বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ আসতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসেই ২০টি ব্রডগেজ কোচ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০টি কোচ, যা চলতি বছরের জুলাইয়ে সরবরাহ করা হবে। এগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগে সম্পাদিত বড় একটি চুক্তির অংশ।
বাংলাদেশ ৯১৫ কোটি রুপির বিনিময়ে ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে কোচগুলো সরবরাহ করা হবে। প্রথম চালান হিসেবে এই ২০টি কোচ পাঠানো হচ্ছে।
এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারত এই কোচ নির্মাণের কাজ পায়। বর্তমানে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়।
ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেক আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। বাংলাদেশে বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সময়ের জন্য এই প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। তবে বর্তমানে কাজ আবার স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
এর আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ১০ মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ জোরদার এবং পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে এসব সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সর্বশেষ চুক্তির আওতায় শুধু কোচ সরবরাহই নয়, বরং এর নকশা সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কোচগুলো চালু করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা দেবে ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চালান দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে দেশটিকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হতো—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিই ইরানকে সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করছে। বুধবার (২৪ জুন) সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গাজায় চলমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না থাকলে শত্রুরা ইরানের শিশু কিংবা বৃদ্ধ—কাউকেই রেহাই দিত না।” তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার প্রশ্নে ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না এবং সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা দেশের জন্য অপরিহার্য। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইসলামাবাদে পৌঁছান পেজেশকিয়ান। রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এ সময় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দামও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও ওমান থেকে এসে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান। বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের উদাহরণ টেনে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। ইরানের দৃষ্টিতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও দেশটি বরাবরই বলে আসছে, এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দাবদাহের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়। ফ্রান্সের উপকূলীয় ফিনিস্তের বিভাগের প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কিম্পের শহরের কাছে এরগে-গাবেরিক কমিউনে ট্রান্সফরমারটির ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং হাজারো পরিবার অন্ধকারে পড়ে। ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা আরটিই এবং এনেদিসের কর্মীরা রাতভর মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে ফ্রান্স চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়। আরটিই জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও সব পরিবারকে একযোগে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে না। ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগের মধ্যে ফিনিস্তের অন্যতম, যেখানে চরম তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিশেষ অবস্থানের কারণে গরম বাতাস কয়েক দিন ধরে একই এলাকায় আটকে রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ১৪ দফার এই স্মারকলিপি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ভার্সাইতেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে আরও বাড়ানো যেতে পারে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ৬০ দিনের জন্য টোল-মুক্ত নিরাপদ পথ নিশ্চিত করবে। সমঝোতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ অর্থনৈতিক প্যাকেজ। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের নিষ্পত্তি আইএইএর তত্ত্বাবধানে হবে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। চুক্তির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী চালু রাখা সম্ভব হতো না এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধাক্কা লাগতে পারত। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর প্রভাব ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছিল, এমনকি তার সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যেও। চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। ফলে জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়তে থাকা জনমতের চাপের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সমঝোতা নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০১৫ সালের জেসিপিওএ পরমাণু চুক্তিকে ‘সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহারও করেন। কিন্তু নতুন এই কাঠামোগত সমঝোতায় ইরানকে দেওয়া সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা আগের চুক্তির তুলনায় বেশি বলে সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছে। ইরান চুক্তিটিকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, ইরান এই চুক্তিকে একটি বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে একে একটি ঐতিহাসিক দলিল আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি শক্তিশালী ইরানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিও স্মারকলিপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিমায়িত সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনা এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি, যা দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। চুক্তিতে ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়। ফলে দেশটির পক্ষ থেকে সমালোচনাও প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের সমালোচনার জবাবে বলেন, “ট্রাম্পই বিশ্বে তোমাদের একমাত্র মিত্র যিনি বাকি আছেন।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ও ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা একমত। তবে একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারেরও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষও যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলমান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মূল চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া সত্ত্বেও এসব প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকায় তেল আবিবের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চুক্তিটি বিভাজন তৈরি করেছে। সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে তারা “দুষ্কৃতিকারী, মূর্খ বা ঈর্ষাকাতর।” তার এই বক্তব্য রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়। যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে ছিল না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক রেটিংও চাপে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের অবসান ও বাজারে স্থিতিশীলতা জনমনে স্বস্তি আনলেও ইরানকে দেওয়া বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সমঝোতা এখনো মূল বিরোধগুলোর সমাধান করেনি। বিশেষজ্ঞ এলিসা ইওয়ার্সের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ টোল আদায় না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সার্ভিস ফি বা অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক কিছু অর্জন দেখাতে পারছে। ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কৃতিত্ব দাবি করতে পারছেন, আর ইরান পাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল হওয়ার প্রতিশ্রুতি। তবে পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনো অমীমাংসিত। ফলে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এই সমঝোতার চূড়ান্ত সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।