সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বারবিকিউ, দাবানল লাগানোর অভিযোগে ইসরাইলি পর্যটক গ্রেপ্তার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১২:১৫
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালানোর পর পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালানোর পর পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালিয়ে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরাইলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গ্রিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাতের পর ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হয়। শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রেথিমনোর আদালতে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে তার আটকের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, পর্যটকটি যে ভাড়া করা ভিলায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে বাইরে বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ ছিল। আগুনের ঝুঁকি সম্পর্কে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। এরপরও তিনি বারবিকিউ জ্বালান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানকার আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

 

শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১০ মিনিটে সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। এলাকাটি দক্ষিণ রেথিমনোর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র প্লাকিয়াসের কাছাকাছি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আগুনের বিস্তার বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানানো হয়নি। 

 

ক্রিটে গ্রীষ্মকালজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। এ কারণে অগ্নিঝুঁকি বেড়ে গেলে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ খোলা জায়গায় আগুন জ্বালানো ও বারবিকিউ ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

 

ক্রিটের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশনাতেও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সময়ে বাইরে যেকোনো ধরনের আগুন ব্যবহার এবং উন্মুক্ত স্থানে বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় অগ্নিঝুঁকির সময় বন বা শুকনো উদ্ভিদের কাছাকাছি খোলা জায়গায় বারবিকিউ না করার জন্য বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 

জুলাইয়ের শেষ দিকেও গ্রিসের সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ ক্রিটসহ কয়েকটি অঞ্চলে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছিল। তখন আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বারবিকিউ, খোলা আগুন ও স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

এ ঘটনায় এখন মূলত তদন্ত করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং অভিযুক্ত পর্যটকের বারবিকিউয়ের সঙ্গে দাবানলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। গ্রেপ্তার হওয়া ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

 

আদালতে হাজিরের পর তার আটকের মেয়াদ, অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে আগুনে পরিবেশ, সম্পদ বা স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে তার পরিমাণও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

 

ক্রিটে পর্যটন মৌসুমে দাবানল প্রতিরোধে এমন বিধিনিষেধ নিয়মিতই জারি করা হয়। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কতার মধ্যেও যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আগুন জ্বালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অসতর্কতার নয়, অগ্নিঝুঁকির সময়ে জননিরাপত্তা বিধি অমান্যের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটিতে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক সরকার। গত শনিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর থাকবে এবং এ সময়টিকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদ্‌যাপন করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।   গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের শেষ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির অবসান ঘটে। তবে এই সেনা প্রত্যাহারের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্পূর্ণ ইতি টানা নয়।   ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জোটের সামরিক মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। মূলত আন্তর্জাতিক জোট কাঠামোর পরিবর্তে এখন সরাসরি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে দেশ দুটি।   উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের দখলে চলে গেলে তাদের দমনে স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তার জন্য এই মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই জোটের ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও গোয়েন্দা সহায়তার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে আসে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই মিশন অবসানের বিষয়ে একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য কিছু সেনা এতদিন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এই সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সামরিক সম্পর্ক একটি নতুন কাঠামোতে প্রবেশ করল।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৩:৫১
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের মামলা নিজেই পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ টিচেনার। ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী

উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা, পাইলট গ্রেপ্তার, দাবি ইসরায়েলের

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে ব্যঙ্গ করে মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ভাষণের পর নেতানিয়াহুকে ভলডেমর্টের সাথে তুলনা করল ইরানি দূতাবাস

সহিংস ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, সন্দেহের তীর ওমানি নাগরিকের উপর

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে সহপাইলটের বিরুদ্ধে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ককপিটে সহিংস ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, তবে উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন।    নিউইয়র্ক পোস্ট ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সহপাইলট ওমানের নাগরিক এবং এক বছরেরও কম সময় ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরগামী এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে একটি ঘটনা ঘটার পর সেটি তাবুকে অবতরণ করে। তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, আহত ক্যাপ্টেন ও সহপাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এয়ারলাইনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।    রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ওমানি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পাইলটদের পরিচয় নিয়ে প্রাথমিক সংবাদে পরস্পরবিরোধী তথ্যও এসেছে। ওমানি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আবিবগামী ফ্লাইট স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। সন্দেহভাজন পাইলটের দায়িত্ব পালন বিমান চলাচল চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে কি না, তা তদন্তের অনুরোধও করেছেন তিনি। এটি ফ্লাইট স্থগিতের আহ্বান, কার্যকর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা নয়।    ঘটনার পর ক্রু সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে এপিকে জানিয়েছেন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনাক্রম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১০:১০
কারাগারে বিলাসী কক্ষ

কারাগারে বিলাসী কক্ষ, এসি-টিভি-ফ্রিজ; ইন্দোনেশিয়ায় বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বহুপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে দাবি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান নিয়ে গোপন আলোচনা! আমিরাতে নেতানিয়াহুর বৈঠকে ১০ দেশের অংশগ্রহণের দাবি

এফবিআইয়ের টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত হয়েছেন গোল্ডি ব্রার

এফবিআইয়ের টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় গোল্ডি ব্রার, পুরস্কার ১০ লাখ ডলার

গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি করতে ডাকাতির নাটক সাজানোর ঘটনায় দোষ স্বীকার ভারতীয় ব্যক্তির
ইউ ভিসা পেতে ডাকাতির নাটক, ভারতীয় দোকানকর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় এক ভারতীয় দোকানকর্মীকে কা ন্ডের ভু ক্ত ভো গী সাজিয়ে ইউ ভিসা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল। এ ঘটনায় ভি সা জা লি য়া তের ষ ড় য ন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর সাউথ ক্যারোলাইনার ফেডারেল প্রসিকিউটররা তাঁর দোষ স্বীকারের বিষয়টি জানান। দোকানকর্মীকে ইতোমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে প্যাটেল ও ওই দোকানকর্মী মিলে একটি ডাকাতির ঘটনা সাজান। প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। মুখ ঢাকার পাশাপাশি তিনি লম্বা হাতার জ্যাকেট পরে নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশকে খবর দিতে ৯১১-এ ফোন করা হয়।   প্রথম দিকে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখে ঘটনাটি সত্যিকারের ডাকাতি বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা ভিডিওটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর বুঝতে পারেন, ঘটনাটি আসলে সাজানো হয়েছিল দোকানকর্মীকে কা ন্ডের ভু ক্ত ভো গী হিসেবে দেখানোর জন্য।   এরপর ৯ মার্চের ঘটনার পুলিশ প্রতিবেদন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানকর্মীকে গুরুতর হা ম লার ভু ক্ত ভো গী হিসেবে প্রত্যয়ন করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নথি পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল দোকানকর্মীর ইউ ভিসা আবেদনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ তৈরি করা।   ইউ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী অভিবাসন স্ট্যাটাস, যা নির্দিষ্ট ধরনের অ প রা ধের শি কা র হয়ে শারীরিক বা মানসিক নি র্যা তনের শি কা র ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হয়। তবে আবেদনকারীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট অ প রা ধের তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা। যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ইউ ভিসা পরবর্তী সময়ে বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।   ফেডারেল জেলা বিচারক জোসেফ এ. অ্যান্ডারসন জুনিয়র প্যাটেলের দোষ স্বীকার গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর ফেডারেল কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং কারাভোগের পর তিন বছর তদারকির বিধান রয়েছে। তাঁকে ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে।   ঘটনাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্যাটেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দোকানকর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৮:২৭
ইরানি নারী

হিজাবের আড়ালে রাই/ফেল, ইরানি নারীদের যু/দ্ধ প্রস্তুতি

মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

0 Comments