ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়: উত্তাল লন্ডন
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। শনিবারের এই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন, যেখানে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকেও পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (DOJ) সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত একটি সরাসরি অ্যাকশন গ্রুপ, যারা ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই গোষ্ঠীটিকে 'সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন জানানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড।
আইনি লড়াই ও পুলিশের অবস্থান: চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ ও ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর শুরুতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কায়সার জোহরা নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট আল-জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বা অধিকারের তোয়াক্কা করে না, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের মূল কাজ।"
আয়োজকদের মতে, শনিবারের এই সংহতি সমাবেশে প্রায় ১,৫০০ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreসাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৩ লাখ রুপি প্রতারণা, পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রীর মৃত্যু
আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরায় বাধা, বিক্ষোভে উত্তাল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যিশুর সময়কার ২ হাজার বছরের পুরোনো স্নানাগার, বিশাল ক্রেনে অক্ষত অবস্থায় সরালেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের মোজোকের্তো শহরে বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নেওয়া শত শত খ্রিষ্টান উপাসকের জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন মুসলিম যুবক রিয়ান্তো। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে একটি গির্জার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্দেহজনক একটি প্যাকেটে বোমা দেখতে পান তিনি। এরপর নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে বোমাটি গির্জা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটি তাঁর হাতেই বিস্ফোরিত হয়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রাণ হারালেও ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাহস ও মানবিকতার প্রতীক হয়ে আছেন রিয়ান্তো। রিয়ান্তো ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন নাহদলাতুল উলামার (এনইউ) যুব শাখা আনসরের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনী বানসারের সদস্য। ২০০০ সালের বড়দিনের প্রাক্সন্ধ্যায় তাঁকে ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে মোজোকের্তোর এবেন হেজার গির্জার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই রাতে গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা চলছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্টান উপাসক। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বানসারের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে গির্জার প্রবেশপথের কাছে একটি কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যাকেটটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রিয়ান্তো সেটি পরীক্ষা করেন। ভেতরে বৈদ্যুতিক তার ও স্ফুলিঙ্গ তৈরি করা একটি যন্ত্রাংশ দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটিতে বোমা থাকতে পারে। তখন গির্জার ভেতরে বহু মানুষ প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিলেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে রিয়ান্তো দ্রুত উপাসকদের সতর্ক করেন, যাতে তাঁরা নিচু হয়ে নিরাপদ অবস্থান নিতে পারেন। এরপর তিনি বোমাটি হাতে নিয়ে গির্জা থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরণ ঘটলে যেন উপাসকদের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। বিভিন্ন বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি কাছের একটি নালা বা পানি নিষ্কাশনের স্থানে বোমাটি ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছানোর আগেই সেটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে রিয়ান্তো ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের কংক্রিটের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তাঁর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গির্জার ভেতরে থাকা বহু মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। রিয়ান্তোর মৃত্যু ছিল ওই রাতের বৃহত্তর সহিংস ঘটনার অংশ। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার একাধিক শহরে খ্রিষ্টানদের গির্জা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তৎকালীন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে গির্জায় বা তার আশপাশে বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৮৪ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে গির্জার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা মুসলিম ব্যক্তিরাও ছিলেন। এসব হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে সে সময় তদন্ত শুরু হয় এবং ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। রিয়ান্তোর আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মুসলিম হয়েও ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপাসনার অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের জীবন দেওয়ার ঘটনা দেশটির নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মোজোকের্তো শহরে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে, যা তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুররহমান ওয়াহিদ, যিনি গুস দুর নামেও পরিচিত, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে ছিলেন। রিয়ান্তোর ঘটনা সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। তাঁর আত্মত্যাগের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতারা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। মোজোকের্তো শহর কর্তৃপক্ষও অতীতে রিয়ান্তোর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। রিয়ান্তোর গল্প শুধু একজন যুবকের সাহসিকতার কাহিনি নয়, বরং ভিন্ন ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় মানবিক দায়িত্বের একটি উদাহরণ। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও বিপদের মুহূর্তে অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও স্মরণ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকে তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, যাঁর শেষ পদক্ষেপ ধর্মীয় বিভেদের চেয়ে মানবতার বন্ধনকে বড় করে তুলেছিল। সূত্র: মোজোকের্তো শহর কর্তৃপক্ষ, এনইউ অনলাইন
শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে করলেন ইন্দোনেশিয়ার দুই সাবেক শিক্ষার্থী
‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরি, কারও কথায় খুলব না’, প্রয়োজনে স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজারবাইজানি ছাত্রীর
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি
বাংলাদেশে ডাকাতি করতে বিদেশ থেকে বিমানে আসছেন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় এমন একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের গাড়ি থামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া এবং টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে। আরটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ডাকাত চক্রের সঙ্গে দেশি ও বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীরা জড়িত। কেউ বিদেশ থেকে দেশে এসে ডাকাতিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়ায় এসে অপরাধ সংঘটিত করছেন। কাজ শেষ হলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত অভিযুক্তদের একজন বাগেরহাটের সৈয়দ নাসির উদ্দিন। তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বিমানে ভারতে এসে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন তিনি। এরপর শ্যালক শামীমসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতিতে অংশ নিতেন। ডাকাতি শেষে একই পথে আবার ফ্রান্সে ফিরে যেতেন। তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি নাসির। রাজধানীর উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। শুধু বিদেশ থেকে আসা অপরাধীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী পেশাদার ডাকাতদেরও অর্থের বিনিময়ে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, আবার ডাকাতির সুযোগ পেলে সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। এমনই একজন পাবনার চাটমোহরের নবীন পূর্বপাড়ার মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতিতে জড়িত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেন শহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতির তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুলের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনের একটি দল রয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক ব্যক্তি তাঁদের ভাড়া করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি বরিশালের খানপুরের মো. জলিল মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি ও মিরপুর মডেল থানায় একটি করে এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় দুটি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সোর্স শহীদের নেতৃত্বাধীন চক্রসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ দল সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাকাতিতে অংশ নেয়। বিশেষ করে বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে ভাড়ার অঙ্ক কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। বিমানবন্দর এলাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম। ফ্লাইটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত অবস্থান করছিলেন। বাসের দরজা বন্ধ করে তাঁরা রাশেদুলের চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল লুট করে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যান। অনেক চেষ্টা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার কারণে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অন্যদিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা অনেক সময় স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন। এসব অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ঘটনায় বিদেশফেরত যাত্রী, বিদেশগামী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ
লাখে একজনের হওয়া বিরল রোগে আক্রান্ত অ্যাবি, সার্ফিংয়ে খুঁজে পেলেন জীবনের আনন্দ