লিমন-বৃষ্টি হ ত্যা মা ম লায় মৃ ত্যু দ ণ্ড চাইছে ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন, বি চার নির্ধারিত ২০২৭ সালে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহর মৃ ত্যুদ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন। হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর গত ৮ মে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়। মামলার বি চার এখনো শুরু হয়নি; মৃ ত্যুদ ণ্ডের কোনো রায়ও হয়নি।
লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। ২৭ বছর বয়সী এই দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। পরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে লিমনের মৃ ত দে হ এবং কাছাকাছি পানিতে বৃষ্টির মৃ ত দে হ পাওয়া যায়। তদ ন্তের পর লিমনের ক্যাম্পাসের বাইরের বাসার সাবেক সহবাসী, ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে হ ত্যা র অ ভি যোগ আনা হয়।
মে মাসে গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অ ভি যোগে বি চার শুরুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ স্ত্র ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুজনকে হ ত্যা করার দুটি অ ভি যোগ রয়েছে। প্রমাণ ন ষ্ট করা, মৃ ত দে হ অবৈধভাবে সরানো এবং মৃ ত্যুর তথ্য গোপনের অ ভি যোগও আনা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তরের দাবি, ফ্লোরিডার আইনে মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুতর পরিস্থিতি এ মামলায় রয়েছে। এগুলো প্রসিকিউশনের অবস্থান; আ দা লতে অ ভি যোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি।
১৮ মে আবুগারবিয়েহ আইনজীবীর মাধ্যমে অ ভি যোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। প্রকাশিত আ দা লতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জু রি বি চার শুরুর তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এ সূচি বদলাতে পারে। ফলে মে মাসের মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত বা ২০২৭ সালের বি চারসূচিকে নতুন কোনো রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে মে মাসেই লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। ৮ মে সমাবর্তনে তাঁদের স্মরণে পোশাকসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষে ডিগ্রিগুলো গ্রহণ করেন মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিবিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণা করছিলেন।
সূত্র: হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ও ডব্লিউইউএসএফ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreসৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় মো. সজিব নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃ ত্যু হয়েছে। রোববার, ৪ অক্টোবর হামলার সময় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্য ও সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে। নি হ ত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জুবাইল শহরে কাজ করছিলেন সজিব। সৌদি আরবে কর্মরত আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি সজিবের মৃ ত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। একই এলাকায় কর্মরত আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী রোশন আলী সরকারও সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলাটি ঠিক কোথায় আঘাত হানে এবং এর লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রবাসে ছিলেন সজিব। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শো কের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক আহমেদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাগড়া গ্রামের এক প্রবাসীর সৌদি আরবে মৃ ত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সজিবের ম র দে হ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বজনেরা ম র দে হ বাংলাদেশে এনে পারিবারিকভাবে দা ফ নের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন সৌদি আরব ও প্রতিবেশী ইয়েমেনকে ঘিরে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে জুবাইলে যে হামলায় সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে, সেটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলায় হ তা হ তের বিস্তারিত কিংবা সজিবের মৃ ত্যু নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উৎস ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই সজিবের মৃ ত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের এখন প্রধান প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে সজিবের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
ছোট থেকেই ১৫ জনের রান্না একাই করতেন, 'ইউর লিল কুক' কুমকুমের স্বপ্ন এখন বিশ্বজুড়ে বাংলা খাবার
লিমন-বৃষ্টি হ ত্যা মা ম লায় মৃ ত্যু দ ণ্ড চাইছে ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন, বি চার নির্ধারিত ২০২৭ সালে
১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি কর্মী নিচ্ছে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্যও থাকছে বড় সম্ভাবনা
বিশ্বের প্রথম চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত যাত্রীবাহী বিমান HY4 তৈরির গবেষণা দলে ছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে বিমানটির প্রথম আনুষ্ঠানিক উড্ডয়ন হয়। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার ডিএলআরের নেতৃত্বে তৈরি এই উড়োজাহাজের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন দেবযানী। ডিএলআরের তথ্য অনুযায়ী, HY4 হলো বিশ্বের প্রথম চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান, যা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিভিত্তিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চালিত। এর ফুয়েল সেল হাইড্রোজেনকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে এবং সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর চালানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রধান উপজাত হিসেবে তৈরি হয় পানি। উড্ডয়ন ও উচ্চতায় ওঠার সময় অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করে বিমানের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। HY4 প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বে ছিল জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং থার্মোডাইনামিকস। প্রকল্পে আরও যুক্ত ছিল ইউনিভার্সিটি অব উলম, হাইড্রোজেনিকস, পিপিস্ট্রেল, এইচটু ফ্লাই এবং স্টুটগার্ট বিমানবন্দর। চারজন যাত্রী বহনের উপযোগী বিমানটির দুটি আলাদা ফিউজলাজ রয়েছে, প্রতিটিতে দুজন করে বসার ব্যবস্থা। এই আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দেবযানী ঘোষের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির আরডাব্লিউটিএইচ আচেন ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব উলমের তথ্য অনুযায়ী, দেবযানী ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন ধরনের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ও ডিসি থেকে এসি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা। দেবযানীর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি থেকে পাওয়া ডিসি বিদ্যুৎকে বিমানের বৈদ্যুতিক মোটরের উপযোগী এসি বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রযুক্তি উন্নয়ন। এ জন্য সিলিকন কার্বাইডভিত্তিক পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবস্থার ওপর কাজ করেন তিনি। একই সঙ্গে ফুয়েল সেল, ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক মোটরের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও তাঁর গবেষণার অংশ ছিল। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবযানী জানিয়েছিলেন, এমন একটি পাওয়ার ইলেকট্রনিকস আর্কিটেকচার তৈরির লক্ষ্য ছিল, যা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ওজনে হালকা ও নির্ভরযোগ্য হবে। ব্যাটারি কখন চার্জ হবে, কখন ডিসচার্জ হবে এবং কখন ফুয়েল সেল থেকে কতটুকু শক্তি সরবরাহ করা হবে, সেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ইন্টারফেস তৈরিতেও তিনি কাজ করেন। ইউনিভার্সিটি অব উলমের প্রকাশিত গবেষণাতেও দেবযানীর এই কাজের উল্লেখ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি সহগবেষকদের সঙ্গে ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিচালিত হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন এসি হাইব্রিড পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ধারণা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পরবর্তী গবেষণাতেও HY4 বিমানের শক্তি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে তাঁর অবদান দেখা যায়। বাংলাদেশে স্নাতক শেষ করার পর দেবযানী কিছু সময় চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। পরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি এই গবেষণাক্ষেত্রে যুক্ত হন। তবে HY4-কে সরাসরি “বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক বিমান” বলা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক নয়। এর আগেও বৈদ্যুতিক ও ফুয়েল সেলচালিত পরীক্ষামূলক বিমান উড়েছে। ডিএলআর HY4-কে বিশ্বের প্রথম চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে। বিশ্বের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে চট্টগ্রামের দেবযানী ঘোষের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর গবেষণা দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নেও বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত ৪ সাংবাদিক, পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কথা জানালেন প্রক্টর
প্রীতম ও শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ: পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবেই দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি
টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় ৩২ শিশুকে বাইসাইকেল উপহার
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন প্রথম আলোকে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কিশোরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন। কিশোরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণশ্রমিকেরা গাড়িটি তুলে তাঁকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহেদীর বয়স ছিল ২৪ বছর। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই মুক্তাদির ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারাকের নাম উল্লেখ করা হলেও আটক কিশোরের নাম ছিল না। দ্য ডেইলি স্টারের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ডান পাশের চালকের আসনের দরজা দিয়ে তাকে বের হতে দেখা যায়। অন্য পাশের দরজা দিয়ে বের হন মধ্যবয়সী আরেক ব্যক্তি। পুলিশের আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরকে আদালতে হাজির করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরেফিন ইসলাম। আদালত তাকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় তার পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়। ওই দিনের শুনানির পর কিশোরের পক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ডেইলি স্টারের হাতে পাওয়া আপসনামায় বলা হয়, দাফন ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ টাকা এবং নিহতের বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে আপসনামায় কোনো তারিখ ছিল না। আপসনামায় দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারাক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং কিশোর যাত্রী ছিল বলে দাবি করা হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। আপসে মামলার বাদীর সম্মতির বিষয়ে জানতে ডেইলি স্টার সে সময় তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পায়। রোববারের শুনানিতে আদালত কিশোরকে জামিন দেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এজাহারে নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারাককে পুলিশ তখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুর্ঘটনার দায় এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্তের তথ্য ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।
চাকরির ভেরিফিকেশন বাদ পড়ার শঙ্কায় মুসলিম তরুণ, এক শতক জমি দিলেন হিন্দু প্রতিবেশী
টাঙ্গাইলের মেয়ে সোমা সাঈদ এখন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি