গাজায় সমঝোতা ছাড়াই ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা, পরদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ ফিলিস্তিনি
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েও কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই ফিরেছেন তার বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। হামাস ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। এর একদিন পরই গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
গাজার পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রবন্দর এলাকায় মঙ্গলবার এই বিমান হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ এলাকাটিকে অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের হিসাবে, হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের কয়েকজন কমান্ডার। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসও তাদের কোনো কমান্ডার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এই হামলার মাত্র একদিন আগেই গাজা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করেন জ্যারেড কুশনার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে প্রথমে মিসরে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠক করেন তিনি। এরপর জেরুজালেমে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা করেন।
কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে হামাস নেতারা গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন পরিকল্পনার মূল কাঠামো অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং এর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করবে। হামাস পরিকল্পনাটি গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নের ক্রম নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় বাধা।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান হচ্ছে, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে না। তার সরকার একই সঙ্গে বলছে, গাজা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের আগে পুনর্গঠনের কাজও শুরু হতে দেওয়া হবে না। কুশনারের সঙ্গে বৈঠকেও এই অবস্থান থেকে সরে আসেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে হামাসের অবস্থান হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অর্থাৎ দুই পক্ষই নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহাপনের কথা বললেও কোনটি আগে হবে - মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সেই প্রশ্নে। হামাস চায় প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয় করে অস্ত্র ত্যাগের প্রক্রিয়া এগোক, আর ইসরায়েল চাইছে পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের পরই সেনা সরানো হোক।
কুশনার নিজেও জানিয়েছেন, গাজার পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত সেই পুনর্গঠন শুরু করতে দেওয়া হবে না। দীর্ঘ যুদ্ধ ও হামলায় গাজার বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পুনর্গঠনের বিষয়টি তাই এখন শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির জায়গায় পরিণত হয়েছে।
তবে দুই দিনের আলোচনা পুরোপুরি ফলহীনও ছিল না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং জনস্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবা নিয়ে কাজ করতে পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু মূল রাজনৈতিক প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরায়েলও এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা পুরোপুরি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি এবং সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাটিতে সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সব মিলিয়ে জ্যারেড কুশনারের সফর গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে আনলেও সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি - আগে হামাস অস্ত্র ছাড়বে, নাকি একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। সেই সমাধান না আসা পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কাগজ থেকে বাস্তবে নামানো কঠিন হয়ে থাকছে।
আর কূটনৈতিক টেবিলে যখন সেই অচলাবস্থা চলছে, তখন গাজায় নতুন হামলা ও প্রাণহানি শান্তির পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকানাডার টরন্টোতে ২০২১ সালে এক অভিন্ন বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছিল অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর। দুজনেরই আগে পূর্ব আফ্রিকায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তখন তাদের দেখা হয়নি। টরন্টোর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়, আর কয়েক বছর পর সেই বন্ধুত্বই পরিণতি পায় ভালোবাসা ও বিয়েতে। ভ্রমণ, মানবিক কাজ এবং জীবনের নানা মূল্যবোধে মিল থাকায় সময়ের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে টিম অনীতার প্রতি নিজের অনুভূতির কথা জানান। তবে শুরুতে অনীতা সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি নিজের চেয়ে লম্বা কাউকে কল্পনা করতেন। ফলে টিমকে শুরুতে তিনি বন্ধুই হিসেবে দেখতেন। তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের একে অপরকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। সময়ের সঙ্গে অনীতা টিমের দয়া, বিশ্বস্ততা, যত্ন, চরিত্র এবং মানুষের প্রতি তার সম্মানবোধকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বাহ্যিক চেহারার চেয়ে একজন মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনীতা পরে উপলব্ধি করেন, টিমের মধ্যেই তিনি এমন অনেক গুণ খুঁজে পেয়েছেন, যা তিনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে সত্যিকার অর্থে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টিম ও অনীতার বাগদান হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ জুন কানাডার অন্টারিওর স্ট্রিটসভিলের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর তাদের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দুজনের উচ্চতার পার্থক্যও মানুষের বিশেষ নজর কাড়ে। অনীতা প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং টিম প্রায় ৪ ফুট লম্বা। এই পার্থক্যের কারণে অনলাইনে অনেকের কৌতূহল তৈরি হলেও, দম্পতি তাদের গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উচ্চতাকে নয়, বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক মূল্যবোধকে সামনে এনেছেন। অনীতা ও টিমের গল্পটি শেষ পর্যন্ত এমন এক সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রথম দেখায় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার পর অনীতা টিমের মধ্যে যে গুণগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেয়।
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী
ইরানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতে ৫০ সার্জারি! ভাইরাল দাবির আসল সত্য জানালেন তরুণী
চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় এবার প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো। শনিবার ভোরে পশ্চিম গাজার একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় ড. ইয়াসমিনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নারী বলে জানা গেছে। ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, তিনি শুধু মাল্টিমিডিয়া বিভাগেই শিক্ষকতা করতেন না, বরং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ওই বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। একজন মেধাবী শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর কম্পিউটার সায়েন্স, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একাধিক উচ্চতর ডিগ্রি ছিল। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার ভোরে চালানো ওই প্রাণঘাতী হামলায় ড. ইয়াসমিনের সঙ্গে তাঁর ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা হালুম মাহমুদ আল-বুবোও শাহাদাতবরণ করেন। একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত অপর দুই খ্রিষ্টান ফিলিস্তিনিও এই হামলায় নিহত হন, যারা সম্পর্কে মা ও মেয়ে ছিলেন। গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিক্ষাবিদদের এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা উপত্যকাটির মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্রকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অধিকার, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব রাশিয়ার
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ বাবা-মা, ৩০ দিন পরও অপেক্ষায় মেয়ে
বিদেশিদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের নতুন কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। নতুন ব্যবস্থায় একজন বিদেশি আবেদনকারী সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সরাসরি জাতীয় কোষাগারে দিয়ে অথবা ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কিনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত অর্থ দিলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হবে না। পরিচয়, অর্থের উৎস, অপরাধের ইতিহাস ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। আর্জেন্টিনা সরকার ২ অক্টোবর এই কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেয়। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘আর্জেন্টিনা উইক’ বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশটির অর্থমন্ত্রী লুইস কাপুতো এবং মন্ত্রিসভার প্রধান দিয়েগো সান্তিল্লি কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। নতুন কর্মসূচিতে বিদেশি আবেদনকারীদের জন্য দুটি আর্থিক পথ রাখা হয়েছে। প্রথম পথে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থ দিতে হবে। এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। দ্বিতীয় পথে আবেদনকারী এই কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৮ লাখ মার্কিন ডলারের সরকারি বন্ড কিনতে পারবেন। আর্থিক শর্ত পূরণ করলেই অবশ্য আবেদন অনুমোদিত হবে না। প্রতিটি আবেদন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। আবেদনকারীর পরিচয়, অর্থের উৎসের বৈধতা ও গতিপথ, সম্পদ ও আর্থিক অবস্থা, অপরাধের ইতিহাস, সুনামসংক্রান্ত তথ্য, অভিবাসন ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হবে। আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানো এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচলিত মান অনুসরণ করা হবে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া সব অর্থ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে। আবেদনকারীর অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং তা বৈধ কি না, সেটিও যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। নাগরিকত্বের জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচি সংস্থা আবেদনগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবে। যাচাই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সচিবালয়, আর্থিক তথ্য ইউনিট, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকবে। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সুপারিশ পাঠাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালে জারি করা সরকারি বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব দেওয়া অথবা আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে বিনিয়োগের অর্থ দেওয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হবে না। নতুন কর্মসূচিতে মূল আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চাইলে অতিরিক্ত ১ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে। একইভাবে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ও সন্তানহীন সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ডলার দিতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। সরকারি ঘোষণায় উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একজন মূল আবেদনকারী, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানসহ চার সদস্যের একটি পরিবার সরাসরি জাতীয় কোষাগারে অর্থ দেওয়ার পথ বেছে নিলে মোট ৫ লাখ মার্কিন ডলারে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। এই কর্মসূচির আইনি ভিত্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বসংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন এনে বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ তৈরি করা হয়। ওই ব্যবস্থায় দেশে কতদিন বসবাস করেছেন, সেটিকে বিনিয়োগভিত্তিক এই আবেদনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আরেকটি সরকারি বিধানের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য বিনিয়োগ কর্মসূচির আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আবেদন গ্রহণ, বিনিয়োগ মূল্যায়ন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিরাপত্তা যাচাই এবং জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় সেই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন বিদেশির জন্য সরাসরি জাতীয় কোষাগারে সাড়ে ৩ লাখ ডলারের ফেরতযোগ্য নয় এমন অর্থ দেওয়া অথবা ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কেনার দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির লক্ষ্য বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ এবং আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করা। এই কর্মসূচি থেকে পাওয়া অর্থ দেশের আর্থিক ও রাজস্ব অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে সরকার। নতুন কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীর পরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর অর্থের বৈধ উৎস এবং অপরাধের ইতিহাস পর্যন্ত যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের পরই জাতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে সাড়ে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার অর্থ সরাসরি আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়া নয়। এটি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার একটি আর্থিক পথ। একইভাবে ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কেনার পথ বেছে নিলেও আবেদনকারীকে নির্ধারিত সরকারি যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে। আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যেই আবেদন গ্রহণের জন্য কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটির নাগরিকত্বের নতুন একটি আনুষ্ঠানিক পথ খুলছে, যেখানে বিনিয়োগের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা যাচাই হবে নাগরিকত্ব পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
ইংল্যান্ডে ছয় মাস বাড়ি খালি থাকলে দখল নিতে পারবে কাউন্সিল
কিয়েভে বড় হামলার হুমকি পুতিনের, কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলল রাশিয়া