ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন কিং মেকার হিসেবে আবির্ভূত জোহরান মামদানি
নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচনে একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের শক্তিশালী প্রমাণ দিলেন মেয়র জোহরান মামদানি। তার সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দলটির ভেতরে নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মামদানির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে দুজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় মামদানির সমর্থন পাওয়া ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বিজয়ী হন।
সপ্তম জেলায় জয় পান ক্লেয়ার ভালদেজ। আর ১০ম জেলায় মামদানির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ব্র্যাড ল্যান্ডার বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এই সাফল্যের পর বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়ে মামদানি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব এবং ভিন্নধর্মী নীতির প্রয়োজন রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল ধারার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির আদর্শিক অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েকজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল-সংক্রান্ত নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। বিজয়ী প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার বলেন, এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তবে সব আসনে প্রগতিশীল প্রার্থীরা সফল হননি। নিউইয়র্কের ১২তম কংগ্রেসনাল আসনে দলীয় মূলধারার সমর্থন পাওয়া মাইকা ল্যাশার বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে উটাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও মধ্যপন্থি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে রিপাবলিকান পার্টিতেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচন। দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের শুরুতে ট্রাম্প পাম এভেটকে সমর্থন দিলেও পরে দুই প্রার্থীর প্রতিই সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত অ্যালান উইলসন বড় ব্যবধানে জয় পান।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প সমর্থিত আরও কয়েকজন গভর্নর প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো শক্তিশালী আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিভিন্ন নির্বাচনে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের জন্য যে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রাথমিক নির্বাচন বা প্রাইমারি বলা হয়। বর্তমানে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Michigan) কলেজ অফ লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস (এলএসএ) শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান 'মানসিক স্বাস্থ্য সংকট' মোকাবিলার লক্ষ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফল সেমিস্টার থেকে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল ট্রান্সক্রিপ্টে গোপন রাখা হবে। প্রচলিত লেটার গ্রেডের পরিবর্তে তাদের শুধুমাত্র 'পাস/নো ক্রেডিট' ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই এলএসএ কলেজ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত গ্রেড ব্যক্তিগতভাবে জানতে পারবেন এবং অধ্যাপকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও পাবেন। তবে এই ফলাফল কোনোভাবেই তাদের সিজিপিএ-তে (CGPA) যুক্ত হবে না। ট্রান্সক্রিপ্টে কেবল উল্লেখ থাকবে যে, প্রথম সেমিস্টারের সব কোর্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাস' বা 'নো ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে একাডেমিক পুরস্কার, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেড যথারীতি তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং জিপিএ-তে যুক্ত হওয়া শুরু করবে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজের কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেড গোপন রাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার বদলে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুরুর দিকের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোয়ার্থমোর কলেজ এবং ওয়েলেসলি কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগে থেকেই অনুরূপ নীতি চালু রয়েছে। তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। 'থেরাপি নেশন'-এর লেখক ও সাইকোথেরাপিস্ট জোনাথন আলপার্ট দ্য পোস্ট-কে বলেন, "আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ মানসিক চাপকেও একটি বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খারাপ গ্রেড পাওয়া হতাশাজনক বা বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই মানসিকভাবে ক্ষতিকর নয়।" তিনি আরও বলেন, "কলেজের উচিত শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কর্মক্ষেত্রে কোনো বস্ আপনার খারাপ পারফরম্যান্স গোপন রাখবেন না। তরুণদের বুঝতে হবে যে খারাপ লাগা মানেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়।"
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার নারী অ্যাথলেটিক ট্রেইনার
যুক্তরাষ্ট্রের ২০১ মিলিয়ন ডলারের তহবিলে নতুন গতি পাচ্ছে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যপথ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাবে’ গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ এক যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি এবং সীমিত আয় ও সম্পদের অধিকারীরা সরকারি সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচির আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ সালে এই কর্মসূচিতে একজন যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ মাসিক অর্থের পরিমাণ ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে সবাই সর্বোচ্চ অর্থ পাবেন না; আয়, সম্পদ, বসবাসের ধরন ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ কমতে পারে। সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচিটি সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমিত আয় ও সম্পদের অধিকারী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ, অন্ধ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক সমস্যা কাজ করার সক্ষমতায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে হবে এবং তা অন্তত এক বছর স্থায়ী হওয়ার বা মৃত্যুর কারণ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১৪ ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ১৫ ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা উল্লেখ রয়েছে। এসব মিলিয়ে মোট ২৯টি স্বাস্থ্যগত শ্রেণি রয়েছে, যেগুলোর বিভিন্ন উপশ্রেণিতে নির্দিষ্ট রোগ বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু কোনো একটি রোগের নাম তালিকায় থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় না; সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যার নির্দিষ্ট শর্তও পূরণ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের তালিকায় হাড় ও পেশির সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণসহ বিশেষ ইন্দ্রিয় ও বাক্সংক্রান্ত সমস্যা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, মূত্র ও প্রজননতন্ত্রের সমস্যা, রক্তসংক্রান্ত রোগ, ত্বকের সমস্যা এবং হরমোনসংক্রান্ত রোগ রয়েছে। এ ছাড়া জন্মগত সমস্যা, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, মানসিক সমস্যা, ক্যান্সার এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসংক্রান্ত সমস্যাও তালিকায় রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও হাড় ও পেশির সমস্যা, বিশেষ ইন্দ্রিয় ও বাক্সংক্রান্ত সমস্যা, শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি, পরিপাকতন্ত্র, মূত্র ও প্রজননতন্ত্র, রক্ত, ত্বক, হরমোন, জন্মগত সমস্যা, স্নায়ুতন্ত্র, মানসিক সমস্যা, ক্যান্সার এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসংক্রান্ত সমস্যাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিশুদের জন্য কম ওজন নিয়ে জন্ম এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে না পারার মতো অবস্থাও তালিকায় রয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্যগত শ্রেণির অধীনে আরও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের রক্তক্ষরণ, দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের রোগ ও অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের মতো অবস্থার উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে হাড় ও পেশিসংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের এমন সমস্যা, যার কারণে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, বড় জোড়ের অস্বাভাবিকতা এবং বিভিন্ন কারণে অঙ্গচ্ছেদের মতো অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে একজন যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ফেডারেল অর্থ ৯৯৪ ডলার। যোগ্য দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে এই অর্থ নির্দিষ্ট কোনো রোগের জন্য নির্ধারিত নয়। একজন আবেদনকারী কত অর্থ পাবেন, তা তার গণনাযোগ্য আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি, বসবাসের ধরন এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। কিছু অঙ্গরাজ্য ফেডারেল অর্থের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থও দেয়। এ ছাড়া সম্পদের সীমাও রয়েছে। ২০২৬ সালে সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির গণনাযোগ্য সম্পদের সীমা ২ হাজার ডলার এবং একসঙ্গে বসবাসকারী যোগ্য দম্পতির জন্য ৩ হাজার ডলার। সব ধরনের সম্পদ অবশ্য এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না। আয় ও সম্পদের পাশাপাশি আবেদনকারীর বসবাসের পরিস্থিতিও চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। সুবিধার জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের প্রথমে নিজেদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও আর্থিক পরিস্থিতি কর্মসূচির যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে বলা হয়। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। আবেদন করার সময় আয়, সম্পদ, পরিচয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই তালিকাভুক্ত ২৯টি স্বাস্থ্যগত শ্রেণির কোনো একটির সঙ্গে সমস্যা মিলে গেলেই মাসে ১ হাজার ৪৯১ ডলার পাওয়া যাবে—এমন নয়। ১ হাজার ৪৯১ ডলার হলো ২০২৬ সালে যোগ্য দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ ফেডারেল মাসিক অর্থের পরিমাণ। একজন যোগ্য ব্যক্তির সর্বোচ্চ ফেডারেল অর্থ ৯৯৪ ডলার এবং প্রকৃত অর্থ ব্যক্তিভেদে কম-বেশি হতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পেলেন ২ বছরে ১৬ লাখ ডলার
নিউইয়র্কে হাউজিং লটারিতে ফ্ল্যাট পেলেন ২৬ বছরের তরুণী, মাসে ভাড়া মাত্র ৮৮১ ডলার
নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে ৭২ মিলিয়নে কেনা বাড়ির নতুন তালিকামূল্য ১৬২ মিলিয়ন!
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে বসবাস করা ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় ট্রাকচালক খুশকারানদীপ সিং নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হয়েছেন। পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার আটলান গ্রামের এই তরুণের মরদেহ একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিউ ইন্ডিয়া অ্যাব্রডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুশকারানদীপ সিং গত ৩০ জুলাইয়ের পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে পরিবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বনাঞ্চল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের গাড়িতে চলাচলের সময় তাকে গুলি করা হয়েছিল। তবে কারা তাকে গুলি করেছে কিংবা হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দারা। খুশকারানদীপের আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুর খবর তার নিজ এলাকা পাতিয়ালার আটলান গ্রামে পৌঁছালে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিউ ইন্ডিয়া অ্যাব্রডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খুশকারানদীপের বাবা বলবিন্দর সিং ভারতের সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের ইচ্ছা, মরদেহ ভারতে নিয়ে গিয়ে নিজ এলাকায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা। এদিকে উত্তর আমেরিকার পাঞ্জাবি কমিউনিটির সদস্যরা খুশকারানদীপের মরদেহ ভারতে পাঠানো, শেষকৃত্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে ১৩ হাজার ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে ১৫৮টি অনুদানে ১২ হাজার ৭৫৫ ডলার সংগ্রহ হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ সংগ্রহের আবেদনে খুশকারানদীপকে পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি পরিবারের আর্থিক ও মানসিক সহায়তার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে এমন সহিংস মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে খুশকারানদীপের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, কিংবা হত্যার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। নিহত তরুণের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও পরিবারের পক্ষ থেকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ খনিতে ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র
জো বাইডেনের হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যান্সার,কষ্টের কথা জানালেন ছেলে হান্টার