সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কারণে কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৯:৯
মার্কিন সামরিক ড্রোনের উপস্থিতির পর কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা জারি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক ড্রোনের উপস্থিতির পর কোরিয়া সীমান্তে জরুরি সতর্কতা জারি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার সময় সীমান্ত এলাকায় একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন হঠাৎ সনাক্ত হয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর দুই কোরিয়া সীমান্তের কাছে বসবাসকারী সাধারণ বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিউলভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, উড্ডয়নরত মনুষ্যবিহীন এই আকাশযানটি দক্ষিণ কোরিয়া মেরিন কর্পসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একটি মার্কিন মেরিন কর্পস ড্রোন।

 

সিউল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার বা ৪৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত চোরওন এলাকায় এই জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। ডিমিলিটারাইজড জোনের কাছাকাছি ড্রোনটি প্রথম আকাশে ভেসে উঠলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা বিমানটি সনাক্ত করলেও শুরুতে সেটি কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটির নির্ধারিত ফ্লাইটের পরিকল্পনা স্থানীয় কোরিয়ান ইউনিটগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি অথবা এটি নির্ধারিত রুট থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

 

ইউএস ফোর্সেস কোরিয়া ড্রোনটির পরিচয় নিশ্চিত করেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে স্থগিত হওয়া ২০১৮ সালের আন্তঃকোরীয় সামরিক চুক্তির অধীনে থাকা নো-ফ্লাই জোনে ড্রোনটি প্রবেশ করেছিল কি না, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনী এখনো মুখ খুলেনি।

 

এই ঘটনার ফলে সীমান্ত অঞ্চলে সাময়িকভাবে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার নিরাপত্তা এবং রুট ব্যবস্থাপনার ত্রুটি নিয়ে বর্তমানে সামরিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।

 

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব

কাতারের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ফলাফল প্রভাবিত করতে অর্থায়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে দোহা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে কাতার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে।   কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রমে অর্থায়নের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় কাতারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন, যা একইসঙ্গে হাস্যকর ও বিপজ্জনক।   সম্প্রতি ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহের বিষয়টি সামনে আনেন দেশটির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোহলবার্গ। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ জানানোর পরই বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনীতিক কাতারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এর কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দোহার পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি জানানো হলো।   বিবৃতিতে আল-আনসারি স্পষ্ট করে দেন যে, ইসরায়েলে নির্বাচনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। দোহা জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের অপপ্রচার কাতারকে মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন থেকে কোনোভাবেই বিরত রাখতে পারবে না।   এদিকে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেটের ১২০টি আসনের নির্বাচনে কোনো প্রধান রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে।   সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন বা ম্যাজিক ফিগার কোনো পক্ষেরই না থাকায় ক্ষমতার নতুন এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এবং নতুন সরকার গঠনে আরব আইনপ্রণেতারাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:৪৭
আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা

আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা

প্রেমিককে বিয়ের দাবিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচে ১০০ ফুট উঁচু মোবাইল টাওয়ারে ওঠেন এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের দাবিতে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে তরুণী, অনলাইন নিকাহের পর নামলেন নিচে

যুক্তরাজ্যে নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করা দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের জন্য বাড়তি স্টেট পেনশনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নাতি-নাতনির দেখাশোনা করলেই পেনশনে মিলবে ৭ হাজার পাউন্ডের সুবিধা, আয়ের নতুন সুযোগ

ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় নি হত ১৪, মিত্রদের কঠোর পদক্ষেপ চাইলেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় নি হত ১৪, মিত্রদের কঠোর পদক্ষেপ চাইলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে অন্তত ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার সময় প্ল্যাটফর্মে একটি লোকাল ও একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।   বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো এই হামলাকে 'ভয়াবহ' আখ্যা দিয়ে তিনি মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই শিথিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন।   এদিকে, এই রক্তক্ষয়ী হামলার মধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ২০২২ সাল থেকে রুশ নিয়ন্ত্রিত এই শহরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে ভুগছেন।   ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে বেলারুশ ও রাশিয়া হয়ে তিনি ওলেশকির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দিনিপ্রোতে রুশ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চলমান এই সীমিত যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দেশটিতে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।   যাত্রীবাহী ট্রেনে চালানো এই নারকীয় হামলা ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:৫
নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আরব নেতারা

নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আরব নেতারা

ব্রাজিলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ছবি: সংগৃহীত

দুধের নল নাকের পরিবর্তে শিরায় দেওয়ায়, হাসপাতালে প্রাণ গেল চার মাসের শিশুর

থারপারকারে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনের ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ

পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৯, প্রাণ গেছে অন্তঃসত্ত্বা নারীরও

একসঙ্গে প্রায় এক ডজন ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান
একসঙ্গে প্রায় এক ডজন ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান

কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে পূর্ব সাগরের দিকে একসঙ্গে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির উনসান অঞ্চল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি ও ইয়োনহাপ নিউজ। হঠাৎ করে পিয়ংইয়ংয়ের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপে ওই অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, তারা উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অতিক্রান্ত দূরত্ব, গতিপথ এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট কারিগরি তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নিজেদের নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো সম্ভাব্য অতিরিক্ত উৎক্ষেপণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।   একই সঙ্গে একটি মজবুত ও নিশ্ছিদ্র প্রতিরক্ষা অবস্থান বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের সঙ্গে সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করছে সিউল।   অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। টোকিওভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের ছোড়া বস্তুগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করছে জাপান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের কোস্ট গার্ড সাগরে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে সতর্ক করে পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে এবং কোনো পতিত বস্তুর কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে।   উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেও পিয়ংইয়ং অঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল উত্তর কোরিয়া, যার ধারাবাহিকতায় রোববারের এই ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৭:১৭
৯ বছর ৪ মাসের সাজা পেলেন ৬৪ বছর বয়সী নারী

মদ-সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নি র্যাতন, ব্রিটিশ নারীর ৯ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড

লিবিয়ার বেনগাজী শহরের গানফুদা আটককেন্দ্রে বন্দি থাকা আরও ১৭২ জন বাংলাদেশি

লিবিয়ার বন্দিদশা থেকে ফিরলেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি, সহায়তায় সরকার ও আইওএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ড্রোন ব্যবহার করে কারাগারে ৩৩ বছর বয়সী গ্যাটেন

ড্রোন দিয়ে টেক্সাসের কারাগারে মাদক পাচার, ৩৩ বছর বয়সী যুবকের ২৫ বছরের জেল

0 Comments