গুণাবলি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটির বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে আরবের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হলে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতেন, তাহলে তারা তাঁকে গালিগালাজ বা মারধর করত না। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে এই বাণী উল্লেখ করে ওমানের মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শান্তিপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানান। নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চার্লসের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক ১৯ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। পরদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এই সফর ১৯৮২ সালের পর ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সূত্র: ওমান অবজারভার
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে
বিরল রোগে বদলে গেছে চীনা ব্যক্তির মুখমণ্ডল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা
ভারতে বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ঘুমন্ত মেয়ের মাথায় গুলি
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশটিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্যারিস শিগগিরই মুসলিমদের শহর হয়ে যাবে।’ সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা এএফপি। ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার পেছনে অভিবাসনই মূল কারণ, স্কুল বা অন্য কোনো বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে অবাধে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল। এবারও তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনই প্রধান কারণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং সহিংসতায় জড়িতদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা খাতের সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষের সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ফ্রান্সের অভিবাসননীতি ও ইউরোপের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য, শহরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সরকারি পূর্বাভাস নয়। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি, বার্তা সংস্থা এএফপি।
ফ্রান্সে দাঙ্গা ঠেকাতে কারফিউ জারি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উত্তাল ইউরোপ
ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে বিক্ষোভ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ