ফিলাডেলফিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি আমানুর রহমান মুকুলের মৃত্যু, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি আমানুর রহমান (মুকুল) ইন্তেকাল করেছেন। গতকাল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম আমানুর রহমান পেনসিলভানিয়ার আপার ডার্বির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ট্যাক্সি সোসাইটি অব ফিলাডেলফিয়ার (বিটিএসপি) সম্মানিত সদস্য এবং সংগঠনটির সাবেক নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত ছিলেন।
মরহুমের নামাজে জানাজা আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) জোহরের নামাজের পর মসজিদ আল মদিনা, আপার ডার্বি, পেনসিলভানিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করতে কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে তাঁর মৃত্যুতে বন্ধু, স্বজন ও কমিউনিটির পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করুন। আমিন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জগিং করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত ২৮ বছর বয়সী কেটি সুয়ারেজ হত্যার ঘটনায় এক স্কুলকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সায়েদ মোহাসিব (২৭) নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের (ডিওই) অধীনে একটি সরকারি স্কুলে টিচার্স এইড হিসেবে কাজ করতেন। এর আগে তিনি অল্প সময়ের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগেও (এনওয়াইপিডি) কর্মরত ছিলেন। ৭ নভেম্বর শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকার শোর পার্কওয়ে গ্রিনওয়ে দিয়ে দৌড়ানোর সময় সুয়ারেজের ঘাড়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে পৌঁছাননি। পরে তাঁর বাবা খোঁজ করতে গিয়ে রাস্তার পাশে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাঁকে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মোহাসিবকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো। তাঁর বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার, প্রমাণ নষ্ট এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে মোহাসিব হত্যার ঘটনা মনে করতে না পারলেও রক্তে ঢাকা অবস্থায় থাকার কথা মনে আছে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, মোহাসিব ২০২২ সালে অল্প সময়ের জন্য এনওয়াইপিডিতে কাজ করেছিলেন। পরে তিনি মেরিনসে যোগ দেন। সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর আবার পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি। সর্বশেষ তিনি ব্রুকলিনের পি.এস. ২০০ স্কুলে শিক্ষক সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন জানিয়েছে, মোহাসিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর চাকরি থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্কুলটির শিক্ষার্থী ও কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে এনওয়াইপিডিকেও সহযোগিতা করছে শিক্ষা বিভাগ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কেটি সুয়ারেজ ও মোহাসিব দুজনই ব্রুকলিন কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে এর বাইরে কোনো পরিচিত সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন এই হামলা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, শনিবার রাতে ব্রুকলিন ক্রিমিনাল কোর্টে মোহাসিবকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ নভেম্বর। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মোহাসিব আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
ভারত-পাকিস্তান যু দ্ধ বাধলে পাকিস্তানের পক্ষ নেবেন ইহুদিরা, ‘মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই’ বললেন রাব্বি
ফিলাডেলফিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি আমানুর রহমান মুকুলের মৃত্যু, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ হাজার বেবি বোতল স্টেরিলাইজার প্রত্যাহার, রয়েছে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে কর্মী ছাড়াই পরিচালিত ভেন্ডিং মেশিন থেকে পানির বোতল কেনার সময় টিপস দিতে বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাইকেল নোলস। নিজের হাতে পানির বোতল সংগ্রহ ও স্ক্যান করার পর স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট মেশিনে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত টিপস দেওয়ার অপশন দেখে বিস্মিত হন তিনি। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়। ২০২৩ সালেও একই ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরের একটি সেলফ-সার্ভিস দোকানে প্রবেশ করেন মাইকেল নোলস। সেখানে কোনো কর্মী দেখতে না পেয়ে নিজেই ফ্রিজ থেকে পেরিয়ার ব্র্যান্ডের একটি স্পার্কলিং ওয়াটারের বোতল নেন। এরপর সেলফ-চেকআউট মেশিনে বোতলটি স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে যান। পানির বোতলটির দাম ছিল ৪ ডলার ২৯ সেন্ট। কিন্তু পেমেন্টের শেষ ধাপে স্ক্রিনে টিপস দেওয়ার অনুরোধ দেখা যায়। মেশিনের স্ক্রিনে ১৫ শতাংশ, ১৮ শতাংশ ও ২০ শতাংশ টিপস দেওয়ার অপশন ছিল। অর্থাৎ ৪ ডলার ২৯ সেন্টের পানির জন্য অতিরিক্ত ৬৪ থেকে ৮৬ সেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব দেখানো হয়। তবে টিপস না দেওয়ার অপশনও ছিল। বিষয়টি দেখে নোলস প্রশ্ন তোলেন, দোকানে কোনো কর্মী নেই, পানির বোতল নিজেই নিয়েছেন এবং স্ক্যানও করেছেন। তাহলে তিনি কাকে টিপস দেবেন? নিজের ধারণ করা ভিডিওতে মেশিনকে টিপস দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান টিপস দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েকজন মন্তব্য করেন, সেলফ-চেকআউট ব্যবস্থায় ক্রেতারা নিজেরাই দোকানের কাজ করছেন। তাই তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টিপস চাওয়ার যৌক্তিকতা নেই। তবে অন্যদের মতে, দোকানে সরাসরি কোনো কর্মী উপস্থিত না থাকলেও পণ্য সাজানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য কাজের সঙ্গে কর্মীরা যুক্ত থাকেন। টিপসের অর্থ তাঁদের জন্য বরাদ্দ হতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, পেমেন্ট সফটওয়্যারে টিপসের অপশন আগে থেকেই যুক্ত থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তবে ওই দোকানের টিপসের অর্থ কারা পান, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে গত অক্টোবরে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টেও একই ধরনের ঘটনা সামনে আসে। চিকিৎসক ক্লে মস একটি সেলফ-সার্ভিস দোকান থেকে ৬ ডলার ৪৯ সেন্টের পানির বোতল কেনার সময় পেমেন্ট স্ক্রিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ শতাংশ টিপসের প্রস্তাব দেখতে পান। দোকানে কোনো কর্মী উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই টিপস আসলে কার জন্য নেওয়া হচ্ছে? তাঁর প্রকাশিত ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের ওই ঘটনার পর পোর্ট অথরিটি অব নিউইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানায়, সেলফ-চেকআউট মেশিনে ক্রেতাদের টিপস দেওয়ার অনুরোধ দেখানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দোকান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওটিজির সঙ্গে যোগাযোগ করে টিপসের অপশন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি বিমানবন্দরের অন্য সেলফ-চেকআউট মেশিনগুলোতেও এমন অপশন রয়েছে কি না, তা যাচাই করার কথা জানায়। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্ট, কফিশপসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে টিপস দেওয়া প্রচলিত রীতি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেলফ-সার্ভিস দোকান, ডিজিটাল পেমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় চেকআউট ব্যবস্থায় টিপসের অনুরোধ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মাইকেল নোলসের পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে আলোচনায় আসায় সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে ভ্রমণকারীদের প্রশ্ন, কোনো কর্মীর সরাসরি সেবা ছাড়াই কেনাকাটা শেষ করার পরও অতিরিক্ত টিপস দেওয়ার অনুরোধ কতটা যৌক্তিক। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।
ক্যালিফোর্নিয়ায় চেকপোস্টে ধরা খেল দুই মাদক পাচারকারী, জব্দ প্রায় ১ কোটি ডলারের কোকেন
নিউইয়র্কে ইসরায়েলি কোম্পানির নজরদারি প্রযুক্তি কেনার চুক্তি স্থগিত করল পুলিশ
চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়তে স্পেসএক্স-ব্লু অরিজিনসহ ৮ কোম্পানির সঙ্গে নাসার ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিখ স্বেচ্ছাসেবক অবতার সিংকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় মেক্সিকোয় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সান হোয়াকিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় শনিবার (৭ নভেম্বর) জানায়, গ্রেপ্তার আলবের্তো আলোনসো আলেনকাস্ত্রোর বয়স ২৫ বছর। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে সান হোয়াকিন কাউন্টির কারাগারে রাখা হয়েছে। এ মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনকে খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা হলেন ২০ বছর বয়সী আলফনসো ক্রেসেনসিও সেগুরা আরেয়ানো ও ২২ বছর বয়সী বার্নাবে আন্তোনিও সেগুরা আরেয়ানো। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যালেহো শহরের এই তিন বাসিন্দার বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ এনেছে সান হোয়াকিন কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি। কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রন ফ্রেইটাস জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ২টার দিকে ট্রেসি শহরের ওয়েস্ট গ্রান্ট লাইন রোডে গুরু নানক প্রকাশ গুরুদুয়ারা প্রাঙ্গণ থেকে ৫৭ বছর বয়সী অবতার সিংকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, গাঢ় রঙের পোশাক পরা তিন ব্যক্তি সিংকে জোর করে একটি সাদা এসইউভিতে তোলেন। কয়েক দিন পর নাপা কাউন্টির লেক বেরিয়েসার কাছে একটি নির্জন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা নজরদারি ফুটেজ ও গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য মিলিয়ে সাদা এসইউভিটি শনাক্ত করেন। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই তথ্যের সূত্র ধরে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেহো শহর থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। এরপর ট্রেসি ও ভ্যালেহোর বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের ধারণা, সন্দেহভাজনেরা একটি পণ্যবাহী ট্রেলার চুরির ঘটনায় অন্য এক ব্যক্তিকে খুঁজছিলেন। অপহরণের সময় ওই ব্যক্তি কানাডায় ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তদন্তকারীরা কানাডায় গিয়ে জানতে পারেন, ট্রেলারটি নিয়ে ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার হুমকি পাচ্ছিলেন। শেরিফ প্যাট্রিক উইথরো জানিয়েছেন, ট্রেলার চুরির ঘটনার সঙ্গে অবতার সিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অবতার সিং বহু বছর ধরে গুরুদুয়ারায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে রান্না করতেন এবং মেরামতের কাজেও হাত লাগাতেন। স্ত্রী ও একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি গুরুদুয়ারা প্রাঙ্গণেই থাকতেন। বাকি দুই সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে সান হোয়াকিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ২০৯-৪৬৮-৪৪০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে। সংবাদসূত্র: কেটিভিইউ ফক্স ২, কেসিআরএ ৩, সিবিএস স্যাক্রামেন্টো
স্ত্রীর বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটির সহায়তা, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন স্বামী
ইসরায়েলে মার্কিন সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে চান নবনির্বাচিত সিনেটর এল-সাইয়েদ