আন্তর্জাতিক

মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে যুদ্ধের ৭০ শতাংশ লক্ষ্য অর্জনের দাবি ইরানের

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২৩:১৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার পর তেহরান দাবি করেছে, চলমান যুদ্ধে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, উত্তর পারস্য উপসাগরের আকাশপথ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেটি ভূপাতিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যাধুনিক এই ড্রোনটির মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকারও ওপরে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম এই এমকিউ-৯ ড্রোনটি সাধারণত নজরদারি ও নির্ভুল আক্রমণের কাজে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটিকে আঘাত হানা হয়। মূলত হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

 

ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন আরব গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলার পর বাহরাইনে অন্তত ১৬টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুধবার ভোরে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরবর্তীতে অবশ্য দুই দেশই সাময়িকভাবে নিজেদের হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

 

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং কমান্ড স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির বেমানি এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় জলাধার ও সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বর্তমানে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এই পাল্টা হামলাকে শক্তিশালী ‘প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো আগ্রাসন না চালানোর জন্য সতর্ক করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান | ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি বললেন এরদোয়ান

সিরিয়া ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা ও আগ্রাসন তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তীব্র হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে ইসরায়েলি এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড পুরো বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্যও এক বিরাট বিপদ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশ করা হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক সামরিক আক্রমণকে তুরস্ক এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য সমান ক্ষতিকর বলে স্পষ্ট অভিহিত করেছেন রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ‘‘ই‌সরায়েলের এই আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি এবং বিশ্ব শান্তির স্বার্থে এটি অবশ্যই দ্রুত বন্ধ করতে হবে।’’   পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী সদস্য দেশ তুরস্ক মূলত ইরান, গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার সবচেয়ে তীব্র সমালোচনাকারীদের মধ্যে অন্যতম। আঙ্কারার পক্ষ থেকে বেশ জোরালোভাবেই বারবার বলা হচ্ছে যে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েল রাষ্ট্রটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক আদালতে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এই কড়া মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তুরস্কের নেতা হলেন পৃথিবীর শেষ ব্যক্তি যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নৈতিকতা বা শান্তির শিক্ষা দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরান ও তার মিত্র প্রক্সিদের বিরুদ্ধে এই জোরালো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে; কারণ তারাই মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও সমগ্র বিশ্বের জন্য আসল হুমকি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ০:৩১
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে যাওয়ার পথে ৫ মাসে সাগরে প্রাণ গেল ১৩০০ মানুষের

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের শাসনে প্রথমবার নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটে মমতা ব্যানার্জি

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ওয়ার্ক পারমিটে বড় সংস্কার আনল আমিরাত সরকার

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে যুদ্ধের ৭০ শতাংশ লক্ষ্য অর্জনের দাবি ইরানের

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার পর তেহরান দাবি করেছে, চলমান যুদ্ধে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, উত্তর পারস্য উপসাগরের আকাশপথ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেটি ভূপাতিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যাধুনিক এই ড্রোনটির মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকারও ওপরে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম এই এমকিউ-৯ ড্রোনটি সাধারণত নজরদারি ও নির্ভুল আক্রমণের কাজে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটিকে আঘাত হানা হয়। মূলত হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।   ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন আরব গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলার পর বাহরাইনে অন্তত ১৬টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুধবার ভোরে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরবর্তীতে অবশ্য দুই দেশই সাময়িকভাবে নিজেদের হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।   এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং কমান্ড স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির বেমানি এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় জলাধার ও সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বর্তমানে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এই পাল্টা হামলাকে শক্তিশালী ‘প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো আগ্রাসন না চালানোর জন্য সতর্ক করেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২৩:১৫
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা খুন, থাই নারী আটক

আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ!

আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ, তালেবানের গুলিবর্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা ভারতে নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাচ্ছেন, গ্রেপ্তারের দাবি মানবাধিকার সংস্থার

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারে হামলার জবাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাত

মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ওপর হামলার কড়া জবাব হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক’ সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিল।   সেন্টকমের দেওয়া ওই বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম (ইটি) বিকেল ৫টায় ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই পাল্টা হামলা চালানো শুরু হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম, আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং সেনাদের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই তারা সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার খাতিরে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।   তবে এই হামলায় ইরানের ঠিক কোন কোন অঞ্চলে আঘাত হানা হয়েছে বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর এই সরাসরি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৮:৯
ছবিঃ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিল পাস

বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনে সহিংসতার জেরে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

তালেবান সরকারের অধীনে আফগানিস্তান স্থিতিশীল রয়েছে, জানাল জাতিসংঘের সহায়তা মিশন

0 Comments