সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:৩৬
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরির মামলায় সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরির মামলায় সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড

ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারে স্কুলছাত্রীদের ছবি ব্যবহার করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি এবং গোপনে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি তোলাসহ ২১টি অ প রাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও সাবেক শিক্ষক আবুসালি রহমানকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বোল্টন ক্রাউন কোর্ট তাঁর সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অ প রাধ প্রতিরোধে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ বছরের যৌ ন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ জারি করা হয়েছে।
 

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সালফোর্ডের বাসিন্দা রহমান বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি শিক্ষকের অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের আস্থার অপব্যবহার করেন। এ সময় বোল্টন, ব্যুরি ও সালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছাত্রীদের অজান্তে ছবি তোলেন তিনি।


যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, রহমান শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করতেন। সেখান থেকে ছবি নিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে সেগুলো বিকৃত করে যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি করতেন এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন। তাঁর ইলেকট্রনিক ফাইল থেকে ছাত্রীদের নাম ও ঠিকানাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যও উদ্ধার করা হয়।


২০২৫ সালের ২ মার্চ উদ্বিগ্ন কয়েকজন অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুটি অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তদন্তে রহমানের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এলে তাঁর ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এসব যন্ত্রে বিকৃত ছবির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অজান্তে তোলা ব্যক্তিগত ছবিও পাওয়া যায়।


পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে রহমানকে প্রথম গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে আরও অ প রাধের তথ্য পাওয়া গেলে এবং জামিনের শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় তাঁকে আবারও গ্রে প্তা র করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁর সংগ্রহে তিন শতাধিক যৌ ন নি পী ড়নমূলক ছবি পান।


রহমান ২০২৬ সালের ২৮ মে আদালতে ২১টি অ প রাধ স্বীকার করেন। এর মধ্যে শিশুদের অ শা লী ন ছবি তৈরির ১২টি, অ শ্লী ল উপাদান প্রকাশের চারটি, বিকৃত ছবি তৈরির তিনটি এবং ছবি বিতরণ ও সম্মতি ছাড়া পোশাকের নিচে ছবি তোলার যন্ত্র ব্যবহারের একটি করে অ প রাধ রয়েছে।


জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আলেকজান্দ্রা ম্যান বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। রহমান শিক্ষার্থীদের অজান্তে ছবি তুলে এবং বিকৃত ছবি ছড়িয়ে শিক্ষকের প্রতি তাঁদের আস্থার গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন।


ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
জবিতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের গরুভোজ আয়োজন
জবিতে পশু জ বা ইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জ বা ইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই করেছেন একদল শিক্ষার্থী। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে উপাচার্য ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে পূর্বঘোষিত ‘গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গরুটি জ বা ই করা হয়।   গত বুধবার, ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জ বা ই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় প্রশাসন। এ নির্দেশনার প্রতিবাদে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় গরু ও একটি ছাগল নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা। মাসুদ রানা জানান, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এর সঙ্গে দেশ ও বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থসহায়তা দিয়ে গরুটি কেনা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজনে একটি ছাগলও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদকারীরা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আগের নৈশভোজের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত, ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবি তোলেন তাঁরা। ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে গত সোমবার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের নৈশভোজ আয়োজন নিয়ে বিরোধ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতর্ক ও বিক্ষোভ হয়। এর পর বুধবার পশু জ বা ইসংক্রান্ত নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গরুভোজ আয়োজনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:৩৬
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরির মামলায় সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড

ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড

থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে

নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ব্যয় কমানোর সুপারিশ

নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানো ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ কমিশনের

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সাড়াদানকারী দল মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাহিনীটি। এ জন্য দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।   আজ রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, বিজিবিএম, পিএসসি, আর্টিলারি।   পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার আওতায় থাকা ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে, ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং ১৮৩টি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।   দুর্গম এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সাড়াদানকারী দল (কিউআরএফ) প্রস্তুত রাখা, ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার এবং বিজিবির সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজামণ্ডপের কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। ঢাকায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।   এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ছড়ানোর আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   ১০ মাসে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।   এ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জনকে।   একই সময়ে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২১৩টি গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   মানব পাচার ও পুশ-ইন ঠেকাতে অভিযান বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ মানব পাচারের শিকার হতে যাওয়া ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।   এ সময়ে দেশের ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় বাংলাদেশে পুশ-ইন চেষ্টার ১৮২টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে বিজিবি।   এ ছাড়া অভিযানে ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।   নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের বেলায় পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।   দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৪:৪৯
জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা সংশোধনের জন্য সঠিক তথ্যের সপক্ষে প্রমাণপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। ছবি: সংগৃহীত

এনআইডিতে নাম, বয়স, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধনে কোন কাগজ লাগবে, জানুন আবেদনের নিয়ম

মোটরসাইকেলের পেছনে ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বিআরটিএ। ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত

পোশাকশ্রমিক

১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে সংসার চলে না, ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাজপথে পোশাকশ্রমিক

হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শুক্কুর আলী ব্যাপারী
মাদক-জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে বিএনপির এক নেতা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, মাদক, জুয়া ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।    নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে মঙ্গলবার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।   পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গাছুয়া ইউনিয়নের ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকায় সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করার সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারী অভিযোগ করেছেন, রহমত ফরাজী, বারেক ফরাজী, মুজাম্মেল ফরাজীসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন।   হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।   তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বারেক ফরাজী। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, লঞ্চঘাট এলাকার দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। শুক্কুর আলীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।    মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, মারধরের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।   প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।    ঘটনাটি ঘিরে মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ ও সহিংসতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দেওয়াই হত্যার কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১১:১
সোনালী ব্যাংকের এটিএম, কার্ড ও ডিজিটাল ব্যাংকিং

আজ রাত থেকেই সোনালী ব্যাংকের এটিএমসহ সব ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ, ভোগান্তির আশঙ্কা

এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদা

১৮ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, দেউলিয়া থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এয়ারট্রাঙ্ক গড়লেন রবিন

কৃষিকে লাভজনক করার তাগিদ দিলেন রাষ্ট্রপতি (ছবি: সংগৃহীত ও এআই দ্বারা সম্পাদিত)

উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লাভ নেই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি

0 Comments