তীব্র গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন; কবে হবে স্বস্তির বৃষ্টি?
চৈত্র মাসের মাঝামাঝিতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আজ শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের এই তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির অনুপস্থিতি ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহ আরও দু-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী পরশু থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজশাহী ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
বৃষ্টি কবে?
স্বস্তির খবর দিয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আগামী সোম বা মঙ্গলবার থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সিলেটে আগামী রোববারের মধ্যেই বৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু এখন কালবৈশাখীর মৌসুম, তাই বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বা কালবৈশাখী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ:
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কাজী আরিফ আহমেদ জানান, এই অস্বাভাবিক গরমে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া, ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreসৌদি আরবের মদিনায় তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার, ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঢাকার পূর্ণ সংহতির কথা জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথিদের দায়ী করলেও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডেরও বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ। হামলাটি ঘটে গত মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ১ অক্টোবর জানায়, মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত হেনেছে। জোটের দাবি, উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলায় হুথিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হলেও মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মসজিদে নববীতে সরাসরি হামলা হয়েছে, এমন কথা সৌদি জোটের বিবৃতিতে বলা হয়নি। অন্যদিকে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তারা মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। বাংলাদেশের আগে পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়েছে আজ; হামলা এবং এ বিষয়ে সৌদি জোটের অভিযোগ কয়েক দিন আগের। সূত্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে ইউএনবির প্রতিবেদন; সৌদি প্রেস এজেন্সি ও রয়টার্স।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের নির্দেশ বাংলাদেশ সরকারের
মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ বিপদ, শরীরে ঢুকে পেটের ভেতর অন্ত্র ফুটো করল জীবন্ত মাছ
রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম, কঠোর নিরাপত্তায় চলছে পরিবহন
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭০০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৩ জন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে এক লাফে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ডেঙ্গুর চাপ রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা ওই দিনের বিভাগভিত্তিক হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো আবহাওয়া। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ দীর্ঘায়িত হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী অক্টোবরেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির পর মশার প্রজনন এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির প্রভাব অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণে দেখা যেতে পারে। এডিস মশা শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার ঘটেছে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাই শুধু রাস্তা বা এলাকায় কীটনাশক ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, ফুলের টব, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের ২৫০ মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এটি ২ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাবে পাওয়া সংখ্যা। তাই পরবর্তী স্বাস্থ্য বুলেটিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে হাম পরিস্থিতিও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে হামের নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি এবং সন্দেহভাজন বা হামসদৃশ অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ফলে একই সময়ে একাধিক রোগের চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর বাংলাদেশের জন্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সংক্রমণ ও গুরুতর জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এবার অনলাইনে হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন! বন্ধ হবে গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ?
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ত্রিশিতা
বন্ধ মিটারে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে বিল ২৯ হাজার! বিপাকে গ্রাহক
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব প্রতি বছর তলবের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়া নিজের ব্যাংক হিসাব দিয়ে শুরু করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার, ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে হাসনাত এ দাবি জানান। বার্তা বাজারের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অন্য কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পোস্টে হাসনাত সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত তলবের কথা বলেন। এই দাবির সঙ্গে নিজের হিসাবও যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাকে দিয়ে তা শুরু হোক।’ ব্যাংক হিসাব তলবের ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচকদের বেছে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। দৈনিক সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানাননি। তবে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার পর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন। এটি হাসনাতের অভিযোগ; ব্যাংক হিসাব তলবের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি ওই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়নি। একই পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। এসব বক্তব্য হাসনাতের উত্থাপিত প্রশ্ন ও দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। হাসনাত আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব নিজেরাই প্রকাশ করেছেন। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: বার্তা বাজার
বাংলাদেশে থেকে পড়তে আসা মাহফুজ আহমেদের এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা
বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার প্রতিনিধিদল