১২ বছর বয়সেই এআই উদ্ভাবক, ব্যবসার জন্য তৈরি করল স্মার্ট রিসেপশনিস্ট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি যে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবকদের জন্য অভাবনীয় সব সুযোগ তৈরি করছে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মানা জাম্পালা। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাসিন্দা এই কিশোরীর বয়স মাত্র ১২ বছর। আর এই বয়সেই সে 'ভোক্সা' (Voxa) নামের একটি এআই-চালিত রিসেপশনিস্ট বা স্বয়ংক্রিয় অভ্যর্থনাকারী সিস্টেম তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে গ্রাহক সেবায় সহায়তা করার অভিনব এক লক্ষ্য নিয়েই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে খুদে এই উদ্যোক্তা।
গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ভোক্সা' বাজারে আনে মানা জাম্পালা। ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় লোকবলের অভাবে বা কাজের চাপে সব গ্রাহকের ফোন কল রিসিভ করতে পারে না, যার ফলে সম্ভাব্য ক্রেতা বা ক্লায়েন্ট হারানোর প্রবল ঝুঁকি থাকে। মানার তৈরি এই আধুনিক এআই রিসেপশনিস্ট ঠিক সেই সমস্যারই সমাধান নিয়ে এসেছে।
এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুলতার সাথে গ্রাহকদের ফোন কল গ্রহণ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম। এর ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই আর নতুন কোনো গ্রাহক হারানোর ভয় থাকবে না।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মানা জানায়, এমন একটি দরকারি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনের অনুপ্রেরণা সে পেয়েছিল তার বাবার কর্মস্থল থেকে। বাবার অফিসে সময় কাটানোর সময়ই সে প্রথম লক্ষ্য করে যে, কীভাবে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিদিন গ্রাহকদের কল সামলাতে গিয়ে হিমশিম খায়।
সেখান থেকেই তার মাথায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি স্মার্ট ও সাশ্রয়ী রিসেপশনিস্ট তৈরির আইডিয়া আসে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই এমন একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকরী প্রযুক্তি তৈরি করে মানা প্রমাণ করেছে যে, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তার কাছে বয়স কোনো বাধাই নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের এক সদস্যের বিরুদ্ধে জাপানি নারী হত্যার অভিযোগ ওঠার পর জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ও সান্ধ্য আইন বা নাইট কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাদের জন্য মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণও বাধ্যতামূলক করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী অ্যানা ইয়াগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ওই নারীর মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড নামের ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন ল্যান্স কর্পোরালকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই ঘটনার পরই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য। সেনাসদস্যদের আচরণগত পুনঃপ্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর সব ধরনের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ বলবৎ থাকবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নির্মম আখ্যা দিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতের জন্য কঠোর ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। জাপানে মোতায়েন প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি বড় অংশই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক কাজের জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড সেই পুরনো ক্ষোভকে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির ভেঙে পড়া বাড়ি নতুন করে গড়লেন শত স্বেচ্ছাসেবী
বেঙ্গালুরুতে ‘এসআইআর’ বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ঈদুল ফিতরের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে মসজিদে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রায়ান নামে এক বৃদ্ধ। গোল্ড কোস্ট মসজিদের কাছের একটি নার্সিং হোমে বসবাসকারী ব্রায়ান লাউডস্পিকারের শব্দে বিরক্ত হয়ে মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত মুসলিমদের সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের কথোপকথন এবং তাঁদের আন্তরিক ব্যবহার ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁর শাহাদাহ পাঠের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে গোল্ড কোস্ট মসজিদে নামাজের সময় লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছিল। কাছাকাছি নার্সিং হোমে থাকা ব্রায়ানের কাছে সেই শব্দ বেশি মনে হয়। এতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে মসজিদের দিকে হেঁটে যান। মসজিদে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মুসলিম প্রচারক হাজ হুসেইন গস এবং হাসান নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অভিযোগ নিয়ে আসা ব্রায়ানের সঙ্গে বিরূপ আচরণ কিংবা তর্কে না গিয়ে তাঁরা তাঁকে বসতে বলেন। এরপর শান্তভাবে তাঁর অভিযোগ শোনেন এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। ব্রায়ানকে খাবারও দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট কথা বলেন। তিনি কেন বিরক্ত হয়েছেন এবং কী কারণে মসজিদে এসেছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়। ব্রায়ানের সঙ্গে হওয়া এই কথোপকথনই পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়। ঘটনাটির বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদে আসার সময় ব্রায়ান ক্ষুব্ধ ও হতাশ ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ নিয়ে আসার পরও তাঁকে সম্মান দেখানো, শান্তভাবে তাঁর কথা শোনা এবং অতিথির মতো আপ্যায়ন করার বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। মসজিদে উপস্থিত মুসলিমদের আচরণে তাঁর প্রাথমিক ক্ষোভ ধীরে ধীরে কমে আসে। যে বিষয়টি নিয়ে তিনি অভিযোগ করতে এসেছিলেন, সেই আলোচনা একপর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় রূপ নেয়। এরপর ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসে বলে ঘটনাটির প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে ব্রায়ান ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি তিনি স্বেচ্ছায় নেন। তাঁকে জোর করা কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের তথ্য ঘটনাটির বর্ণনায় নেই। পরে ব্রায়ান শাহাদাহ পাঠ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় ইসলামে বিশ্বাসের সাক্ষ্য উচ্চারণ করতে দেখা গেছে বলে প্রকাশিত বর্ণনায় জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হচ্ছে ব্রায়ানের মসজিদে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে কিংবা ধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে যাননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ঈদের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে নিজের অসন্তোষ জানানো। কিন্তু অভিযোগ জানাতে গিয়ে যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন, সেটিই তাঁর অভিজ্ঞতাকে বদলে দেয়। ক্ষুব্ধ একজন প্রতিবেশী হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করলেও সেখানে তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় এবং তাঁকে সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আলাপের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ব্রায়ানের ক্ষোভ কমে আসে এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণে তিনি মুগ্ধ হন। পরে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহাদাহ পাঠ করেন তিনি। ব্রায়ানের ইসলাম গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর গল্পও আলোচনায় আসে। অভিযোগ করতে আসা একজন বৃদ্ধের সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণ এবং সেই সাক্ষাতের পর তাঁর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তই ঘটনাটির প্রধান আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে। তবে ওই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আলোচনায় ঠিক কী কী বিষয়ে কথা হয়েছিল, তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত তথ্যে নেই। ইসলাম সম্পর্কে ব্রায়ান আগে কতটা জানতেন কিংবা তাঁর আগে থেকেই ধর্মটি সম্পর্কে কোনো আগ্রহ ছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে নামাজের শব্দ নিয়ে ব্রায়ানের মূল অভিযোগের বিষয়ে পরে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, লাউডস্পিকারের শব্দ নিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছিল কি না কিংবা মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাঁর অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো সমাধান দিয়েছিল কি না, সে তথ্যও প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ নেই। সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, ব্রায়ান ঈদুল ফিতরের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গোল্ড কোস্ট মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে বসিয়ে কথা বলা হয়, খাবার দেওয়া হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তাঁর অভিযোগ শোনা হয়। সেই অভিজ্ঞতার পরই তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহাদাহ পাঠ করেন।
মেরিল্যান্ডে ৩৭০ কোটি ডলারের কারখানা, ৩১০০ নতুন চাকরির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
দুই নারীকে অস্ত্রধারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে কানাডায় পুরস্কৃত পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ
১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষের পরিচয় মিলল, ৪৩ বছর পর জানা গেল কিশোরের নাম
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে আইফোন চুরির একটি ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। কৌশিকী ধ্যানী নামে এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর আইফোন চুরি হওয়ার পর ফোনটি যার কাছে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তি উল্টো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিভাইসটির পাসওয়ার্ড চেয়েছে। এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে পাসওয়ার্ড চাওয়ার স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর দেরাদুনের ক্লেমেন্ট টাউন এলাকায় ঘটে বলে কৌশিকীর দাবি। তাঁর আইফোনের পাশাপাশি তাঁর এক বন্ধুর ভাই সক্ষম নেগি এবং আরও কয়েকজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। একই সময় ওই ভবন থেকে ল্যাপটপ, ম্যাকবুক ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কৌশিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আইফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর ডিভাইসটিতে একটি যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান ছিল। সেই নম্বর ব্যবহার করেই ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তিনি এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপে আইফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে বার্তা পান বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন কৌশিকী। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি রিলে তিনি চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী বার্তাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ফোনের অবস্থান ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৌশিকী আরও দাবি করেছেন, ঘটনাটি শুধু তাঁর ফ্ল্যাটে সীমাবদ্ধ ছিল না। একই ভবন থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিনে আশপাশের পেইং গেস্ট আবাসন ও হোস্টেলেও চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিগুলো ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এলাকায় পরবর্তী কয়েক দিনেও আরও চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। কৌশিকীর দাবি, প্রথম দফার ঘটনার পর একই এলাকায় আরও ১৬টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লেমেন্ট টাউনের লেন নম্বর ৯এ-তেও লাখ লাখ রুপির জিনিসপত্র চুরির আরেকটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৌশিকী। তাঁর অভিযোগ, চুরির পর থানায় গেলে তাঁদের প্রথমে বলা হয়, দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত নেই এবং পরে আসতে হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, কয়েকটি অভিযোগ গ্রহণ করতেও গড়িমসি করা হয়েছে। তবে দেরাদুন পুলিশ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। সিটি পুলিশ সুপার শেখর সুয়াল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়েছে এবং সার্কেল অফিসার বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একই এলাকায় সংঘটিত অন্য চুরিগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ। ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক দিক হয়ে উঠেছে চুরি হওয়া ফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ। সাধারণত আইফোনে পাসকোড ও অ্যাক্টিভেশন লক থাকলে ডিভাইসটি পুনরায় ব্যবহার বা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তদন্তকারীদের জন্য ওই বার্তাগুলো ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে কৌশিকীর অভিযোগ অনুযায়ী যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর ফোন চুরি করেছে, তাদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাসওয়ার্ড চেয়ে পাঠানো বার্তার প্রেরকই সরাসরি চোর কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। পুলিশ এখন চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা যায় কি না এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা যাচাই করছে।
৬০ লাখ রুপি দেওয়ার পর ভারতে এসে থাই নারী জানলেন স্বামী আগে থেকেই বিবাহিত
স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন