ইউরোপে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার
ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দাবদাহের মধ্যে এটি সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
ফ্রান্সের উপকূলীয় ফিনিস্তের বিভাগের প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ব্রিটানি অঞ্চলের কিম্পের শহরের কাছে এরগে-গাবেরিক কমিউনে ট্রান্সফরমারটির ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং হাজারো পরিবার অন্ধকারে পড়ে।
ফ্রান্সের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা আরটিই এবং এনেদিসের কর্মীরা রাতভর মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে ফ্রান্স চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের মুখোমুখি হয়।
আরটিই জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার দিনের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও সব পরিবারকে একযোগে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে না।
ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগের মধ্যে ফিনিস্তের অন্যতম, যেখানে চরম তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটানি থেকে প্যারিস অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বুধবার তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বায়ুপ্রবাহের বিশেষ অবস্থানের কারণে গরম বাতাস কয়েক দিন ধরে একই এলাকায় আটকে রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreজাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময় এই ভাষণ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন। ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গাজার ভয়াবহ অবস্থার সামনে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি তবে আমাদের আর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকে। তথাকথিত শান্তির কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই লজ্জাজনক দৃশ্য কি আমাদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে, কখনোই নয়। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রাত্যহিক নিয়ম লঙ্ঘনেরও কঠোর সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর ফলে ইসরায়েল বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি হুমকিতে পড়বে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উপস্থিত কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আটকে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করবে। বার্নহ্যাম বলেন, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা অনেক কম। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে দশকের পর দশক কথা হলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থাই কমাবে। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ১০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তহবিলের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে যার মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় মানবিক দুর্দশা এবং ইসরায়েলের ওপর হামাস ও ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন কার্নি। যুক্তরাজ্যের মতো তিনিও ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের কানাডার পরিকল্পনার কথা জানান। অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে কানাডা অন্যতম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া এখন পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৪২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
মানসিক শান্তি পেতে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিলেন নারী, খুললেন বান রুটির দোকান
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, তাদের চলাচল মূলত জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নির্ধারিত কূটনৈতিক স্থাপনা, নির্দিষ্ট আবাসন এবং বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানি প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই চলাচল বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশ নিতে বিদেশি নেতাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাজের বাইরে তাদের চলাচল সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। এবার ইরানি প্রতিনিধিদল আগের বছরের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে। পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে অবাধে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না। বিশেষ করে বিলাসী পণ্য কেনার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ নতুন নয়। ২০২৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নিউইয়র্কে ইরানের মিশন, ইরানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবন এবং জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সীমিত করা হয়েছিল। চলতি বছর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে। এর মধ্যেই পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিও বলেছেন, এমন আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে যখন তা বাস্তব কোনো ফলাফলের দিকে এগোতে পারে। পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের অবস্থান তুলে ধরবেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর দেশ নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে। একই সময়ে ইরানের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগও খুঁজছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে কঠোর চলাচল বিধিনিষেধের মধ্যেও পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক নজর রয়েছে।
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট
গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে পাঠানো হুইলচেয়ার, টয়লেট সিট, ত্রিপল ও বহনযোগ্য টয়লেটসহ কিছু বেসামরিক সামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশা এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সামগ্রীর কিছু ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের বেসামরিক প্রশাসন সংস্থা কোগাত বলেছে, হুইলচেয়ারসহ চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই। গিশার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে নন-ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ, ফ্ল্যাশলাইট ও বহনযোগ্য টয়লেটের মতো কিছু পণ্য ডুয়াল-ইউজ পণ্যের আওতায় পড়েছে। এসব পণ্য গাজায় পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, কোন পণ্য কোন পরিস্থিতিতে এই শ্রেণিতে পড়ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতার ঘাটতি রয়েছে। হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তা গাজায় বিশেষভাবে বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মে ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আহত প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪৩ হাজারের এমন ধরনের গুরুতর আঘাত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি জীবন পরিবর্তনকারী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু। একই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় পুনর্বাসন সরঞ্জাম ও সহায়ক ডিভাইসের সংকটও তীব্র। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন-সংক্রান্ত ১৮টি চালান গাজায় প্রবেশের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এসব চালানের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম ছিল। কিছু চালান ১৩০ থেকে ৫২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। টয়লেট ও স্যানিটেশন সামগ্রী নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার বহু মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। ফলে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের টয়লেটের প্রয়োজন বেড়েছে। বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জামও ডুয়াল-ইউজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে। তবে ‘সব হুইলচেয়ার গাজায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না’ এমন সরল ব্যাখ্যাও পুরো পরিস্থিতিকে তুলে ধরে না। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে গাজার শিশুদের জন্য পাঠানো শত শত হুইলচেয়ার জর্ডানে আটকে থাকার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে কোগাত জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে সহায়তা করে এবং হাজার হাজার হুইলচেয়ারের অনুমোদন দিয়েছে। কোগাতের দাবি, ডুয়াল-ইউজ সরঞ্জামের প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, গিশা ও অন্যান্য মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা বলছে, ডুয়াল-ইউজ শ্রেণিবিন্যাসের বিস্তৃত প্রয়োগের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য গাজায় পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে আহত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন থাকা রোগীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় পুনর্বাসন সেবা এখনো গুরুতরভাবে সীমিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ ও অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ না পেলে আহত ও প্রতিবন্ধী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রান্নাঘর সংস্কার করতে গিয়ে মিলল ১ হাজার বছরের পুরোনো কঙ্কাল, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো প্রাচীন রহস্য
বিদেশি হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান