দোহার মাটিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রবিবার কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ সফরের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই রাষ্ট্রীয় সফরে জয়শঙ্কর কাতার ছাড়াও বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমান সফর করবেন।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে নতুন সুযোগের সন্ধান করা হয়েছে।
নিরাপত্তা এবং কৌশলগত আলোচনার পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে গভীর মূল্যায়ন ও আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, সপ্তাহব্যাপী তীব্র উত্তেজনার পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কাতার, ওমান এবং পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কাজ শেষ হওয়ার পর দোহায় আবারও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
উপসাগরীয় এই চার দেশ সফর শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ১৩ জুলাই নিউইয়র্ক ভ্রমণ করবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের ২০২৮-২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্য পদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালু করবেন। এরপর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত কাউন্সিলে অংশ নেবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স) থেকে এক সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। ওয়ানিং "হেদার" ঝাং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন ৩৪ বছর বয়সী এই নারী। এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের এক সদস্যের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝাং এবং তার এক সহযোগী গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিবারের শহরতলির বাড়ির ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, নজরদারির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে টিং-ইউ লাই। তিরিশোর্ধ্ব এই প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে বহুজাতিক ডাচ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ফিলিপসে কর্মরত। ৩ অক্টোবর দায়ের করা অভিযোগে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্ট উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থান, বাড়ি এবং গাড়ির ছবিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অভিযোগপত্রে এই গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান এবং একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে লক্ষ্যবস্তুর বাড়ির দিকে রওনা দেন। প্রতিবেশীর সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় টিং-ইউ, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান বাড়িতে পৌঁছালে ঝাং ও তার সহযোগী তাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঝাংয়ের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে চীনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের কিছু বার্তাও উদ্ধার করেছে এফবিআই। সেখানে দেখা যায়, ঝাং চীনা সরকারের এক কর্মকর্তাকে টেক্সট করে লিখছেন, "তাকে দেখেছি। অল্পবয়সী ছেলে। এটাই সেই তরুণ।" এরপর তিনি গাড়ির দুটি লাইসেন্স প্লেটের নম্বর পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন যে তিনি ভিডিও রেকর্ড করছেন। এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝাংয়ের পরিচয় হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে চীনের চাংশায় এক গোপন বৈঠকে তিনি নজরদারির এই মিশন গ্রহণ করেন। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও হয়রানি করার দায়ে বেশ কয়েকজন চীনা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসা বেইজিংয়ের এমন নজরদারির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
ঠিক এক শতাব্দী আগে লন্ডনের বুকে গড়ে ওঠা প্রথম মসজিদ 'ফজল মসজিদ' বা 'লন্ডন মসজিদ' তার শতবর্ষ উদ্যাপন করছে। ওয়ান্ডসওয়ার্থের সাউথফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি যুক্তরাজ্যের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যার অংশ হিসেবে গৃহহীন মানুষদের জন্য ১০ হাজার বিনা মূল্যের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে যখন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়, তখন প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে একটি রুপালি চাবি দিয়ে এর বিশাল কালো দরজা খোলা হয়েছিল। এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ভারতের কাদিয়ানের একদল আহমদিয়া মুসলিম এর জন্য অর্থায়ন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নারী। নিজেদের অলংকার বিক্রি করে তাঁরা লন্ডনের প্রথম এই মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে এই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়তো তাঁদের কখনোই হবে না। ২০১৮ সালে 'হিস্টোরিক ইংল্যান্ড' এই ভবনটিকে সংরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা দেয়। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ছিপছিপে জানালা, সবুজ গম্বুজ, শুভ্র দেয়াল এবং চারপাশের মনোরম গোলাপ বাগানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়, বরং ফজল মসজিদ বিভিন্ন সময়ে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রক্তদান কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই মসজিদ। ঈদের সময় শিশুদের মিষ্টি বিতরণ, প্রতিবেশীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ—সবকিছুতেই তারা সোচ্চার। তাদের মূলমন্ত্র হলো 'সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়'। মসজিদটি বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। ১৯৩০-এর দশকে এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম আবদুর রহিম দারদ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় ভারতের রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লন্ডনে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ইমাম দারদ তাঁকে বুঝিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে যেতে রাজি করান। এই ফজল মসজিদের বাগানে দাঁড়িয়েই জিন্নাহ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগ এবং স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিল। মসজিদটির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান প্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ বলেন, এই মসজিদের ইতিহাস প্রতিবেশীদের সেবা করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার নীতিকে দারুণভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদটি আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তির বাতিঘর হয়ে থাকবে। ফজল মসজিদ প্রমাণ করেছে যে, তাদের সম্প্রীতির বার্তাটি চিরন্তন এবং এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।
আড়াই বছরের ক্যান্সার লড়াই শেষে সুস্থ ৭ বছরের শিশু, বাবার ব্রেসলেট কেটে উদযাপন
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
লন্ডনের প্রথম মসজিদের শতবর্ষ উদযাপনে গৃহহীনদের জন্য ১০,০০০ বেলা খাবারের উদ্যোগ
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে নৌবাহিনীর গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে ভারতের এক নৌসেনাকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা। শনিবার, ৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রণী থেকে প্রদীপ মুখার্জি নামের ৩১ বছর বয়সী ওই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দা কর্মীকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রদীপ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আইএনএস অগ্রণীতে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই নারী। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সম্পর্ক ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ, নৌবহরের চলাচল ও কার্যক্রমসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঘটনাটিকে তাঁরা ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তথ্য আদায়ের ফাঁদ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদীপের সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করেন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্যরা। শনিবার সকালে বিশেষ দলটি আইএনএস অগ্রণীতে পৌঁছে তাঁকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয় পুলিশকেও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রদীপকে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট ওয়ারেন্ট সংগ্রহের পর শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখার সদর দপ্তরে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঠিক কী ধরনের তথ্য এবং কতটা তথ্য বাইরে গেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রদীপের কাছে হাওলা বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে কোনো অর্থ পৌঁছেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্তকারীদের অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রদীপের বক্তব্য বা তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায়ের তথ্য নেই।
পাঞ্জাবে সম কা মী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গু লি করে হ ত্যা
ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত