সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৫:৪২
মির্জা ফখরুল ইসলাম ও আমানউল্লাহ আমান। ছবি:সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল ইসলাম ও আমানউল্লাহ আমান। ছবি:সংগৃহীত

পোস্টের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্‌ক্তি—“যেতে নাহি দিব! হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়”—উল্লেখ করে মির্জা ফখরুলকে বিদায় জানানোর অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি।

 

আমান লেখেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণের মতোই এই বিদায়ের মুহূর্তেও কান্না আসে। কারণ, এটি শুধু একটি নতুন দায়িত্বে যাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের অসংখ্য স্মৃতি, আনন্দ-বেদনা ও রাজনৈতিক পথচলার নানা অধ্যায়।

 

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “বিগত দুঃসহ দিনগুলোতে আপনার বিরতিহীন পথচলা আর কর্মীদের প্রতি নিখাঁদ দরদ যেমন আমাদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি আপনি আমাদের মায়ার ডোরে বেঁধেছেন।”

 

সভা-সমাবেশে মির্জা ফখরুলের গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ ও বক্তব্যের ধরনও স্মরণ করেন আমান। তিনি লেখেন, “সভা-সমাবেশে আপনার সেই চিরচেনা গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ আর দারুণ বাচনভঙ্গির বক্তব্য আর শুনতে পাবো না।”

 

মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে আমান আরও লেখেন, “আপনি ক্রমান্বয়ে বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে গিয়েছেন স্যার।”

 

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদকে অনেকটা আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক পদ হিসেবে দেখা হলেও এবার দেশের মানুষ এই পদকে নতুন গুরুত্বে অনুধাবন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

 

রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুলকে হারানোর অনুভূতি তুলে ধরে আমান লেখেন, “রাজনীতির মাঠে আপনাকে অনেক বেশি মিস করবো স্যার।”

 

পোস্টের শেষদিকে মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলার জন্য দোয়া করেন এই ছাত্রদল নেতা। তিনি লেখেন, দলের হাইকমান্ড, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মির্জা ফখরুল সফল হবেন—এমন প্রার্থনা করেন তিনি।

 

সবশেষে আমান লেখেন, “আমরা মিস করবো কর্মীদের প্রতি একজন নিখাঁদ দরদীকে, আমরা মিস করবো বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।”

 

এরপর জিয়া পরিবারের প্রতি মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে লেখেন, “আমরা মিস করবো সংগ্রাম-সংকটে জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এবং খালেদা জিয়ার লগের স্যারকে। অনেক বেশি মিস করবো স্যার…”


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।   শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে অবস্থিত সালমানের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও ভাঙচুর হয়। সালমান পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর ভিডিও প্রকাশ করেন।    হামলার কারণ নিয়ে সালমান ও পুলিশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। সালমান চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য, আবাসন প্রকল্পটির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা হয়েছে; স্টুডিওটি হামলাকারীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না।    এর আগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল। অনিকের গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।    সূত্র: প্রথম আলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১০:২
বুয়েট থেকে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. লতিফুর খান।

বাংলাদেশি অধ্যাপক লতিফুর খান অ্যালগরিদমে মার্কিন সেনাবাহিনী ও নাসার তথ্য থাকে সুরক্ষিত

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের কথা বলছে পুলিশ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের কথা বলছে পুলিশ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় ক্ষোভ জানালেন জামায়াত আমির

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় ক্ষোভ জানালেন জামায়াত আমির

জাহাজের খালাসি থেকে ব্রিটেনে বসতি, সিলেটিদের অভিবাসনের ইতিহাস
জাহাজের খালাসি থেকে ব্রিটেনে বসতি, সিলেটিদের অভিবাসনের ইতিহাস

ব্রিটেনে সিলেটিদের বসতি গড়ার ইতিহাসের একটি অংশ জড়িয়ে আছে জাহাজের লস্করদের সঙ্গে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে সিলেটসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশ জাহাজে নাবিক, ডেকের কর্মী ও ইঞ্জিনকক্ষের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের কেউ কেউ পরে ব্রিটেনেই থেকে যান।    সমুদ্রযাত্রা ছিল কঠিন, আর ব্রিটেনে পৌঁছানোর পরও কাজ ও থাকার জায়গা খুঁজতে হতো। প্রথম দিকের এই নাবিকদের উপস্থিতি ব্রিটেনের বন্দরশহরগুলোতে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ছোট ছোট জনপদ গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে কাজের সুযোগ বাড়লে অভিবাসনের গতি বদলায়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে আরও বেশি মানুষ সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ফলে লস্করদের আগমনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয় কর্মসংস্থান ও পরিবার নিয়ে বসতি গড়ার নতুন অধ্যায়।    লন্ডনের ইস্ট এন্ড, বিশেষ করে ব্রিক লেন, পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে রেস্তোরাঁ, দোকান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে কমিউনিটির উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়।    আজকের ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাস তাই শুধু এক দফা অভিবাসনের গল্প নয়। জাহাজে কাজ করতে আসা মানুষ, যুদ্ধের পর কর্মসংস্থানের খোঁজে আসা অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবার মিলে কয়েক প্রজন্ম ধরে এই কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন।   সূত্র: সিলেট ভয়েস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ০:৩০
চাঁদা না দেওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুরের পর লুট মূল্যবান জিনিস

চাঁদা না দেওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুরের পর লুট মূল্যবান জিনিস

চুয়াডাঙ্গায় জন্ম নেওয়া কৃতী মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী এন. এন. সাহা। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রের প্রতিটি দপ্তরে তাঁর সৃষ্টি, অথচ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি আজও

আনাস আহমেদ জিসান I ছবি: আমেরিকা বাংলা

১৪ দিন ধরে নিখোঁজ ১২ বছরের আনাস, সন্তানের অপেক্ষায় দিশেহারা বাবা-মা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক সহযোগিতা চুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক শক্তিতে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক সহযোগিতা চুক্তি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা সই হয়।   বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন।   নতুন এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সহযোগিতা জোরদার করা। দুই দেশই বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মান অনুসরণের বিষয়ে একমত হয়েছে।   সমঝোতা অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি দুই দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।   বাংলাদেশ বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে দুটি ১২০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াতে চাইছে ঢাকা।   নতুন সমঝোতায় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সেফগার্ড ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা NPT-এর সদস্য এবং উভয়েরই IAEA safeguards agreement ও Additional Protocol কার্যকর রয়েছে বলে সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এটিকে সরাসরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সমঝোতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ‘123 Agreement’ হলে সেটি পারমাণবিক উপকরণ, জ্বালানি, রিঅ্যাক্টর ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে পারে; কিন্তু MoU নিজে সেই ধরনের স্থানান্তরের অনুমতি দেয় না।   বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও সমঝোতা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎস বহুমুখীকরণ নিয়ে একটি কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা সই করে। নতুন চুক্তিটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে।   নতুন এই সমঝোতা এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তবে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সরবরাহ কাঠামো এবং নতুন মার্কিন সহযোগিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছরের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতেও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংক্রান্ত একটি বিধান রাখা হয়েছে।   নতুন সমঝোতাটি বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই দেশ কী ধরনের প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৩০
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিয়োগ, বেতন ৬১ হাজার টাকা

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিয়োগ, বেতন ৬১ হাজার টাকা, আবেদন শেষ ৩০ সেপ্টেম্বর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয়দের হাতে অপ্রীতিকর অবস্থায় আটক দুই শিক্ষার্থী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয়দের হাতে অপ্রীতিকর অবস্থায় আটক দুই শিক্ষার্থী, আজ বিয়ে

অপ্রতিম হত্যার পর অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি

অপ্রতিম হত্যার পর অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি

0 Comments