সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:২৯
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে সাধারণ ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকেও আর হালকাভাবে নিচ্ছে না তেল আবিব। গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড়ন্ত বস্তু বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

 

সাম্প্রতিক সময়ে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতস এলাকায় এসে পড়ার পর এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হলো। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক বা বিস্ফোরক কোনো বস্তু ছিল না এবং তা থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও তৈরি হয়নি।

 

তবে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর একাধিক নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে আসা যেকোনো বস্তুকে তিনি সরাসরি ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

 

তার স্পষ্ট বার্তা হলো—বেলুনকে এখন থেকে ঘুড়ি এবং ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে গণ্য করা হবে, সেগুলোর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক। যারা এসব বস্তু তৈরি, উৎক্ষেপণ বা কাজে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ করে আসছে তেল আবিব। এসবের কারণে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ ঘুড়ি ও বেলুনের আড়ালে এমন নাশকতা ঠেকাতেই এবার শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করল ইসরায়েল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ভারতে স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে, মোদিকে প্রশ্ন করলেন ইলন মাস্ক

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতা আম্বানির হাতে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ভারত সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে স্টারলিংক চালুর চেষ্টা করছে মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।   পরদিন আরেকটি পোস্টে সরাসরি আম্বানি পরিবারের প্রসঙ্গ তোলেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব আইন ও শর্ত পূরণের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে?   অন্য এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে এই মন্তব্য করেন মাস্ক। তবে আম্বানি পরিবারের কোন সদস্যকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের টেলিকম খাতে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক আগ্রহ রয়েছে।   রিলায়েন্সের জিও স্পেস টেকনোলজি স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সুনীল মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে। ফলে স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন আটকে দিয়েছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি মাস্ক।   মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে সবাইকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে।   বিতর্কে যুক্ত হন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। মাস্কের পোস্টের জবাবে তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন, আরেকজনের কথা জানতে পারলে তিনি আরও অবাক হবেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রাহুল। জবাবে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।   এদিকে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায়। বিদেশ থেকে কেনা স্টারলিংক যন্ত্র ভারতে ব্যবহার এবং ভারত থেকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের শর্ত রয়েছে।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে স্টারলিংকের নামসংবলিত একটি যন্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংকেত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁর বক্তব্য।   স্পেসএক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে স্টেশন স্থাপন করেছে স্টারলিংক। এসব স্থাপনার সঙ্গে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে।   অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মিত্তালও জানিয়েছেন, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুধু স্টারলিংকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়।   স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। ভারতের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। ডেলয়েটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের মূল্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।   তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের দাবি, সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে মাস্কের অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৪:৪২
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রাহুল ভোহরা। ছবি: সংগৃহীত

স্টার্টআপের চাপে পড়েছিলেন রাস্তায়, পরে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি গড়লেন ভারতীয় তরুণ

বিয়েতেই অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন এই তুর্কি নবদম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

নিজেদের বিয়ের ভোজ বাদ দিয়ে ৪ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাওয়ালেন তুর্কি নবদম্পতি

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর কাজের অনেক প্রশংসা করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা। ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক, ইরানের নিরাপত্তায় দোয়া কামনা মোজতবা খামেনির

চীনের গুয়াংজু শহরের অপরিচ্ছন্ন রাস্তার দৃশ্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন এক ভারতীয় পর্যটক। ছবি: সংগৃহীত
চীনের রাস্তায় ময়লার নোংরা স্তূপ দেখে ভারতীয় পর্যটকের প্রশ্ন, শুধু ভারতই কেন বদনাম?

চীনের আধুনিক নগরজীবনের পরিচিত ছবির বাইরে এক ভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতীয় পর্যটক প্রণব কারাড। দেশটির গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকার একটি সরু গলিতে ঘুরতে গিয়ে তিনি দেখতে পান রাস্তার পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা, পুরোনো ভবন, ঝুলন্ত তার এবং নির্মাণকাজের জন্য বসানো ব্যারিকেড। এসব দৃশ্য ভিডিও করে প্রকাশের পর তাঁর প্রশ্ন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এমন অপরিচ্ছন্ন এলাকা থাকতে পারে, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু ভারতকেই কেন নোংরা দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়?   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ভ্রমণের সময় গুয়াংজু শহরের হাইঝু এলাকায় যান প্রণব। সেখানে হাঁটার সময় আশপাশের পরিবেশ দেখে তাঁর নিজের দেশের বিভিন্ন এলাকার কথা মনে পড়ে।   ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তার দুই পাশে পুরোনো ভবন, কোথাও নির্মাণকাজ চলছে, আবার কোথাও ধাতব বেড়া ও ব্যারিকেড দিয়ে জায়গা ঘিরে রাখা হয়েছে। ওপরের দিকে জট পাকানো তার ঝুলছে। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা।   এসব দৃশ্য দেখিয়ে প্রণব বলেন, তাঁর কাছে জায়গাটি ভারতের কোনো সাধারণ এলাকার মতোই মনে হচ্ছে। ভবনের অবস্থা, রাস্তার পরিবেশ এবং নির্মাণকাজের দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন এলাকার মিল খুঁজে পান তিনি।   ভিডিওতে তিনি আরও জানান, চীনের মতো একটি দেশের বড় শহরে এমন পরিবেশ দেখবেন, তা আগে ভাবেননি। বিশেষ করে দোকানের বাইরে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ ও ময়লা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।   প্রণবের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের আধুনিক শহর সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ছবি ও ভিডিও দেখা যায়, সেগুলোর সঙ্গে এই এলাকার পরিবেশের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।   ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতেও অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে। আবার অন্য অনেক দেশের মতো সেখানেও কিছু অপরিচ্ছন্ন এলাকা আছে। তাহলে আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে কেন এত বেশি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?   নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে প্রণব লেখেন, এটি গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার রাস্তার দৃশ্য। এখানে সরু গলি, জমে থাকা আবর্জনা এবং এমন পরিবেশ রয়েছে, যা শহরের প্রচারণামূলক ছবিতে সাধারণত দেখা যায় না।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশেরই এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যা বাইরে থেকে দেখা পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চিত্রের সঙ্গে মেলে না।   তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় কেন বারবার ভারতের উদাহরণ সামনে আনা হয়, অথচ অন্য দেশের একই ধরনের সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়।   প্রণবের ভিডিওটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন দেশের জীবনযাত্রা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় একপেশে চিত্র তুলে ধরা হয়।   কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, চীনের আধুনিক ভবন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিষ্কার রাস্তার দৃশ্য বেশি প্রচারিত হলেও দেশটির সব এলাকার পরিবেশ যে একই রকম নয়, সেটি এ ধরনের ভিডিও থেকে বোঝা যায়।   একজন ব্যবহারকারীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের এমন দৃশ্য খুব কমই সামনে আসে।   আরেকজন মন্তব্য করেন, পৃথিবীর কোনো দেশই সব জায়গায় সমান পরিচ্ছন্ন নয়। প্রতিটি দেশেরই কিছু উন্নত ও পরিচ্ছন্ন এলাকা রয়েছে, আবার কিছু জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা যেতে পারে।   তবে সবাই প্রণবের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, একটি দেশের নির্দিষ্ট এলাকার ভিডিও দিয়ে অন্য দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার তুলনা করা যথাযথ নয়।   তাঁদের যুক্তি, কোনো শহরের একটি রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হলেই পুরো শহর বা দেশের পরিবেশ একই রকম, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে কয়েকটি পরিষ্কার রাস্তা দেখিয়েও একটি দেশের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   এই আলোচনায় ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ধারণার বিষয়টিও উঠে এসেছে।   সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে বিভিন্ন সময় রাস্তার ময়লা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট ও জনবহুল এলাকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে প্রায়ই আধুনিক অবকাঠামো, উঁচু ভবন এবং উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার ছবি বেশি দেখা যায় বলে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন।   প্রণবের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের অনলাইন উপস্থাপনার পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।   তবে ভিডিওতে দেখানো গুয়াংজুর হাইঝু এলাকার নির্দিষ্ট রাস্তাটি চীনের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারতের সঙ্গে চীনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা নগর পরিচ্ছন্নতার তুলনামূলক কোনো পরিসংখ্যানও ভিডিওটিতে নেই।   ফলে ঘটনাটিকে দুই দেশের পরিচ্ছন্নতার মান নির্ধারণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   প্রণবের ভিডিওটি মূলত পর্যটক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন দেশকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অমর উজালাও ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুয়াংজুর ওই এলাকার ভিডিও নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। কেউ ভারতের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরির অভিযোগ করেছেন, আবার কেউ একটি এলাকার দৃশ্য দিয়ে পুরো দেশকে বিচার না করার পক্ষে মত দিয়েছেন।   বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণের ভিডিও ও ছবি থেকে কোনো দেশের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিষয়টি সামনে এসেছে।   একটি শহরের পর্যটন এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশে পার্থক্য থাকতে পারে। একইভাবে নির্মাণাধীন রাস্তা ও নিয়মিত ব্যবহার হওয়া পরিচ্ছন্ন রাস্তার অবস্থাও এক নয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য বারবার প্রচারিত হলে সেটিই অনেকের কাছে দেশটির সামগ্রিক পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। অথচ বাস্তবে একই দেশের বিভিন্ন শহর ও এলাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   প্রণবের প্রকাশিত ভিডিওতেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি চীনের একটি নির্দিষ্ট এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখিয়ে ভারতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   ভিডিওটি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো দেশের পরিচ্ছন্নতা বা জীবনযাত্রার মান বিচার করতে হলে বিচ্ছিন্ন ছবি কিংবা কয়েক মিনিটের ভিডিওর পরিবর্তে বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।   চীনের গুয়াংজু শহরের একটি সরু গলিতে ধারণ করা ভিডিও এভাবেই ভারত ও চীনের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশগুলোর ভাবমূর্তি তৈরির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২:০
নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসে হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রস্তুতিতে সরকারের প্রতিমন্ত্রী

ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন

ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন

৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা

৩৮ বছর পর মমতাময়ী আয়াকে খুঁজে পেলেন ফরাসি নাগরিক, উপহার দিলেন ১৯ লাখ টাকা ও আজীবন ভাতা

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন  ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়

প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর—দুই উপকূল থেকেই একই সঙ্গে তিনটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে 'র‍্যাচেল' (Rachel) ও 'সাইমন' (Simon) নামের দুটি ঝড় দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে, অন্যদিকে আটলান্টিকের দিক থেকে মেক্সিকো উপসাগরের দিকে ধেয়ে আসছে 'ইসায়াস' (Isaias)। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিরল 'ট্রিপল থ্রেট' বা ত্রিমুখী হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড় 'র‍্যাচেল' এই সপ্তাহান্তেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের শক্তিতে উত্তর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরাংশের দিকে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রবল জলোচ্ছ্বাস, প্রাণঘাতী রিপ কারেন্ট এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া র‍্যাচেলের প্রভাবে সৃষ্ট আর্দ্রতা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্থলভাগের দিকে ছড়িয়ে পড়বে, যার ফলে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।   একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের আরও দক্ষিণাংশে দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে নতুন সিস্টেম 'সাইমন'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হারিকেনে রূপ নেবে এবং শনিবার মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলে একটি বড় ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন (Major Hurricane) হিসেবে আঘাত হানবে। সাইমনের কারণে মেক্সিকো উপকূলে বিধ্বংসী বাতাস, জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক ভূমিধসের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   অন্যদিকে, মেক্সিকোতে সাইমন এবং বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে র‍্যাচেলের হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'ইসায়াস'। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, রাতের বেলা শক্তি সঞ্চয় করে এটি আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট বা উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সব মিলিয়ে এই ত্রিমুখী ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৮:৪৯
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত

চীনে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে বিলবোর্ডে তারকাদের বদলে বিজ্ঞানীদের ছবি

চীনে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে বিলবোর্ডে তারকাদের বদলে বিজ্ঞানীদের ছবি, বাংলাদেশে কবে?

ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান

ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান

0 Comments