সৌদি আরবগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩৬টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইট বাতিলের ফলে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর ফ্লাইট। এয়ারলাইনসটির মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা সর্বাধিক। আর ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিগো। সব মিলিয়ে সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের যাত্রাপথে অন্য বিমানবন্দরে সংযোগ ফ্লাইট ধরার কথা ছিল, তাঁদেরও নতুন করে সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক যাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রমের কারণেই ফ্লাইট পরিচালনায় এই বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিও বদলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ফ্লাইটে যাত্রা করা এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য বাতিলের এই পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreওমরাহ শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাঁদের ফেরার কথা থাকলেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় নির্ধারিত যাত্রা সম্ভব হয়নি। মক্কায় হোটেলে থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁদের আবাসন ও খাবার নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুর পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণরাও রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দলটির মোয়াল্লেম মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, মঙ্গলবার ৫০ জনের দেশে ফেরার কথা ছিল। ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় তাঁরা আটকা পড়েছেন। হোটেলে থাকার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ করতে গেছেন। তিনি জানান, দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। আরেক যাত্রী ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রবীণদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় নতুন করে থাকার ব্যবস্থা করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবগামী বাংলাদেশের ৩২টি সরাসরি ও ৫০টি ট্রানজিটসহ মোট ৮২টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যা ১৩ হাজার ৭১ জন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা–রিয়াদ ও ঢাকা–দাম্মাম রুটে নিজেদের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংশোধিত সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জরুরি যাতায়াতের জন্য জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ এবং টিকিটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানিয়েছেন, পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আটকা পড়া যাত্রীদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আল্লাহ ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, সাতক্ষীরায় গণপি টুনিতে প্রা ণ গেল যুবকের
সৌদি আরবগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা বদলাচ্ছে, থাকছে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা
চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে বাহিনীটি। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত যুগান্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ওই চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন। আটকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যান এবং পরে যুদ্ধে পাঠান। তবে প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা বাকি আটজনের অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্যটি বাহিনীর বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে। চাকরির নামে বাংলাদেশিদের রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ আগেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ প্রতিবেদনে প্রতারণা, জবরদস্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়। সংস্থা দুটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, দালালরা বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতেন। অনেককে রুশ ভাষায় লেখা এমন চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যা তাঁরা পড়তে বা বুঝতে পারেননি। পরে তাঁদের সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যুদ্ধের কাজে যুক্ত করা হয়। ওই অনুসন্ধানের জন্য ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইউক্রেনে ২৪ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রুশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশি, পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এই গবেষণা চাকরির নামে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগের পটভূমি তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক ২০ জনের মৃত্যুর হিসাবটি নিশ্চিত করে না। ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস বাংলাদেশ সরকারকে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার, প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আমেরিকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারা সেই সাদি আজ ২২০ কোটি ডলারের মালিক
১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর
মেশিন ছাড়াই ফোনে আল্ট্রাসনোগ্রাম নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউসুফ হক, লক্ষ্য গ্রামেও চিকিৎসাসেবা
নাটোরে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার ওয়েবার। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সকালে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে তাঁর হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় নাটোর সদর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ল্যাপটপের সঙ্গে খোয়া যাওয়া ক্যামেরাটি এখনো পাওয়া যায়নি বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুরস্কার পাওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের পর ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই পুরস্কার দেন আইজিপি। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন ওই জার্মান পর্যটক। ৭ অক্টোবর তিনি নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল। ফিরে এসে জিনিসগুলো খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় পুলিশের সহায়তা চান। তাঁর ল্যাপটপে আগের ছয় মাসের কাজের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল বলে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নাটোর সদর থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। ল্যাপটপটি ওই দোকানে পাওয়া গেলেও যাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁরা ট্রেনে ল্যাপটপটি পেয়েছিলেন। হারানো ক্যামেরা উদ্ধার ও চুরিতে জড়িতদের ধরতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি। ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল। বাংলাদেশ ভ্রমণের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেন আইজিপি। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত পেশাদার সেবা দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন। সূত্র: আরটিভি
চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তেন, নাটোরের ১২৩ বছর বয়সী সেই আব্বাস প্রামাণিক আর নেই
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু