সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

আমেরিকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারা সেই সাদি আজ ২২০ কোটি ডলারের মালিক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৩:৪৬
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খান
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খান

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খানের সহপ্রতিষ্ঠিত মার্কিন ফিনটেক কোম্পানি এভেন বাড়ির ইক্যুইটিকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি ১১ কোটি ডলারের সিরিজ ই বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। ওই বিনিয়োগের পর এভেনের মূল্যায়ন দাঁড়ায় ২২০ কোটি ডলারে। 

সাদির এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর শুরুর দিকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার যোগ রয়েছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর তিনি মাইক্রোসফটে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে আর্থিক সেবা পেতে সমস্যায় পড়েছিলেন বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের চাকরির চিঠির ভিত্তিতে ফার্স্ট টেক ক্রেডিট ইউনিয়নে তাঁর প্রথম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। 

 

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সাদি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং টরন্টো ও পরে ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ও মা দুজনই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ওয়াটারলুতে তিনি প্রথমে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন, পরে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। মাইক্রোসফটের পর ২০১৩ সালে ফেসবুকে যোগ দিয়ে সার্চ, ম্যাপ এবং ইন্টারনেট ডট অর্গ প্রকল্পে কাজ করেন। 

২০১৯ সালে কলিন উইকম্যান ও মুর্তাদা শাহকে সঙ্গে নিয়ে এভেন প্রতিষ্ঠা করেন সাদি। তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পদের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ করা। কোম্পানির অন্যতম প্রধান পণ্য এভেন হোম ইক্যুইটি কার্ড মূলত একটি হোম ইক্যুইটি লাইন অব ক্রেডিট বা হেলক, যা কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। 

 

বাড়ির বাজারমূল্য থেকে মর্টগেজ ও বাড়ির বিপরীতে থাকা অন্যান্য ঋণ বাদ দিলে যে মূল্য অবশিষ্ট থাকে, সেটিই হোম ইক্যুইটি। সেই ইক্যুইটির বিপরীতে ঋণ দেওয়ায় জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের তুলনায় কম সুদে অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ফোরক্লোজারের মাধ্যমে বাড়ি হারানোর ঝুঁকি থাকে। এভেনের নিজস্ব ব্যাখ্যাতেও এই ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই এভেন ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের সিরিজ ডি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ইউনিকর্ন মর্যাদা অর্জন করে। ওই রাউন্ডে যৌথ নেতৃত্ব দেয় খোসলা ভেঞ্চার্স ও জেনারেল ক্যাটালিস্ট। পরের বছরের সিরিজ ই রাউন্ডে নেতৃত্ব দেয় খোসলা ভেঞ্চার্স; জেনারেল ক্যাটালিস্টসহ আগের কয়েকটি বিনিয়োগকারীও অংশ নেয়। এই দুই রাউন্ড মিলিয়ে বিনিয়োগের অঙ্ক ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মোট বিনিয়োগের হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এভেন দাবি করে, তখন পর্যন্ত তারা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রেডিট লাইন অনুমোদন করেছে এবং গ্রাহকদের ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি সুদ সাশ্রয়ে সহায়তা করেছে। এগুলো কোম্পানির প্রকাশিত হিসাব। অনুমোদিত ক্রেডিট লাইন এবং গ্রাহকদের বাস্তবে নেওয়া ঋণের পরিমাণও এক বিষয় নয়। 

 

এর পাশাপাশি হেভেন ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্ত হন সাদি। ফোর্বসের ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনে তিনি জানান, স্বাধীন এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ও এভেন কয়েক মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্রেডিট ইউনিয়ন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, হেভেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফেডারেল চার্টার পায়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকবে বলে ফোর্বস জানিয়েছে। 

২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল এভেন বিটকয়েনকে জামানত রেখে ব্যবহারযোগ্য ভিসা কার্ডও চালু করে। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকেরা বিটকয়েন বিক্রি না করে এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলারের ক্রেডিট লাইন পেতে পারেন। তবে বিটকয়েনের দাম কমলে জামানত বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সুদ, ফি ও ঋণের সীমা সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে।

 

সাদি খানের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পদভিত্তিক ঋণ সহজলভ্য করা। কিন্তু কম সুদের সুবিধার সঙ্গে বাড়ি বা বিটকয়েনকে জামানত রাখার দায়ও যুক্ত থাকে। ফলে এভেনের পণ্যকে সাধারণ জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের সমতুল্য হিসেবে দেখলে ঋণের প্রকৃতি ও ঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আড়ালে পড়ে যায়। 
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু
চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনই নিহত

চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে বাহিনীটি। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত যুগান্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ওই চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন। আটকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যান এবং পরে যুদ্ধে পাঠান। তবে প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা বাকি আটজনের অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্যটি বাহিনীর বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে।  চাকরির নামে বাংলাদেশিদের রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ আগেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ প্রতিবেদনে প্রতারণা, জবরদস্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়।    সংস্থা দুটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, দালালরা বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতেন। অনেককে রুশ ভাষায় লেখা এমন চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যা তাঁরা পড়তে বা বুঝতে পারেননি। পরে তাঁদের সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যুদ্ধের কাজে যুক্ত করা হয়।  ওই অনুসন্ধানের জন্য ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইউক্রেনে ২৪ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রুশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশি, পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এই গবেষণা চাকরির নামে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগের পটভূমি তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক ২০ জনের মৃত্যুর হিসাবটি নিশ্চিত করে না।    ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস বাংলাদেশ সরকারকে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার, প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৩:৫৯
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খান

আমেরিকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারা সেই সাদি আজ ২২০ কোটি ডলারের মালিক

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর

এক্সো ইমেজিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মেশিন ছাড়াই ফোনে আল্ট্রাসনোগ্রাম নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউসুফ হক, লক্ষ্য গ্রামেও চিকিৎসাসেবা

হারানো ম্যাকবুক ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক
জার্মান পর্যটককে ল্যাপটপ ফিরিয়ে দিল পুলিশ, পুরস্কৃত দুই কর্মকর্তা

নাটোরে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার ওয়েবার। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সকালে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে তাঁর হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় নাটোর সদর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ল্যাপটপের সঙ্গে খোয়া যাওয়া ক্যামেরাটি এখনো পাওয়া যায়নি বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   পুরস্কার পাওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের পর ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই পুরস্কার দেন আইজিপি। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন ওই জার্মান পর্যটক। ৭ অক্টোবর তিনি নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।   স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল। ফিরে এসে জিনিসগুলো খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় পুলিশের সহায়তা চান। তাঁর ল্যাপটপে আগের ছয় মাসের কাজের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল বলে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নাটোর সদর থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।   ল্যাপটপটি ওই দোকানে পাওয়া গেলেও যাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁরা ট্রেনে ল্যাপটপটি পেয়েছিলেন। হারানো ক্যামেরা উদ্ধার ও চুরিতে জড়িতদের ধরতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি।   ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল। বাংলাদেশ ভ্রমণের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেন আইজিপি। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত পেশাদার সেবা দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন। সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৫৮
কোরআন পড়তে পারার কারণে পরিচিত আব্বাস প্রামাণিক

চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তেন, নাটোরের ১২৩ বছর বয়সী সেই আব্বাস প্রামাণিক আর নেই

নার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর আদায়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সাঁথিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

পাবনার সাঁথিয়ায় মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটার পর সোমবার ১২ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মায়ের দেখাশোনা করার এবং সারাজীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন সাগর।   প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা মুন্নি খাতুনকে নিয়ে সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা। সেখানে মা ও ছেলে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান। সাগর জানান, আগের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং মায়ের দায়িত্ব পালন করতে চান।   নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর ৮ অক্টোবর ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির সময় মাকে মাসিক খরচ দিতে রাজি হলেও সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ইউএনও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ১২ অক্টোবর আবার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সময় দেন। এর মধ্যেই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আদালতের নজরে আসে।    রোববার ১১ অক্টোবর পাবনার আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনা হয়। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটানোর পর মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি হন সাগর। নিজের আচরণের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলেও আশ্বাস দেন। এরপর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ।    ছেলের সিদ্ধান্ত বদলানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুন্নি খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের প্রতি তাঁর আর রাগ বা অভিমান নেই। ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জীবনের বাকি সময় তাঁর কাছেই থাকতে চান। তাঁর ভাষ্য, তিনি ছেলের সান্নিধ্যই চেয়েছিলেন, এখন সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।   সাগরও জানিয়েছেন, আগের বক্তব্য আবেগের বশে দিয়েছিলেন। আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন মাকে কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। মায়ের সঙ্গে আগের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন সাগর।    সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বিরোধ মেটার পর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবরও নিচ্ছে পুলিশ।  সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৯:২৫
তাজমিনের শেষ যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে ছিল উদ্বেগ, সতর্ক করেননি কাউন্টারকর্মী আব্দুল্লাহ

হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরা

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ১৪ বছরের হাফেজ হীরা

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া

নতুন করে অন্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার আবেদন যাচাইয়ের নির্দেশ

0 Comments