আমেরিকা বাংলা । বিনোদন ডেস্ক: দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা কাঁপাতে ফিরছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গেম শো-এর বাংলাদেশি সংস্করণ ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’। আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে জনপ্রিয় এই শো-টির সিজন ২ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম সিজনের অভাবনীয় সাফল্যের পর এবারের সিজনটি আরও বেশি রোমাঞ্চকর এবং বড় পরিসরে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয় তারকা তাহসান খানের জাদুকরী সঞ্চালনায় এবং ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্রর নিপুণ পরিচালনায় এবারের সিজনে থাকছে আগের চেয়েও আকর্ষণীয় সব পুরস্কার। পারিবারিক বিনোদনের এই আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত টিম ‘ফ্যামিলি ফিউড’।
শো নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাহসান খান বলেন, “এবারের সিজনটা সত্যিই বিশেষ। আমরা এবার দেশের সবকটি জেলার মানুষের ওপর সরাসরি সার্ভে চালিয়ে প্রশ্নগুলো তৈরি করেছি। উত্তরগুলো যেমন মজার, তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত। প্রতিযোগীদের এবার আরও বেশি ভেবে-চিন্তে উত্তর দিতে হয়েছে, যা প্রতিটি এপিসোডকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।”
কখন এবং কোথায় দেখবেন?
আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে প্রতি সোমবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এনটিভিতে প্রচারিত হবে ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’ সিজন ২। যারা সরাসরি দেখতে মিস করবেন, তাদের জন্য থাকছে পুনঃপ্রচারের ব্যবস্থা—প্রতি বুধবার দুপুর ১টায়। এছাড়া দর্শকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ‘বঙ্গ’ (Bongo) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শো-টি উপভোগ করা যাবে।
পারিবারিক বন্ধন আর হাসিখুশির মিশেলে এই শো এবারও ভিউয়ের নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও বিতর্কিত সুপারন্যাচারাল ফিকশন ‘নাগিন’ এবার বড়পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায়। বলিউড পাড়ায় জোরালো গুঞ্জন, একতা কাপুর তাঁর এই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটিকে বড় বাজেটের সিনেমার রূপ দিতে চলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন বা প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয় টেলিভিশনের টিআরপি তালিকায় ‘নাগিন’ বছরের পর বছর শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। মৌনী রায়, আদা খান, সুরভি জ্যোতি, নিয়া শর্মা এবং সর্বশেষ তেজস্বী প্রকাশের মতো অভিনেত্রীরা এই সিরিজে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। দর্শকদের এই বিপুল উন্মাদনাকেই এবার বাণিজ্যিক সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করতে চান একতা। সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এখন এর কাস্টিং নিয়ে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে: পুরোনো মুখ: মৌনী রায় বা তেজস্বী প্রকাশের মতো জনপ্রিয় কোনো নাগিনকে কি বড়পর্দায় ফেরানো হবে? নতুন চমক: নাকি বলিউডের কোনো প্রথম সারির নায়িকাকে এই অতিপ্রাকৃত চরিত্রে দেখা যাবে? যদিও প্রযোজনা সংস্থা থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। বড়পর্দার জন্য ‘নাগিন’-কে আরও আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অত্যাধুনিক ভিএফএক্স (VFX) এবং গ্রাফিক্সের কাজ করা হবে বলে জানা গেছে। টেলিভিশন নাটকের তুলনায় সিনেমার গল্প এবং নির্মাণশৈলী অনেক বেশি জমকালো ও রোমহর্ষক করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল ভক্ত তাঁদের প্রিয় চরিত্রকে বড়পর্দায় দেখতে মুখিয়ে আছেন, আবার অনেকের মতে টিভির গল্পের সিনেমা সংস্করণ কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
শান্তিনগরের স্থায়ী বাসিন্দা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া গত সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে একটি ‘ব্যঙ্গাত্মক’ (Satire) স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নাগরিক জীবনের ভোগান্তি ছাড়িয়ে তার আক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিজের সংসদীয় আসন। শবনম ফারিয়া তার স্ট্যাটাসে লেখেন: “শান্তিনগরে ২৪/৭ জ্যাম এইটা নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নাই কিংবা আমার এলাকার কোনো এক মেয়ে জায়েদ খানের ছবি এমবুশ করা বালিশে ঘুমায় এইটা নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নাই। আমার কষ্ট একটাই শান্তিনগর ঢাকা-৮ আসনে পড়ে। আর আমি সেই আসনের ভোটার!” ফারিয়ার এই স্ট্যাটাসে হাজার হাজার রিয়েকশন ও কমেন্ট পড়েছে। নেটিজেনরা ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী মারামারি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মজার সব রিপ্লাই দিয়েছেন: পপকর্ন থিওরি: এক অনুসারী লিখেছেন, “আপনি তো ভাগ্যবান! ফ্রি-তে এলাকায় মারামারি দেখতে পারবেন। নির্বাচনের আগে কিছু ভুট্টা কিনে রাখুন, পপকর্ন বানিয়ে এনজয় করবেন।” আব্বাস-নাসির ভাই প্রসঙ্গ: সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন বর্তমান রাজনৈতিক দ্বৈরথকে ইঙ্গিত করে স্যাটায়ার করেছেন। শান্তিনগরে অশান্তি: একজন মন্তব্য করেন, “শান্তিনগরে আর শান্তি নাই।” যার জবাবে ফারিয়া পাল্টা প্রশ্ন করেন— “কবে ছিলো ভাই?” ঢাকা-৮ আসনটি (মতিঝিল-পল্টন-শান্তিনগর) বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম ‘হটসিট’। বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতায় এই আসনের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে যে ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার চালাচ্ছেন, ফারিয়ার পোস্টে মূলত সেই পরিস্থিতির দিকেই একটি ‘মৃদু খোঁচা’ বা রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ দেখছেন নেটিজেনরা।
আমেরিকা বাংলা । বিনোদন ডেস্ক: বউয়ের যন্ত্রণায় মোশাররফ করিমের নাজেহাল দশা? না কি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প? আসছে ঈদে দর্শকদের হাসির সাগরে ভাসাতে এক হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম ও গ্ল্যামারাস নীলাঞ্জনা নীলা। দম্পতির বাস্তব জীবনের টক-ঝাল-মিষ্টি সম্পর্কের এক অনন্য গল্প নিয়ে তারা ফিরছেন ‘বউ প্যারা দেয়’ নাটকে। সাইফ আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় সম্প্রতি শেষ হয়েছে এই বিশেষ নাটকটির চিত্রধারণ। একটি সাধারণ সুখী দম্পতির জীবনে ঘটে যাওয়া হাস্যকর সব ঘটনা আর ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এর কাহিনী। তবে স্রেফ হাসি নয়, নাটকের শেষে রয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার এক গভীর বার্তা। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত মোশাররফ করিম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অনেক ছোট ছোট অম্ল-মধুর মুহূর্ত নিয়ে নাটকটি সাজানো হয়েছে। দর্শক যেমন এখানে হাসির রসদ পাবেন, তেমনি পাবেন চমৎকার একটি মেসেজ। সহশিল্পী নীলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলা খুবই মনোযোগী একজন অভিনেত্রী, ওর সঙ্গে কাজ করে বরাবরই ভালো লাগে। অন্যদিকে কিংবদন্তি অভিনেতা মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আপ্লুত নীলাঞ্জনা নীলা। তিনি বলেন, মোশাররফ ভাই এতো বড় মাপের একজন অভিনেতা হয়েও সেটে সবসময় ভীষণ সাধারণ থাকেন। আমার মতো জুনিয়র শিল্পীকে তিনি যেভাবে সহযোগিতা করেন, তা সত্যিই শিক্ষণীয়। আশা করছি আমাদের এই জুটি দর্শকদের ভালো লাগবে। কমেডি ঘরানার এই নাটকটি আগামী ঈদে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারের কথা রয়েছে। প্রিয় তারকার নতুন এই ‘প্যারা’ দেখতে এখন থেকেই প্রহর গুনছেন ভক্তরা।