লাখো অনুসারীর অশ্রুভেজা বিদায়, মাশহাদে চিরনিদ্রায় ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার নিজ শহর মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার দরগায় তাকে দাফন করা হয়। শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন মাশহাদের রাস্তায় কালো পোশাক ও লাল পতাকা হাতে লাখো মানুষের ঢল নামে। লাখো জনতার ভিড় চিরে ধীরগতিতে এগিয়ে যায় কফিনবাহী গাড়ি, আর পুরো মাশহাদ পরিণত হয় এক শোকের নগরীতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এক যৌথ হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি এই সর্বোচ্চ নেতা। তার সঙ্গে নিহত ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানি, জামাতা, এক মেয়ে এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলকেও পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে নিজ শহরে পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই একই স্থানে এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও দাফন করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে নামে ক্ষুব্ধ জনতা। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সাদা পাগড়ি পরিহিত ধর্মীয় নেতাদের পাহারায় একটি ট্রাকে করে খামেনির লাশবাহী গাড়ি ধীরগতিতে ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজের দিকে এগিয়ে যায়। এর আগে প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে কফিনটি ইরানে আনা হয়।
ইরাক থেকে বিমানযোগে মাশহাদে পৌঁছানোর সময় সেটিকে যুদ্ধবিমান দিয়ে এসকর্ট করে আনা হয়। দাফনের আগে তেহরান ও কওম শহরেও কফিনটি রেখে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যেখানে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বার্তা সংস্থা ইরনার মতে, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি। ধারণা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘ শোকযাত্রায় কয়েক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর এই পুরো প্রক্রিয়ায় তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অনুপস্থিত ছিলেন। ওই হামলায় আহত হওয়া মোজতবাকে নিরাপত্তার কারণে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তার অন্য তিন ছেলে জানাজায় অংশ নেন। ১৯৭৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানে যে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান হয় এবং পেহলভি রাজবংশের পতন ঘটে, তার অন্যতম অংশীদার ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরবর্তী সময়ে তিনিই ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreশিক্ষক সংকট এবং স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ আন্দোলন টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সমস্যা সমাধানের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারও ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের স্কুলগুলো অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের টানা এই আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি স্কুলের কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নঁত, রেন, ব্রঁ, তুলোঁ ও মার্সেইয়ের মতো শহরগুলোতে লাখো মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আবারও নতুন করে মিছিল শুরু করেছে। এর আগে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেবে। এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। তবে তার এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রেন শহরের একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভরত ১৮ বছর বয়সী হানা এএফপিকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। সালিনা নামের ১৭ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা আরও অনেক বেশি ছিল এবং এমন একটি জরুরি বিষয় মাসের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার মতো কোনো বিষয় নয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশের কঠোর ভূমিকা নিয়েও দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসঁতে এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার বিন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে আসা ইংরেজি শিক্ষক শার্লট বোবো পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'অতিরিক্ত কঠোর' বলে মন্তব্য করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ হাজারে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর হাত হারানোর পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ ফুরিয়ে আসার মুহূর্তে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন ফরাসি রাজনীতিতে স্পষ্ট মেরুকরণ তৈরি করেছে। কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী মারিন ল্য পেন দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা স্কুলের যে ক্ষতি করেছে তার মেরামতের খরচ তাদের বা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকেই আদায় করতে হবে। অন্যদিকে কট্টর বামপন্থি প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে পুলিশের 'বর্বর আচরণের' তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ ও দাবি জানানোর জন্য চালু করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই ৪৩ হাজারের বেশি সাড়া পড়েছে। বিএফএম টিভির জন্য এলাবের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মানুষ চান দ্রুত এই বিক্ষোভের অবসান হোক।
৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত
রাস্তার ধারের বিশাল বিলবোর্ডে সাধারণত চলচ্চিত্র তারকা, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপনই চোখে পড়ে। কিন্তু চীনের কিছু শহর এই পরিচিত দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তারকার বদলে সেখানে এখন জায়গা পাচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকা, মেট্রো স্টেশন ও ব্যস্ত সড়কের ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠছে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের যুগান্তকারী সব অবদানের কথা। এই তালিকায় রয়েছেন চীনের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কিয়ান শুয়েসেন, পারমাণবিক বিজ্ঞানী দেং জিয়াশিয়ান এবং কিংবদন্তি কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা মানুষের জীবনকে বদলে দেয়। তাঁদের এই কাজগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহু বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কাজ ও অবদান সাধারণ মানুষের কাছে সেভাবে পৌঁছায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, জনসমাগমের স্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁদের পরিচিতি বাড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়। চীনের এই উদ্যোগ আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা আগামী প্রজন্মের সামনে কাদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছি? কেবল বিনোদন জগতের জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে, জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কারিগরদের কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? বিজ্ঞানীদের এই ধরনের জনস্বীকৃতি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান নয়; এটি একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশেও যদি বিজ্ঞানীদের অবদানকে জনপরিসরে দৃশ্যমান করা যায়, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।
ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, নতুন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে
যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে ৭২ হাজার পাউন্ড দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েছিলেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক দম্পতি। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হন তাঁরা। একপর্যায়ে বাড়িটির কাঠামো এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পরিবারটির বাড়ি। ঘটনাটি ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরের বিটার্ন এলাকার। ভুক্তভোগী দম্পতির নাম আহমেদ আলী ও রিফাত আলী। তাঁরা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিন সন্তানকে নিয়ে নিজেদের বাড়িটি আরও আরামদায়ক ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই একসময় বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় নতুন অংশ নির্মাণের জন্য নিজেদের সঞ্চয় থেকে ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন আহমেদ ও রিফাত। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে অসমাপ্ত কাজের বিভিন্ন অংশ এতটাই ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া যায় যে সেগুলো ব্যবহার অনিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। বাড়ির নিচতলার অধিকাংশ জায়গা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ওপরতলায় সীমিত পরিসরে বসবাস করতে বাধ্য হন দম্পতি। রান্নাঘর ও বাগানও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না তাঁরা। ফলে নিজেদের বাড়িতে থেকেও প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবারটিকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এন্টারটেইনমেন্ট ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ, খোলা বৈদ্যুতিক তার এবং কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দম্পতির অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারের কর্মীরা মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে চলে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় আর ফিরে আসতেন না। রিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রী কেনার কথা বলে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত অর্থও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সামগ্রী কেনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরে স্থপতির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিজেদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দম্পতি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। আহমেদ জানান, পুরো পরিস্থিতি তাঁদের জন্য এতটাই মানসিক চাপের ছিল যে একপর্যায়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরিবারটির দুরবস্থার খবর পৌঁছায় বিবিসির জনপ্রিয় বাড়ি সংস্কারবিষয়ক অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএসের কাছে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস এবং তাঁর টিম পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা নির্মাণকাজের গুরুতর ত্রুটিগুলো দেখতে পান। পরিদর্শনের সময় নিক নোলস বাড়িটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালের নিচে বড় ফাঁক দেখতে পান। এতে ভবনটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি পরিবারটিকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিক নোলস জানান, ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতায় কোনো পরিবারকে নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলার ঘটনা তাঁর জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় বাড়িটি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ। স্থানীয় নির্মাণকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক দক্ষ কর্মী উপস্থিত হন। কয়েক মাসের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। এ উদ্যোগে অংশ নেন বেসিংস্টোক কলেজ অব টেকনোলজির নির্মাণবিষয়ক শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা অভিজ্ঞ নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কাঠের কাজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং পানির পাইপ স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করেন। কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়িটিকে নিরাপদ ও আধুনিক বাসস্থানে রূপান্তর করা হয়। বাড়িটি সংস্কারের সময় পরিবারটির বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আহমেদ ও রিফাত দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী হলেও তাঁদের সন্তানরা শুনতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ঘরের ভেতরের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে ঘরের বিভিন্ন অংশে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নজর রাখা যায়। পাশাপাশি বাড়িতে বিশেষ সতর্কসংকেত ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। কোনো সমস্যা হলে শব্দের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবে। এতে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের জন্য ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। বাড়ি সংস্কারের প্রস্তুতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাসা এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে অ্যাসবেস্টস সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা করে। পুরোনো ভবনের সংস্কারকাজে ক্ষতিকর উপাদানের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বাড়ির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিবেশ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আহমেদ ও রিফাত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা। ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানের ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান বলেন, সমাজে বিভেদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও এই প্রকল্পে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। বিপদে পড়া একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করেছেন। পরিবারটির বাড়ি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তবে সেই উদ্যোগের পুরো ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডিআইওয়াই এসওএসের বিশেষ পর্বটি বিবিসি ওয়ানে প্রচারিত হয় ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেও যে পরিবারটি নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছিল না, স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সেই পরিবার এখন নতুনভাবে সাজানো বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন, সাফল্যের ঘোষণায় বিস্মিত লেখক
লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল