প্যারিসে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ উদ্যোগ
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, অনলাইন ব্যবস্থার নানা জটিলতা এবং সেবা গ্রহণে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। প্রবাসীদের এই ভোগান্তি লাঘব করতে এবং ফরাসি প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দূতাবাস এই বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবার প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এদিন ৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক সফলভাবে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেছেন। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন অনেক আবেদনকারী। সম্প্রতি ইমেইলভিত্তিক আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছিল দূতাবাস। কিন্তু সীমিত স্লট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেকেই সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছিলেন না। এই বিশেষ সেবা সেই সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
পাসপোর্ট সেবার এই কারিগরি দিক ও বর্তমান চাপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানান, ই-পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। এখানে আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষরসহ নানা তথ্য যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দূতাবাসের এই বিশেষ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স এবং বিএনপি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করছেন।
কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ দূতাবাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিএনপি ফ্রান্সের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদুর রহমান জুনেদ এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মিল্টন সরকার জানান, প্রবাসীরা যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতেই তারা প্রবাসীদের পাশে থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর দূতাবাসের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে সেবাকে আরও গতিশীল ও প্রবাসীবান্ধব করার আহ্বান জানান। সাধারণ প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও ত্রুটিমুক্ত ও কার্যকর করা হবে, যাতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ই-পাসপোর্ট সেবার পূর্ণ সুবিধা সহজেই পেতে পারেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার নীতি নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, সাধারণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের বদলে প্রশাসন ব্যক্তিস্বার্থ ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গার্সিয়া এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ‘অদ্ভুত’ ও ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ পোস্ট দিতেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ধরনের আচরণ একটি দেশের শীর্ষ নেতার কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন তিনি। ডেমোক্র্যাট শিবিরের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠছেন এবং ক্রমেই আরও ধনী হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের একটি বিশাল অংশ এখনো তাদের প্রাত্যহিক জীবনধারণের জন্য কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবার্ট গার্সিয়ার এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের চলমান তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতারই আরেকটি সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
যুক্তরাজ্যে একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করান দুই ননদ-ভাবি, বললেন ‘দুধ তো দুধই’
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, ১৩ ও ১৪ বছরের দুই ছাত্রীকেও নিপীড়নের কথা স্বীকার শিক্ষিকার
লোহিত সাগরে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান, গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখলে নিয়ে শক্তির জানান দিল হুথিরা
এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের সব বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার পাইলটকে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব পাইলটের একবার মাদক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বিমান চলাচল খাতে মাদক পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এ৩২০ উড়োজাহাজ মাঝ-আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। উড়োজাহাজটি তখন প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ঘটনার সময় যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের মধ্যে মোট ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে ফিরে দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনাটির তদন্তে উড়োজাহাজটির তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটির তথ্য উঠে আসে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির পাইলট-ইন-কমান্ডের মাদক পরীক্ষার ফলও তদন্তকারীদের নজরে আসে। প্রথম পরীক্ষায় মাদক ব্যবহারের সম্ভাবনা ধরা পড়ার পর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তবে তদন্তকারীরা এখনো পাইলটের মাদক গ্রহণের সঙ্গে উড়োজাহাজটির আকস্মিক উচ্চতা কমে যাওয়ার সরাসরি কারণগত সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া ওই পাইলটকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পাশাপাশি সংস্থাটি নিজেদের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা শুরু করে। এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের পাইলটদের জন্য এই পরীক্ষা বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ মাদক বা অন্যান্য নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার অবস্থানও জানানো হয়েছে। এর পর বিষয়টি শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ভারতীয় বিমান চলাচল খাতে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ডিজিসিএ। নতুন নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার সব পাইলটকে একবার বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রায় ১৪ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান নিয়মে ভারতের সব পাইলটের নিয়মিত মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিসিএর বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রতি বছর পাইলটদের একটি অংশকে এলোমেলোভাবে পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ পাইলটের মাদক পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। তবে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনায় পাইলটের পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর এই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। ডিজিসিএ এখন নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মাদক পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সব পাইলটকে বছরে অন্তত একবার এলোমেলোভাবে মাদক পরীক্ষার আওতায় আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছিল। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে পাইলটদের মাদক ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হবে। ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনাটি এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তে পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিমান চলাচলে মাদক বা মনঃপ্রভাবক পদার্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ডিজিসিএকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পরই বিমান সংস্থাগুলোর পাইলটদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোর সব পাইলটকে অন্তত একবার মাদক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থার পরিবর্তে পুরো বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় পাইলটদের মাদক পরীক্ষাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ঝুঁকি কমানোই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান
কিম জং উনের ‘সিক্রেট ছেলে’! উত্তরসূরি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তদন্ত
সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে ৩৫০০ নটিক্যাল মাইলের অবিশ্বাস্য পথ পাড়ি দিল নৌযান
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তানের বালিকপাপন শহরে ফজরের নামাজে ইমামতি করার সময় সিজদায় থাকা অবস্থায় মারা গেছেন হ. আন্দি শামসুল বাহরি। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মসজিদ জামি আল-উলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দি শামসুল বাহরি ফজরের নামাজের প্রথম রাকাতে সিজদায় যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তিনি সিজদা থেকে উঠছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে পেছনের কয়েকজন মুসল্লি তার অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান। এরপর প্রথম সারির এক মুসল্লি এগিয়ে এসে ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জামাতের নামাজ শেষ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। ফুটেজটি প্রায় ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিক জানিয়েছে। মসজিদটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আন্দি শামসুল বাহরি মসজিদ জামি আল-উলার নিয়মিত ইমামদের একজন ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সদালাপী ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বালিকপাপনের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন এবং স্থানীয় মুসল্লিদের অসুস্থতার সময় ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দিতেন। ইন্দোনেশিয়ার আন্তারা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর সময় আন্দি শামসুল বাহরির বয়স ছিল ৫৯ বছর। নামাজের শুরুতে তাকে স্বাভাবিক ও সুস্থই মনে হয়েছিল। তবে ফাতিহা পড়ার সময় তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গিয়েছিলেন বলে মসজিদসংশ্লিষ্ট একজনের বরাতে জানানো হয়। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সিজদায় তার মৃত্যুর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনাটিকে ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। তবে কোনো ব্যক্তির পরকালীন মর্যাদা বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত।
২২ বছর হিমায়িত ছিল ভ্রূণ, ৫৪ বছর বয়সে সন্তানের মা হলেন নারী
গ্রিনল্যান্ড সফর শেষে গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করেও আটক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক